25/06/2015
গন্তব্য গজনি Destination Gajani
সকাল ৬ টা- মহাখালি বাস টারমিনাল
বাসের খোজ শুরু, ব্যস আর কি পেয়ে গেলাম ড্রিমল্যান্ড। ভাল বাস। ভাড়া নিল জনপ্রতি ১৭০ টাকা। সাধারনত গেইটলক সারভিস কিন্তু ঈদের ছুটিতে বেশ খারাপ হয়ে যায় , থেমে থেমে যায়। যাই হক ঢাকা থেকে শেরপুর যেতে সময় সরবোচ্চ ৫ ঘন্টা লাগে , কিন্তু ট্রাফিক থাকলে কোন ভরসা নেই।
বেলা ২টা – শেরপুর আসতে আসতে অনেক দেরি হয়ে গেল কারন অই একটাই, অসম্ভব বেশি ট্র্যাফিক পুজার ছুটির কারনে।
রাস্তা থেকে কলা রুটি কিনেই আমরা রিজার্ভ করলাম একটা সিএনজি। ভারা নিল ৬০০ টাকা।
বেলা ৪টা- বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তেই যাই এক একটা নতুন জিনিস দেখি, হয়ত এতা পৃথিবীর সব যায়গায়ই মনে হবে।
প্রত্যেকটা এলাকা স্বকীয় , বিচিত্র, ভিন্ন। ঘুরাঘুরির মজাটাই এখানে, একটা নতুন কিছুর সাথে পরিচিত হওয়া। যাই হোক বাংলার উত্তর প্রান্তের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে দেখতে এক সময় হঠাত গা, হাত , পা ঠাণ্ডা হয়ে গেল। গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে হঠাত কি ঘটনা ঘটল বুঝলাম না, বেলা তখন ৪ টা। সামনে দেখি একটা সাইন বোর্ড , লেখা স্বাগতম গজনী অবকাশ কেন্দ্র। সত্যি অপূর্ব । এত গরমেও গজনী তে ঢুকার সাথে সাথে পথের সব ক্লান্তি নিমিষেই মিলিয়ে গেল আলহামদুলিল্লাহ। কাঠ ফাটা রোদেও শীতলতা, চারপাশের পাখির গান আর পাহারের কোলে এরকম একটা সুন্দর যায়গায় এসে মন জুরিয়ে গেল। গজনী অবকাশ কেন্দ্রে রয়েছে ক্রিন্সেন্ট লেক, লেকের ওপর রংধনু ব্রীজ, পদ্মসিড়ি, পানসিতরী নৌকা, প্যাডেল বোড , মুক্তিযুদ্ধ স্মুতিসৌধ, শিশু পার্ক, কবি নজরুল ইসলাম ও কবি রবিন্দ্র নাথ ঠাকুরের স্মৃতিফলক, মাটির নিচে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাতায়তের জন্য ড্রাগন ট্যানেল মুখের ভিতর দিয়ে পাতালপুরি, লাভলেইন, মৎস্য কুমারী, কবিতাবাগ, হাতি, বাঘ, জিরাফ, হরিণ, ডাইনোসরের প্রতিকৃতি। অবকাশ কেন্দ্রে অন্যতম আকর্ষণ সাইট ভিউ টাওয়ার।
গজনী অবকাশ কেন্দ্রে গাড়ী প্রবেশের জন্য উপজেলা পরিষদ চেকপোষ্ট থেকে বাস-কোচ, ট্রাক-৩ শ টাকা। মাইক্রোবাস,পিকআপ, মেক্সি-১শ ৫০টাকা। জিপ,কার,টেম্পু-১শ টাকা এবং সিএনজি-৫০টাকা দিয়ে গেটপাস নিতে হবে। অন্যথায় গজনী অবকাশ কেন্দ্রে গাড়ী ঢুকাতে পারবেন না। তাছাড়া সীমান্ত পথে বিজিবি ক্যাম্পে সে পাস দেখাতে হবে। আর অবকাশ কেন্দ্রে টাওয়ারের জন্য জনপ্রতি ৫ টাকা, শিশু পার্কের জন্য ১০টাক, প্যাডেল বোড ২০মিনিটে ৬০টাকা, পানসিতরী নৌকায় জনপ্রতি-১০টাকা এবং পাতালপুরি ড্রাগন ট্যানেলে জন প্রতি ৫টাকা প্রদর্শনী ফি রয়েছে।
খাবার দাবারঃ সব জায়গারই নিজস্ব কিছু ঐতিহ্য থাকে শেরপুর ও এর ব্যতিক্রম নয় , তাই গজনী থেকে শেরপুর এসেই আর একটা অটো রিকশা ভাড়া করে চলে গেলাম মিষ্টির বাজারে আর পেট পুরে খেলাম আর বাসার জন্য নিলাম বিখ্যাত সুস্বাদু ছানার পায়েস। অতঃপর বাস এর টিকেট নিয়ে রওয়ানা দিলাম ঢাকার উদ্দেশে।
সবার জন্য পরামর্শঃ
পরিষ্কার পরিচ্চন্নতা ঈমানের অঙ্গ। নিজে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন, আপনার চারপাশ পরিষ্কার রাখুন, কোথাও কলার খোসাটা ফেলার আগে মনে করুন আপনার পাশের বাড়ির জানালা দিয়ে আপনার বিছানায় তা ফেললে কেমন লাগবে??