13/06/2022
মহাস্থানগড় (Mahasthangarh) বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। প্রাচীন পুন্ড্রনগরীতে প্রায় ৪০০০ বছর পুরাতন স্থাপনা রয়েছে। মাউর্যা এবং গুপ্ত রাজারা মহাস্থানগড়কে প্রাদেশিক রাজধানী হিসাবে ব্যবহার করতেন। পরবর্তীতে পাল রাজা পুন্ড্রনগর বা মহাস্থানগরকে মূল রাজধানী হিসাবে ব্যবহার করেন। প্রাচীন পুন্ড্রনগরীর ধংসস্তুপ দেখতে চাইলে যেতে হবে বগুড়া শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীর পশ্চিমপ্রান্তে।
রংপুর, বগুড়া, দিনাজপুর, মালদাহ, রাজশাহী অর্থাৎ বরেন্দ্র অঞ্চল পুন্ড্রদের আদি বসবাসের স্থান। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ৬৯৩ সালে বিখ্যাত চীনা ভ্রমণকারী ওয়ান চুন বৌদ্ধ স্থাপনা পরিদর্শনের জন্যে পুন্ড্রনগর তথা মহাস্থানগড় আসেন। তাঁর বর্ণনা মতে, তৎকালীন সময়ে ছয় মাইল আয়তনের পুন্ড্রনগরী একটি সমৃদ্ধ জনপদ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল, যা অনেকটা ব্যবলিওন, এথেন্স, মিশরের কাঠামোর মত। মুসলিম শাসনামলে ধীরে ধিরে পুন্ড্রনগরী মহাস্থানগড়ে পরিণত হয়।
১৮০৮ সালে “বুচানন হামিল্টন” সর্বপ্রথম মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষ আবিস্কার করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৩১ সালে মহাস্থানগড়কে প্রাচীন পুন্ড্রনগরী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।
মহাস্থানগড়ের দর্শণীয় স্থানসমূহ
সমস্ত মহাস্থানগড়ে রয়েছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এদের মধ্যে রয়েছে বৈরাগীর ভিটায় দুটি মন্দিরের অবশিষ্টাংশ, খোদারাপাথার ভিটা, কালীদহ সাগর ও পদ্মাদেবীর বাসভবন, শীলাদেবীর ঘাট, জিউৎকুন্ড কুপ, মানকালির দ্বীপে ১৫ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের অবশিষ্টাংশ, গোবিন্দ ভিটা, তোতারাম পণ্ডিতের ধাপ এবং গোকুল মেধ, যা বেহুলার বাসর ঘর অথবা লক্ষিন্দরের মেধ নামে পরিচিত।
এছাড়া আরও যা যা দেখতে পারেন ইস্কান্দারের ধাপ, খুল্লানার ধাপ, মাহী সওয়ার মাজার শরীফ, ভীমের জঙ্গল, জগির ভবন, অররা, তেঘর, রোজাকপুর, মাথুরা, মহাস্থানগড় জাদুঘর এবং পরশুরামের প্রাসাদ।