18/10/2026
ছোট নাফি থেকে আজকের আমি—দায়িত্বের ভারে হারিয়ে যাওয়া এক শৈশব! 🌼
আচ্ছা, এত অল্প বয়সে কি আমার এত বড় দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল?
সময়ের সঙ্গে আমার বয়স বেড়েছে, নাকি দায়িত্বের ভারে আমার বয়স বেড়ে গেছে? আমি কি আসলেই বড় হয়েছি, নাকি পরিস্থিতি আমাকে আমার বয়সের চেয়ে অনেক বেশি বড় করে দিয়েছে?
মাঝেমধ্যে নিজেকেই প্রশ্ন করি, আমি কি সত্যিই বড় হয়ে গেছি? নাকি আমার ভেতরে এখনো সেই ছোট্ট ছেলেটা বেঁচে আছে, যে একসময় দুনিয়ার কোনো চিন্তা ছাড়াই হাসতে পারত, খেলতে পারত, নিজের মতো করে বাঁচতে পারত?
মনে পড়ে, এই তো কয়েক দিন আগের কথা!
সকালে ঘুম থেকে উঠে ধানখেতের ভেতরে পেতে রাখা কৈ মাছ ধরার ফাঁদ দেখতে যেতাম। এই তো কয়েক দিন আগেই তালগাছের তাল দিয়ে চাকা গাড়ি বানিয়ে দৌড়াদৌড়ি করেছি। বন্ধুদের সঙ্গে পুকুরে ডুবাডুবি করেছি।
মা লাঠি হাতে পুকুরপাড়ে এসে বলতেন,
“উঠবি, নাকি এখনই নেমে পিটাব? আজ বাড়ি আয়, তোর কপালে দুপুরের ভাত নেই! গরুগুলোকে বিলে পানি খাওয়ানোর নাম করে কোথায় ডুবাডুবি করছিস!”
এই তো কয়েক দিন আগেও সারাক্ষণ মাঠে ক্রিকেট খেলতাম। আব্বা লাঠি হাতে নিয়ে মাঠে এসে দৌড়ানি দিতেন। একবার তো অন্যের বাড়িতে বল মারার কারণে দৌড়ানি খেতে হয়েছিল।
সন্ধ্যা হলেই বন্ধুদের সঙ্গে বাজারে যেতাম। মা বলতেন, “তাড়াতাড়ি আসিস, আমি ঘুমিয়ে পড়ব।”
বাজারে গিয়ে আলমগীর ভাইয়ের সেই সুস্বাদু পেঁয়াজু খেতাম, চা পান করতাম। মাঝেমধ্যে রাতে একা একা বাড়ি ফিরতে হতো। ভয় লাগত, জঙ্গলে ভূত আছে কি না, আমাকে ধরে নিয়ে যাবে কি না! আল্লাহ আল্লাহ করতে করতে বাড়ি ফিরতাম।
বাড়ি ফিরে ভাত খেতাম। তারপর বাজারে কে কী বলল, কোথায় কী হলো, কে কী করল—সব মাকে বলতাম। এরপর নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়তাম।
পরের দিন আবার সেই একই রুটিন।
কী সুন্দর ছিল সেই দিনগুলো! তখন হয়তো বুঝিনি, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলো এভাবেই একদিন স্মৃতি হয়ে যাবে। তখন মায়ের বকুনি অসহ্য লাগত, আব্বার দৌড়ানি থেকে বাঁচার জন্য পালাতাম। অথচ আজ মনে হয়, ইশ্! যদি আরেকবার সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে পারতাম! যদি আরেকবার মায়ের সেই বকুনি শুনতে পেতাম, আব্বার সেই শাসন পেতাম, বন্ধুদের সঙ্গে পুকুরে ডুবাডুবি করতে পারতাম!
কিন্তু সময় তো আর পেছনে ফিরে আসে না।
আজ সকাল হলেই অফিসে যাওয়ার তাড়া।
সারাদিন কাজ, কাস্টমারের সঙ্গে কথা বলা, মানুষের কথা শোনা, ব্যবসা সামলানো। তারপর বাড়ি ফেরা। পরদিন আবার সেই একই জীবন।
একসময় আমার চিন্তা ছিল, আজ বন্ধুদের সঙ্গে কোথায় খেলব। আর আজ আমার চিন্তা—ছোট ভাইবোনদের মানুষ করতে হবে, মা-বাবাকে দেখতে হবে, মাস শেষে বাড়িভাড়া দিতে হবে, ভাইবোনদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হবে, মা-বাবাকে ভালো রাখতে হবে।
একটা ঘর করতে হবে, ভবিষ্যৎ গড়তে হবে, ব্যবসার চিন্তা করতে হবে। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে হিসাব করতে হবে, কীভাবে সবকিছু সামলাব।
এখন মনে হয়, জীবনটা যেন শুধু টাকার পেছনে ছুটে চলার নাম।
কিন্তু মাঝেমধ্যে নিজেকে প্রশ্ন করি, আমি কি এখনই এতটা দায়িত্ব নেওয়ার উপযুক্ত? যে বয়সে নিজের স্বপ্নগুলো পূরণ করার কথা, সেই বয়সেই কেন আমাকে এত মানুষের স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে?
আমার মনের ভেতরে যে ছোটবেলার স্মৃতিগুলো রয়ে গেছে, সেগুলো কি কোনো দিন মুছে যাবে? আমার যে এখনো সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে, আমি কি চাইলেই ফিরে যেতে পারব?
না, পারব না।
কারণ সময় আমাকে অনেক কিছু হারাতে শিখিয়েছে। নিজের ইচ্ছাকে চেপে রাখতে শিখিয়েছে। হাসিমুখে কষ্ট লুকাতে শিখিয়েছে। ধীরে ধীরে পাথর হতে শিখিয়েছে।
একটা সময়ের পর পুরুষ মানুষের নিজের বলতে যেন আর কিছুই থাকে না।
সে চাইলেই নিজের পছন্দের খাবারটা খেতে পারে না। কারণ খাবার সামনে নিয়ে তার মনে হয়, আমি এই খাবারটা খাচ্ছি, অথচ আমার মা, আমার ভাইবোনেরা হয়তো এটা খেতে পারেনি।
সে চাইলেই নিজের শখ পূরণ করতে পারে না। নিজের জন্য কিছু কিনতে গেলেও ভাবে, এই টাকাটা দিয়ে তো বোনের স্কুলের খরচ দেওয়া যাবে, মায়ের ওষুধ কেনা যাবে, ছোট ভাইয়ের প্রয়োজনটা মেটানো যাবে।
নিজের ইচ্ছাগুলোকে নিজের হাতেই গলা টিপে মেরে ফেলে। তারপর মুখে হাসি রেখে বলে, ‘আমার কিছু লাগবে না, পরে কিনব।’
কিন্তু সেই ‘পরে’ আর কোনো দিন আসে কি?
দায়িত্বের ভারে অল্প বয়সেই চুল পেকে যায়। মুখে বয়সের ছাপ পড়ে। মনের ভেতরে জমে যায় হাজারো ক্লান্তি। যে বয়সে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে রঙিন স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সেই তাকে অন্যদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার চিন্তায় রাত জাগতে হয়।
তারপরও কি বলবে, পুরুষ মানুষ ত্যাগ স্বীকার করে না?
একটা সময়ের পর পুরুষ শুধু পুরুষ থাকে না; সে হয়ে ওঠে দায়িত্বশীল এক মানুষ—যার জীবনের পাতায় পাতায় লেখা থাকে ত্যাগ, কষ্ট, অপূর্ণতা আর নীরব দীর্ঘশ্বাস।
এত ত্যাগ, এত কষ্ট করার পরও মানুষ বলে, পুরুষ মানুষ তাদের জন্য কিছুই করে না।
অথচ পুরুষ মানুষ চাইলেই নিজের কষ্টের কথা বলতে পারে না। চাইলেই সবার সামনে কান্না করতে পারে না। কারণ সমাজ তাকে শিখিয়েছে, পুরুষ মানুষকে শক্ত হতে হয়, পুরুষ মানুষকে সব সামলাতে হয়, পুরুষ মানুষকে ভেঙে পড়তে নেই।
কিন্তু কেউ কি কখনো জানতে চায়, এই শক্ত মানুষটার ভেতরে কতটা ঝড় বয়ে যাচ্ছে?
কেউ কি জানতে চায়, সবার দায়িত্ব পালন করতে করতে মানুষটা নিজে কেমন আছে?
কেউ কি একবারও বলে, ‘তুমি অনেক করেছ, এবার একটু বিশ্রাম নাও। তোমারও তো কষ্ট হয়!’
না, বেশির ভাগ সময় কেউ বলে না।
কষ্ট পেতে পেতে, অবহেলা সহ্য করতে করতে, নিজের ইচ্ছাগুলো বিসর্জন দিতে দিতে একসময় মানুষটা পাথরের মতো হয়ে যায়। তার চোখে পানি থাকলেও সে কাঁদে না, বুকে কষ্ট থাকলেও কাউকে বলে না। শুধু চুপচাপ সবকিছু সহ্য করে যায়।
পুরুষ মানুষের ওপর যতই অপবাদ আসুক, অনেক সময় সে মাথা পেতে নেয়। কারণ একটা সময়ের পর সে আর তর্কে জিততে চায় না। কাউকে বোঝানোর শক্তিটুকুও তার অবশিষ্ট থাকে না।
সে ভাবে, যে যা বলার বলুক। আল্লাহ তো সব দেখছেন। মানুষ আমার ত্যাগ ভুলে গেলেও আল্লাহ তো জানেন, আমি কী করেছি, কেন করেছি, কতটা কষ্ট সহ্য করেছি।
তাই সে মানুষের কাছে নিজের ভালোত্ব প্রমাণ করার চেয়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে। কখনো কখনো ক্লান্ত মনে শুধু বলে, ‘হে আল্লাহ, তুমি তো সব জানো! আমার মনের কথাগুলোও তুমি জানো।’
কী অদ্ভুত জীবন, তাই না?
একটা পুরুষের কাঁধে কত দায়িত্ব—মা-বাবা, ভাইবোন, সংসার, ব্যবসা, ভবিষ্যৎ! এতগুলো দায়িত্ব সামলাতে সামলাতে কখন যে নিজের জীবনটাকেই পিছনে ফেলে আসে, সে নিজেও বুঝতে পারে না।
আর সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগে তখন, যখন যাদের জন্য সে এত কিছু করে, তাদের সঙ্গেই সামান্য রাগারাগি বা ভুল বোঝাবুঝি হলে মুহূর্তের মধ্যে তার সব অবদান যেন মুছে যায়।
সে হয়তো একদিন ক্লান্ত হয়ে একটু রাগ করে কথা বলেছে। হয়তো মনের ভেতরে জমে থাকা কষ্টটা আচমকা বেরিয়ে এসেছে। অথচ সেই একটা মুহূর্তই হয়ে ওঠে তার সবকিছু বিচার করার মাপকাঠি।
মানুষ ভুলে যায়, এই মানুষটাই কত রাত না ঘুমিয়ে পরিবারের কথা ভেবেছে। কতবার নিজের প্রয়োজন বাদ দিয়ে অন্যের প্রয়োজন মিটিয়েছে। কতবার নিজের কষ্ট লুকিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছে।
তারপরও শুনতে হয়, সে খারাপ!
তখন মনে প্রশ্ন জাগে, এত কিছু করার পরও কি তার একটু ভুল করার অধিকার নেই? তার কি ক্লান্ত হওয়ার অধিকার নেই? তার কি কখনো মন খারাপ করার অধিকার নেই?
দায়িত্বের অর্থ কি শুধু দিয়ে যাওয়া? ত্যাগের অর্থ কি নিজের সব চাওয়া-পাওয়া বিসর্জন দেওয়া? আর ভালোবাসার অর্থ কি সবকিছু সহ্য করেও কখনো নিজের কষ্টের কথা না বলা?
আরও অবাক লাগে, যাদের মানুষ করার জন্য সে নিজের জীবনটাকে এতটা কঠিন করে তোলে, তারা কি কোনো দিন তার এই ত্যাগের মূল্য বুঝবে?
হয়তো বুঝবে, হয়তো বুঝবে না।
হয়তো একদিন সব ভুলে যাবে। হয়তো মনে রাখবে শুধু তার রাগ করে বলা কয়েকটা কথা। কিন্তু এই মানুষটা তবুও দায়িত্ব থেকে সরে আসে না। কারণ সে জানে, তার দায়িত্বের সঙ্গে কয়েকটা মানুষের স্বপ্ন, প্রয়োজন আর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে।
সে কষ্ট পায়, তবুও দায়িত্ব পালন করে। সে আঘাত পায়, তবুও পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। সে নিজে ভেঙে পড়ে, তবুও অন্যদের ভেঙে পড়তে দিতে চায় না।
তারপরও দিন শেষে শুনতে হয়, পুরুষ মানুষটাই নাকি ভালো না!
কী হাস্যকর, তাই না?
কিন্তু সবকিছুর আড়ালে যে ছোট্ট নাফি এখনো বেঁচে আছে, তার কী হবে?
সেই নাফি, যে একসময় কৈ মাছ ধরার ফাঁদ পেতে রাখত, তাল দিয়ে গাড়ি বানাত, বন্ধুদের সঙ্গে পুকুরে ডুবাডুবি করত, মাঠে ক্রিকেট খেলত, মায়ের বকুনি খেত, আব্বার শাসন থেকে পালাত আর সন্ধ্যায় বাজার থেকে পেঁয়াজু খেয়ে বাড়ি ফিরত।
সেই নাফি কি জানত, একদিন তাকে এত বড় দায়িত্ব নিতে হবে? একদিন নিজের শখের আগে পরিবারের প্রয়োজনের কথা ভাবতে হবে? একদিন নিজের ভবিষ্যতের পাশাপাশি এতগুলো মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তা করতে হবে?
না, সে জানত না।
সে তো শুধু ছোট্ট একটা জীবন নিয়ে বেঁচে ছিল। তার পৃথিবীটা ছিল ছোট, কিন্তু সেই পৃথিবীতে আনন্দের কোনো অভাব ছিল না।
আজ আমার বয়স বেড়েছে, দায়িত্ব বেড়েছে, চিন্তা বেড়েছে। শুধু কোথায় যেন হারিয়ে গেছে সেই নিশ্চিন্তে বেঁচে থাকার দিনগুলো।
আমি জানি, চাইলেই আর সেই শৈশবে ফিরে যেতে পারব না। হারিয়ে যাওয়া সময়কে ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা কারও নেই। মানুষ বড় হয়, দায়িত্ব নেয়, জীবনের প্রয়োজনে বদলে যায়; কিন্তু মনের ভেতরে জমে থাকা স্মৃতিগুলো থেকে যায়।
মাঝেমধ্যে খুব ইচ্ছে করে, সব দায়িত্ব একটু পাশে রেখে সেই ছোট্ট নাফির কাছে ফিরে যাই। একবার যদি আবার মাঠে ক্রিকেট খেলতে পারতাম! একবার যদি মায়ের বকুনি খেয়ে হাসতে পারতাম! একবার যদি আব্বার শাসন থেকে পালিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে দৌড়াতে পারতাম!
কিন্তু আমি জানি, সেটা আর সম্ভব নয়।
কারণ মানুষ জীবনে অনেক কিছু ফিরে পেতে পারে, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া সময় ফিরে পায় না।
জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট হয়তো বয়স বেড়ে যাওয়া নয়; সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব এত বেড়ে যাওয়া যে নিজের ভেতরে বেঁচে থাকা ছোট্ট মানুষটার খোঁজ নেওয়ার সময়টুকুও আর পাওয়া যায় না।
আজও আমার মনের ভেতরে সেই ছোট নাফি রয়ে গেছে। সে হয়তো এখনো চায় একটু নিশ্চিন্তে হাসতে, একটু নিজের মতো করে বাঁচতে, কোনো চিন্তা ছাড়াই একটা দিন কাটাতে।
কিন্তু বাস্তবতা তাকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয়—তোমার অনেক দায়িত্ব, তোমাকে শক্ত থাকতে হবে, তোমাকে এগিয়ে যেতে হবে।
তাই সে চুপ করে যায়। নিজের ইচ্ছাগুলোকে মনের এক কোণে রেখে আবারও দায়িত্বের পথে হাঁটতে শুরু করে।
হয়তো এটাই বড় হয়ে যাওয়া। হয়তো এটাই জীবনের বাস্তবতা।
তবুও একটা প্রশ্ন থেকে যায়—
আমি কি সত্যিই বড় হয়েছি, নাকি দায়িত্বের ভারে আমার ভেতরের ছোট্ট নাফিটা সময়ের আগেই বড় হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে?
কী অদ্ভুত জীবন আমাদের, তাই না? বয়স হয়েছে, দায়িত্ব এসেছে, জীবনের হিসাব বদলে গেছে; অথচ মনের ভেতরে সেই ছোটবেলার স্মৃতিগুলো আজও আগের মতোই রয়ে গেছে।
ইচ্ছে করলেই কি আর সেখানে ফিরে যাওয়া যায়?
না, যায় না। কারণ মানুষ যা হারায়, তা সব সময় ফিরে পায় না।
শুধু স্মৃতির পাতায় ফিরে গিয়ে কিছুক্ষণ নিজের পুরোনো দিনগুলোকে অনুভব করা যায়। আর মনে মনে বলা যায়—ইশ্! যদি আরেকবার সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে পারতাম!
ইতি,
দায়িত্বের ভিড়ে হারিয়ে যেতে থাকা সেই ছোট্ট নাফি।
আমার অনুভব, আমার ভাবনা আর জীবনের কিছু উপলব্ধি থেকে লেখা। ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ হিসেবে নেবেন, সিরিয়াসলি নেবেন না।