Xotil Tour

Xotil Tour Trusted tour operator in Bangladesh

20/02/2023
ভ্রমণের জন্য আপনি কখনোই টাঙ্গাইলকে প্রথমেই বেছে নিবেন না। কারণ এই প্রতিটি ভ্রমণ বিলাসী মানুষের এই তালিকার প্রথম দিকে অবস...
14/08/2022

ভ্রমণের জন্য আপনি কখনোই টাঙ্গাইলকে প্রথমেই বেছে নিবেন না। কারণ এই প্রতিটি ভ্রমণ বিলাসী মানুষের এই তালিকার প্রথম দিকে অবস্থান করে বাংলাদেশের দক্ষিণ কিংবা দক্ষিণ-পূর্বের জেলাগুলো। আর শুধুমাত্র সেজন্যই প্রাচীন স্থাপত্যের সাক্ষী হয়ে থাকা এক জীবন্ত শহর টাঙ্গাইল যেন নীরবেই পড়ে আছে। কিন্তু আমার এবারের ভ্রমণ টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যেই। প্রধান উদ্দেশ্য এই জেলায় অবস্থিত প্রাচীন জমিদার বাড়িগুলো দেখে আসা।

ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন অসংখ্য বাস টাঙ্গাইলের উদ্দ্যেশ্যে যাত্রা করে। কোম্পানি এবং আরামদায়কতা ভেদে বাসগুলোর ভাড়া জনপ্রতি ১২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে সবগুলো জমিদারবাড়ি অল্প সময়ে ঘুরে দেখার ইচ্ছা থাকলে নিজস্ব ভাড়ায় গাড়ি নিয়ে যেতে পারেন। এতে আপনার সময় সাশ্রয় হবে এবং ভ্রমণটা আরো বেশি আনন্দদায়ক হবে। যেহেতু আমরা সংখ্যায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ছিলাম, তাই আমরা একটা মাইক্রোবাস ভাড়া করে নেই। তবে টাঙ্গাইল ভ্রামণে সময়ের কথা মাথায় রাখা খুবই উচিত। কারণ আপনাকে গাজীপুর হয়ে ভোগড়া বাইপাস দিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঢুকতে হবে। যেই রাস্তায় বেশিরভাগ সময়েই তীব্র যানজটের মুখে পড়তে হয়।

আমরা এই জ্যাম পেরোতে খুব সকালেই যাত্রা শুরু করেছিলাম। গাজীপুর হয়ে ভোগড়া বাইপাস যখন পৌছলাম তখন বাজে সকাল ৮ টা। সৌভাগ্যবশত তখন জ্যাম কিছুটা কম ছিলো। আমাদের গাড়ি ছুটতে শুরু করলো। তবে এই রাস্তাটা খুবই খারাপ এবং ধুলাবালিময়। বিশেষ করে টাঙ্গাইল যেতে রাস্তার দুই পাশে যে খুব একটা মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন সেটা ভাবা বোকামি। বেশিরভাগ সময়ই বাজার, শিল্প প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা দেখতে দেখতে পৌছে যাবেন টাঙ্গাইল। সাধারণত ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল পৌছাতে ৩ থেকে ৩.৩০ ঘন্টা সময় লাগে।

টাঙ্গাইলে আসার পর প্রথমেই যেই জমিদার বাড়ি দেখতে যেতে পারবেন সহজেই সেটি হলো মহেরা জমিদার বাড়ি। এটি টাঙ্গাইলে জমিদারবাড়িগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নান্দনিক। যা কয়েকবছর পূর্বেই সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমানে মহেরা জমিদার বাড়ি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ঢাকা থেকে বাসে করে আসলে নাটিয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড নেমে জনপ্রতি ১৫ টাকা অটো ভাড়া দিয়ে চলে যেতে পারেন মহেরা জমিদারবাড়ি। যেহেতু আমরা গাড়িতে করে গিয়েছিলাম তাই সরাসরি মহেরা জমিদারবাড়িতে চলে যাই। জনপ্রতি ৮০ টাকা টিকেট কেটে প্রবেশ করি জমিদার বাড়িতে। এটি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় বেশ গোছানো এবং নিরাপদ একটি স্থান।প্রায় ৮ একর জমির উপর নির্মিত এই জমিদার বাড়ি।প্রবেশ পথে রয়েছে দুটি বিশাল গেইট। বিশাল বিশাল ৩ টি ভবনের সাথে রয়েছে ৩ টি লজ।প্রবেশ পথেই রয়েছে একটি বিশাল দীঘি এবং প্রধান ভবনের পেছনে রয়েছে আরো দুটি পুকুর।এছাড়াও এই জমিদার বাড়ির ভেতরের ভবনগুলো বিভিন্ন আকৃতিতে এবং বিভিন্ন রঙে সুসজ্জিত। ভেতরে রয়েছে পার্ক এবং বাগান ছাড়াও বসার জায়গা।পুলিশ পরিচালিত ক্যান্টিন থেকে কিছু খাবার কিনে খুব ভালো একটি সময় এই জমিদার বাড়িতে বসেই কাটিয়ে দিতে পারেন

টেকনাফের দমদমিয়া এলাকায় মুছনী গ্রামে অবস্থিত গেম রিজার্ভ এর ভেতরে নয়নাভিরাম কুদুম গুহার অবস্থান। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র ...
13/08/2022

টেকনাফের দমদমিয়া এলাকায় মুছনী গ্রামে অবস্থিত গেম রিজার্ভ এর ভেতরে নয়নাভিরাম কুদুম গুহার অবস্থান। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার শহর থেকে ৮৮ কিলোমিটার দক্ষিণে মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন টেকনাফে অবস্থিত এটা। মনোরম পাহাড়ে ঘেরা পরিবেশ ,পাখির ডাক আর বন্যপ্রাণীর আনাগোনাময় বাংলাদেশের একমাত্র বালু-মাটির এই গুহাটি ভ্রমণপিপাসুদের জন্যে দারুণ একটি আকর্ষণীয় জায়গা। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার ফুট ওপরে অবস্থিত।
টেকনাফের স্থানীয় একে বলে কুদুং। এই গুহায় যেতে হলে দুর্গম পাহাড় অতিক্রম করতে হবে। কুদুম গুহায় হেঁটে যাওয়ার সময় পাখির ডাক শুনতে পাওয়া যায়, মনোরম পাহাড় ঘেরা গাছপালা ও বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীরও দেখা মিলবে। কুদুম গুহায় যাওয়ার রাস্তার পাশে রয়েছে আদিবাসীদের বসবাস।
মনে হবে আদিম যুগ
এখানকার পথ পর্যটকদের শিহরিত করে, এই গুহার ভেতরে প্রবেশ করেই মনে হবে হয়তো আদিম যুগে চলে এসেছেন। বাঁদুরের হাঁক ডাক আর উড়া উড়িতে দারুণ এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি পাবেন।
ঠিক যেমন মুভিতে দেখা যায়, তার একটা সাধ মিলবে এখানে। এই গুহা অসংখ্য বাদুড়দের আশ্রয়স্থল। তাই এটিকে বাদুড় গুহাও বলে। কুদুমগুহায় দুই প্রজাতির বাদুড় ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির শামুক, মাকড়সাসহ জলচর জোঁকসহ নানা প্রাণীদের বাস। এই গুহার ভেতরে হিম শীতল জল কোথাও কোমর আবার কোথাও গলা সমান। গুহার দেয়ালের গা বেয়ে চুইয়ে চুইয়ে অনবরত পানি ঝরে। এর যত ভিতর প্রবেশ করবেন পানির গভীরতা তত বাড়তে থাকবে। শুকনো মৌসুমে এর ভেতর কোমর সমান পানি থাকে। তবে, বর্ষার সময় প্রায় গলা পরিমাণ পানি হয়। এখানকার পানি বেশ ঠাণ্ডা আর স্বচ্ছ।
এই স্বচ্ছ মিষ্টি পানিতে রয়েছে বড় বড় টাকি জাতীয় মাছ,কৈ,কাকলি,তিন চোখা,ডানকিনে কালো রঙের চিংড়ি,নানা রকমের ব্যাঙ,গুগলি আর শামুক ইত্যাদি।
৫০০ ফুট দীর্ঘ এই গুহার ভেতর এতটাই অন্ধকারচ্ছান্ন যে জোরালো আলো ছাড়া এর ভেতরে কিছুই দেখা যায় না। ঘুটঘুটে অন্ধকারে চামচিকার ডাকে গা ছমছমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। যখন তখন এই বাদুর আর চামচিকা শরীরের ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাই, সাথে করে হেডলাইট ও আত্মরক্ষামূলক লাঠি অবশ্যই নিতে হবে৷ গুহায় যাওয়ার সময় অবশ্যই ফরেস্ট গাইড অথবা ইকো গাইডকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হবে।
যেভাবে যাবেন :
ঢাকা থেকে বিমানে করে কক্সবাজার, সেখান থেকে বাস,জিপে করে টেকনাফ যাওয়া যায়। এছাড়া, ঢাকা থেকেই সরাসরি টেকনাফে সড়কপথে টেকনাফে যাওয়া যায়। এই পথে দেশের জনপ্রিয় প্রায় সব বাসই চলাচল করে, যাদের এসি-নন এসি সুবিধাই পাওয়া যায়। কক্সবাজার থেকে বাস ও মাইক্রোবাসে টেকনাফ যাওয়া যায়। বাস ভাড়া পড়বে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। আর মাইক্রোবাসে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। কক্সবাজার থেকে টেকনাফের বাস ছাড়ে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে আর মাইক্রোবাস ছাড়ে শহরের কলাতলী এবং টেকনাফ বাইপাস মোড় থেকে। টেকনাফের হোয়াইখিয়ং বাজার থেকে শাপলাপুর অভিমুখে ৪ কিলোমিটার যাবার পর বাম দিকে পাহাড়ি ঝিরিপথ ধরে আরও ২ কিলোমিটার অগ্রসর হলে কুদুম গুহা-য় পৌঁছে যাবেন। গুহার ভেতরে যাবার আগে অবশ্যই দায়িত্বপ্রাপ্ত বন বিভাগের কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে অনুমতি নিবেন এবং সঙ্গে করে গাইড নিয়ে নেবেন।
যেখানে থাকবেন :
টেকনাফে থাকার জন্য আছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল। এই মোটেল টেকনাফ শহরের প্রায় আট কিলোমিটার আগে। ঢাকার পর্যটন কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয় থেকে এই মোটেল বুকিং করতে পারবেন। তবে, যদি টেকনাফ সমুদ্র সৈকতের একেবারে কাছাকাছি থাকতে চান তাহলে আছে সেন্ট্রাল রিসোর্ট। এছাড়া, এখানে সাগর-কন্যা, মেঘ বালিকা ও নীলাচল নামে তিনটি কটেজ আছে। প্রতিটি কটেজে আছে দুটি করে রুম। ঢাকা থেকেও এই রিসোর্টে আগাম বুকিং দিতে পারবেন।

যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলা সদর হতে মাত্র ১৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব কোন ভদ্রানদীর তীরে গৌরিঘোনা ইউনিয়নের ভরত ভায়না গ্রামে ...
11/08/2022

যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলা সদর হতে মাত্র ১৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব কোন ভদ্রানদীর তীরে গৌরিঘোনা ইউনিয়নের ভরত ভায়না গ্রামে ভরতের দেউল অবস্থিত। ১২ দশমিক ২০ মিটার উঁচু, ২৬৬ মিটার পরিধি বিশিষ্ট দেউলটিকে একটি টিলার মত দেখায়। দেউলটি গুপ্ত যুগের খ্রিষ্টীয় ২য় শতকে নির্মিত হয়েছে বলে অনুমান করা হয়। ১৯২৩ সালের ১০ জানুয়ারী তদানীন্তন সরকার এটাকে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করেন। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৮৪ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দেউলের খনন কাজ চালায়। এর প্রথম অংশে আকারের স্থাপনা, দ্বিতীয় অংশে একটি মঞ্চ, তৃতীয় অংশে মূল মন্দির। খননের ফলে দেউলের ভিত থেকে চূড়া পর্যন্ত ৯৪টি কক্ষের দেখা মেলে। স্থাপনাটির ৪ পার্শ্বে বর্ধিত আকারে ১২পিট কক্ষ।
বাকি ৮২টি কক্ষ ক্রমান্বয়ে উপরের দিকে উঠে গেছে। দেউলটির চূড়ায় ৪পিট কক্ষ এবং পার্শ্বে ৮টি কক্ষ রয়েছে। স্থাপনাটির গোড়ার দিকে ৪ পার্শ্বে ৩ মিটার চওড়া রাস্তা রয়েছে। খনন কালের মধ্যে পোড়া মাটির তৈরী নারীর মুখমন্ডল, দেবদেবীর নৃত্যের দৃশ্য সম্বলিত টেরাকোটার ভগ্নাংশ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের এ যাবত প্রাপ্ত টেরাকোটার মধ্যে এটি বৃহৎ আকৃতির। তাছাড়া নকসা করার ইট, মাটির ডাবর, পোড়া মাটির গহনার মূর্তি পাওয়া গেছে। এ অঞ্চলে অন্য কোন পুরকীর্তিতে এত বড় আকারের ইট ব্যবহৃত হয়নি।

স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিন ধরে ভরতের দেউল, ভরত রাজার দেউল নামে পরিচিত। এই প্রত্নস্থানে খ্রিষ্টিয় বিশ শতকের গোড়ার দিকে ১২ দশমিক ২২ মিটার উঁচু এবং ২৬৬ মিটার পরিধি বিশিষ্ট একটি ঢিবির অস্তিত্ব ছিল। ১৮৮৯ সালে বৃটিশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট কাশিনাথ দীক্ষিত এ দেউল পরিদর্শনে এসে মন্তব্য করেন যে এটি ৫০ ফুটের অধিক উঁচু এবং ব্যাস ৯০০ ফুটেরও অধিক।নির্মাণে যে ইট ব্যবহার হয়েছে এতো বড় আকারের ইট এতদঞ্চলের অন্য কোনো পুরাকীর্তিতে ব্যবহার করা হয়নি। ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে এ দেউলের উপরিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৮৪ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সাত অর্থ বছরের বরাদ্দ পেয়ে এ দেউলে খননের কাজ চালায়। খননের ফলে দেউলটির পূর্ণ অবয়ব মানুষের দৃষ্টিতে আসে। খননে সমগ্র প্রাসাদটির ভিত থেকে শেষ পর্যন্ত মোট ৯৪টি কক্ষ পাওয়া যায়। চারপাশে ৪টি উইং ওয়াল। এর মধ্যে ১২টি কক্ষ। বাকি ৮২টি কক্ষের সমন্বয়ে এ বৌদ্ধ স্ত‍ুপটি তৈরি। স্তুপটির চূড়ায় ৪টি কক্ষ। এ কক্ষের দু’পাশে আরও ৮টি ছোট ছোট কক্ষ রয়েছে। অধিকাংশ কক্ষগুলো মাটি দ্বারা পরিপূর্ণ।

বাংলাদেশের লোকজ সঙ্গীতে হাসান রাজা এক বিস্ময়ের নাম। মরমী এই সাধক বেড়ে ওঠেন সুরমা নদীর তীর ঘেঁষা সুনামগঞ্জ জেলায়। অহিদ...
10/08/2022

বাংলাদেশের লোকজ সঙ্গীতে হাসান রাজা এক বিস্ময়ের নাম। মরমী এই সাধক বেড়ে ওঠেন সুরমা নদীর তীর ঘেঁষা সুনামগঞ্জ জেলায়। অহিদুর রেজা বা দেওয়ান হাসন রাজা চৌধুরী ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর লক্ষণছিরি পরগণার তেঘরিয়া গ্রামে স্থানীয় রাজ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রাজ পরিবারের এই সন্তানের সঙ্গীত সাধনা গড়ে ওঠে তার নিজ বাড়িতেই। মরমী কবি ও বাউল শিল্পী হাসন রাজার স্মৃতি সংরক্ষণে ও সংগ্রহশালা হিসেবে তার রাজ বাড়ীটিকে হাসন রাজা জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়।

১৯৬২ সালে হাসন রাজার পরিবার হাসন ফকিরের মেলা আয়োজন করে। এই মেলায় পর থেকেই হাসন রাজার ব্যবহৃত সামগ্রীও এ বাড়িটি দেখতে সারা দেশ থেকে বিভিন্ন মানুষ আসতে শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ‘হাসন একাডেমী’কে ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেন। এই একডেমি থেকে এটি পরবর্তীতে জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৬ সালে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ ব্যতিক্রমী এক আয়োজন করে। ঐ বছরের ৩০ জুন জাদুঘরের উদ্যোগে সহস্র সংগীত প্রেমী জাদুঘর প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে একই সঙ্গে একতারা বাজায়। যা জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে হাসন রাজার জাদুঘরটি নিয়ে।

জাদুঘরটি দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বেআছে শিক্ষাবিদ দেওয়ান রাজা ট্রাস্ট। দেওয়ান তালিবুররাজা হাসন রাজার প্রপৌত্র।

জাদুঘরটি হাসন রাজার ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিশপত্র, ফটোগ্রাপ এবং কবিতা দিয়ে সাজানো আছে। এখানে প্রবেশ পথেই দেখা যাবে লালন ফকিরের একটি ছবি। আছে হাসন রাজার একমাত্র আলোকচিত্র। এই আলোকচিত্রটি আবার ১৯৬২ সালে কলকাতার একটি স্টুডিও থেকে সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া এখানে হাসন রাজার ব্যবহৃত চেয়ার টেবিল সহ রঙ্গিন আলখাল্লা প্রদর্শনের জন্য রয়েছে। আছে দুধ খাওয়া ও দোহনের পাত্র, বাটি, পিতলের কলস, কাঠের খড়ম, হাতের লাঠি, মোমদানি, ঢোল, মন্দিরা, করতাল এবং জমিদার কাজে ব্যবহৃত ক্যাশবাক্স। হাসন রাজার হাতে লেখা গানের কপি ও রয়েছে। রয়েছে জমিদার কাজে ব্যবহৃত ক্যাশবাক্স এবং ১৯০২ সালে উইলিয়াম লিটলের কাছ থেকে প্রাপ্ত উপহার – পানি পরিশোধন পাত্র, তলোয়ার, মাটির হাঁড়ি সহ আরো নানা জিনিস।

কিভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ এনা ট্রান্সপোর্ট, শ্যামলী পরিবহন ও হানিফ এন্টারপ্রাইজের বাস যাতায়াত করে। বাস স্ট্যান্ড থেকে রিকশায় চড়ে সাহেব বাজার ঘাটের পাশে হাসন রাজা জাদুঘরটিতে যেতে পারেন।

পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার দুলাই গ্রামে আজিম চৌধুরী জমিদার বাড়িটি অবস্থিত। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে প্রা...
09/08/2022

পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার দুলাই গ্রামে আজিম চৌধুরী জমিদার বাড়িটি অবস্থিত। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ২৫০ বৎসরের পুরাতন এই জমিদার বাড়িটি। এই জমিদার বাড়িটি 'আজিম চৌধুরী জমিদার বাড়ি' নামেই বেশ পরিচিত। এক সময়ের দৃষ্টিনন্দন বিলাসবহুল ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই বাড়িটি অতীত ঐতিহ্যকে ধারণ করে স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় ২৫০ বৎসর আগে এই জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন জমিদার রহিম উদ্দিন চৌধুরী। তিনি ছিলেন সেসময়ের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তিনি জমিদার বাড়িটির প্রতিষ্ঠাতা হলেও বাড়িটি পরিচিতি পায় তার সন্তান আজিম চৌধুরীর নামে। বর্তমানে এই জমিদার বাড়িটি আজিম চৌধুরীর জমিদার বাড়ি নামে পরিচিত। জমিদার বাড়িটি আজিম চৌধুরীর নামে হওয়ার কারণ হল তিনি যখন এই জমিদার বাড়ির জমিদারি পান তখনই এই জমিদার বাড়িটি ব্যাপক ভাবে বিস্তার লাভ করে এবং সকলের মাঝে পরিচিতি পায়। জমিদার আজিম চৌধুরী চলে গেছেন কিন্তু রেখে গেছেন তার কর্মযজ্ঞের স্মৃতি ও নাম। জমিদার আজিম চৌধুরী ছিলেন সৌখিন এবং সৌন্দর্যের পূজারী। যখন এই দেশে একটি একতলা বিল্ডিং বা ভবন নির্মাণ করা ছিল কোনো প্রত্যাশিত স্বপ্ন পূরণের ন্যায়, ঠিক সে সময় জমিদার আজিম চৌধুরী দুলাইয়ের এই নিভৃত পল্লীর এই বাড়িতে নির্মাণ করেন রাজপ্রাসাদতুল্য দ্বিতল বিশিষ্ট একাধিক দৃষ্টিনন্দন এবং বিলাসবহুল ভবন।

আজিম চৌধুরী জমিদার বাড়ি
১২০ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত অত্যাধুনিক স্থাপত্যশৈলীর এই বাড়িটির ছিল ১১টি নিরাপত্তা গেট। বাড়িতে প্রবেশের প্রথম গেটে ২টি আধুনিক স্বয়ংক্রিয় কামান স্থাপন করার পাশাপাশি সর্বদা দু'টি বিশাল আকৃতির হাতি দণ্ডায়মান রাখা হতো। হাতি দুটি জমিদার বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরীর কাজে ব্যবহার করা ছাড়াও জমিদার আজিম চৌধুরীর ভ্রমণ কাজেও ব্যবহৃত হতো। পুরো বাড়িটি ছিল নান্দনিক কারুকার্য মণ্ডিত। ভবনগুলো ছিল বহু কক্ষের। প্রতিটি কক্ষই ছিল বহু দরজা বিশিষ্ট। কক্ষ গুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা ছিল। এছাড়াও এই জমিদারবাড়িতে ছিল কাছারি ঘর, পাতিশাল-ঘোড়াশাল। সেই সাথে নিরাপত্তার জন্য বাড়িটির চারপাশ ঘিরে খনন করা হয়েছিল বিশাল নিরাপত্তা দীঘি। এছাড়া বাড়ির অভ্যন্তরে জমিদার পরিবারের বিবিদের গোসলের জন্য খনন করা হয়েছিল একটি পুকুর, জমিদার দরবারে কর্মরত-কর্মকর্তা কর্মচারীদের গোসলের জন্য বাড়ির বাইরে খনন করা হয়েছিল একটি বিশাল পুকুর এবং নামাজ আদায়ের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। গোটা বাড়িটি ছিল দেশি বিদেশী গাছপালায় আবৃত্ত। সবমিলিয়ে জমিদারবাড়িটি ছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। জমিদার আজিম চৌধুরী তার জমিদারির সময় ৩টি নীল কুঠি স্থাপন করেন দুলাই গ্রামে। গ্রামের কৃষকদের কৃষি কাজে উৎসাহিত করার জন্যই এই জমিদারবাড়িটি স্থাপন করেন। লোক মুখে জানা যায় তিনি অত্যন্ত আদর্শবান জমিদার ছিলেন। তার সুখ্যাতি ছিল গোটা বাংলা জুড়ে। এই জমিদারবাড়িটি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত-থেকে ছুটে আসতো অগণিত দর্শনার্থী। তবে একসময়ের মনোমুগ্ধকর দৃষ্টিনন্দন এই জমিদারবাড়িটি বর্তমানে অনেকটাই বিলুপ্তির পথে।
যেভাবে যাবেন:
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সকল জেলা ও শহর থেকে যমুনা সেতুর মাধ্যমে সড়কপথে সরাসরি পাবনা যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে যমুনা সেতু হয়ে পাবনা যেতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগবে। ঢাকা থেকে বাদল, শ্যামলী, দুলকী, মহানগর ইত্যাদি বাস পাবনায় যায়। পাবনা শহর থেকে সিএনজি যোগে সুজানগর যাওয়া যায়। সুজানগর উপজেলা থেকে সিএনজি যোগে পোড়াডাঙ্গা বাজার হয়ে চিনাখড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে পূর্ব দিকে পাবনা নগরবাড়ি মহাসড়কের পার্শে দুলাই বাজারের ৫০০ মিটার দক্ষিণ দিকে গেলেই এই জমিদারবাড়ি পেয়ে যাবেন।
যেখানে থাকবেন :
পাবনা শহরে থাকার জন্য নানান মানের হোটেল রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হোটেল প্রবাসী ইন্টার ন্যাশনাল, হোটেল পার্ক, হোটেল শিলটন, ছায়ানীড় হোটেল, প্রাইম গেস্ট হাউস, মিড নাইট মুন চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, স্বাগতম হোটেল এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি।

পর্ব ১পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের সাথে ...
16/06/2022

পর্ব ১
পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের সাথে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা যুক্ত হয়েছে। ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।[৩] দুই স্তর বিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস এই ব্রিজটির উপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরে থাকবে একটি একক রেলপথ। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ৪২টি পিলার ও ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যানের মাধ্যমে মূল অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার।

নির্মাণের ইতিহাস
১৯৯৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানী ও দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কে পদ্মা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য ৩,৬৪৩.৫০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছিল। ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১৮.১০ মিটার চওড়া এই সেতুটিকে দেশের সম্ভাব্য দীর্ঘতম সেতু হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৯৯ সালের জুলাই মাসে নির্মাণ কাজ শুরু করার এবং ২০০৪ সালের জুনে শেষ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রস্তাবিত পরিমাণ ২৬৯৩.৫০ কোটি টাকা বিদেশী উৎস থেকে এবং ৭৫০ কোটি টাকা জাতীয় উৎস থেকে জোগান দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

২০০৬-২০০৭ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে, তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

২০০৮-০৯ সালে প্রকল্প প্রস্তুতির সাথে যুক্ত কিছু লোকের দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় বিশ্বব্যাংক তার প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করে নেয় এবং অন্যান্য দাতারা সেটি অনুসরণ করে। এই ঘটনায় তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় ও সচিব মোশারেফ হোসেন ভূইয়াকে জেলে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে এমন কোনও অভিযোগ প্রমাণ না পাওয়ায় কানাডীয় আদালত মামলাটি বাতিল করে দেয়। দুর্নীতির অভিযোগ পরবর্তীতে আদালতে খন্ডিত হয়। পরে প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব সম্পদ থেকে অর্থায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এইসিওএম-এর নকশায় পদ্মা নদীর উপর বহুমুখী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প 'পদ্মা বহুমুখী সেতুর' নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০১১ সালে এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালে। মূল প্রকল্পের পরিকল্পনা করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ২৮ আগস্টে। সে সময় ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার পদ্মা সেতু প্রকল্প পাস করা হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে। তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। পদ্মা সেতুর ব্যয় আরও আট হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়। ফলে তখন পদ্মা সেতুর ব্যয় দাঁড়ায় সব মিলিয়ে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বাসেক) ২০১০ সালের এপ্রিলে প্রকল্পের জন্য প্রাক যোগ্যতা দরপত্র আহবান করে। প্রথম পরিকল্পনা অনুসারে, ২০১১ সালের শুরুর দিকে সেতুর নির্মাণ কাজ আরম্ভ হওয়ার কথা ছিল এবং ২০১৩ সালের মধ্যে প্রধান কাজগুলো শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরিকল্পনা অনুসারে প্রকল্পটি তিনটি জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করবে- মুন্সীগঞ্জ (মাওয়া পয়েন্ট/উত্তর পাড়), শরীয়তপুর এবং মাদারীপুর (জঞ্জিরা/দক্ষিণ পাড়)। এটির জন্য প্রয়োজনীয় এবং অধিগ্রহণকৃত মোট জমির পরিমাণ ৯১৮ হেক্টর।

মহাস্থানগড় (Mahasthangarh) বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। প্রাচীন পুন্ড্রনগরীতে প্রায় ৪০০০ বছর পুরাতন স্থাপনা রয়ে...
13/06/2022

মহাস্থানগড় (Mahasthangarh) বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। প্রাচীন পুন্ড্রনগরীতে প্রায় ৪০০০ বছর পুরাতন স্থাপনা রয়েছে। মাউর‌্যা এবং গুপ্ত রাজারা মহাস্থানগড়কে প্রাদেশিক রাজধানী হিসাবে ব্যবহার করতেন। পরবর্তীতে পাল রাজা পুন্ড্রনগর বা মহাস্থানগরকে মূল রাজধানী হিসাবে ব্যবহার করেন। প্রাচীন পুন্ড্রনগরীর ধংসস্তুপ দেখতে চাইলে যেতে হবে বগুড়া শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীর পশ্চিমপ্রান্তে।

রংপুর, বগুড়া, দিনাজপুর, মালদাহ, রাজশাহী অর্থাৎ বরেন্দ্র অঞ্চল পুন্ড্রদের আদি বসবাসের স্থান। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ৬৯৩ সালে বিখ্যাত চীনা ভ্রমণকারী ওয়ান চুন বৌদ্ধ স্থাপনা পরিদর্শনের জন্যে পুন্ড্রনগর তথা মহাস্থানগড় আসেন। তাঁর বর্ণনা মতে, তৎকালীন সময়ে ছয় মাইল আয়তনের পুন্ড্রনগরী একটি সমৃদ্ধ জনপদ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল, যা অনেকটা ব্যবলিওন, এথেন্স, মিশরের কাঠামোর মত। মুসলিম শাসনামলে ধীরে ধিরে পুন্ড্রনগরী মহাস্থানগড়ে পরিণত হয়।

১৮০৮ সালে “বুচানন হামিল্টন” সর্বপ্রথম মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষ আবিস্কার করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৩১ সালে মহাস্থানগড়কে প্রাচীন পুন্ড্রনগরী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।

মহাস্থানগড়ের দর্শণীয় স্থানসমূহ

সমস্ত মহাস্থানগড়ে রয়েছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এদের মধ্যে রয়েছে বৈরাগীর ভিটায় দুটি মন্দিরের অবশিষ্টাংশ, খোদারাপাথার ভিটা, কালীদহ সাগর ও পদ্মাদেবীর বাসভবন, শীলাদেবীর ঘাট, জিউৎকুন্ড কুপ, মানকালির দ্বীপে ১৫ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের অবশিষ্টাংশ, গোবিন্দ ভিটা, তোতারাম পণ্ডিতের ধাপ এবং গোকুল মেধ, যা বেহুলার বাসর ঘর অথবা লক্ষিন্দরের মেধ নামে পরিচিত।

এছাড়া আরও যা যা দেখতে পারেন ইস্কান্দারের ধাপ, খুল্লানার ধাপ, মাহী সওয়ার মাজার শরীফ, ভীমের জঙ্গল, জগির ভবন, অররা, তেঘর, রোজাকপুর, মাথুরা, মহাস্থানগড় জাদুঘর এবং পরশুরামের প্রাসাদ।

বাঁশখালী ইকোপার্ক (Banshkhali Eco Park) চট্টগ্রাম জেলার বাশঁখালী উপজেলায় অবস্থিত প্রাকৃতিক ইকোপার্ক। প্রকৃতির নৈসর্গিক ...
12/06/2022

বাঁশখালী ইকোপার্ক (Banshkhali Eco Park) চট্টগ্রাম জেলার বাশঁখালী উপজেলায় অবস্থিত প্রাকৃতিক ইকোপার্ক। প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যমন্ডিত উঁচু-নিচু পাহাড়, লেকের স্বচ্ছ পানি, বনাঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত তটরেখা নিয়ে গঠিত এই ইকোপার্ক। শীতের অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হতে আপনি ঘুরে আসতে পারেন।

বন্যপ্রাণী ও বনজসম্পদ রক্ষার্থে ১৯৮৬ সালে প্রায় ৭ হাজার ৭৬৪ হেক্টর বনভূমি নিয়ে ‘চুনতি অভয়ারণ্য’ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে বামেরছড়া ও ডানেরছড়া প্রকল্প দুটিও চুনতি অভয়ারণ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই অভয়ারণ্যে ছোট-বড় অনেক পাহাড়, খাল ও ছড়া রয়েছে। ১৯৯৩ সালে এলজিইডি, প্রকৌশল বিভাগ কৃষি জমিতে সেচ প্রকল্পের জন্য পাহাড়ের ঢালুতে বাঁধ নির্মাণ করে ডানের ও বামেরছড়ায় ৮০ হেক্টর নিম্নাঞ্চলের ধানি জমি চাষ উপযোগী করে। বিনোদনপ্রেমিদের কথা চিন্তা করে ২০০৩ সালে এ ইকোপার্কটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

✴ বৈচিত্র্য

এখানে পাওয়া যাবে ৩১০ প্রজাতির উদ্ভিদ। এর মধ্যে ১৮ প্রজাতির দীর্ঘ বৃক্ষ, ১২ প্রজাতির মাঝারি বৃক্ষ, ১৬ প্রজাতির বেতসহ অসংখ্য অর্কিড, ইপিফাইট ও ঘাস জাতীয় গাছ। এই এলাকা গর্জন, গুটগুটিয়া, বৈলাম, সিভিট, চম্পাফুল এবং বিবিধ লতাগুল্ম সমৃদ্ধ চিরসবুজ বনাঞ্চলে ভরপুর। পার্ক এলাকার ৬৭৪ হেক্টর বনভূমিতে বিভিন্ন ধরনের (বাফার, ভেষজ, দীর্ঘমেয়াদী) মনোমুগ্ধকর বাগান তৈরি করা হয়েছে। শীতের মৌসুমে এখানে অতিথি পাখির আগমন ঘটে।

✴ শিক্ষাকেন্দ্র

ইকোপার্কে বিচরণরত কয়েক হাজার বন্যপ্রাণী ও বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ সম্পর্কে পর্যটকরা যাতে খুব সহজেই জানতে পারেন। সেজন্য ২০১১ সালের ২১ আগস্ট নির্মিত হয় তথ্য ও শিক্ষাকেন্দ্র।

✴ কীভাবে যাবেন

চট্টগ্রাম থেকে এখানে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ। চট্টগ্রাম শহর থেকে বাঁশখালীর দূরত্ব মাত্র ৫০ কিলোমিটার। বাসে যেতে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লাগে। বাস ভাড়া জনপ্রতি ৫০-৮০ টাকা। সিএনজি ভাড়া ৪০০-৪৫০ টাকা। সময় লাগবে প্রায় আড়াই ঘণ্টা।

✴ অবস্থান

চট্টগ্রাম শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলায় বামেরছড়া ও ডানেরছড়া এলাকার সমন্বয়ে ২০০৩ সালে ১,০০০ হেক্টর বনভূমি নিয়ে বাঁশখালী ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি জলদি অভয়ারণ্য রেঞ্জের জলদি ব্লকে অবস্থিত।

বেনাপোল বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী একটি গ্রাম যেখানে একটি সীমান্ত তল্লাশী ঘাঁটি ও আন্তর্জাতিক স্থল বন্দর অবস্থিত। এই...
11/06/2022

বেনাপোল বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী একটি গ্রাম যেখানে একটি সীমান্ত তল্লাশী ঘাঁটি ও আন্তর্জাতিক স্থল বন্দর অবস্থিত। এই স্থলবন্দরের শুল্ক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে বেনাপোল কাস্টম হাইজ। স্থল বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল রেলস্টেশনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত রেল চলাচল অনুষ্ঠিত হয়।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বেনাপোল গ্রামটি বাংলাদেশের যশোর জেলার শার্শা উপজেলার অন্তর্গত। বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের দিকের অংশটি পেট্রাপোল নামে পরিচিত। এটি পশ্চিম বাংলার বনগাঁ মহুকুমার অন্তর্ভুক্ত।

✳ গুরুত্বঃ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার স্থল বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হিসাবে বেনাপোল স্থল বন্দর(Benapole Sthol Bondor) ব্যবহৃত হয়। বেনাপোল হতে কলকাতা মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মোট স্থলবাণিজ্যের ৯০% এই বেনাপোলের মাধ্যমে সংঘটিত হয়ে থাকে।১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে এখানে ৫০০ কোটি টাকার পণ্য বাণিজ্য সংঘটিত হয়। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে স্থল পথে গমনের প্রধান পথ যশোর-বেনাপোল-বনগাঁ-কোলকাতা গ্র্যান্ডট্রাঙ্ক রোড। এই পথে প্রতিদিন শত শত ভ্রমণকারী চলাচল করে থাকে।

Address

Level-07, 7D, Confidence Tower, Shahjadpur Busstand, Gulshan/02
Dhaka
1212

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Xotil Tour posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Xotil Tour:

Share

Category