26/09/2020
সাজেক ভ্যালি-- দি ভ্যালি অব ক্লাউড
ছবিঃ সংগৃহীত
দর্শনীয় স্থানঃ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম দর্শনীয় স্থান সাজেক। বর্তমানে সময়ে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য স্থান হলো সাজেক ভ্যালি। এটিকে রাঙামাটির ছাদও বলা হয়। সাজেক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হিসাবে খ্যাত। এছাড়াও থেকে দৃষ্টিগোচর হয় প্রতিবেশী রাষ্ট ভারতের মিজরাম ও এিপুরা রাজ্য। এখানে গেলে মেঘের রাজ্যে হাড়িয়ে ফেলবেন নিজেকে। প্রকৃতির এমন সৌন্দর্য না দেখলে বিশ্বাসই করা যাবে না। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বললেও অত্যুক্তি হবে না। ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের সাজেক যেতে হলে অবশ্যই বাঘাইহাট পুলিশ ও আর্মি ক্যাম্প থেকে অনুমতি নিতে-হবে।
অবস্থানঃ সাজেক ভ্যালি রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত। সুমদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাজেক ভ্যালির উচ্চতা প্রায় ১৮০০ ফুট। বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় শত কিলোমিটার দূরে অবস্থান। সাজেকের অবস্থান রাঙামাটি জেলায় হলেও খাগরাছড়ি জেলার দীঘিনালা হয়ে যাওয়া সহজ । রাঙামাটি হয়ে গেলে সময় বেশি লাগে। খাগড়াছড়ি জেলা থেকে সাজেকের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার এবং দীঘিনালা থেকে দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার।
সাজেক_যাওয়ার_উপায়ঃ
স্থল-পথেঃ
ঢাকা থেকে সাজেক ভ্রমণঃ সাজেকের অবস্থান রাঙামাটি জেলায় হলেও খাগরাছড়ি জেলার দীঘিনালা হয়ে যাওয়া সহজ। তাই ঢাকা থেকে সড়কপথে সরসরি খাগড়াছড়ি আসতে হবে। খাগরাছড়ি শাপলা চত্বরের কাছ থেকে জীপগাড়ি রিজার্ভ নিয়ে সাজেক ভ্যালি ঘুরে আসতে পাড়বেন। যাওয়া আসা দুই দিনের খরচ ভাড়া নেবে ৮,০০০ টাকা থেকে ১০,০০০ টাকা। গাড়িতে ১২-১৫ যেতে পারবে। এছাড়া খাগরাছড়ি থেকে দীঘিনালায় গিয়ে সেখান থেকে সাজেক যেতে পারবেন। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালার দূরত্ব প্রায় ২৩ কিলো মিটার। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালার বাস ভাড়া ৪৫ টাকা। মোটর বাইকে জনপ্রতি ভাড়া ১০০ টাকা। যে কোন গাড়ি ঠিক করার আগে কি দেখবেন,কি করবেন, এ সকল বিষয় ভালো করে কথা বলে নেবেন । তবে আপনাকে মাথাই রাখতে হবে,যেভাবেই যান আপনাকে দীঘিনালায় ৯.০০টা —৯.৩০ মিনিট মধ্যে পৌছাতে হবে। দীঘিনালা থেকে বাকি রাস্তা নিরাপত্তার জন্যে আপনাকে সেনাবাহিনীর এসকোর্টে যেতে হবে। সেনাবাহিনীর এসকোর্ট দিনে দুইবার পাওয়া যায়। সময় সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে একবার আর ২টা ৩০মিনিটে আরেকবার। সকালে এসকোর্ট মিস করলে আপনাকে বিকাল পযর্ন্ত অপেক্ষা করতে হবে, আর বিকেলেরটা মিস করলে পরের দিন পযর্ন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এসকোর্ট ছাড়া যাবার অনুমিত পাবেন না।
দিঘিনালা থেকে যাবার পথে বাঘাইহাট,মাচালং বাজার তারপর রুইলুই পাড়া হয়ে পৌঁছে যাবেন সাজেক ভ্যালিতে। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকে যেতে সময় লাগে ২-৩ ঘন্টা ।
ঢাকা থেকে যে পরিবহণ যেতে পারবেনঃ সৌদিয়া,শ্যামলি,শান্তি,এস.আলম,ঈগল ইত্যাদি বাসে যেতে পারবেন।
নন-এসি বাস জনপ্রতি ভাড়া ৫২০ টাকা।
এসি বাস যেতে চাইলে সেন্টমার্টিন পরিবহন এবং বিআরটিসি পরিবহনে যেতে পারবেন। জনপ্রতি ভাড়া ৭০০ টাকা। আর বাসগুলো সাধারনত রাত ১০টা মধ্যে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
এছাড়াও শান্তি পরিবহন বাস সরাসরি দীঘিনালা যায় ও জনপ্রতি ভাড়া ৫৮০ টাকা। ছুটির দিনগুলোতে যেতে চাইলে আগে থেকেই টিকিট কেটে রাখা ভালো নয়তো পরে টিকিট পেতে ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে।
ট্রেনেযাত্রাঃ ঢাকা থেকে চট্রগ্রামে ট্রেনে যেতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলষ্টেশন হতে আন্তঃনগর সোনার বাংলা এক্সপ্রেস,সুবর্ণ এক্সপ্রেস,তূর্ণা এক্সপ্রেস,মহানগর প্রভাতী এবং মহানগর গোধূলী ট্রেনে যাত্রা করতে পারেন।
ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম ট্রেনের সময়সূচীঃ
ট্রেনের নামঃ ছাড়ার সময়ঃ পৌঁছায়ঃ সাপ্তাহিক বন্ধঃ
সোনার বাংলা সকালঃ৭:০০ দুপুরঃ১২:২০ বুধবার
মহানগর প্রভাতী সকালঃ৭:৪৫ দুপুরঃ১:৫০-
সুবর্ণা এক্সপ্রেস বিকালঃ৩.০০ রাতঃ৮:১০ সোমবার
মহানগর এক্সপ্রেস রাতঃ৯:০০ ভোরঃ৪:০০ রবিবার
তূর্ণা এক্সপ্রেস রাতঃ১১:২০ সকালঃ০৬:২০
মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেনঃ
চট্টলা এক্সপ্রেসঃ দুপুরঃ১:০০ রাতঃ৮:৫০ মঙ্গলবার
শ্রেণীভেদে ঢাকা টু চট্টগ্রাম আন্তঃনগর ট্রেনের ট্রিকিট মূল্যঃ
ক্লাসঃ ভাড়াঃ
শোভন ২৮৫টাকা
শোভন চেয়ার ৩৪৫টাকা
স্নিগ্ধা ৬৫৬টাকা
১ম শ্রেণীর চেয়ার ৪৬০টাকা
১ম শ্রেণীর বাথ ৬৮৫টাকা
এসি সিট ৭৮৮টাকা
এসি বাথ ১,১৭৯টাকা
বি.দ্রঃ ট্রেনের ট্রিকিট কাটতে বা ট্রেনের সকল তথ্য জানতে লগইন করুন-
ওয়েবসাইটঃwww.railway.gov.bd
চট্টগ্রাম থেকে সাজেক ভ্রমণঃ চট্রগ্রাম থেকে সরাসরি বাঘাইছড়ি যাওয়া যায় অথবা খাগরাছড়ির দিঘিনালা হয়েও যাওয়া সম্ভব ।
চট্রগ্রাম কদমতুলী থেকে বিআরটিসি এসি বাসে সারাদিনে ৪টি বাস চলাচল করে,ভাড়া জনপ্রতি ২০০টাকা।
এছাড়া অক্সজেন মোড় থেকে ১ ঘন্টা পর পর শান্তি পরিবহনে (ভাড়া ১৪০টাকা) বাস চলাচল করে। চট্রগ্রাম থেকে বাসে করে খাগড়াছড়ি যেতে সময় লাগে ৫-৬ ঘন্টা।
রাঙমাটি থেকে সাজেক ভ্রমণঃ রাঙামাটি থেকে সড়কপথে বাঘাইছড়ি যাওয়া যায়। বাঘাইছড়ি থেকে জীপ ( চাঁদের গাড়ি) অথবা মোটরসাইকেলে সাজেক ভ্যালিতে পৌছানো যায়। রাঙামাটি বাস টার্মিনাল থেকে সকাল ৭.৩০ থেকে ৮.৩০ ঘটিকায় মধ্যে বাস ছাড়ে। ভাড়া জনপ্রতি ২০০ টাকা। সময় লাগে ৬-৭ ঘন্টা। এছাড়াও ঢাকা ও চট্রগ্রাম থেকেও বাঘাইছড়ি যাওয়া সম্ভব। বাঘাইছড়ি থেকে জিপ (চাঁন্দের গাড়ি) অথবা মোটরসাইকেলে সাজেক ভ্যালি পৌছানো যায় এতে জনপ্রতি ভাড়া লাগে ৩০০/- টাকা।
জল-পথেঃ রাঙামাটি থেকে নৌপথে লঞ্চযোগে বাঘাইছড়ি যাওয়া যায়। রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭.৩০ মিনিট থেকে ১০.৩০ ঘটিকার মধ্যে লঞ্চ ছাড়ে। ভাড়া জনপ্রতি ১৪০-২০০ টাকা। সময় লাগে ৫-৬ ঘন্টা।
আকাশ পথেঃ হেলিকপ্টারে যাওয়া যায়। ঘন্টা প্রতি ভাড়া আনুমানিক ৩০,০০০হাজার-থেকে৩৫,০০০/-টাকা।
কি দেখবেনঃ পথের প্রান্তরে আঁকা-বাকা ও উঁচু-নিচু পাহাড়ি রাস্তা আপনার মনকে বিমহিত করবেই এবং চারপাশে মনোরম পাহাড় সারি,সাদা তুলোর মত মেঘের ভ্যালি আপনার মনকে মুগ্ধ করবেই। প্রকৃতির আশ্চয্যজনক মিতালীতে ও রুপের সান্নিধ্যে আপনিও হতে পারেন চমৎপদ। কখনো বা খুব গরম অনুভূত হবে তারপর হয়তো হটাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাবেন কিংবা চোখের পলকেই মেঘের ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাবে আপনার চারপাশ। প্রাকৃতিক নির্সগ আর তুলোর মত মেঘের পাহাড় থেকে পাহাড়ে উড়াউড়ির খেলা দেখতে সাজেক আদর্শ স্থান। সাজেকের হেলিপ্যাড থেকে সকালের সূর্যোদয় দেখা ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ। আর মেঘের খেলা আর ভোরের সূর্যোদয়েরর আলোর মেলা এই সময়ই বসে। বিকেলে কোন উঁচু স্থান থেকে সূর্যঅস্তের রঙ্গিন রুপ আপনাকে বিমোহিত করবেই। আর সন্ধার পর আকাশে কোটি কোটি তারার মেলা, ঐ আকাশের চাঁদের জোস্ননা নিমিষেই আপনার প্রাণ জুড়িয়ে দেবে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা মিলবে ছায়াপথের। চাঁদের জোস্ননা আলোয় ক্যানডেল লাইট ডিনার করতে পারেন প্রিয়জনের সাথে। দিন কিংবা রাত সাজেক যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির মত সুন্দর। কংলাক পাহাড় হচ্ছে সাজেক ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে অনত্যম আর্কষণ। আর সাজেক ভ্যালির শেষ গ্রাম কংলাক পাড়া লুসাই জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকা। কংলাক পাড়া থেকেই কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতের লুসাই পাহাড় দেখা যায়। চাইলে রুইলুই পাড়া থেকে দুই ঘন্টা ট্রেকিং করে কমলক ঝর্না বা পিদাম,সিকাম তৈসা ঝর্না দেখে আসতে পারেন।
এছাড়াও ঘুরে দেখতে পারেন চারপাশ ও আদিবাসীদের জীবন-যাপন। সহজ সরল এই সব মানুষের সান্নিধ্যে আপনার ভালো লাগবে।
#★সাজেক ভ্যালিঃ দি ভ্যালি অব ক্লাউড।
#★হ্যালিপ্যাড ১ও২ এলাকাঃ হিলিপ্যাড থেকে সকালে সাজেকের সূর্যোদয় ও সন্ধায় সূর্যাস্ত দেখা যায় ।
#★ কংলাক পাহাড়ঃ সাজেকে সবচেয়ে উঁচু স্থান হল কংলাক পাহাড়।
#★ কংলাক পাড়াঃ কংলাক পাহাড়ে এর অবস্থান। সাজেক ভ্যালির শেষ গ্রাম কংলাক পাড়া লুসাই জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকা।
#★রুইলুই পাড়াঃ সাজেকের সুন্দর ও নির্জন গ্রাম।
#★রক গার্ডেনঃ ছোট-বড় পাথর দিয়ে নান্দনিক ভাবে সাজানো হয়েছে রক গার্ডেন।
সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে ঢু মেরে ঘুরে আসতে পারেন।
আসে-পাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে…
#★পর্যটক কমপ্লেক্স (ঝুলন্ত ব্রীজ)ঃ রাঙমাটি সদর উপজেলার তবলছড়ি এলাকায় নয়নাভিরাম ৩৬৫ দীর্ঘ এ সেতুটির অবস্থান। অবস্থানঃ তবলছড়ি ডিলার পার্ক,তবলছড়ি,রাঙমাটি।
#★ উপজাতীয় টেক্সটাইল মার্কেটঃ রাঙমাটি পার্বত্য জেলা শহরের তবলছড়ির ঠিক আগেই উপজাতীয় টেক্সটাইল মার্কেট অবস্থিত। অবস্থানঃ তবলছড়ি, রাঙমাটি সদর, রাঙমাটি পার্বত্য জেলা।
#★ পলওয়েল পার্কঃ রাঙমাটি রিজার্ভ বাজার থেকে ১.৫ কি.মি দূরে ডিসি বাংলা রোডে অবস্থিত।
#★ অরন্যেক হলিডে রিসোর্টঃ রাঙমাটি ক্যান্টনমেন্টে নেমে মেইনরোড থেকে পায়ে হেটে রিসোর্ট ১০-১৫ মিনিট সময় লাগে। প্রতি সোমবার দর্শনার্থীদের জন্যে প্রবেশ বন্ধ থাকে।
#★ হাজাছড়া ঝর্নাঃ রাঙমাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইছড়ি এলাকায় অবস্থিত। ১৫-২০ মি টেকিং করতে হয়।
#★সুভলং ঝর্ণাঃ রাঙমাটি জেলার বরকল উপজেলার সুভলং এক পাহাড়ি ঝর্ণা । রাঙমাটি সদর হতে সুভলং ঝর্ণার এর দূরত্ব ২৫ কি.মি। ভরা বর্ষামৌসুমে মূল ধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ে।
কিভাবে যাবেনঃ রাঙমাটির রিজার্ভ বাজার,পর্যটন ঘাট ও রাঙমাটি শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে স্পীড বোট ও নৌ-যানে করে সহজেই সুভলং যায়া যায়। যার ভাড়ার পরিমাণ ঘন্টা প্রতি স্পীড বোট ঘন্টায় ১২০০-১৪০০/-টাকা এবং দেশীয় নৌ-যান ৫০০-৮০০/- টাকা।
#★ রাজবন বিহারঃ রাঙমাটি থেকে রাজবন বিহার এর দূরত্ব ৫কি.মি।
আরও সময় হাতে থাকলে সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার সময় ঘুরে দেখতে পারেন…খাগড়াছড়ি জেলার কিছু অংশ।
#★আলুটিলা গুহাঃ খাগড়াছড়ি জেলার মাটি ভাঙ্গা উপজেলায় প্রাকৃতিক গুহা আলুটিলা অবস্থিত। খাগড়াছড়ি থেকে আলুটিলা গুহার দূরত্ব ৭ কি.মি। স্থানীয়দের কাছে আলুটিলা গুহা ‘মাতাই হাকড় বা দেবতার গুহা নামে পরিচিত। এ দৈর্ঘ্য ৩৫০ ফুট। ভেতর দিয়ে আসতে সময় লাগে ১০-১৫ মিনিট।
#★ রিসাংঝর্নাঃ খাগড়াছড়ি জেলার মাটি ভাঙ্গা উপজেলার সাপমারা গ্রামে অপূর্ব সুন্দর রিসাং ঝর্নার অবস্থান। আলুটিলা গুহা থেকে এর দূরত্ব ৩ কি.মি।
#★ হাতিমাথাঃ খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া ইউনিয়নে অবস্থিত। দেড়-ঘন্টা টেকিং করতে হয়।
সাজেক যাওয়ার উপযুক্ত সময়ঃ সারা বছরই বর্নিল সাজে সেজে থাকে সাজেক। বছরের যে কোন সময় আপনি সাজেক ভ্রমণ করতে পারেন। বর্ষা,শরৎ,হেমন্তে সাজেকের চারপাশে মেঘের খেলা দেখা যায় বেশি। তাই এই সময়টাই সাজেক ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এছাড়া আমাদের দেশে যেকোন জায়গায় ভ্রমণের পিক সিজন বলতে শীতের সময়কেই বোঝায়। তবে, আপনি শীতকালে কুয়াশার চাদরে মোড়ানো সাজেক অসম্ভব সুন্দর লাগে তাই চাইলে শীতকালেও সাজেক যেতে পারেন।
কোথায় থাকবেনঃ সাজেকে সেনাবাহিনী ও বিজিবি’র তত্ত্বাবধানে এখানে কটেজ ও রিসোর্ট করা হয়েছে। সাজেকে থাকার জন্যে ৪০ এর অধিক রিসোর্ট ও আদিবাসী কটেজ আছে। এক রাতের জন্য জনপ্রতি ভাড়া পরবে ২০০০ টাকা থেকে ১৫,০০০ হাজার টাকা পযর্ন্ত। ছুটির দিনে যেতে চাইলে মাস খানেক আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রাখা ভালো, নয়তো ভালো রুম পাবার নিশ্চয়তা কম। আর কম দামে থাকতে চাইলে আদিবাসী কটেজও থাকতে পারেন। এছাড়া বর্তমান পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নতুন নতুন অনেক রিসোর্ট ও কটেজ হয়েছে। সাজেকের সব কটেজ থেকে মোটামুটি ভিউ পাওয়া যায়। সাজেকে সাজানো হয়েছে অপরুপ রূপে। রুইলুইতে স্থানীয়দের বাসায় থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে বেসরকারি উদ্দ্যোগে কয়েকটি কটেজও করা হয়েছে। এছাড়া রাঙামাটি জেলা প্রশাসন দারা পরিচালিত ‘শিঞ্জন' নামে একটি আকর্ষনীয় রিসোর্ট রয়েছে।
সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজ তথ্যঃ-
সাজেক রিসোর্ট(Sajek Resort) : বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বাড়া পরিচালিত রিসোর্ট সাজেক রিসোর্ট।
এসি আর নন-এসি রুমের ভাড়া ১০,০০০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকা। সেনাবাহিনীর কর্মরত ও প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তাদের জন্যে ডিসকাউন্ট রয়েছে। যোগাযোগ করতে পারেন এই নাম্বারেঃ 01859-025694/01847-070395/01769-302370
রুন্ময় রিসোর্ট (Runmoy Reosort) : মোট ৫টি রুম আছে । প্রতিটি কক্ষে ২জন করে থাকতে পারবেন। নিচ তলায় রুম ভাড়া ৪৪৫০ টাকা । ওপরের তলায় ২টি কক্ষ আছে ভাড়া ৪,৯৫০ টাকা । এখানে অতিরিক্ত ৬০০ টাকা দিয়ে বেড ভাড়া নিতে পারবেন। যোগাযোগ: 01865-47688
মেঘ মাচাং (Megh Machang) : সন্দর ভিউ ও তুলনামূলক কম থাকার জন্যে মেঘ মাচাং রিসোর্ট অনেকেই পছন্দের তালিকার শীর্ষে। এখানে খাওয়া দাওয়া ব্যবস্থা ও রয়েছে । মেঘ মাচাং এ পাঁচটি কটেজ আছে । ভাড়া ২৫০০-৩৫০০ টাকা। যোগাযোগঃ 01822-168877
মেঘ পুঞ্জি রিসোর্ট (MeghPunji Resort) : সুন্দর ইকো ডেকোরেশনের ও আকর্ষনীয় ল্যান্ডইস্কিপ ভিউ সহ মেঘ পুঞ্জিতে আছে ৪টি কটেজ,প্রতিটিতে ৩-৪ জন থাকা যাবে। ভাড়া ২৫০০-৩৫০০ টাকা। যোগাযোগঃ 01815-761065
লুসাই কটেজ(TGB Lushai Cottage) : কাপল রুম ও ডাবল বেড সহ আছে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা । সুন্দর ডেকারেশন ও ল্যান্ডইস্কিপ এই কটেজেরর রুম ভাড়া ২,০০০-৩,০০০টাকা । যোগাযোগঃ 01634-198005
জুমঘর ইকো রিসোর্ট (Jumghor Eco Resort): এখানে থাকার জন্য কাপল রুম ও শেয়ার রুম দুটোই আছে ।
প্রতি কটেজ রুম ভাড়া ২,০০০-৩,০০০ টাকা। যোগাযোগঃ 01884208060
রিসোর্ট রুংরাং(Resort RunRang) : রিসোর্টে বসেই দিগন্তজোড়া সারি সারি পাহাড় এবং মেঘের উড়াউড়ি দেখার জন্য আর্দশ। এ রিসোর্টে ৪টি ডাবল রুম ও ৪টি কাপল রুম রয়েছে। ছুটির দিনে ডাবল বেডের ভাড়া ৩,৫০০টাকা এবং কাপল রুমের ভাড়া ২৮০০টাকা। অন্য সকল দিনে ডাবল রুমের ভাড়া ২,৮০০টাকা এবং কাপল রুমের ভাড়া ২,০০০ টাকা। যোগাযোগঃ 01884-710723,01869-649817
আলো রিসোর্ট (Alo Resort): সাজেকের একটু আগে রুইলুই পাড়ায়। ৬টি রুমের মধ্যে ডাবল রুম ৪টি (২টি সিঙ্গেল বেড) কটেজ রুম ভাড়া ৮০০-১৫০০টাকা। যোগাযোগঃ 01841-000645
সাজেক এর খাওয়া-দাওয়াঃ- সব রিসোর্টে খাবার ব্যবস্থা আছে তাই আগেই রিসোর্টগুলোতে বলে রাখলে পছন্দ মত রান্না করে দেবে সেক্ষেত্রে প্রতিবেলা জনপ্রতি ১০০-২৫০ পযর্ন্ত খরচ হতে পারে। এখানে মেনু হিসেবে পাবেন ভাত,আলুভর্তা,ডাল,মুরগির মাংস ইত্যাদি । চাইলে রাতে বার-বি-কিউও করতে পারেন।
বি.দ্রঃ সাজেকের ঐতিয্য-বাহী খাবার ব্যাম্ব চিকেন খেতে ভুলবেন না । সাজেকে খুব সস্তায় পাহাড়ি ফল পাবেন যেমন: কলা,কমলা,পেঁপেঁ,আনারস,আখ ইত্যাদি চোখে দেখলে চোখে দেখতে ভুল করবেন না।
সাজেক ভ্রমণ খরচঃ আপনি কতটা পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছেন,মূলত তার উপর নির্ভর করবে আপনার সাজেক ভ্রমণ খরচ। আপনি যদি নিজের আরাম কিছুটা বিসর্জন দিয়ে ভ্রমণে প্রাধান্য দেন,তাহলে খরচ আপনার সাদ্ধ্যের মধ্যেই থাকবে। চলুন এক নজরে ঢাকা থেকে সাজেক ভ্যালি ভ্রমণের খরচ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা নেওয়া যাক।
ঢাকা থেকে দিঘিনালা শান্তি পরিবহণে সরাসরি যাওয়া ও আসা ভাড়াঃ ৫৮০*২=১১৬০ টাকা
যাওয়া আসা সহ দুই দিনের জন্য চাঁন্দের গাড়ি ভাড়াঃ ৮,০০০ হাজার থেকে ১০,০০০হাজার টাকা।
চাঁন্দের গাড়িতে ১২ জন উঠতে পাড়বে। ১০,০০০÷১২= ৮৩৩ জনপ্রতি
থাকার জন্য রিসোর্ট ও কটেজ ভাড়াঃ ৩,০০০ টাকা দুই রাতের জন্যে।
খাওয়া দাওয়া প্রতিবেলার খরচঃ ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা।
সাজেক ভ্রমণ পরার্মশঃ-
★ আমাদের দেশে যেকোন জায়গায় ভ্রমণের পিক সিজন বলতে শীতের সময়কেই বোঝায়। তাই এ সময়ে কোন দূরের জনপ্রিয় জায়গায় যেমন সাজেক ভ্যালি ঘুরতে পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকে যানবাহন,হোটেল,রিসোর্ট কিংবা কটেজ বুকিং দিয়ে রাখুন।
★ কোথাও ভ্রমণে গেলে আপনার সাথে ক্যামেরা,ফোন,ই-বুক রিডার সহ নানারকম বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র সাথে থাকতে পারে। প্রয়োজনে এগুলোকে চার্য দিতে হয়। আবার স্থানভেদে চাজিং পোর্টের পিন ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। তাই নানাধরনের চাজিং এডাপ্টর সাথে না নিয়ে এটি মাত্র ইউনিভারর্সাল অল ইন ওয়ান এডাপ্টার পরিবহন করুন।
★ সাজেকে সম্প্রতি বিদ্যু সংযোগ করা হয়েছে এবং সোলার ব্যবস্থা রয়েছে। মোবাইল জররি প্রয়োজনে চার্জ দেওয়ার জন্য সাথে পাওয়ার ব্যাঙ্ক রাখতে পারেন।
★ আপনি একা বা সঙ্গিনীকে নিয়ে কিংবা বন্ধুদের সাথে দল বেঁধে যেভাবেই ঘুরতে বের হন না কেন ভ্রমণের সময় সামান্য মাথাব্যথাই ঘুর-বার আনন্দ নষ্ট করতে যথেষ্ট। শীতকাল ঠান্ডা,কাশি,জ্বর সহ নানা অসুখ নিয়ে হঠাৎ করে চলে আসে তাই এ সময় ভ্রমণে সাথে কাঁটা ছেড়ার জন্য ফাস্ট এইডের পাশাপাশি ঠান্ডা,কাশি,মাথাব্যথা,পেট খারাপ ও জ্বরের ঔষধ রাখবেন।
★ সাজেকে শুধুমাত্র রবি,এয়ারটেল ও টেলিটক এর নেটওয়াক ভালো পাওয়া যায়।
★ সাজেক যাবার পথ অনেক আকাবাকা ও উঁচু নিচু,তাই পথ বিপদজনক। জীপের ছাঁদে ভ্রমণে সতর্ক থাকুন।
★ রোদে কিংবা বৃষ্টির জন্য ছাতা ও সানগ্লাস নিয়ে যেতে পারেন।
★ আদিবাসীদের ছবি তোলার ক্ষেত্রে অনুমিত নিয়ে নিন। অনুমিত ছাড়া ছবি তুলবেন না।
★ আদিবাসী মানুষজন সহজ সরল তাদের সাথে ভদ্র ব্যবহার করুন ও তাদের সংস্কৃতি প্রতি সম্মান দেখান।
★ ছুটির দিনে গেলে ঝামেলা এড়াতে মাস খানেক আগে থেকেই রুম বুকিং দিয়ে রাখুন।
★ সাজেক যাবার পথে কয়েক জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প আছে। সেখানে ভ্রমণকারী সদস্যদের তথ্য জমা দিন এবং নিরাপত্তা সার্থে তাদেরকে সহযোগিতা করুন। সাথে নিজের জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি রাখুন।
★ দুই তিন দিনের জন্যে গেলে গাড়ি বসিয়ে না রেখে, শুধু যাবার জন্যে গাড়ি ঠিক করুন। ফিরে আসার সময় অন্য কোন গাড়িতে আসুন কিংবা সাজেকে লোকাল চাঁদের গাড়িতে আসতে পারেন। এছাড়াও দিঘীনালা ফোন করে গাড়ি পাঠিয়ে ফেরত আসতে পারেন।
তথ্য সংগ্রহঃ বিডি গভামেন্ট ওয়েবসাইট,উইকিপিডিয়া,গুগল,জাহিদ সোহেলের মানচিত্র,ভ্রমন গাইড ইত্যাদি।
আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে আমাদের ভ্রমণ গ্রুপে যোগদান করুন এবং পেজে লাইক,কমেন্ট ও শেয়ার করুন।
Group: https://www.facebook.com/groups/SunriseToursAndTravelsBD
Page: https://www.facebook.com/SunriseToursAndTravelsBD/
E-mail: www.sunrisetravelsbd.yahoo.com
বিশেষদ্রষ্টব্যঃ সতর্কতা অবলম্বন—যানবাহন,হোটেল,রিসোর্ট বা কটেজ ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়াও আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যমে থেকে প্রাপ্ত নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোন রুপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো।
নিরাপদ হোক পথ চলা… –সার্নরাইজ ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস