08/07/2026
স্থানীয় অধিবাসীরা জায়গাটাকে বলে "নাইক্ষং টপ"
অনেকগুলো পাহাড় ডিঙিয়ে সবচে উঁচু পাহাড়টার উপর এর অবস্থান বলেই হয়ত এমন নাম।
আমরা সে পাহাড়ের উপর অবস্থিত একমাত্র জুমঘরে সেদিন থেকেছিলাম।
সেদিন ওই এলাকায় আমরা পাঁচজন ছাড়া আর কেউ ছিলনা।এমনকি জুমঘরের যে মালিক সেও আমাদের রেখে ফিরে গেছে শহরে। লোক বলতে পাহাড়ের খাঁজে একটা আদিবাসীর ছোট্ট টং দোকান। দোকান না বলে সেটাকে স্থানীয় আদিবাসীদের "বার" বললে ভুল হবেনা।
সন্ধ্যার পর ঝড়ো হাওয়া শুরু হল, সাথে মুষলধারে বৃষ্টি।
টর্চ জেলে সংগীদের কেউ একজন দূর পাহাড়ের এদিক ওদিক দেখেছিল দুই একবার, সেটাই কাল হয়ে দাঁড়াল।
ঝুম বৃষ্টির মধ্যে বিশাল দা হাতে পাহাড়ের খাজ বেয়ে দৌড়ে ছুটে এল আদিবাসী কেউ একজন। মদ খেয়ে মাতাল হয়ে আছেন তিনি। ঘাড়ের উপর ঝকঝকা হাতিয়ার রেখে লাল রক্তাক্ত চোখে তার জিজ্ঞাসা.. টর্চ মারছে কে??? পাহাড়ে টর্চ মারা নিষেধ!
আমাদের ভয় দেখাতেই কিনা জানিয়ে গেলেন দুজন ডাকাত পড়েছে এখানে, তিনি তাদের খুঁজছেন!
ডাকাতের কথা শুনে আমাদের সংগীদের কারো কারো অবস্থা বেগতিক। তখন সবেমাত্র রাত আটটা। বাকি রাত তারা কিভাবে পার করবেন এই ভেবে মহা চিন্তায়।
রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়ল বৃষ্টি এবং হাওয়ার গতি। জুমঘরটা এই বুঝি উড়ে যাবে! টিনগুলো মনে হল খুলে যাচ্ছে, বেড়ার ফাঁক দিয়ে সাইসাই করে ঢুকছে বাতাস, দুটো প্যান্ট আর দুটো টিশার্ট গায়ে দিয়ে শুয়ে আছি আমি। এক একজন একেকভাবে ঠান্ডা সামলে নিচ্ছে নিজেদের মত।
ওদিকে প্রকৃতি ডাকে সাড়া দেয়াটাও মুশকিল হয়ে গেল, দরজা খোলা যাচ্ছেনা বাতাসের তোড়ে।
বাইরে একটু অন্যরকম শব্দ হতেই আমাদের সংগীদের কারো কারো মনে শংকা, এই বুঝি ডাকাত এল!!
এভাবেই নানা অনিশ্চয়তায় পার হল রাত। সকাল ১০টা পর্যন্ত বাতাস আর বৃষ্টি চলল একসাথে। ওদিকে সকাল ৯ টায় জিপ আসার কথা ফেরার যাত্রায়, তার কোন খবর নেই! প্রায় সবার ই ফোন বন্ধ! নেটওয়ার্ক নেই..
সকাল সাড়ে দশটার দিকে জুমঘরের মালিক ভিজে জবুথবু হয়ে ছুটে এলেন, তিনি পরিস্থিতি আঁচ করে সেই ভোরবেলায় জিপ খুঁজতে বের হয়েছিলেন। সেটা নিয়ে এলেন সাথে।
তাড়া দিয়ে বললেন.. চলেন দ্রুত বের হই, অবস্থা সুবিধার না।
বান্দরবান থেকে ফেরার পরদিন, মানে গতকাল থেকেই বান্দরবান অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল। পাহাড়ধস, বন্যা আর বৃষ্টিতে শতশত ট্যুরিস্ট আটকা পড়লেন।
আলহামদুলিল্লাহ, আমরা নিরাপদে ফিরেছি সবাই। একটা দিন দেরী হলে...
© ওয়াজেদ মহান
ToiToi - টইটই #বান্দরবান