03/04/2016
কোটাতিরিক্ত ৪০ হাজার হজব্রতী নিয়ে জটিলতা
http://www.alokitobangladesh.com/todays/details/175788/2016/04/02
এবছর কোটার চেয়ে হজব্রতীর সংখ্যা ৪০ হাজারের মতো বেড়ে গেছে। এতে সৃষ্টি হয়েছে নানা জটিলতা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোটা বাড়ানোর আবেদনের পাশাপাশি এজেন্সি ও হজব্রতীদের জন্য কিছু নতুন নিয়ম চালু করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে রোববার আবার শুরু হচ্ছে প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম। কোটার বাইরেও ৩০ মে পর্যন্ত এ নিবন্ধন অব্যাহত থাকবে। তবে কোটায় প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রীদের ৩০ মে’র মধ্যে প্যাকেজের সব টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হবে। অন্যথায় তারা এবার হজে যাওয়ার সুযোগ পাবেন না। তাদের পরিবর্তে অতিরিক্ত তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে সুযোগ দেয়া হবে।
এর আগে ৩০ জুনের মধ্যে পুরো টাকা পরিশোধের নির্দেশনা দিয়েছিল ধর্ম মন্ত্রণালয়। নতুন এ নিয়মে বঞ্চিত হজব্রতী ও এজেন্সি মালিকরা খুশি। তবে প্যাকেজ মূল্যের চেয়ে কম টাকায় চুক্তিবদ্ধরা বিপাকে
পড়বেন বলে জানা গেছে।
সৌদি সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী, এবছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজারসহ মোট ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জন হজে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার জনের মধ্যে গাইড ও রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রী (৫০০ জনের জন্য সংরক্ষিত) ছাড়া সাধারণ হজযাত্রী ৯ হাজার ৫০০ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯১ হাজার ৭৫৮ জনের মধ্যে গাইড ও মোনাজ্জেম (৩ হাজার ৫৫৮ জন সংরক্ষিত) ছাড়া সাধারণ হজযাত্রী ৮৮ হাজার ২০০ হবেন।
ই-হজ সিস্টেমের আওতায় প্রথমবারের মতো হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয় ২৩ মার্চ। ৩০ মে পর্যন্ত কোটা থাকা সাপেক্ষে ব্যাংকে মোয়াল্লেম ফি জমা, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইসহ অনলাইনে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ নিবন্ধনের ব্যবস্থা করে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অফিস। কিন্তু মাত্র ৫ দিনের মাথায় বেসরকারি হজযাত্রীর কোটা পূরণ হয়ে যাওয়ায় ২৮ মার্চ দুপুরে হঠাৎ প্রাক-নিবন্ধনের সার্ভার বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে অধিকাংশ হজ এজেন্সি তার মোট হজযাত্রীর আংশিক প্রাক-নিবন্ধন কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ পায়। ফলে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করা নিয়ে বঞ্চিত হজযাত্রী ও এজেন্সি কর্তৃপক্ষ চরম বিপাকে পড়ে। কোটার চেয়ে ৪০ হাজারের বেশি হজব্রতী প্রাক-নিবন্ধনবঞ্চিত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে বৃহস্পতিবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মোঃ মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে হাব নেতারা ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে হাবের সভাপতি ইব্রাহীম বাহার বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩ এপ্রিল থেকে হজব্রতীদের প্রাক-নিবন্ধন শর্ত সাপেক্ষে আবার শুরু হবে। ৩০ মে পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। তবে নির্ধারিত কোটায় প্রাক-নিবন্ধিত যেসব হজযাত্রী সর্বনিম্ন প্যাকেজের সব টাকা (৩ লাখ ৪ হাজার ৯০৩ টাকা) ৩০ মে’র মধ্যে ব্যাংকে পরিশোধ করবেন, শুধু তারাই হজে যাওয়ার জন্য পিলগ্রিম আইডি পাবেন। অন্যথায় এ সুযোগ অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে পাবেন। বাকিরা পরবর্তী বছর হজে যেতে অগ্রাধিকার পাবেন।
হাব সভাপতি বলেন, এই নিয়মে প্যাকেজ মূল্যের চেয়ে কম টাকায় চুক্তিবদ্ধরা এবার হজে যেতে পারবেন না। হজে যেতে হলে সর্বনিম্ন প্যাকেজের টাকা জমা দিতে হবে। এছাড়া যেসব হজ এজেন্সি ১৫০ জনের নিচে প্রাক-নিবন্ধন করেছে, তারা অন্য এজেন্সির সঙ্গে সমন্বয় করে সর্বনিম্ন কোটা ১৫০ হজযাত্রীর প্রাক-নিবন্ধন কাজ সম্পন্ন করবে। তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত হজব্রতী নিয়ে জটিলতা নিরসনে আমরা আরও ২৫ হাজার কোটা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে সৌদি সরকারের কাছে আবেদন করব। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আগের একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি সরকার ৫ থেকে ১০ হাজার কোটা বাড়াতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। কোটা যে পরিমাণই বাড়–ক, তাতে সমস্যা কিছুটা সমাধান হবে। এদিকে, নতুন এই নিয়ম নিয়ে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য করেছেন এজেন্সি মালিকরা। এক এজেন্সি মালিক বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের প্রায় ৮০ ভাগ সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন প্যাকেজ মূল্যের চেয়ে কম টাকায় হজে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তাছাড়া এসব মানুষ একসঙ্গে সব টাকাও দিতে পারবেন না। তাই ৩০ মে’র মধ্যে সর্বনিম্ন প্যাকেজ মূল্য জমা নেয়ার নিয়মে এসব মানুষ বেকায়দায় পড়বেন। তবে অন্য একটি এজেন্সির মালিক জানান, কম টাকায় হজে যাওয়ার এই সুযোগ বন্ধ হলে এজেন্সি ও হজযাত্রী সবার জন্যই ভালো হবে। এতে হাজিরা ভালো সেবা পাবেন। অন্যদিকে এজেন্সির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ওঠে তাও বন্ধ হবে। উল্লেখ্য, বেসরকারি ব্যবস্থাপনার কোটা পূর্ণ হলেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় এখনও নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। সাড়ে ৯ হাজার কোটার মধ্যে মাত্র আড়াই হাজারের মতো হজযাত্রী সরকারি মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।