27/06/2025
টাঙ্গুয়ার হাওর: ভ্রমণ নাকি বিলাসিতা প্রতিযোগিতা?
টাঙ্গুয়ার হাওরের নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে সবুজে মোড়ানো জলরাশির অসাধারণ রূপ। কিন্তু এখন একটু ভালোভাবে ঘুরতে চাইলে, হাউজবোটে উঠতে গড়ে ১৫ হাজার টাকার খরচ!
হতাশ না হয়ে একটু পেছনে তাকাই—২০১৮ সালে মাছ ধরার ট্রলারে, বাথরুম ছাড়াও, মাত্র ৪ হাজার টাকায় দিন-রাতের ট্যুর দেওয়া যেত। অবাক করার মতো হলেও সত্যি, ২০২৫ সালেও সেই একই বাজেটে (৪ হাজার টাকায়) ভালো সার্ভিসসহ কিছু আধুনিক হাউজবোটে সফর করা সম্ভব—যদি ঠিকভাবে খোঁজ নেওয়া যায়।
তাহলে সমস্যাটা কোথায়?
২০২২ সালে নির্মিত কিছু ছিমছাম, খোলামেলা ও পরিচ্ছন্ন বোট ছিল নিঃসন্দেহে হাওরের ইতিহাসে সেরা সংযোজন। কিন্তু এরপর শুরু হলো প্রতিযোগিতা—কোটি টাকার ইনভেস্টমেন্ট, বিলাসিতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতা, এসি লাগানো, সুইমিং পুল বসানো!
প্রশ্ন করি—হাওরের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসি দরকার হয় কতজনের? ৫% পর্যটকের জন্য বাকি ৯৫% এর স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা নষ্ট করে ফেলা কি যৌক্তিক?
আমার মাথায় ঘুরে:
কম ইনভেস্টমেন্ট ➤ কম অপারেশন কস্ট ➤ কম প্যাকেজ রেট ➤ সেরা সার্ভিস = বেশি সেল
এটাই কি সবচেয়ে সহজ হিসাব নয়?
এখন এমন পর্যায়ে এসেছে—হাওরে সুইমিং পুল বসানো হচ্ছে, হাও ফানি ম্যান ঘোরাফেরা করছে! ওয়াচ টাওয়ার উঠছে, অথচ যাদুকাটা নদীর স্রোতে একবার ডুব দিয়ে আসা—সেটাই হতে পারত কারো জীবনের প্রথম নদীর স্মৃতি।
স্মৃতি নয়, ব্যবসা মুখ্য হয়ে যাচ্ছে?
আমি ভাবছি—আমাকেও কি এসি লাগাতে হবে? সুইমিং পুল বসাতে হবে?
তাহলে টাঙ্গুয়ার সেই সহজ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি, সরলতা—এগুলো কোথায় যাবে?