Al Quran Al Hadith

Al Quran Al Hadith Islam is the complete code of life.
(1)

20/06/2026

বর্ণনাকারী: সুহায়ব (রাযিঃ)

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমাদের পূর্ববর্তী যামানায় এক বাদশাহ ছিল। তার ছিল এক যাদুকর। বার্ধ্যক্যে পৌঁছে সে বাদশাহ্কে বলল, আমি তো বৃদ্ধ হয়ে পড়েছি, সুতরাং একজন যুবককে আপনি আমার কাছে প্রেরণ করুন, যাকে আমি যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিব। অতঃপর যাদুবিদ্যা শিক্ষা দেয়ার জন্য বাদশাহ তার কাছে এক যুবককে প্রেরণ করল। বালকের যাত্রাপথে ছিল এক ধর্মযাজক। যুবক তার কাছে বসল এবং তার কথা শুনল। তার কথা যুবকের পছন্দ হলো। তারপর যুবক যাদুকরের কাছে যাত্রাকালে সর্বদাই ধর্মযাজকের কাছে যেত এবং তার নিকট বসত। তারপর সে যখন যাদুকরের কাছে যেত তখন সে তাকে মারধর করত। ফলে যাদুকরের ব্যাপারে সে ধর্মযাজকের কাছে অভিযোগ করল। তখন ধর্মযাজক বলল, তোমার যদি যাদুকরের ব্যাপারে ভয় হয় তবে বলবে, আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে আসতে দেয়নি। আর যদি তুমি তোমার গৃহকর্তার ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ করো তবে বলবে, যাদুকর আমাকে বিলম্বে ছুটি দিয়েছে। এমনিভাবে চলতে থাকাবস্থায় একদিন হঠাৎ সে একটি ভয়ানক হিংস্র প্রাণীর সম্মুখীন হলো, যা লোকেদের পথ আটকিয়ে রেখেছিল। এ অবস্থা দেখে সে বলল, আজই জানতে পারব, যাদুকর উত্তম না ধর্মযাজক উত্তম। অতঃপর একটি পাথর হাতে নিয়ে সে বলল, হে আল্লাহ! যদি যাদুকরের চাইতে ধর্মযাজক আপনার কাছে পছন্দনীয় হয়, তবে এ পাথরাঘাতে এ হিংস্র প্রাণীটি নিঃশেষ করে দিন, যেন লোকজন চলাচল করতে পারে। অতঃপর সে সেটার প্রতি পাথর ছুঁড়ে দিল এবং সেটাকে মেরে ফেলল। ফলে লোকজন আবার যাতায়াত শুরু করল। এরপর সে ধর্মযাজকের কাছে এসে তাকে সম্পূর্ন ঘটনা বলল। ধর্মযাজক বলল, বৎস! আজ তুমি আমার থেকেও শ্রেষ্ঠ। তোমার মর্যাদা এ পর্যন্ত পৌঁছেছে যা আমি দেখতে পাচ্ছি। তবে শীঘ্রই তুমি পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। যদি পরীক্ষার মুখোমুখি হও তবে আমার কথা গোপন রাখবে। এদিকে যুবক আল্লাহর হুকুমে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে আরোগ্য দান করতে লাগল এবং লোকদের সমুদয় রোগ-ব্যাধির নিরাময় করতে লাগল। বাদশাহ্র পরিষদবর্গের এক লোক অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তার সংবাদ সে শুনতে পেয়ে বহু হাদিয়া ও উপঢৌকন নিয়ে তার নিকট আসলো এবং তাকে বলল, তুমি যদি আমাকে আরোগ্য দান করতে পার তবে এসব মাল আমি তোমাকে দিয়ে দিব। এ কথা শুনে যুবক বলল, আমি তো কাউকে আরোগ্য দান করতে পারিনা। আরোগ্য তো দেন আল্লাহ তা‘আলা। তুমি যদি আল্লাহর উপর ঈমান আনো তবে আমি আল্লাহর কাছে দু‘আ করব, আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করবেন। তারপর সে আল্লাহর উপর ঈমান আনলো। আল্লাহ তা‘য়ালা তাকে রোগ মু্ক্ত করে দিলেন। এরপর সে বাদশাহ্র কাছে এসে অন্যান্য দিনের ন্যায় এবারও বসল। বাদশাহ্ তাকে প্রশ্ন করল, কে তোমর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছে? সে বলল, আমার পালনকর্তা। এ কথা শুনে বাদশাহ্ তাকে আবার প্রশ্ন করল, আমি ছাড়া তোমার অন্য কোন পালনকর্তাও আছে কি? সে বলল, আমার ও আপনার সকলের প্রতিপালকই মহান আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীন। অতঃপর বাদশাহ্ তাকে পাকড়াও করে অবিরতভাবে শাস্তি দিতে লাগল, অবশেষে সে ঐ বালকের অনুসন্ধান দিল, অতঃপর বালককে নিয়ে আসা হলো। বাদশাহ্ তাকে বলল, হে প্রিয় বৎস! তোমার যাদু এ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, তুমি অন্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকেও নিরাময় করতে পার। বালক বলল, আমি কাউকে নিরাময় করতে পারিনা। নিরাময় করেন আল্লাহ। ফলে বাদশাহ্ তাকে শাস্তি দিতে লাগল, অবশেষে সে ধর্মযাজকের (দরবেশের) কথা বলে দিল। এরপর ধর্মযাজককে ধরে আনা হলো এবং তাকে বলা হলো তুমি তোমার দ্বীন থেকে ফিরে এসো। সে অস্বীকার করল, ফলে তার মাথার তালুতে করাত রেখে সেটাকে টুকরো টুকরো করে ফেলা হলো। এতে তার মাথাও দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেল। অবশেষে ঐ যুবকটিকে আনা এবং তাকেও বলা হলো। তুমি তোমার দ্বীন থেকে ফিরে এসো। সেও অস্বীকার করল। অতঃপর বাদশাহ তাকে তার কিছু সহচরের হাতে তাকে অর্পণ করে বলল, তোমরা তাকে অমুক পাহাড়ে নিয়ে যাও এবং তাকেসহ পাহাড়ে আরোহণ করো। পর্বত শৃঙ্গে পৌঁছার পর সে যদি তার ধর্ম থেকে ফিরে আসে তবে ভাল। নতুবা তাকে সেখান থেকে ছুঁড়ে মারবে। তারপর তারা তাকে নিয়ে গেল এবং তাকেসহ পর্বতে আরোহণ করল। তখন সে দু’আ করে বলল, হে আল্লাহ! তোমার যেভাবে ইচ্ছা আমাকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষ করো। তৎক্ষণাৎ তাদেরকেসহ পাহাড় কেঁপে উঠল। ফলে তারা পাহাড় হতে গড়িয়ে পড়ল। আর সে হেঁটে হেঁটে বাদশাহ্র কাছে চলে এলো। এ দেখে বাদশাহ্ তাকে প্রশ্ন করল, তোমার সাথীরা কোথায়? সে বলল, আল্লাহ আমাকে তাদের চক্রান্ত হতে সংরক্ষণ করেছেন। আবারো বাদশাহ্ তাকে তার কতিপরয় সহচরের হাতে সমর্পণ করে বলল, তোমরা তাকে নিয়ে নাও এবং নৌকায় উঠিয়ে তাকে মাঝ সমুদ্রে নিয়ে যাও। অতঃপর সে যদি তার দ্বীন (ধর্ম) হতে ফিরে আসে তবে ভাল, নতুবা তোমরা তাকে সমু্দ্রে ফেলে দাও। তারা তাকে সমুদ্রে নিয়ে গেল। এবারও সে দু‘আ করে বলল, হে আল্লাহ! তোমার যেভাবে ইচ্ছা তুমি আমাকে তাদের চক্রান্ত থেকে রক্ষা করো। তৎক্ষণাৎ নৌকাটি তাদেরসহ উল্টে গেল। ফলে তারা সকলেই পানিতে ডুবে গেল। আর যুবক হেঁটে হেঁটে বাদশাহ্র কাছে চলে এলো। এ দেখে বাদশাহ্ তাকে আবার প্রশ্ন করল, তোমার সঙ্গীগণ কোথায়? সে বলল, আল্লাহ আমাকে তাদের ষড়যন্ত্র হতে রক্ষা করেছেন। অতঃপর সে বাদশাহকে বলল, তুমি আমাকে হত্যা করতে পারবে না যে পর্যন্ত না তুমি আমার নির্দেশিত পদ্ধতি অবলম্বন করবে। বাদশাহ্ বলল, সে আবার কি? যুবক বলল, একটি ময়দানে তুমি লোকদেরকে জমায়েত করো। অতঃপর একটি কাষ্ঠের শূলীতে আমাকে উঠিয়ে আমার তীরদানী হতে একটি তীর নিয়ে সেটাকে ধনুকের মাঝে রাখে। এরপর …………. “বালকের প্রভুর নামে” বলে আমার দিকে তীর নিক্ষেপ কর। এ যদি করো তবে তুমি আমাকে মেরে ফেলতে পারবে। তার কথা অনুসারে বাদশাহ্ লোকদেরকে এক মাঠে জমায়েত করল এবং তাকে একটি কাষ্ঠের শূলীতে চড়ালো। অতঃপর তার তীরদানী হতে একটি তীর নিয়ে সেটাকে ধনুকের মাঝে রেখে ……………… “বালকের প্রভুর নামে” বলে তার দিকে তা নিক্ষেপ করল। তীর তার কানের নিম্নাংশে গিয়ে বিঁধল। অতঃপর সে তীরবিদ্ধ স্থানে নিজের হাত রাখল এবং সাথে সাথে প্রাণ ত্যাগ করল। এ দৃশ্য দেখে রাজ্যের লোকজন বলে উঠল, …………………… আমরা এ যুবকের পালনকর্তার উপর ঈমান আনলাম।
এ সংবাদ বাদশাহ্কে জানানো হলো এবং তাকে বলা হলো, লক্ষ্য করেছেন কি? আপনি যে পরিস্থিতি হতে আশঙ্কা করছিলেন, আল্লাহর শপথ! সে আশঙ্কাজন পরিস্থিতিই আপনার মাথার উপর চেপে বসেছে। সকল মানুষই যুবকের পালনকর্তার উপর ঈমান এনেছে। এ দেখে বাদশাহ্ সকল রাস্তার মাথায় গর্ত খননের নির্দেশ দিল। গর্ত খননকরা হলো এবং ওগুলোতে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করা হলো। অতঃপর বাদশাহ্ আদেশ করল যে, যে লোক তার ধর্মমত বর্জন না করবে তাকে ওগুলোতে নিপতিত করবে। কিংবা সে বলল, তাকে বলবে, যেন সে অগ্নিতে প্রবেশ করে। লোকেরা তাই করল। পরিশেষে এক মহিলা একটি শিশু নিয়ে অগ্নিগহ্বরে পতিত হবার ব্যাপারে ইতস্তত করছিল। এ দেখে দুধের শিশু তাকে (মাকে) বলল, ওহে আম্মাজান! সবর করুন, আপনি তো সত্য দ্বীনের (ধর্মের) উপর প্রতিষ্ঠিত আছেন। (ই.ফা. ৭২৩৯, ই.সে. ৭২৯৩)

রেফারেন্স:
হাদিস নং 7401
সহিহ মুসলিম

মানুষের মৃত্যুর সময় বা যখন প্রাণ ছিনিয়ে নেয়া হয় তখন সে অসহায়ের মত আল্লাহর পানে তাকিয়ে থাকে। এ সময় সত্যবাদী ও মিথ্...
18/04/2026

মানুষের মৃত্যুর সময় বা যখন প্রাণ ছিনিয়ে নেয়া হয় তখন সে অসহায়ের মত আল্লাহর পানে তাকিয়ে থাকে। এ সময় সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদী যারা হিসাবের ধার ধারে না তাদের কী অবস্থা ও পরিণতি হয় সূরা আল ওয়াকিয়াতে আল্লাহ সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন।

10/04/2026

#শেষ_জামানার_মুক্তির_পথ
কিয়ামতের বড় বড় আলামত এখনও পরিদৃষ্ট না হলেও ছোট ছোট আলামতগুলো এমনভাবে সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে- যা রোধ করার ক্ষমতা কারও নেই। কিয়ামত কবে হবে- এ প্রশ্নের উত্তর অজানা হলেও এটা স্পষ্ট যে, আমরা এখন অতিবাহিত করছি সৃষ্টিজগতের শেষ সময়টা।

যে সময় প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, কিয়ামতের পূর্বে ঈমান নিয়ে বেঁচে থাকা এতটাই কঠিন, যতটা কঠিন তলোয়ারের সূক্ষ্ম ডগার ওপর খালি পায়ে হাঁটা। তবু আমাদের চলতে হবে ঈমান বাঁচিয়ে, ইসলামকে ধারণ করে। কিন্তু কি করে পাড়ি দেব এ কণ্টকাকীর্ণ পথ হাতে আলোর মশাল নিয়ে? কি করে এগিয়ে যাবো- ইসলামের ঝান্ডা হাতে?

মহামহিম আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর মমতা অপার। তাই তো তিনি রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছেন নবী-রাসূলদের। যারা মানুষকে জীবনপথের প্রতিটি মোড় চিনিয়ে দিয়েছেন স্নেহ ও মায়া-মমতার সঙ্গে। তারা দিয়ে গেছেন এ বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার নির্দেশনাও। বিশেষ করে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

তিরমিজি শরিফের (ফিতান অধ্যায়) হাদিসে বলা হয়েছে, হজরত উম্মে মালিক আল বাহযিয়্যাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) একবার ফিতনার আলোচনা করছিলেন। আমি জানতে চাইলাম, তখন উত্তম ব্যক্তি কে হবে? তিনি উত্তর দিলেন- ওই ব্যক্তি, যে নিজের পালিত পশুর হক আদায় করে ও তার রব্বের ইবাদত করে এবং ওই ব্যক্তি; যে তার ঘোড়া আঁকড়ে থেকে শত্রুকে ভয় দেখায় আর শত্রুরাও তাকে ভয় দেখায়। ’

এ হাদিসে দু’টি পথের কথা বলা হয়েছে-

১. লোকসঙ্গ বর্জন করে একাকি নিজের মতো ঈমান নিয়ে বেঁচে থাকা। নিজ প্রয়োজন সেরে কেবলমাত্র স্বীয় রব অভিমুখি হওয়া। অন্যের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা।

২. আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে রাখার পাশাপাশি যারা আল্লাহ ও রাসূলের অবাধ্যতা করবে, তাদের প্রতি আঙুল তোলার স্পর্ধা দেখাবে, তাদের শক্তভাবে প্রতিহত করা। ইসলামের ঝান্ডা হাতে বিজয়ের মশাল জ্বেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। বাতিলকে গুঁড়িয়ে দিয়ে হকের স্লোগান জবানে রাখা।

সুতরাং, ব্যক্তি শুধু নিজের ঈমান বাঁচুক ও ঈমান বাঁচিয়ে ইসলামকে এগিয়ে নিয়ে যাক- এই দু’টিকেই মুক্তির পথ বলা হয়েছে। এখন দেখার বিষয় হলো- এ দুইয়ের মাঝে উত্তম পথ কোনটি?

এ জন্য দেখা করা যেতে পারে কোরআনে কারিমের বিভিন্ন আয়াত ও হাদিসের বর্ণনা। যেমন, কোরআনে বিধান এসেছে সৎকাজে আদেশের ও অসৎকাজ থেকে নিষেধের। রয়েছে কিয়ামত অবধি কল্যাণ ও সৎকাজের প্রতি মানুষকে আহ্বানের আদেশ।

এক হাদিসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْه بِيَدِه فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِه، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِه، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ»

‘যে ব্যক্তি কোনো গর্হিত কাজ দেখবে, সে যেন তা নিজ হাতে প্রতিহত করে। যদি না পারে, তবে যেন জবান দ্বারা প্রতিবাদ করে। তাও যদি না পারে, তবে যেন অন্তর দ্বারা ঘৃণা করে। (জেনে রেখ) তা হলো ঈমানের সবচেয়ে দুর্বল স্তর। ’ –তিরমিজি

বর্ণিত এসব আয়াত ও হাদিসের আলোকে বলা যায়, এ জামানায়ও ওই ব্যক্তিই সবচেয়ে উত্তম হবে; যে হকের পথে অবিচল থাকার পাশাপাশি বাতিলের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবে। তা হোক অস্ত্রের মাধ্যমে, কলমের মাধ্যমে কিংবা আন্দোলনে।

ঈমান মুসলমানের সর্বোত্তম সম্পদ। ঈমান না থাকলে কোনো নেক আমলের মূল্য নেই। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘সময়ের কসম! নিশ্চয়ই সব মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। শুধু তারা ব্যতিত; যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে।’ (সুরা আসর: ১-২)

শেষ জামানার একটি নিদর্শন হলো—রিদ্দা বা দীন থেকে বের হয়ে যাওয়া মহামারি আকার ধারণ করবে। হাদিস অনুযায়ী, মানুষ জানতেও পারবে না যে, সে আর মুসলিম নেই। অথচ সে নিজেকে মুসলিম দাবি করবে। আমাদের চারপাশেই এরা ঘুরবে, ফিরবে। একই টেবিলে বসে খাবে। আমাদের মেয়ে বোনদের সঙ্গে তাদের বিয়ে হবে। অথচ তারা মুসলিম নয়। মহান আল্লাহ বলেন,

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِآيَاتِ رَبِّهِ ثُمَّ أَعْرَضَ عَنْهَا إِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ مُنْتَقِمُونَ

‘ওই ব্যক্তির চেয়ে আর বড় জালিম আর কে হতে পারে, যাকে তার রবের আয়াতসমূহ দিয়ে উপদেশ দেওয়া হয় অথচ সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? অবশ্যই আমি (আল্লাহ) অপরাধীদের কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী।’ (সুরা আস-সাজদাহ: ২২)

বিভিন্ন কারণে মানুষ ঈমানহারা হয়। যেমন আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, রাসুলুল্লাহ (স.)-এর আনিত বিধানকে অপছন্দ করা, দীনের কোনো বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা, জাদু করা, মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফের-মুশরিকদের সমর্থন ও সহযোগিতা করা ইত্যাদি কারণে মানুষ দীন থেকে বেরিয়ে যায়।

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا

নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। তিনি ক্ষমা করেন এ ছাড়া অন্যান্য পাপ, যার জন্য তিনি চান। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে অবশ্যই মহাপাপ রচনা করে। সূরা নিসা: ৪৮

وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ

আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করে আল্লাহ তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর তার জন্যই রয়েছে অপমানজনক আযাব। সুরা নিসা: ১৪

(দেখুন- সুরা তওবা: ৬৫-৬৬; সুরা বাকারা: ১০২; সুরা তাওবা: ২৩;; সুরা নিসা: ৬০; সুরা মায়েদা: ৫১)

عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه : أَنَّ رَسُولَ الله ﷺ، قَالَ: «بَادِرُوا بِالْأَعْمَالِ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا، وَيُمْسِي مُؤْمِنًا، وَيُصْبِحُ كَافِرًا، يَبِيعُ دِينَهُ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا»

হজরত আবু মুসা আশয়ারি (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের পরবর্তী যুগে ফেতনা হবে গভীর অন্ধকার রাতের মতো। সে সময় মানুষ সকালে মুমিন থাকবে, সন্ধ্যায় কাফের হয়ে যাবে। সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে, সকালে কাফের হয়ে যাবে।’ নিজের দ্বীনকে দুনিয়ার সম্পদের বিনিময়ে বিক্রয় করবে।(মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ১৩/৩৮৫; জুহদ লি ইমাম আহমদ: ১৯৯)

এজন্য প্রিয়নবী (স.) সবসময় এই দোয়া করতেন-

«يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ»

অর্থ: হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে তোমার দীনের উপর অটল রাখো।’ (তিরমিজি: ৩৫২২)

✒️মোঃ শাহজাহান আলী
মুহাদ্দিস

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে জননেতা ইসহাক খন্দকার Ishaque Khondaker কে  #দা...
21/01/2026

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে জননেতা ইসহাক খন্দকার Ishaque Khondaker কে #দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিন।
#চলো_একসাথে_গড়ি_বাংলাদেশ
#দাঁড়িপাল্লায়_ভোট_দিন
#গণভোটে_হ্যাঁ
#দুর্নীতিকে_লালকার্ড
#দাঁড়িপাল্লা
#নোয়াখালী

10/01/2026
02/01/2026

ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় আপনার মূল্যবান ভোট দিন। এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে হ্যাঁ এর ঘরে ( ✓) টিক অথবা (×) ক্রস চিহ্ন দিয়ে হ্যাঁ ভোট জয়ী করুন।
Ishaque Khondaker
Bangladesh Jamaat-e-Islami
Borhan Uddin
অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ ছাইফ উল্যাহ
Bangladesh Islami Chhatrashibir
অ্যাডভোকেট মাহফুজ মিডিয়া সেল
অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আহমদ
Mohammad Belayet Hossain
Ishaque Khondaker
Md Yousop
অধ্যক্ষ বেলায়েত মিডিয়া সেল
Dr. Shafiqur Rahman



#দাঁড়িপাল্লা

#হ্যাঁ

09/08/2025


#রাসূলুল্লাহ_সাল্লাল্লাহু_আলাইহি-ওয়াসাল্লাম এর উপর প্রথম ওহী নাজিল ও নবুয়্যতের মর্যাদা প্রাপ্তির ঘটনা:

উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট সর্বপ্রথম যে ওয়াহী আসে, তা ছিল নিদ্রাবস্থায় বাস্তব স্বপ্নরূপে। যে স্বপ্নই তিনি দেখতেন তা একেবারে প্রভাতের আলোর ন্যায় প্রকাশিত হতো। অতঃপর তাঁর নিকট নির্জনতা পছন্দনীয় হয়ে দাঁড়ায় এবং তিনি ‘হেরা’র গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন। আপন পরিবারের নিকট ফিরে এসে কিছু খাদ্যসামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পূর্বে- এভাবে সেখানে তিনি এক নাগাড়ে বেশ কয়েক দিন ‘ইবাদাতে মগ্ন থাকতেন। অতঃপর খাদীজা (রাঃ)-এর নিকট ফিরে এসে আবার একই সময়ের জন্য কিছু খাদ্যদ্রব্য নিয়ে যেতেন। এভাবে ‘হেরা’ গুহায় অবস্থানকালে তাঁর নিকট ওয়াহী আসলো। তাঁর নিকট ফেরেশতা এসে বললো, ‘পাঠ করুন’। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ [“আমি বললাম, ‘আমি পড়তে জানি না।] তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ অতঃপর সে আমাকে জড়িয়ে ধরে এমন ভাবে চাপ দিলো যে, আমার খুব কষ্ট হলো। অতঃপর সে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললো, ‘পাঠ করুন’। আমি বললামঃ আমি তো পড়তে জানি না’। সে দ্বিতীয় বার আমাকে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে চাপ দিলো যে, আমার খুব কষ্ট হলো। অতঃপর সে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললো, ‘পাঠ করুন’। আমি উত্তর দিলাম, ‘আমি তো পড়তে জানি না’। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, অতঃপর তৃতীয়বারে তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। তারপর ছেড়ে দিয়ে বললেন, “পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত পিন্ড থেকে, পাঠ করুন, আর আপনার রব অতিশয় দয়ালু”- (সূরা আলাক্ব ৯৬/১-৩)। অতঃপর এ আয়াত নিয়ে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- প্রত্যাবর্তন করলেন। তাঁর হৃদয় তখন কাঁপছিল। তিনি খাদীজা বিন্‌তু খুওয়ায়লিদের নিকট এসে বললেন, ‘আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর’, ‘আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর’। তাঁরা তাঁকে চাদর দ্বারা আবৃত করলেন। এমনকি তাঁর শংকা দূর হলো। তখন তিনি খাদীজা (রাঃ) এর নিকট ঘটনাবৃত্তান্ত জানিয়ে তাঁকে বললেন, আমি আমার নিজেকে নিয়ে শংকা বোধ করছি। খাদীজা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, কখনই নয়। আল্লাহ আপনাকে কখনো লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়–স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ করেন, অসহায় দুস্থদের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সহযোগিতা করেন, মেহমানের আপ্যায়ন করেন এবং হক পথের দুর্দশাগ্রস্থকে সাহায্য করেন। অতঃপর তাঁকে নিয়ে খাদীজা (রাঃ) তাঁর চাচাত ভাই ওয়ারাকাহ ইব্‌নু নাওফাল ইব্‌নু ‘আবদুল আসাদ ইব্‌নু ‘আবদুল ‘উযযাহ’র নিকট গেলেন, যিনি অন্ধকার যুগে ‘ঈসায়ী ধর্ম গ্রহন করেছিলেন। যিনি ইবরানী ভাষায় লিখতে পারতেন এবং আল্লাহর তাওফীক অনুযায়ী ইবরানী ভাষায় ইনজীল হতে ভাষান্তর করতেন। তিনি ছিলেন অতি বৃদ্ধ এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদীজা (রাঃ) তাঁকে বললেন, ‘হে চাচাত ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন’। ওয়ারাকাহ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ভাতিজা! তুমি কী দেখ?’ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা দেখেছিলেন, সবই বর্ণনা করলেন। তখন ওয়ারাকাহ তাঁকে বললেন, এটা সেই বার্তাবাহক যাকে আল্লাহ মূসা (‘আঃ)- এর নিকট পাঠিয়েছিলেন। আফসোস! আমি যদি সেদিন যুবক থাকতাম। আফসোস ! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম, যেদিন তোমার কওম তোমাকে বহিষ্কার করবে’। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, [‘তারা কি আমাকে বের করে দেবে?’] তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তুমি যা নিয়ে এসেছো অনুরূপ (ওয়াহী) কিছু যিনিই নিয়ে এসেছেন তাঁর সঙ্গেই বৈরিতাপূর্ণ আচরণ করা হয়েছে। সেদিন যদি আমি থাকি, তবে তোমাকে জোরালোভাবে সাহায্য করব। এর কিছুদিন পর ওয়ারাকাহ (‘আঃ) ইন্তিকাল করেন। আর ওয়াহীর বিরতি ঘটে।
(৩৩৯২, ৪৯৫৩, ৪৯৫৫, ৪৯৫৬, ৪৯৫৭, ৬৯৮২; মুসলিম ১/৭৩ হাঃ ১৬০, আহমাদ ২৬০১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩)

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

02/08/2025

সূরা মুমিনূন (২৩:১১৫) — আয়াত, অনুবাদ ও ব্যাখ্যা

আয়াত (সূরা আল-মুমিনূন ২৩:১১৫):
أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ

বাংলা অনুবাদ
“তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে না?”
— (সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত: ১১৫)

আয়াতের ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য:

1. সৃষ্টির উদ্দেশ্যবিহীনতা নয়:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা প্রশ্নরূপে মানবজাতিকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তোমাদের সৃষ্টি কোনো ‘আবাছ’ বা অর্থহীন, অনর্থক খেলা নয়। মানুষকে একটি মহান উদ্দেশ্য ও দায়িত্ব পালনের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে—তাওহীদ ও ইবাদতের জন্য (দেখুন: সূরা আয-যারিয়াত ৫১:৫৬)।

2. জবাবদিহিতার কথা স্মরণ:
এই আয়াতের মাধ্যমে মানুষের মনে জাগ্রত করা হয়েছে যে, তারা দুনিয়ার কর্মফল সম্পর্কে জবাবদিহি করবে। সুতরাং, যিনি সৃষ্টি করেছেন, তাঁর নিকট প্রত্যাবর্তন অবশ্যম্ভাবী।

3. আখিরাতের বাস্তবতা:
অনেক মানুষ দুনিয়াতে মগ্ন হয়ে পড়ে এবং মনে করে যে মৃত্যুর পর আর কিছুই নেই। এই আয়াত সেই ভ্রান্ত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে জানিয়ে দেয় যে, প্রত্যেককেই আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে এবং সেখানেই চূড়ান্ত বিচার হবে।

4. নিয়ম ও ন্যায়বিচার:
আয়াতটি এ কথাও ইঙ্গিত করে যে, এই জগৎ একটি পরিপাটি নিয়ম ও উদ্দেশ্য নিয়ে চলছে। সুতরাং মানুষের জীবনেও সেই ন্যায়বিচারের ছাপ পড়বে। যিনি জীবন দিয়েছেন, তিনি জীবনের পরিণতিও নির্ধারণ করবেন।

এই আয়াত সম্পর্কে ঐতিহাসিক ও তাফসীরকারদের মতামত:

১. ইবন কাসীর (Ibn Kathir):
তিনি বলেন, এই আয়াতে আল্লাহ মানুষকে প্রশ্ন করছেন যেন তাদের মনে করিয়ে দেয়া হয় — তোমরা কি মনে করো তোমাদের সৃষ্টি অর্থহীন? না, বরং তোমাদের সৃষ্টির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আছে। এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, আখিরাত ও বিচার দিবস অবশ্যম্ভাবী। আল্লাহর ন্যায়বিচার এটি দাবি করে। যদি আখিরাত না থাকত, তাহলে জীবনের অর্থ, ন্যায় ও অন্যায়ের বিচার অমূলক হয়ে যেত।

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, “আবাছ” অর্থ: খেলা বা অসার। আল্লাহর সৃষ্টিতে তা নেই।
তাফসিরে আরও বলা হয়, মানুষকে ইচ্ছেমত চলার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে; তবে তার সীমা রয়েছে এবং সেই সীমা অতিক্রম করলে জবাবদিহি করতে হবে।

> মূল বক্তব্য: মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য — ইবাদত ও পরীক্ষা; অবহেলা ও খেয়ালের জন্য নয়।

২. ইমাম কুরতুবি (Al-Qurtubi):

তিনি বলেন, "عبثاً" শব্দটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে লক্ষ্যহীনতা ও খেলাধুলা। তিনি উল্লেখ করেন, এই আয়াতটি মানুষকে তাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে চিন্তা করতে বাধ্য করে। কুরআনে এ রকম আয়াত এসেছে যেখানে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে যে, তারা যেন নিজেদের দায়িত্বকে হালকাভাবে না নেয়।

> মূল বক্তব্য: এই আয়াতে আল্লাহ মানুষের আত্ম-সমালোচনার আহ্বান জানাচ্ছেন।

৩. ইমাম ফখরুদ্দিন আর-রাজী (Ar-Razi):
তিনি তাঁর "তাফসীর আল-কাবির"-এ বলেন, এই আয়াতে যুক্তির মাধ্যমে প্রমাণ করা হয়েছে যে মানুষের অস্তিত্বের পেছনে একটি পরিণাম ও বিচার আছে। তিনি বলেন, এটি "নবুওত ও রিসালাত"-এর সত্যতাকেও ইঙ্গিত করে, কারণ আখিরাতের কথা না থাকলে নবী পাঠানোর প্রয়োজনই হতো না।

> মূল বক্তব্য: আখিরাতের অস্তিত্ব যুক্তিপূর্ণ এবং এটি সৃষ্টির সার্বিক পরিকল্পনার অংশ।

৪. ইবনে আশুর (Ibn Ashur):
তিনি বলেন, এই আয়াতে বিশেষভাবে কুরাইশ মুশরিকদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে যারা আখিরাতে বিশ্বাস করত না। তিনি এটিকে একটি আদর্শিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। এটি কুরআনের ভাষাগত এবং যুক্তিনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গির নিদর্শন।

> মূল বক্তব্য: আয়াতটি বিশ্বাসহীনদের যুক্তিভিত্তিক চিন্তায় বাধ্য করার প্রচেষ্টা।

ঐতিহাসিক ও তাফসীরকাররা একমত যে, এই আয়াতে মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য এবং আখিরাতের অপরিহার্যতা তুলে ধরা হয়েছে। এটি একটি সতর্কবার্তা, যে জীবন এক পরীক্ষাস্থল, আর মৃত্যুর পর প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত — যাতে ন্যায়বিচার পরিপূর্ণ হয়।

শিক্ষণীয় বিষয়:

মানুষ উদ্দেশ্যপূর্ণ সৃষ্টি; তাই দায়িত্বপূর্ণ জীবনযাপন আবশ্যক।

দুনিয়া চিরস্থায়ী নয়; আখিরাতে প্রত্যাবর্তন ও হিসাবের দিন আছে।

জীবনের প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে; তাই সচেতনতা জরুরি।

এই আয়াত আত্মসমালোচনা ও ঈমান পুনর্নবীকরণের আহ্বান।

Address

Maijdee Court, Noakhali
Dhaka
1000

Telephone

+8801717301032

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Al Quran Al Hadith posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Al Quran Al Hadith:

Shortcuts

Share

Category