17/08/2026
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
📣প্রিয় ভ্রমন পিপাসু ভাই ও বোনেরা আসসালামুয়ালাইকুম।
Prime Tourism Network একটি নাম, একটি ইতিহাস, একটি ব্র্যান্ড। প্রাইম টুরিজম নেটওয়ার্ক বর্তমানে টোয়াব ( টুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) এবং আটাব ( এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশ) এর সদস্য।
আমরা সেই ১৯৯৫ সাল থেকে দীর্ঘ ৩১ বছর যাবত বাংলাদেশের টুরিজম সেক্টরে কাজ করছি।
এই ৩১ বছরে আমরা হাজার হাজার ভ্রমন যাত্রী কে সেবা দিতে সক্ষম হয়েছি। আমরা ভ্রমন যাত্রীদের কে সাধারণত ৮ টি সার্ভিস দিয়ে থাকি, যেমন:
🔥ভিসা প্রসেসিং করা ।
🔥এয়ার টিকেট করে দেয়া।
🔥ট্রাভেল আইটিনারি করে দেয়া।
🔥হোটেল কনফার্ম করে দেয়া।
🔥এয়ার পোর্ট থেকে হোটেলে পৌছানো।
🔥হোটেল থেকে এয়ার পোর্ট পৌঁছানো।
🔥দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের আয়োজন করা।
🔥প্যাকেজ ট্যুর অপারেটর করা।
✔️১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত এই ৯ বছর আমি নিজের উদ্যোগে Prime Tourism Network এর সহযোগীতায় এই কাজ গুলো হাজার হাজার টুরিস্টকে সার্ভিস দিতে সক্ষম হয়েছি। ২০০৪ সালে আমার ভাবনা হলো আমি যে ভাবে মানুষ কে ভ্রমন সেবা দিচ্ছি সেটা সঠিক কিনা যাচাই করা দরকার।কারন আমিতো পূর্বে কোন ট্রাভেল এজেন্সিতে জব করিনি বা আমার তো কোন গুরু নেই।
-এই ভাবনা থেকে আমি সঠিক ভাবে মানুষকে টুরিজম সেবা দিচ্ছি কিনা তা যাচাই করার জন্য আমি ২০০৩ সালে Bangladesh Porjoton Corporation এর সিস্টার কনসার্ন NHTTI তে ৬ মাসের কোর্স করার জন্য ভর্তি হই এবং ৬ মাস পরে Bangladesh Porjoton Corporation এর NSTTI থেকে Travel Agency and Tour Operations এর উপর Certificate অর্জন করি।
✔️NSTTI তে আমাদের কোর্স Coordinator বা টিচার হিসেবে যারা জড়িত ছিলেন তাদের সবার নাম আমার মনে নেই তবে ৩ জনের নাম হয়তো আজীবন মনে থাকবে যেমন: রোকেয়া ম্যাডাম, আশরাফ স্যার এবং সাব্বির স্যার। আমার জানা মতে রোকেয়া ম্যাডাম NHTTI থেকে অবসরের পর উনার পরিবারের সাথে USA অবস্থান করছেন, আশরাফ স্যার NHTTI থেকে অবসর নিয়েছেন। আশরাফ স্যারের সাথে শেষ বার দেখা হয়েছে জোনাকি কনভেনশন হলে খুব সম্ভবত গত জুনে টোয়াব এর নির্বাচনী সভায় এবং সাব্বির স্যার এখনো NHTTI তে কর্মরত আছেন আমার জানামতে। সাব্বির স্যার এর সাথে দেখা হয়েছে গত বছর ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর এর বিশ্ব পর্যটন দিবস এর টোয়াব এর অনুষ্ঠানে আগারগাঁও এর পর্যটন ভবনে।
✔️১৯৯৫ সাল থেকে ২০২৬ সাল এই ৩১ বছরে এশিয়া মহাদেশের প্রায় ১৬টি দেশে ভ্রমন যাত্রীদেরকে নিয়ে গ্রুপ ট্যুরে যেতে হয়েছে। কোন কোন দেশে আমাকে একাধিক বার ভমন করতে হয়েছে। যেমন: ভারতে আমাকে প্রায় ৬০ বার, নেপালে আমাকে প্রায় ৪০ বার এবং ভূটানে আমাকে প্রায় ০৭ বার যেতে হয়েছে। নেপাল এবং ভূটানে যাওয়ার জন্য ভারতের transit visa নিয়ে যেতে হয়েছে। তাছাড়া ভ্রমন গ্রুপের সাথে আমাকে ট্যুর ম্যানেজার হিসেবে যেতে হয়েছে থাইল্যান্ড ৮ বার , সিনগাপুর ৬ বার, মালয়েশিয়া ১০ বার, চায়না ০৪ বার, হংকং ০২ বার, কম্বোডিয়া ০২ বার, ফিলিপাইন ০২ বার, ব্রুনাই ০২ বার, ইন্দোনেশিয়া ০৪ বার, ইজিপ্ট ০২ বার, শ্রীলঙ্কা ৪ বার , মালদ্বীপ ০৪ বার।
✔️শ্রীলঙ্কা গ্রুপ টুরের বিশেষ প্রাপ্তি হলো গ্রুপের সাথে আমাকে ২০১১ এবং ২০১২ সালে ২ বার শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে উঁচু পর্বত ( Sree Pada) আদমের চূড়ায় (উচ্চতা ৭,৩৫৯ ফুট)পায়ে হেঁটে উঠতে হয়েছিল।
মালদ্বীপের গ্রুপ টুরের বিশেষ প্রাপ্তি ছিল ১৬ জনের গ্রুপ নিয়ে ১৭ সিটের Sea Plane এ চড়ে ৩৫ মিনিটে মালদ্বীপের বিভিন্ন আইল্যান্ডের উপর দিয়ে নীচু হয়ে উরে দ্বীপের জীবন যাত্রা অবলোকন করা।
✔️গ্রুপ ট্যুরে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছি ভারতের ১৫ রাত ১৬ দিনের ট্যুরে গিয়ে। এই টুরে প্রতি দিন প্রতি বেলায় পিকনিক স্টাইলে খাওয়া দাওয়া হতো। গ্রুপ টি ঢাকা থেকে শুরু করে ভারতের বনগাঁ/ হরিদাসপুর দিয়ে প্রবেশ করে পশ্চিম বঙ্গ- বিহার - উত্তর প্রদেশ- দিল্লি - হরিয়ানা- জয়পুর ঘুরে আবার ফিরতি পথে ঢাকায় ফেরা। আমরা এই প্যাকেজটি ১৯৯৬ সালে শুরু করে ১৯৯৮ সালে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই। এই ২ বছরে আমরা প্রায় ১৫০০ - ১৬০০ লোককে ভ্রমন সেবা দিতে সক্ষম হয়েছি। এই ১৬ দিনের ট্যুরে আমরা বাংলাদেশ অংশে Sohagh Poribohon এবং ভারতের অংশে ভারতের যাত্রীবাহী বাস ব্যবহার করতাম। ভারতের ৬ টি প্রদেশের উপর দিয়ে আমাদের যাত্রীবাহি বাস রান করতো। আমাদের পরিবহন কোম্পানি গাড়ির ট্যাক্স পরিশোধ করতেন পশ্চিম বঙ্গের কলকাতায় । ১৯৯৮ সালের শেষের দিকে আমাদের ভারতের পরিবহন কোম্পানির মালিক জানালেন যে ভারতীয় সরকার নিয়ম করেছে পরবর্তী ১৯৯৯ সাল থেকে প্রত্যেক প্রদেশে আলাদা আলাদা ভাবে ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে আগে যেরকম যে কোন একটি প্রদেশে বা Province এ ট্যাক্স পরিশোধ করলে All India তে গাড়ি রান করতে পারবে সেই নিয়ম থাকবে না। আমাদের প্রতিষ্ঠান Prime Tourism Network এই ১৫ রাত ১৬ দিনের টুর তখন অপারেট করেছি সর্ব সাকুল্যে মাত্র ৬,৯০০/- টাকায় অর্থাৎ প্যাকেজ ট্যুরের সকল খরচ যেমন বাসভাড়া+ হোটেল ভাড়া+ তিন বেলা খাবার খরচ+ ভিসা খরচ+ সাইটসিন খরচ+ গাইড খরচ।১৯৯৬-১৯৯৮ এই ২ বছর আমাদের এই প্যাকেজ এর ভ্রমন মূল্য একই / Same ছিল। আমরা এক টাকাও বাড়াই নি আমাদের উদ্দেশ্য ছিল এই প্যাকেজ টি জনপ্রিয় বিধায় মূল্য এক রেখে ভ্রমন যাত্রীর সংখ্যা বাড়ানো। ভারতীয় যাত্রী বাহী গাড়ির ট্যাক্স প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা ১৯৯৮ সালের পর এই প্যাকেজটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই। এই ১৫ রাত ১৬ দিনের প্যাকেজে ভ্রমন যাত্রী সংগ্রহ করার জন্য আমাদের ঢাকা প্রধান অফিসের পাশাপাশি চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুরে শাখা অফিস খুলতে হয়েছিল। যার কারণে বর্তমানে চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর এর হাজার হাজার ভ্রমন যাত্রী আমাদের অতি পরিচিত এবং নিকট আত্মীয়ের মতো।
✔️২০০৮ এবং ২০০৯ সালে পর পর কয়েকটি ১২ রাত ১৩ দিনের গ্রুপ প্যাকেজ করে একই যাত্রায় ০৬ দেশের প্যাকেজ করে বেশ আনন্দ পেয়েছিলাম। প্যাকেজ রুট ছিলো ঢাকা - কুয়ালালামপুর - ব্রুনাই - ফিলিপাইন - সিনগাপুর - ব্যাংকক - রেনগুন- ঢাকা। এই টুরে প্রথমবার আমি সহ মোট ২৮ জনের গ্রুপ নিয়ে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে ১২ দিন পরে ১৩ দিনের দিন ঢাকায় ফিরে আসি। প্যাকেজ টি আকর্ষণীয় বিধায় এখনো চলমান আছে।
✔️ আমাদের আর একটি রেগুলার প্যাকেজ আমরা ২০১১ সালে শুরু করেছিলাম। এখানে Advocate Mr. Akil সাহেবের নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখ করতে হয়। প্রথম প্যাকেজে মোট ভ্রমন যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১২ জন এবং Advocate Mr. Akil সাহেব আমাকে উনার পরিবার সহ ০৮ জন ভমন যাত্রী দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন, অন্য ০৪ জন আমি এড দিয়ে সংগ্রহ করেছিলাম।
প্যাকেজ টি ছিল ঢাকা - কায়রো - আলেকজান্দ্রিয়া-শার্ম আল শেখ-কায়রো- ঢাকা, প্যাকেজ টি ০৬ রাত ০৭ দিনের। এই প্যাকেজ এ আমি পর পর ০২ বার ট্যুর ম্যানেজার হিসেবে গ্রুপের সাথে গিয়েছিলাম। এই প্যাকেজ এ আমার বড়ো ধরনের প্রাপ্তি হলো কাছে থেকে পৃথিবী বিখ্যাত আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরী, মিশরের
পিরামিড এবং মিশরের পৃথিবী বিখ্যাত মিউজিয়াম দেখা - যেখানে ফেরাউন এর মমি দৃশ্যমান।
✔️বর্তমানে প্রতি মাসে আমরা কম পক্ষে ০১ থেকে ০২ টি পূর্ব থেকে নির্ধারিত গ্রুপ প্যাকেজ
অপারেট করে থাকি। ভ্রমন আগ্রহীরা কমপক্ষে ০২-০৩ মাস পূর্বে থেকে যোগাযোগ করে বুকিং সম্পন্ন করে ভ্রমনের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। পূর্ব থেকে প্রস্তুতি নেয়ার কারণে প্যাকেজ মূল্য এবং সার্ভিস উভয় দিকেই ভ্রমন যাত্রীরা সুবিধা পেয়ে থাকেন।
✔️তাছাড়া এখন আমরা পৃথিবীর সকল দেশ নিয়ে কাজ করে থাকি। শুধু মাত্র ২ - ৪ জন হলেই ক্লায়েন্টের আগ্রহ অনুসারে পৃথিবীর যে কোন এক বা একাধিক দেশের ভিসা, এয়ার টিকেট, হোটেল বুকিং, সাইটসিন বা প্রয়োজন অনুযায়ী স্পেশাল গাইড সার্ভিস দিয়ে থাকি।
✔️তবে ঈদ বা পূজার আগে বা পরে আমাদের বেশ কিছু জনপ্রিয় ভ্রমন রুটে গ্রুপ প্যাকেজ অপারেট করে থাকি।
✔️যেহেতু এই টুরিজম সেক্টরে আমাদের অভিজ্ঞতা বেশি সেহেতু প্রতি দিনই জটিল জটিল ভিসা এবং প্যাকেজ করতে হয়। ভিসার ক্ষেত্রে আমাদের সাকসেস ৯৯%। আমরা সচরাচর:- ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, সিনগাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, চায়না, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ব্রুনাই, ইজিপ্ট, তুরস্ক, ব্রাজিল, ইউ.এ.ই( দুবাই), নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ইউ. কে, সেনজেন কান্ট্রি, ইউ. এস. এ( USA) ভিসা প্রসেসিং করে থাকি।
✔️ আমাদের মাধ্যমে পূর্বে ভ্রমন করে মানুষিক ভাবে তৃপ্ত ভমনকারীরা বর্তমানে সচরাচর পারিবারিক ভাবে বা কর্পোরেট ট্যুর / অফিসিয়াল ট্যুর করে থাকেন।
✔️এই দীর্ঘ যাত্রায় অনেক আনন্দ পেয়েছি, অনেক Chalange এর সম্মুখীন হতে হয়েছে। আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আমাকে উনি এই টুরিজম জগতে এনে লাখ লাখ মানুষের সাথে কথা বলার এবং হাজার হাজার ভ্রমন যাত্রীদের সাথে ভ্রমন করার সুযোগ করে - এই সুন্দর পৃথিবী নিজ চোঁখে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ।
📌 শুভেচ্ছানতে-
মোঃ আমিনুর রহমান ভূঁইয়া
পরিচালক
প্রাইম ট্যুরিজম নেটওয়ার্ক
(স্থাপিত: ১৯৯৫)
আটাব সদস্য নম্বর:৫৪১৫
টোয়াব সদস্য নম্বর:৭৭৭
১০৯ কাকরাইল, ঢাকা
Cell no:+8801718306090
E- mail: [email protected]
Web site: www.primetourism.com.bd