23/01/2026
বিমানে চড়ার ক্ষেত্রে অনেকেই কানে প্রচন্ড চাপ বা ব্যাথা অনুভব করেছেন। তারা এর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে পূর্ব প্রস্তুতি থাকলে কিছুটা হলেও লাঘব হবে আশা করছি
প্রথমত এটা নিয়ে একদম ঘাবড়াবেন না! বিমানে উঠলে কান বন্ধ হওয়া বা ব্যাথা হওয়াটা খুব কমন একটা ব্যাপার, যেটাকে ডাক্তারি ভাষায় বলে 'ইয়ার ব্যারোট্রমা'। সহজ কথায় বলতে গেলে, আমাদের কানের ভেতরে একটা চিকন পাইপের মতো নালী থাকে যেটার কাজ হলো বাইরের বাতাসের সাথে ভেতরের বাতাসের ব্যালেন্স রাখা। বিমান যখন অনেক উঁচুতে ওঠে বা নিচে নামতে শুরু করে, তখন বাইরের বাতাসের চাপ হুট করে বদলে যায়। আপনার কানের ওই নালীটা যখন ওই দ্রুত পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে পারে না, তখনই মনে হয় কান কেউ চেপে ধরেছে। আর যদি আপনার আগে থেকে একটু সর্দি বা সাইনাসের সমস্যা থাকে, তবে তো খবরই আছে- ব্যথাটা তখন অনেক গুণ বেড়ে যায়।
এখন প্রশ্ন হলো পর্দা ফেটে যাবে কি না? আসলে ব্যথার চোটে আমাদের মনে হয় পর্দা ফেটে যাচ্ছে, কিন্তু সাধারণত তেমন কিছু হয় না। তবে হ্যাঁ, খুব বেশি প্রেশার পড়লে পর্দা হালকা ইনজুরড হতে পারে, কিন্তু সেটা খুবই রেয়ার। আপনি যখন লম্বা সময় বিমানে থাকেন, তখন শরীর ওই চাপের সাথে যুদ্ধ করতে করতে টায়ার্ড হয়ে যায় বলেই ব্যথাটা বেশি লাগে। বিশেষ করে প্লেন যখন ল্যান্ড করার জন্য নামতে থাকে, তখন সমস্যাটা সবচেয়ে বেশি হয়। তাই পরের বার যখন ফ্লাই করবেন, সাথে কিছু চুইংগাম রাখবেন আর বারবার ঢোক গিলবেন- দেখবেন কানটা 'পপ' করে খুলে গেছে আর আরাম লাগছে।
ব্যথা কমানোর জন্য এই কয়েকটা হ্যাক মাথায় রাখেন, আপনার নেক্সট ট্রিপ অনেক আরামদায়ক হবে:
চুইংগাম বা লজেন্স: এটা সবচেয়ে সহজ বুদ্ধি। বিমান যখন নিচে নামতে শুরু করবে, তখন একটা চুইংগাম মুখে দিন বা লজেন্স চুষতে থাকুন। এতে করে আপনার বারবার ঢোক গেলা হবে, আর ঢোক গিললেই কানের ওই বন্ধ নালীটা খুলে যায়।
ভালসালভা টেকনিক (খুব সাবধানে): নাক দুই আঙুলে চেপে ধরুন, মুখটা বন্ধ রাখুন। এবার খুব হালকা করে নাক দিয়ে বাতাস বের করার চেষ্টা করুন (যেমন করে আমরা নাক ঝাড়ি)। দেখবেন কানের ভেতরে একটা 'পপ' শব্দ হবে আর কানটা হালকা হয়ে যাবে। খবরদার, খুব জোরে চাপ দেবেন না কিন্তু!
হাই তোলা: ইচ্ছে না করলেও কয়েকবার বড় করে হাই তোলার ভান করুন। এতে চোয়ালের মাসলগুলো এমনভাবে কাজ করে যে কানের ভেতরের চাপ কমে যায়।
ঘুমিয়ে থাকবেন না: ল্যান্ডিংয়ের সময় দয়া করে ঘুমাবেন না। ঘুমালে আমাদের ঢোক গেলার হার কমে যায়, ফলে কান বন্ধ হয়ে যাওয়ার চান্স ১০০% বেড়ে যায়। ক্রুরা যখন সিট বেল্ট বাঁধার ঘোষণা দেয়, তখনই অ্যালার্ট হয়ে যান।
নাক পরিষ্কার রাখা: আপনার যদি সর্দি সর্দি ভাব থাকে, তবে ফ্লাই করার ৩০ মিনিট আগে কোনো একটা ভালো নেজাল স্প্রে (Nasal Spray) দিয়ে নাক পরিষ্কার করে নিন। নাক ক্লিয়ার থাকলে কানের প্রেশার অটোমেটিক কম লাগে।
আর হ্যাঁ, একটা মজার জিনিস কিনতে পারেন যেটাকে বলে 'EarPlanes'। এগুলো বিশেষ ধরনের ইয়ার প্লাগ যা বিমানে বাতাসের চাপটা আস্তে আস্তে কানে ঢুকতে দেয়, ফলে কান হঠাৎ করে বন্ধ হয় না। ©