10/03/2026
আমরা এখন বায়তুল্লাহ যেমন দেখি অতীতেও কি এমনি ছিল?
উত্তর হবে না বরং বায়তুল্লাহ ইতিহাস অনুযায়ী প্রায় ১২ বার নির্মাণ বা বড় মেরামত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আগুন বা যুদ্ধের কারণে এটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। সংক্ষেপে ধারাবাহিকভাবে—
1️⃣ আদম (আ.) – প্রথমবার বায়তুল্লাহ নির্মাণ করেন (কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী)।
2️⃣ ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.) – দ্বিতীয়বার কাবা পুনর্নির্মাণ করেন।
3️⃣ আমালেকা গোত্র – মক্কার প্রাচীন এক গোত্র এটি মেরামত করে।
4️⃣ জুরহুম গোত্র – তারা আবার কাবা সংস্কার করে।
5️⃣ কুরাইশ গোত্র – মুহাম্মদ (সা.) নবুওয়াত পাওয়ার আগে (প্রায় 605 খ্রি.) কাবা পুনর্নির্মাণ করে।
6️⃣ আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়ের (রা.) – 683 খ্রিস্টাব্দে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নতুনভাবে নির্মাণ করেন।
7️⃣ আল-হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ – 693 খ্রিস্টাব্দে আবার পরিবর্তন করে নির্মাণ করেন।
8️⃣ খলিফা হারুন আল-রশীদ – মেরামতের চিন্তা করেছিলেন, তবে বড় পরিবর্তন করেননি।
9️⃣ আব্বাসীয় যুগে কয়েকবার আংশিক সংস্কার হয়।
🔟 মামলুক যুগে কিছু মেরামত করা হয়।
1️⃣1️⃣ সুলতান মুরাদ চতুর্থ – 1629 খ্রিস্টাব্দে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর প্রায় পুরো কাবা পুনর্নির্মাণ করেন।
1️⃣2️⃣ সৌদি সরকার – আধুনিক যুগে বড় সংস্কার (বিশেষ করে 1996 সালে) করা হয়।
আর আমরা যে পুরান ছবি গুলো দেখি তা মাত্র ২০০--৩০০ বছর পূর্বের, তাহলে পুরাতন যুগের কাবা কেমন ছিল চলুন দেখে আসি :
ইবরাহিম (আ.) যখন এটি নির্মাণ করেন, তখন এর উচ্চতা আকাশের দিকে নয় হাত (ذرع) করেন।
কালো পাথরের কোণা (হাজরে আসওয়াদ) থেকে দরজার দিকের উত্তর কোণা পর্যন্ত ৩২ হাত, পশ্চিম পাশ ৩১ হাত, হাজরে আসওয়াদের কোণা থেকে দক্ষিণ পাশের বিপরীত কোণা পর্যন্ত ২২ হাত, এবং তার বিপরীত উত্তর পাশ ২০ হাত ছিল।
সব মিলিয়ে এর পরিধি ছিল ১০৫ হাত।
এটি এভাবেই ছিল, পরে কুরাইশ গোত্র এটিকে ভেঙে আবার নির্মাণ করে। তখন মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগ ছিল। কুরাইশরা এটিকে আগের তুলনায় ছোট করে নির্মাণ করে। ফলে হিজর (হাতিম) অংশে সাড়ে ছয় হাত জায়গা বাইরে রয়ে যায়। তারা এর উচ্চতায় আরও নয় হাত বাড়ায়, ফলে মোট উচ্চতা হয় ১৮ হাত।
এর নির্মাণে এক স্তর কাঠ এবং এক স্তর পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল। কাঠের স্তর ছিল ১৫টি, আর পাথরের স্তর ছিল ১৬টি। ভেতরে ছয়টি স্তম্ভ ছিল।
কাবার ভেতরে তখন ফেরেশতা ও নবীদের ছবি, গাছের ছবি, এবং ইবরাহিম (আ.)-এর একটি ছবি ছিল যেখানে তাঁর হাতে তীর (আজলাম) ছিল। এছাড়া ঈসা (আ.) ও তাঁর মা মরিয়ম (আ.)-এর ছবিও ছিল।
পরে মক্কা বিজয়ের বছর (মক্কা বিজয়) মুহাম্মদ (সা.) নির্দেশ দেন সব ছবি মুছে ফেলতে। শুধু ঈসা (আ.) ও তাঁর মায়ের ছবি কিছু সময়ের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছিল। তখন কাবার ভেতরে সেই ভেড়ার দুটি শিং ঝুলানো ছিল, যে ভেড়াটি ইবরাহিম (আ.) কোরবানি করেছিলেন।
এরপর এটি এভাবেই ছিল আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়ের (রা.)-এর সময় পর্যন্ত। তখন আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি পুনরায় কাবা নির্মাণ করেন এবং হাতিম অংশটিও কাবার ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করেন। তখন কাবা কিছুটা চওড়া কিন্তু তুলনামূলক খাটো ছিল। তিনি উচ্চতায় আরও ৯ হাত বাড়ান, ফলে মোট উচ্চতা হয় ২৭ হাত। এটি সম্পূর্ণ পাথরের ২৭ স্তর দিয়ে নির্মাণ করেন। দেয়ালের পুরুত্ব করেন দুই হাত। ভেতরে তিনটি স্তম্ভ রাখেন এবং দুটি দরজা বানান—একটি পূর্বদিকে এবং একটি পশ্চিমদিকে। প্রতিটি দরজার উচ্চতা ছিল ১১ হাত।
পরে যখন আল-হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়ের (রা.)-কে হত্যা করেন, তখন তিনি হাতিমে ইবনে যুবায়ের যা নির্মাণ করেছিলেন তা ভেঙে দেন এবং সেই পাথর দিয়ে কাবার মেঝে মজবুত করেন। তিনি কাবার মেঝেকে হারামের জমি থেকে সাড়ে চার হাত উঁচু করেন। পশ্চিম দিকের দরজাটি বন্ধ করে দেন এবং বর্তমানের দুটি দরজার পাল্লা তৈরি করেন, প্রতিটির দৈর্ঘ্য ছিল সাড়ে ছয় হাত—যেমনটি ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতে উল্লেখ আছে।
এগুলো নেওয়া হয়েছে الاشارات الى معرفة الزيارات বিখ্যাত গ্রন্থ থেকে
إبراهيم عليه السلام لما بناها جعل طولها فى السماء تسع أذرع، وجعل من الركن الأسود إلى الركن الشمالى مما يلى بابها اثنتين وثلاثين ذراعا، ومن الجانب الغربى إحدى وثلاثين ذراعا، ومن الركن الذي فيه الحجرالأسود إلى الركن الذي تجاهه من جهة الجنوب اثنتين وعشرين ذراعا، ومن الجانب الشمالى تجاهه عشرين ذراعا، ودورها مائة وخمس أذرع. ولم تزل كذلك إلى أن هدمتها قريش وعمّرتها قريش فى عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وصغروها عما كانت عليه أولا، وبقى منها فى الحجر ست أذرع ونصف وزادوا فى ارتفاعها تسع أذرع فصار ارتفاعها ثمان وعشرة ذراعا، وكانت عمارتها سافا «١» من خشب وسافا من الحجارة، فكان الخشب خمسة عشر مدماكا والحجر ستة عشر مدماكا، وكان فيها ست سوارى، وكان بها صور الملائكة والأنبياء عليهم السلام والشجرة وصورة إبراهيم عليه السلام والأزلام بيده وصورة عيسى بن مريم وأمه عليه السلام، فلما كان عام الفتح أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم فطمست جميع الصور ما عدا صورة المسيح وأمه وكان بها قرنا الكبش الذي ذبحه إبراهيم عليه السلام معلقة داخل الكعبة. وبقيت كذلك إلى عهد ابن الزبير فاحترقت، ولما بناها ابن الزبير رضى الله عنه أدخل الحجر فيها فبقيت عريضة قصيرة فزاد فى ارتفاعها تسع أذرع فطولها فى السماء سبع وعشرون ذراعا، وهى سبعة وعشرون سافا من الحجارة، وجعل عرض حائطها ذراعين، وعمل فيها ثلاث سوارى، وعمل لها بابين: بابا من المشرق وبابا من المغرب، وعمل المصراعين طولهما إحدى عشرة ذراعا. فلما قتله الحجاج خرب ما عمره ابن الزبير فى الحجر وركّ بحجارته أرض البيت وجعل أرض البيت مرتفعا عن أرض الحرم بأربع أذرع ونصف ذراع، وسد باب الكعبة الغربى وعمل لها هذين المصراعين، طول كل واحد ست أذرع ونصف، كما ذكروا فى التواريخ، والله أعلم.