25/09/2024
*নেপাল ভিসা : অন এরাইভাল ও স্টিকার ভিসা প্রসেসিং*
সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নেপাল (Nepal) তার হিমালয়ের অপার সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পর্যটকদের জন্য সহস্র বছর ধরে। আনন্দের বিষয় হলো নেপাল ভ্রমণ যেমন চোখের জন্য স্বস্তিদায়ক তেমনি পকেটের জন্য সাশ্রয়ী বিশেষ করে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য। বিদেশ ভ্রমণের সময় এবং খরচ সাপেক্ষ একটি দিক হলো গমনরত দেশটির ভিসা প্রসেসিং (Visa Processing)। এদিক দিয়ে নেপাল সার্কের অন্যান্য দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য রেখেছে ঝামেলাহীন কিছু সুবিধা। বাংলাদেশ থেকে বিমানে নেপাল ভ্রমণে অন এরাইভাল ভিসা সুবিধা চালু আছে। আর বাই রোডে ইন্ডিয়া হয়ে গেলে স্টিকার ভিসা নিয়ে নেপালে যেতে হবে।
অন এরাইভাল ভিসা
নেপালে ভ্রমণ করতে হলে পাচ্ছে অন এরাইভাল ভিসার (On Arrival Visa) সুবিধা। অর্থাৎ দেশটিতে যাবার আগে নিজ দেশে থাকা অবস্থায় কোন প্রকার এম্বাসির দরজায় দৌড়োদৌড়ি , কাগজ পত্রের ঝামেলা, ছবি তোলা এ সমস্ত কিছুই করার প্রয়োজন নেই। অন্য অনেক দেশেই এই সুবিধা আছে কিন্তু এক্ষেত্রে এয়ারপোর্টে নেমে আন্তর্জাতিক মূল্যে দিতে হয় ভিসা ফি। নেপাল সার্ক এর নাগরিকদের নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত থাকার জন্য দিচ্ছে বিনা ভিসা ফিতে সেখানে থাকবার সুযোগ।
অনেকেই আছেন যারা মনে করেন নিজে নিজে ভিসা প্রসেসিং এর কাজ করাটা অনেক কঠিন বা এই জন্য সাথে করে অনেক অনেক কাগজপত্র নিয়ে ঘুরতে হবে বা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে এই কাজ করতে হবে। যেহেতু নেপাল শুধুমাত্র সার্কভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের এই সুবিধা দিচ্ছে তাই সেখানে লম্বা অপেক্ষার লাইনে দাঁড়াবার প্রয়োজন নেই এবং প্লেন থেকে নামার পর অন এরাইভাল ভিসা পেয়ে ইমিগ্রেশন পার হতে সর্বোচ্চ পনের মিনিট লাগবে যদি আগে থেকেই আপনার ধারণা থাকে কি কি করতে হবে। নিচে নেপালের অন এরাইভাল ভিসা প্রসেস করবার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। অন এরাইভাল ভিসা পাবার জন্য সাথে কিছু জিনিস আগে থেকে নিয়ে যেতে হবে।
রিটার্ন টিকেট
এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
আগে থেকে পূরণ করে নিয়ে যেতে পারেন
ইমিগ্রেশন কার্ড
ভিসা আবেদন পত্র (এই লিঙ্ক https://bit.ly/2Iy87QB এ ভিসার আবেদন পত্রটি পাবেন)
আগে থেকে ফরম পূরণ করে নিতে না পারলেও সমস্যা হবেনা, সেই ক্ষেত্রে আপনার ফ্লাইটের সময়ই ইমিগ্রেশন কার্ড ও ভিসার আবেদনপত্র দিবে আপনাকে।
আপনি যদি কোন প্রকার কাগজ পত্র সাথে নেবার ঝামেলায় না যেতে চান এবং আপনার পাসপোর্ট যদি মেশিন রিডেবল হয় তাহলে ভিসা প্রসেস করা আপনার জন্য আরও সহজ। প্লেন থেকে নেমে নেপাল ইমিগ্রেশন অফিসে গিয়ে আপনার সহযাত্রীদের হাতে অসংখ্য কাগজ দেখে ঘাবড়ে যাবেন না। দিন দিন অন এরাইভাল ভিসা পদ্ধতি সহজ করবার জন্য এয়ারপোর্টে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টধারীদের জন্য মেশিনেই অন এরাইভাল ভিসা ফর্ম ফিলাপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে দেশ থেকে রওনা হবার আগে নেপালের যে কোন পর্যটন এলাকার একটি হোটেলের ঠিকানা নিয়ে যান। মেশিনে আপনার নাম, পাসপোর্ট নাম্বার, ফ্লাইট নাম্বার, গন্তব্য এর ঠিকানা, রিটার্ন ফ্লাইট যদি চায় সে সমস্ত তথ্য দিয়ে , মেশিনে লাগানো স্ক্যানারে আপনার পাসপোর্ট স্ক্যান করে নিবেন এবং মেশিনের ক্যামেরায় আপনার ছবি উঠিয়ে নিবেন। এ ক্ষেত্রে কোন সমস্যার মুখোমুখি হলে আশেপাশে এয়ারপোর্ট কর্মীরা থাকে বিনা মূল্যে সাহায্য করবার জন্য। সমস্ত তথ্য মেশিনে দেবার পর মেশিন থেকে একটি স্লিপ বের হয়। সেটি এবং পাসপোর্ট নিয়ে ইমিগ্রেশন লাইনে দাঁড়ালেই আর অন্য কোন ঝামেলা নেই।
এক্ষেত্রে কিছু জিনিস খেয়াল রাখতে হবে যেমন – আপনি ঠিক ভিসার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন কিনা। ফ্রি ভিসার বোর্ড দেখে সেই লাইনে দাঁড়াতে হবে। ইমিগ্রেশন লাইনে সাধারণত কিছুই জানতে বা দেখতে চায় না। তবে আপনি যদি আগে থেকে হোটেল বুক করে যান তবে বুকিং এর কাগজপত্র এবং আপনার পেশা অনুযায়ী এন ও সি লেটার বা ট্রেড লাইসেন্স (ইংরেজি ট্রান্সলেট ও বাংলাটার ফটোকপি) এবং ভিসিটিং কার্ড সাথে রাখা ভাল। এবং বিনা ভিসা ফি ছাড়া এই ভ্রমণ শুধুমাত্র বছরে একবারের জন্য প্রযোজ্য।
দূতাবাস থেকে স্টিকার ভিসা
যারা দেশ থেকেই ভিসা প্রসেসিং এর ঝামেলা শেষ করে ভ্রমণ করতে চান অথবা বাই রোডে ইন্ডিয়া হয়ে নেপাল ভ্রমণ করতে চান তাদের জন্য নেপাল দূতাবাস স্বল্প সময়ে পাসপোর্টে স্টিকার ভিসা (Sticker Visa) প্রদান করে থাকে। এক্ষেত্রে সুবিধা হলো পিক সিজনে ভ্রমণের সময় অন এরাইভাল ভিসা নেবার জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয় যা এড়ানো সম্ভব হয় দূতাবাস থেকে ভিসা নিয়ে গেলে।
ঢাকায় ডিপ্লোম্যাটিক জোনের জাতিসংঘ রোডে নেপাল দূতাবাস অবস্থিত। সেখানকার গেটে সকাল ৯টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আবেদন পত্র বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এছাড়া আগের লিংক থেকে ডাউনলোড করে ফরম পূরণ করে নিয়ে যেতে পারেন। পূরণকৃত ফর্মের সাথে সাথে মূল পাসপোর্ট ও তার এক কপি ফটোকপি, এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি লাগবে। প্রয়োজনে নেপাল যাওয়া আসার কনফার্ম বিমান টিকেটের ফটোকপি লাগতে পারে।
রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার অর্থাৎ সপ্তাহের কাজের দিঙ্গুলোর মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আবেদনপত্র গ্রহন করে থাকে দূতাবাস এবং সাধারণত ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ভিসা প্রদান করে। পাসপোর্ট গ্রহন করতে হয় বিকাল ৩টা থেকে ৩টা ৪৫। ভিসা ফি অন এরাইভাল ভিসার মতোই ফ্রি কিন্তু বছরে দ্বিতীয়বার ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগের উল্লেখিত মূল্য প্রযোজ্য হবে। নেপাল দূতাবাস ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে ফোনে কোনোরকম ইন্টারভিউ নেয় না এমনকি কোন জিজ্ঞাসা থাকলে তার সেবা ফোনে প্রদান করেনা। এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে স্বশরীরে হেল্প ডেস্কে উপস্থিত থাকতে হয়।
আরও পড়ুন : নেপাল ভ্রমণ গাইড
নেপাল ভিসা ফি
বাংলাদেশ সহ সার্কভুক্ত দেশ গুলোর জন্যে প্রতি বছর প্রথম ভিসার জন্যে কোন ভিসা ফি লাগবেনা। তবে একই বছরে দ্বিতীয় ভিসার জন্যে ভিসা ফি লাগবে। এক বছরে দ্বিতীয়বার ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা ফি –
১৫ দিনের মাল্টিপল ভিসার জন্য ৩২১০ টাকা
৩০ দিনের মাল্টিপল এন্ট্রির জন্য ৫৩৫০ টাকা এবং
৯০ দিনের মাল্টিপল এন্ট্রির জন্য ১৩৩৭৫ টাকা ।
নেপাল এম্বাসি ও প্রয়োজনীয় লিংক
Embassy of Nepal,
United Nations Road, Road No. 2
Baridhara Diplomatic Enclave
Dhaka – 1212, Bangladesh.
ইমেইল : [email protected], [email protected]
ওয়েবসাইট : https://bd.nepalembassy.gov.np
ভিসা ফর্ম : https://bit.ly/2Iy87QB
ভিসা সংক্রান্ত তথ্য : https://bd.nepalembassy.gov.np/visa/
নেপালের অন এরাইভাল বা দূতাবাস থেকে স্টিকার ভিসা দুটোই অন্যান্য দেশের তুলনায় পাওয়া সহজ। তাই সময় এবং সুযোগ অনুযায়ী মন মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়ে আসুন নেপাল।