ভ্রমন গাইড- Travel Guide

ভ্রমন গাইড- Travel Guide দর্শনীয় পর্যটন স্থান সম্পর্কিত তথ্য

 #সান্দাকফু (Sandakphu) ভ্রমন:-পশ্চিমবঙ্গের উচ্চতম শৃঙ্গ যার উচ্চতা ৩৬৩৬ মিটার (১১৯৩০ ফুট)। দার্জিলিং এর সিঙ্গালিলা জাতী...
13/10/2025

#সান্দাকফু (Sandakphu) ভ্রমন:-

পশ্চিমবঙ্গের উচ্চতম শৃঙ্গ যার উচ্চতা ৩৬৩৬ মিটার (১১৯৩০ ফুট)। দার্জিলিং এর সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের ধারে পশ্চিমবঙ্গ-নেপাল সীমান্তের এই শৃঙ্গ সিঙ্গালিলা পাহাড়ের সবচেয়ে উঁচু বিন্দু। এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা, লোৎসে এবং মাকালু – পৃথিবীর পাঁচটি সবচেয়ে উঁচু চূড়ার চারটিই সান্দাকফু থেকে দেখা যায়।

সান্দাকফু হলো তাদের জন্যে স্বর্গ যারা হয়ত খুব ভালো ট্রেকার না কিন্তু পাহাড় ভালোবাসে। সান্দাকফুকে হয়ত এজন্যেই বলা হয়ে থাকে ট্রেকার্স প্যারাডাইস। শারীরিক সেরম কোনো সমস্যা না থাকলে হেঁটে যাওয়াটাই উত্তম কারন এতে সান্দাকফু ট্রেকের সবটুকু সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারবেন। কষ্ট একটু হলেও আনন্দ পাবেন হাজারো গুন বেশী।

সান্দাকফু – ফালুট ট্রেকে সিজন ভেদে তাপমাত্রা দিনের বেলা ১২-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের বেলা মাইনাস ৫ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। তাপমাত্রার সাথে প্রচন্ড বাতাস এই ট্রেকের আরেকটি চ্যালেঞ্জ। তাই জামা কাপড়ের দিক দিয়ে খুব ভালভাবে প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়া উচিত।

#ট্রেকের সেরা সময়
ক্রিস্টাল ক্লিয়ার ভিউ পাবার জন্যে অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস সব থেকে ভালো সময়। এ সময় কাঞ্চনজঙ্ঘা ও ভালো ভাবে দেখা যায়। তবে স্নোফল পেতে চাইলে জানুয়ারি থেকে মার্চ এর মাঝামাঝি বেস্ট সময় কিন্তু মনে রাখতে হবে এসময় প্রচন্ড ঠান্ডা থাকে। আর যদি রডোডেনড্রন দেখার জন্য প্ল্যান করে থাকেন তবে এপ্রিলের শুরু থেকে মে পর্যন্ত ভালো সময়।

#বিঃদ্রঃ জুন ১৫- সেপ্টেম্বর ১৫ অফ থাকে বৃষ্টির জন্য।

#সান্দাকফু ট্রেক এর খরচ:-
শিলিগুড়ি থেকে মানেভাঞ্জন গাড়ি ভাড়া ৪০০০ রুপি
সিঙ্গালিলা পার্কের এন্ট্রি টিকেট মানেভাঞ্জান থেকে নিতে হয় তবে ট্রেকে মেঘমা এর পরে আরেকটা চেকপোস্ট থেকেও নেয়া যায়। সিংগালিলা পার্কের টিকেট – ৫০০ রুপি দিনপ্রতি
ক্যামেরা থাকলে তার জন্য – ১০০ রুপি
গাইডকে প্রতিদিন দিতে হবে – ১২০০ রুপি
জীপ নিয়ে গেলে – ৪০০ রুপি
হোমস্টে/জিটিএ ট্রেকার্স হাটে শুধুমাত্র থাকার জন্য খরচ পড়ছে ৫০০-৬০০ রুপি।
খাবার ২৫০-৩০০ রুপি প্রতিবেলা
ট্রেকিং আইটেনারি

#প্রথম দিন:
নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন / শিলিগুড়ি থেকে মানেভঞ্জন। রাতে মানেভাঞ্জন থাকা।
#দ্বিতীয় দিন:
মানেভাঞ্জন থেকে টুমলিং। আপনি ইচ্ছে করলে টংলুতেও থাকতে পারেন।
#তৃতীয় দিন:
টুমলিং থেকে কালিপোখড়ি। রাতে স্টে।
#চতুর্থ দিন:
কালিপোখরি থেকে সান্দাকফু। বিকেলে আল এ সূর্যাস্ত দেখা। রাতে থাকা সান্দাকফু কিংবা আল এ থাকা।
#পঞ্চম দিন:
গুরদুম হয়ে শ্রীখোলা অথবা সেপি। রাতে থাকা।
ষষ্ঠ দিনঃ
রিম্বিক হয়ে দার্জিলিং অথবা শিলিগুড়ি অথবা নিউ জলপাইগুড়ি রেল স্টেশন।
#প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং তথ্য:-
১_পাসপোর্টের ফটোকপি: ২-৫ কপি (ভিসার পাতাসহ)
২_পাসপোর্ট সাইজের ছবি: ৪ কপি সাথে রাখবেন। সাথে দুই কপি স্ট্যাম্প সাইজ ছবি হলে আরো ভাল, তাতে মোবাইলের সিম নিতে সুবিধা হবে।

্রয়োজনীয় সাজ-সরঞ্জাম ও প্রস্তুতি:-
ট্রেকিং বুট: ভালো গ্রিপের একটি ট্রেকিং বুট খুবই দরকারি। ৭ দিন পাথরের টেরেইনের মধ্যে এবং বস্তুত উঁচু-নিচু পাথরের রাস্তায় ট্রেক করতে হবে তাই পায়ের জুতাটি আরামদায়ক হওয়া বাধ্যতামূলক। পায়ের বুট গিরার উপর পর্যন্ত উঁচু হওয়া উত্তম। একদম নতুন বুট পড়ে ট্রেক করবেন না। ট্রেকের পূর্বে পাঁচ-ছয় দিন বুট পরে ঘুরবেন। সাথে ঊলের মোজা নিবেন।
ঊইন্ড ব্রেকারঃ একটা প্যারাসুট জ্যাকেট (wind cheater) নিতে হবে যা ঊইন্ড ব্রেকার হিসেবে পরিচিত।
ব্যাকপ্যাক: ভাল মানের একটি ব্যাকপ্যাক আরামদায়ক ট্রেকের জন্য গুরুত্বপূর্ন। ভালো ব্যাক সিস্টেম, কাঁধে আর কোমড়ে সমানভাবে ওজন নেয়, কাঁধে চাপ পড়ে না, এমন ব্যাকপ্যাক ব্যবহার করা ভালো। এই ট্রেকের জন্য ৪০-৫০ লিটার ব্যাকপ্যাক হলেই যথেষ্ট।
মাংকি ক্যাপ/বালাক্লাভা: বালাক্লাভা ওজনে হালকা, ফানেল আকারের এক টুকরো কাপড়। এটা দিয়েই মাংকি ক্যাপ, মাথা ঢাকা, কান ঢাকা, প্রয়োজনের সময় এটা দিয়েই গলা ঢাকা যায়। সান্দাকফু এবং সান্দাকফু থেকে ফালুট যাবার পথে প্রচন্ড বাতাসের তোপে এটা থাকা খুবই জরুরি। সাথে অবশ্যই মাফলার রাখবেন।
হাতমোজাঃ মোটা হাতমোজা নিতে হবে।
পলিব্যাগ: আপনার জিনিসপত্র পানি থেকে বাঁচাতে সব কিছু আলাদাভাবে পলিতে প্যাক করে নিবেন। সাথে করে অতিরিক্ত কয়েকটি জিপ লক/সাধারণ পলিথিন নিয়ে যাবেন। বিশেষ করে এপ্রিল-মে’র শেষের দিকে বৃষ্টির আশংকা সব সময়ই থাকে।
হেড ল্যাম্প/টর্চঃ সাথে অতিরিক্ত ব্যাটারি। ঠাণ্ডায় ব্যাটারীর চার্জ অল্পতেই শেষ হয়ে যায় এই বিষয়টা সবসময় মাথায় রাখবেন। ট্রেক করতে গিয়ে রাত হয়ে গেলে অথবা রাতে টয়লেটে যেতে হলে এটার বেশ প্রয়োজন হতে পারে, তাই আকৃতিতে ছোট হলে ভালো।
সানগ্লাস: বরফের মধ্যে সূর্যের আলো পড়ে কয়েক গুন বৃদ্ধি পেয়ে আমাদের চোখে পড়ে। খালি চোখে তাই ট্রেক করা বিপদজনক। তুষার অন্ধত্ব হতে পারে। তাই ভালো দেখে একটি ‘পোলারাইজড’ রোদ চশমা নিয়ে যেতে হবে। জানুয়ারির দিকে সান্দাকফু গেলেই এটার প্রয়োজন হবে কারণ তখনি সেখানে বরফ পড়ে।
ক্যামেরা, মেমরি কার্ড, পাওয়ার ব্যাংকঃ ট্রেইলের অধিকাংশ অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই।
ট্রেকিং পোল/ওয়াকিং স্টিকঃ দুইটি পোল নেওয়ার জন্য চেষ্টা করবেন। নিদেনপক্ষে একটা। ট্রেকিং পোল ব্যবহার করলে শরীরের উপর চাপটা অনেক কম পড়ে।
ট্রেক কিট: সুঁই, সুতা, সেফটি পিন, ১০০ ফিটের প্যারাকর্ড। কখন কি কাজে লেগে যায় বলা তো যায় না। এই জিনিসগুলো সব সময় কাজে লাগে।
ট্রেইল মিক্স/চকলেট/লজেন্স: এমনিতে পুরো ট্রেইল জুড়েই কিছুদূর পর পর গ্রাম পড়বে যেখানে হালকা চা-নাস্তার ব্যবস্থা আছে। তারপরেও পথিমধ্যে মুখের স্বাদ পরিবর্তনের জন্য কিছু নিয়ে যেতে পারেন।
পানির বোতল।
#সান্দাকফু যাওয়ার উপায়:-
সান্দাকফু গাড়ি করেও যাওয়া যায় আবার ট্রেকিং করেও যাওয়া যায়। যাত্রা শুরু করতে হয় মানেভঞ্জন থেকে যা দার্জিলিং থেকে ২৮ কিমি দূরে অবস্থিত। মানেভঞ্জন থেকে আপনাকে গাইড নিতে হবে এবং প্রয়োজন মনে করলে পোর্টারও এখান থেকে নিয়ে নিতে পারেন। আসলে সান্দাকফু এর পরিচিতি ট্রেকিংয়ের স্বর্গরাজ্য হিসাবে। তাই যাঁরা সবে ট্রেকিং শুরু করেছেন তাঁদের কাছে পায়ে হাঁটার আদর্শ গন্তব্য সান্দাকফু – ফালুট। মানেভঞ্জন থেকে সান্দাকফু-ফালুট ট্রেকিং-যাত্রাকে ৪টি পর্যায়ে ভাগ করা যায়।

#সময় দরকার #৪ দিন

মানেভঞ্জন থেকে কেউ চাইলে ১৯৫০ সালে তৈরি ল্যান্ড রোভারে চড়ে সান্দাকফু ও ফালুট অবধি যেতে পারেন। যদিও খাড়া পাহাড়ি পথ হওয়ার কারনে গাড়ির যাত্রা খুব একটা আরামদায়ক নয়।

#মানেভঞ্জন থেকে মেঘমা:-
মানেভঞ্জন (৭০৫৩ ফুট) থেকে মেঘমা (৮৫৩০ ফুট) সর্বমোট ৪ ঘণ্টার ট্রেকিং। এই ট্রেকিং পথটা গিয়েছে ছবির মতো গ্রাম চিত্রে হয়ে। সময় ও পরিস্থিতি বুঝে অনেক সময় অনেক ট্রেকাররা চিত্রে থেকেও ট্রেক শুরু করে থাকেন।

#মেঘমা থেকে গৈরিবাস:-
মেঘমা থেকে গৈরিবাস (৮৫৯৯ ফুট) পর্যন্ত এই ট্রেকিংয়ের পথটা গিয়েছে টংলু (১০০৭২ ফুট) এবং টুমলিং (৯৫১৪ ফুট) হয়ে। অনেকে মানেভাঞ্জন থেকে সরাসরি গাড়িতে ধোত্রে হয়ে টংলু অথবা টুমলিং এসে সেখান থেকে ট্রেকিং শুরু করেন। সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের সীমানাটি এই পথের ধারেই। টুমলিং এ জাতীয় উদ্যানের একটি চেকপোস্ট আছে।

#গৈরিবাস থেকে সান্দাকফু:-
গৈরিবাস থেকে সান্দাকফু পর্যন্ত ৪ ঘণ্টার টানা খাড়া পথ ধরে পৌঁছতে হয় সান্দাকফুতে। পথে পড়ে কালিপোখরি গ্রাম।

সান্দাকফু থেকে শ্রীখোলা
ফেরার সময় পুরনো পথে না ফিরে টানা নেমে চলে যাওয়া যায় শ্রীখোলা নদীর ধারে শ্রীখোলায়। সেখান থেকে রিম্বিক। তার পর গাড়িতে দার্জিলিং।

#সান্দাকফু কোথায় থাকবেন
সান্দাকফুতে সামান্য কিছু সংখ্যক হোটেল গড়ে উঠেছে। এদের মধ্যে শেরপা চ্যালেট লজ বেশ ভালো। এছাড়াও আছে GTA Trekkers Hut.

সান্দাকফুতে থাকার বেশ কিছু হোটেলের নাম এবং নাম্বার এখান থেকে দেখে নিতে পারেন:-
#মানেভঞ্জন
Hotel Exotica (মাস্টারজির হোটেল) – (+91) 9733044512
হোটেল প্রধান – (+91) 9378432467
#টংলু
রাজু হোম স্টে (Homestay) – (+91)9547670143

#টুমলিং
সিদ্ধার্থ লজ – +(977)9745160804, +(91)95933 20408

#কালিপোখড়ি
হিমাচুলি লজ – (+91)9434357443
পান্ডিম লজ – (+91)8617451774

#সান্দাকফু
শেরপা চ্যালে – (+91)9547280998
Hotel Sunrise – (+91)9741450002, +(91)9679256795
Namo Buddha Hotel – (+91)8116842745
আল
পিঙ্কি দিদির হোম স্টে (Homestay) – +(91)81598 80594, +(91)9734617586, +(91)96352 24131

#শ্রীখোলা
গোপার্মা লজ – +(91)9733261799

টংলু, গৈরিবাস, সান্দাকফু, ফালুট, শ্রীখোলা – এই পাঁচ জায়গায় GTA Trekkers hut আছে। কলকাতার সল্ট লেকের GTA Office থেকে বুক করতে হয়। বুক করার আগে নির্দিষ্ট দিন ফাঁকা আছে কিনা জানতে শুভঙ্কর পালকে (+919903174047) ফোন করে জেন নিতে পারেন। মনে রাখবেন, বুকিং শুরু হয় ২ মাস আগে থেকে। GTA Office শনি ও রবিবার বন্ধ ।

গাড়ীর খোঁজ
নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে মানেভঞ্জন অবধি চারজন গাড়িতে গেলে কৃষ্ণাকে (+917074879585) ফোন করতে পারেন, বাঙালী ভদ্রলোক।

মানেভাঞ্জন থেকে যারা গাড়িতে সান্দাকফু যেতে চাচ্ছেন, তাদের জন্যে গাড়ীর ভাড়ার তালিকা এখানে দেখে নিন।

গাইড
গাইড কাম পোর্টার হিসেবে প্রেম দর্জি (+919593352874) এর সাথে কথা বলতে পারেন। বাচ্ছা ছেলে, কিন্তু খুবই ভালো। আপনার জন্য হাসিমুখে সবসময় থাকবে।
#প্রয়োজনীয় ঔষধ:-
প্রাথমিক ফার্স্ট এইড কিটের ঔষধসমূহ (গ্যাসের ওষুধ, পেইন কিলার, মুভ, স্যাভলন) সাথে কিছু তুলা, গজ-ব্যান্ডেজ, পভিডন আয়োডিন, স্যাভলন, ব্যান্ড এইড। সেফটির জন্য ইনিহেলার নিয়ে যান। হাই অল্টিচ্যুড এ যাদের প্রবলেম আছে তারা ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ নিয়ে যাবেন অবশ্যই।

#মোবাইল নেটওয়ার্ক
সান্দাকফু – ফালুট ট্রেকে বেশিরভাগ সময়েই মোবাইল নেটওয়ার্ক এর কভারেজ পাওয়া যায় না। Vodafone এবং BSNL এর নেটওয়ার্ক মাঝে মাঝে পাওয়া যায় কিন্তু সেটাও খুব দুর্বল।

#অত্যাবশ্যকীয় কিছু বিষয়
ট্রেকিং এর সময় দাঁড়িয়ে রেস্ট নিন, মুখ দিয়ে নিশ্বাস না ছেড়ে নাক দিয়ে ছাড়ার চেষ্টা করুন, বসতে যাবেন না, পা ধরে যাবে।
পানি যথাসম্ভব কম খাবেন।
পাসপোর্ট কাছাকাছি রাখুন, পথে অনেক বার এন্ট্রি করতে হবে।
জিন্স পরে ট্রেকিং না করার বেটার, দুইটা ট্রাউজার লেয়ারে পরে নিন।
ট্রেকিং আর পাহাড়ের আলাদা এক নেশা আছে তাই ট্রেক এর মাঝে নেশা করে শরীর অসুস্থ না করাই ভালো।
পুরো ট্রেকিং রুটের অনেকাংশে বিদ্যুৎ সরবারহ পাবেন না। তাই পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখবেন।

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=196966098525940&id=109475127275038
24/05/2025

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=196966098525940&id=109475127275038

#ভ্রমণ - মারায়ন তং
আলীকদম, বান্দরবন।

বান্দরবান জেলার আলীকদম থানার মিরিঞ্জা রেঞ্জে অবস্থিত একটি পাহাড়ের নাম মারায়ন তং (Marayan Dong)। এই পাহাড় আরও কয়েকটি নামে পরিচিত যেমন; মারায়ান তং, মারায়ং তং, মেরাই থং জাদি, মারাইং ডং ইত্যাদি। প্রায় ১৬৪০ ফুট উচ্চতার এই পাহাড়ের চূড়ায় আছে একটি বৌদ্ধ উপাসনালয়। খোলা প্রকৃতির মাঝে বৌদ্ধের বিশাল মূর্তি এই জায়গাটিকে আরও গাম্ভির্যময় করে তোলেছে। দিগন্তজোড়া পাহাড় আর নিচে সাপের মতো বয়ে চলা মাতামুহুরী নদী, ফসলের ক্ষেত সবকিছু মিলিয়ে এ যেন এক কল্পনার রাজ্য।

ত্রিপুরা, মারমা, মুরং সহ বেশিকিছু আদিবাসীর বসবাস এই মারায়ন তং পাহাড়ে। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে থাকা আদিবাসী পাড়াগুলো বিশেষ বৈচিত্রতা যুক্ত করেছে আলীকদমের এই পাহাড়ি সৌন্দর্যে। পাহাড়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনযাত্রা এবং নিখাদ প্রকৃতি দুচোখ ভরিয়ে দেয় এখানে আগত পর্যটকদের।

কিভাবে যাবেন
রাজধানী ঢাকা হতে সরাসরি আলীকদমগামী বাস সার্ভিস রয়েছে। আলীকদম বাসস্ট্যান্ড পৌঁছার আগেই আবাসিক নামক জায়গায় আপনাকে নেমে যেতে হবে। সেখান থেকে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই মারায়ং তং যাবার রাস্তা দেখিয়ে দিবে। সেখান থেকে হেটে মারায়ং তং পাহাড় চূড়ায় পৌঁছতে ২ ঘন্টার মত সময় লাগবে। তবে কারও কারও সময় আরও বেশি লাগতে পারে।

সরাসরি আলিকদমের বাস ছাড়াও কক্সবাজার গামী কোন বাসে করে কক্সবাজারের চকোরিয়ায় নেমে সেখান থেকে লোকাল বাস বা জীপে করে আলীকদম যাওয়া যায়, লোকাল ভাড়া ৭০-৮০ টাকা। চাইলে জীপ রিসার্ভ নিয়ে আলীকদম যেতে পারবেন। জীপ রিসার্ভ করতে ভাড়া লাগবে প্রায় ১০০০-১২০০ টাকা। এক জীপে ১০-১২ জন যাওয়া যায়।


কোথায় থাকবেন
মূলত মারায়ং তং যারা ভ্রমণ করতে যায় তারা ক্যাম্পিং করে সেখানে থাকার জন্যে ভ্রমণে যায়। তবে যদি আপনার আলীকদমে থাকার প্রয়োজন হয়ে তাহলে উপজেলা রোডের “দ্যা দামতুয়া ইন” হোটেলে অথবা জেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে থাকতে পারবেন। এছাড়া পান বাজারে সাধারণ মানের একটি বোর্ডিং আছে।

প্রয়োজনীয় পরামর্শ
মারায়াং তং পাহাড়ে যাওয়ার সময় পানি, স্যালাইন, গ্লুকোজ, শুকনো খাবার, ফ্রাস্ট এইড বক্স ও দরকারী ওষুধপত্র সাথে রাখুন।

সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো।

02/11/2023

#বাংলাদেশের ট্রেনের সিট প্রকারভেদ-

বাংলাদেশ রেলওয়ে বাংলাদেশের সকল ট্রেন পরিচালনা করে থাকে। যাত্রীদের পছন্দ ও বাজেট বিবেচনায় বাংলাদেশের ট্রেনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সিট আছে। আবার সব ট্রেনে সব ধরনের সিট নাই। যখন কোন যাত্রী ট্রেনের টিকিট কাটতে যায় বিশেষত অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে সিট সিলেক্ট করতে যেয়ে Shovon, Snigdha, AC_S এমন নাম দেখে পূর্বে ট্রেন জার্নির অভিজ্ঞতা না থাকলে বোঝার উপায় থাকে না যে, কোন শ্রেণীর সিটে কি ধরনের সুবিধা। তাই আজকের পোস্টে বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান বিভিন্ন শ্রেনী অনলাইন অপশনের বিস্তারিত তুলে ধরছি।

বাংলাদেশ ট্রেনগুলোতে সিটগুলো যে সকল নামে থাকে
AC_B = AC Birth / তাপানুকুল স্লিপার। রাত্রীকালীন সময় চলাচলকারী ট্রেনের এসি ক্যাবিন অপশন এটি। এই ডাবল ক্যাবিনে রাতে ৪ জন যাত্রী শুয়ে যেতে পারে এবং সিঙ্গেল ক্যাবিনে ২ জন যাত্রী শুয়ে যেতে পারে।

AC_S = AC Seat / তাপানুকুল স্লিপার। দিনের বেলায় চলাচলকারী ট্রেনে এসি ক্যাবিন অপশন এটি। এই ডাবল ক্যাবিনে দিনে ৬ জন যাত্রী বসে যেতে পারে এবং সিঙ্গেল ক্যাবিনে ৩ জন যাত্রী বসে যেতে পারে।

Snigdha / তাপানুকুল চেয়ারকার। দিবা / রাত্রী যেকোনো ট্রেনের এসি চেয়ার অপশন এটি।

F Birth = First Birth/প্রথম। রাত্রীকালীন সময় চলাচলকারী ট্রেনের নন এসি ক্যাবিন অপশন এটি। এই ডাবল ক্যাবিনে রাতে ৪ জন যাত্রী শুয়ে যেতে পারে এবং সিঙ্গেল ক্যাবিনে ২ জন যাত্রী শুয়ে যেতে পারে।

F Seat = First Seat / প্রথম। দিনের বেলায় চলাচলকারী ট্রেনে নন এসি ক্যাবিন অপশন এটি। এই ডাবল ক্যাবিনে দিনে ৬ জন যাত্রী বসে যেতে পারে এবং সিঙ্গেল ক্যাবিনে ৩ জন যাত্রী বসে যেতে পারে।

F Chair = First Chair / প্রথম চেয়ার। ভ্যাকুয়াম এবং ইরানী রেকে চলাচলকারী ট্রেনের শোভন চেয়ারে কাগজে – কলমে উন্নত সংস্করণ।

S Chair = Shovon Chair / শোভন চেয়ার। ভ্যাকুয়াম, ইরানী, চাইনিজ, পিটি ইনকা, এল.এইচ.বি এর নন এসি চেয়ার আসন অপশন এটি।

Shovon = শোভন। ভ্যাকুয়াম রেকের আন্তঃনগর ট্রেনের সর্বনিম্ন মানের আসন, খাস বাংলা খাড়া সিট।

Shulov = সুলভ। মেইল বা কমিউটার ট্রেনের ২য় শ্রেনীর আসন এটি, খাস বাংলায় খাড়া সিট।

27/10/2023
21/04/2023

সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা🏵️🏵️

বেশি বেশি ভ্রমণ করুন মন ভালো রাখুন😎😎😎

 #ভ্রমন_নিঝুম_দ্বীপনিঝুম দ্বীপ (Nijhum Dwip) নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় অবস্থিত বঙ্গপসাগরের ছোট্ট একটি দ্বীপ। প্রায় ১৪,০৫০...
11/10/2021

#ভ্রমন_নিঝুম_দ্বীপ

নিঝুম দ্বীপ (Nijhum Dwip) নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় অবস্থিত বঙ্গপসাগরের ছোট্ট একটি দ্বীপ। প্রায় ১৪,০৫০ একর আয়তনের এই দ্বীপটি কামলার চর, বল্লার চর, চর ওসমান ও চর মুরি নামের চারটি দ্বীপ ও কয়েকটি চরের সমন্বয়ে গঠিত। শীতকালে নিঝুম দ্বীপে সরালি, জিরিয়া, লেনজা, পিয়ং, রাঙ্গামুড়ি, চখাচখি, ভূতিহাঁস, রাজহাঁস, কাদাখোঁচা, বাটান, জিরিয়া, গুলিন্দা, গাংচিল, কাস্তেচরা, পেলিক্যান ইত্যাদি হাজারো অতিথি পাখির আগমন ঘটে। স্থানীয় পাখির মধ্যে চোখে পড়ে সামুদ্রিক ঈগল, বক শঙ্খচিল। এছাড়া দ্বীপে রয়েছে হরিণ, বন্য শূকর, শেয়াল, বানর এবং নানা রকম সাপ।

নিঝুম দ্বীপে হরিণের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। পাখি বা হরিণ দেখতে ভোরে উঠে স্থানীয় গাইডের সাহায্য নিতে পারেন। নিঝুম দ্বীপের মতো দেশের অন্য কোথাও একসাথে এত চিত্রা হরিণ দেখা যায় না। আর পাখি দেখতে চাইলে পার্শ্ববর্তী দ্বীপ কবিরাজের চর ও দমার চর উত্তম জায়গা। নিঝুম দ্বীপে দেখা মিলে প্রায় ৩৫ প্রজাতির বিভিন্ন পাখির।


নিঝুম দ্বীপ এর দর্শনীয় স্থানসমূহ
বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে কবিরাজের চরের কাছে চৌধুরীর খাল দিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটলেই হরিণের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ট্রলার রিজার্ভ নিলে মাঝিই আপনাদের হরিণ দেখিয়ে আনবে। ১০-১৫ জনের জন্য ট্রলার ভাড়া করতে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা লাগবে। সন্ধ্যায় কবিরাজের চরে সূর্যাস্থের সাথে হাজার মহিষের পাল আপনার দৃষ্টি কাড়বে।

আর কমলার দ্বীপে কমলার খালে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে তাজা ইলিশ কিনতে পারেন। নিঝুম দ্বীপে স্থানীয় ছোট ছোট ছেলেরা গাইডের কাজ করে সকাল বেলায় এদের সাথে নিয়ে ম্যানগ্রোভ বনের হরিণ দেখতে পাবেন সহজেই। নামার বাজার থেকে নামা বাজার সি বীচ হেঁটে যেতে ১০ মিনিট সময় লাগে। নামা বাজার সি বীচ থেকে সূর্য উদয় ও সূর্যাস্ত দেখা ছাড়াও বারবিকিউ করতে পারবেন।

দমার চরের দক্ষিণ দিকে নতুন সী বিচটি ভার্জিন আইল্যান্ড হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। এই আইল্যান্ডে নাম না জানা অনেক পাখির দেখা মিলে। এই দ্বীপে যেতে ভাড়া ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা ট্রলার ভাড়া লাগবে। চোয়াখালিতে নিঝুম রিসোর্ট এর বারান্দা থেকেও মাঝে মাঝে হরিণের দেখা পাওয়া যায়। এছাড়া যদি হাতে সময় থাকে তবে ট্রলার রিজার্ভ নিয়ে ভোলার ঢালচর, চর কুকরি – মুকরিতে একটি দিন কাটিয়ে আসতে পারেন।


কখন নিঝুম দ্বীপ যাবেন
শীতকাল অর্থাৎ অক্টোবর থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত সময়। বছরের অন্য সময় মেঘনা নদী ও সাগর বেশ উত্তাল থাকে তাই ওই সময় নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণে সতর্ক থাকা উচিত।

নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার উপায়
বাসে চড়ে ঢাকা থেকে নোয়াখালী হয়ে নিঝুম দ্বীপ
বাসে চড়ে নিঝুম দ্বীপ যেতে চাইলে নোয়াখালীর সোনাপুর নামতে হবে। ঢাকা সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে একুশে এক্সপ্রেস, মুনলাইন এন্টারপ্রাইজ, হিমাচল এক্সপ্রেসের বাসে নোয়াখালীর সোনাপুর যেতে পারবেন। ধানমন্ডি জিগাতলা কাউন্টার থেকে একুশে পরিবহনের বাস নোয়াখালীর সোনাপুর জন্য রাত ১০ টা ২০ মিনিটে ছাড়ে। এসব বাসের নন-এসি এবং এসি কোচের ভাড়া ৩৫০ থেকে ৪০০টাকা পর্যন্ত।

নোয়াখালীর সোনাপুর থেকে সিএনজি বা অন্য যানবাহনে করে চেয়ারম্যান ঘাট যেতে হবে, সিএনজি রিজার্ভ করে চেয়ারম্যান ঘাটে আসতে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া লাগবে। একটা সিএনজিতে সর্বোচ্চ ৫ জন বসতে পারবেন। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে হাতিয়া যাওয়ার বিভিন্ন সি-ট্রাক, ট্রলার ও স্পীড বোট পাবেন। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে হাতিয়া যাওয়ার সি-ট্রাক, ট্রলার এবং স্পীড বোট ভাড়া জনপ্রতি ৯০, ১২০-১৫০ এবং ৪০০ টাকা। হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে নেমে মোটর সাইকেল রিজার্ভ করে মোক্তারিয়া ঘাট পৌঁছাতে হবে, মোটর সাইকেল ভাড়া দুই জন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা লাগবে। মোক্তারিয়া ঘাট থেকে ট্রলারে চড়ে ২২ টাকা ভাড়ায় নিঝুম দ্বীপের বন্দরটিলা ঘাটে এসে মোটর সাইকেলে করে নামার বাজার আসতে দুই জনের ভাড়া লাগবে ১০০ টাকা।

উল্লেখ্য: নোয়াখালী চেয়ারম্যান ঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৮ টায় সি-ট্রাক ছাড়ে, আর নলচিরা থেকে নোয়াখালী চেয়ারম্যান ঘাট আসার ফিরতি সী ট্রাক সকাল ১০ টায় ছাড়া।

ট্রেনে করে ঢাকা থেকে নোয়াখালী হয়ে নিঝুম দ্বীপ
ঢাকা থেকে ট্রেনে করে নিঝুম দ্বীপ যেতে চাইলে নোয়াখালীর মাইজদি ট্রেন থেকে নামতে হবে। ঢাকার কমলাপুর থেকে বৃহস্পতিবার ছাড়া সপ্তাহের অন্য ৬ দিন বিকাল ৪ টা ২০ মিনিটে উপকুল এক্সপ্রেস নামক আন্তঃনগর ট্রেন নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে, মাইজদি পৌঁছাতে প্রায় ৬ ঘন্টা সময় লাগে। ট্রেনের টিকেটের শ্রেনী ভেদে ভাড়া ২৩০ থেকে ৫০৩ টাকা পর্যন্ত।

মাইজদি থেকে চেয়ারম্যান ঘাট আসার সিএনজি রিজার্ভ ভাড়া লাগবে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। আর লোকালে আসতে জনপ্রতি ভাড়া লাগবে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে উপরোক্ত উপায়ে নিঝুম দ্বীপ যেতে পারবেন।

লঞ্চে ঢাকার সদরঘাট থেকে হাতিয়া হয়ে নিঝুম দ্বীপ
ঢাকার সদরঘাট থেকে হাতিয়ায় উদ্দেশ্যে প্রতিদিন বিকাল ৫ টা ৩০ মিনিটে একটি মাত্র লঞ্চ ছেড়ে যায়। লঞ্চটি হাতিয়ার তমুরদ্দী ঘাটে পৌঁছায় পরদিন সকাল ৮ টা থেকে ৯ টার মধ্যে। তমুরদ্দী ঘাট থেকে ঢাকায় ফেরার লঞ্চ দুপুর ১২ টা ৩০ মিনিটে ছাড়ে। লঞ্চ ভাড়া ডেক – ৩৫০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন – ১২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন – ২২০০ টাকা।

হাতিয়ার তমুরদ্দী ঘাটে নেমে মোটর সাইকেল যোগে মোক্তারিয়া ঘাটে আসতে হবে। মোক্তারিয়া ঘাটে আসতে দুইজনের ভাড়া লাগবে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। মোক্তারিয়া ঘাট থেকে নিঝুমদ্বীপের বন্দরটিলা ঘাটে যেতে ট্রলার ভাড়া লাগবে জনপ্রতি ২২ টাকা। আর বন্দরটিলা ঘাট থেকে মোটর সাইকেলে করে নামার বাজার যেতে দুইজনকে ১০০ টাকা খরচ করতে হবে।

আবার তমুরদ্দী ঘাট থেকেও সরাসরি নিঝুমদ্বীপ নামার বাজার যেতে পারবেন। প্রতিদিন সকাল ১০ টার সময় তমুরদ্দী ঘাট থেকে কিছু ফিশিং ট্রলার সরাসরি নিঝুম দ্বীপের নামার বাজার যায়, এগুলিতে জনপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় যেতে পারবেন। এছাড়া ট্রলার রিজার্ভ নিয়ে নিঝুম দ্বীপের নামার বাজার যেতে ট্রলারের সাইজ অনুযায়ী ৩৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা লাগতে পারে।

বিশেষ নির্দেশনা:
১। যদি কোন কারনে হাতিয়ার তমুরুদ্দি যাবার এম.ভি. ফারহান ৩/৪ লঞ্চ করেন তবে ঐ দিনই বিকাল ৬ টা ৩০ মিনিটে যাত্রা আরম্ভকারী এম.ভি. টিপু-৫ অথবা এম.ভি. পানামা লঞ্চে তজুমুদ্দিন কিংবা মনপুরা ঘাটে নেমে পুনরায় এম.ভি. ফারহান ৩/৪ লঞ্চ ধরতে পারবেন। আবার চাইলে মনপুরা ঘাট থেকে ট্রলারে করে সহজে হাতিয়ার তমুরুদ্দি ঘাটে যেতে পারবেন।

২। আর যদি এম.ভি. টিপু-৫ এবং এম.ভি. পানামা লঞ্চও মিস করে বসেন তবে দ্রুত এম.ভি. ফারহান-৬ অথবা এম.ভি. ফারহান-৭ লঞ্চে চড়ুন। এই লঞ্চ গুলোর যাত্রার সময় ৬ টা ৩০ মিনিট হলেও এরা ছাড়তে একটু দেরী করে। এই লঞ্চে তজুমুদ্দিন ঘাটে গিয়ে এম.ভি. ফারহান-৩/৪ লঞ্চ ধরতে পারবেন। তজুমুদ্দিন ঘাট থেকেও ট্রলারে চেপে হাতিয়ার তমুরুদ্দি ঘাটে যাওয়া যায়।

এই ৬ টি লঞ্চই একই মালিকের। প্রয়োজনে নিচের নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে পারেন।
এম.ভি. ফারহান ৩ – 01785-630365, 01785-630366, 01785-630367
এম.ভি. ফারহান ৪ – 01785-630368, 01785-630369, 01785-630370

লঞ্চে চট্রগাম সদরঘাট থেকে হাতিয়া হয়ে নিঝুম দ্বীপ
চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকে শুক্রবার ও রবিবার বাদে সপ্তাহে তিন দিন সকাল ৯ টায় এম.ভি.বার আউলিয়া, এমভি আব্দুল মতিন এবং এম.বি মনিরুল হক স্টীমার হাতিয়া নলচিরা ঘাট পর্যন্ত চলাচল করে। চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকে হাতিয়ায় আসতে ভাড়া লাগবে: চেয়ার ক্লাস – ৩৫০ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেনী – ১১১০ টাকা এবং প্রথম শ্রেনী – ২২১৫ টাকা।

হাতিয়ার নলচিরা থেকে মোটর সাইকেল রিজার্ভ নিয়ে মোক্তারিয়া ঘাট এসে উপরের বর্নিত উপায়ে নিঝুম দ্বীপে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন
নিঝুম দ্বীপে থাকার জন্য নামার বাজার সী বীচের কাছে অবস্থিত অবকাশ পর্যটনের নিঝুম রির্সোট বেশ ভালো জায়গা। নিঝুম রিসোর্টে ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির রুম পাওয়া যায়। সাধারণত অফ সিজনে (এপ্রিল ১৫ – সেপ্টেম্বর ৩০ পর্যন্ত) এখানে ৫০% ডিসকাউন্টে রুম পাওয়া যায়।

যোগাযোগ করতে পারেন –
নিঝুম দ্বীপ অফিস: সবুজ ভাই: 01724-145864, 01845-558899, 01738-230655
ঢাকা অফিস: অবকাশ পর্যটন লিমিটেড, আলহাজ সামসুদ্দিন ম্যানসন (নবম তলা), ১৭ নিউ ইস্কাটন রোড । ফোনঃ 9342351, 9359230, 8358485, 01552-372269

নামার বাজারের হোটেল শাহিনের ভাড়া একটু বেশি। তবুও প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন 01863-150881 ফোন নম্বরে। আর সবচেয়ে সস্তায় থাকতে নামার বাজারের মসজিদ বোর্ডিং এ যেতে পারেন। স্থানীয় মসজিদ থেকে এই ব্যবস্থা করা হলেও এখানে রুমের সাথে কোনো এটাচ বাথরুম ও জেনারটরের ব্যবস্থা পাবেন না। এখানে রয়েছে ২ টি কমন বাথরুম এবং ১ টি টিউবওয়েল। এখানে ২০০ থেকে ৪০০ টাকায় সিঙ্গেল এবং ডাবল বেডের রুম পাবেন। যোগাযোগ করতে পারেন 01866-373937 এবং 01727-958879 নাম্বারে। সৈয়দ চাচার থাকা ও খাবার হোটেল খ্যাত হোটেল দ্বীপ সম্পদে থাকতে ফোন করতে পারেন 01720-601026 ও 01760-008106 নাম্বারে।

এছাড়াও বন্দরটিলায় অবস্থিত নিঝুম ড্রিমল্যান্ড রিসোর্ট ও হোটেল শেরাটনে চাইলে রাত্রি যাপন করতে পারবেন। নিঝুম ড্রিমল্যান্ড রিসোর্টের ঢাকা বুকিং অফিসের ফোন নাম্বার 01847-123573 এবং নিঝুম দ্বীপ বুকিং অফিসের নাম্বার 01847-123572।

#ক্যাম্পিং

নিঝুম দ্বীপ এ ক্যাম্পিং (Camping) এর সুবিধা প্রচুর। পুরো দ্বীপে আপনার পছন্দের জায়গায় তাঁবু টানাতে পারবেন। জন্তু জানোয়ারের তেমন কোনো ভয় নাই, শুধু বুনো মহিষ থেকে সাবধান। ক্যাম্পিং এর জন্যে সবচেয়ে ভালো যায়গা হলো নামার বাজারে নিঝুম রিসোর্ট এর পাশের খাল পার হয়ে সাগর পাড়ের বিশাল (৫/৬ মাইল) খোলা মাঠটি। ক্যাম্পিং এর মোটামুটি সব কিছুই এখানে পাওয়া যাবে। তেমন কিছুই নেয়া লাগবে না। এরপরও যদি কিছু লাগে তাহলে জাহাজমারা বাজারে পাওয়া যাবে।

এছাড়াও নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যান এলাকায় ক্যাম্পিং এর জন্যে তাবু ভাড়া পাওয়া যায়। এছাড়া ঘোরার জন্যে ফাইবার বোটও ভাড়া পাওয়া যায় যার ধারন ক্ষমতা ৪০ জন।

যোগাযোগঃ

মাসুদ – ০১৮৩৭-৪১১২১৪, ০১৭২৪-৭০০৩১০
রাসেল – ০১৮৬৮-৬১২১৭৮"

কোথায় খাবেন
নিঝুম দ্বীপে তেমন ভালো খাবার না পেলেও সামুদ্রিক মাছ, মোটা চালের ভাত, মাংস, রুটি ইত্যাদি পাবেন। আলতাফ চাচার হোটেলের (হোটেল আসিফ) খাবারের মান অন্য সব হোটেল থেকে বেশ ভাল। আর আগে থেকে খাবারের অর্ডার করে গেলে তুলনামূলক ভাল খাবার পাবেন। এছাড়া নামার বাজারে বেশ কিছু খাবার হোটেল রয়েছে, যেখানে সামুদ্রিক মাছ এবং চিংড়ী ভাজা খেতে বেশ ভালো। বার বি কিউ এর জন্য নিঝুম রিসোর্ট এর ম্যানেজার সবুজ ভাইকে বললে সব ব্যবস্থা করে দিবে। নিঝুম দ্বীপে ২০ থেকে ২৫ টাকায় ডাব পাওয়া যায়।

ভ্রমণ পরামর্শ:
চেয়ারম্যান ঘাট বা নলচিরা থেকে গমনকারী সি-ট্রাকগুলো জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে যাত্রা করে এবং এখান থেকে প্রতি ২ ঘন্টা পরপর ট্রলার ছাড়ে, আর বিকাল ৫ টার পর ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ক্যাম্পিং করতে প্রয়োজনীয় সবই নামার বাজারে পাবেন।
বর্তমানে প্রায় সকল অপারেটরের নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলেও নিঝুম দ্বীপে শুধুমাত্র রবি ও এয়ারটেলের ৩ জি সুবিধা পাওয়া যায়।
নিঝুম দ্বীপে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই। নিঝুম দ্বীপ সোলার এবং জেনারেটরের উপর নির্ভরশীল। তাই মোবাইলের এক্সট্রা ব্যাটারী কিংবা পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখুন। তবে প্রয়োজনে টর্চ, মোবাইল কিংবা ক্যামেরার ব্যাটারি চার্জের জন্য এখানে দুটো দোকান আছে।
নিঝুম দ্বীপের মানুষের ব্যবহার ভাল এবং এরা খুব সহজ সরল, এদের সাথে আপনিও ভাল ব্যবহার করুন।
নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যান এলাকায় ভ্রমণে বোট ভাড়া করতে ফোন দিতে পারেন আলতাব হোসেন (মাঝি) কে। ফোন নাম্বার: 01777-115463।

আজকের গল্প #ঢাকা_থেকে_মেঘালয়_ভ্রমণ ঃ ভারতের ২৯টি রাজ্যের মধ্যে মেঘালয় একটি । ভ্রমণ পিপাসু ভাইবোন অনেকেই শিলং ভ্রমণের ব্...
09/10/2021

আজকের গল্প

#ঢাকা_থেকে_মেঘালয়_ভ্রমণ ঃ
ভারতের ২৯টি রাজ্যের মধ্যে মেঘালয় একটি । ভ্রমণ পিপাসু ভাইবোন অনেকেই শিলং ভ্রমণের ব্যপারে জানার জন্য অতি উৎসাহী । মেঘালয় রাজ্যের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় দুটি শহরের একটি শিলং ও অপরটি চেরাপুঞ্জি।

প্রথমেই ভারতের ডাউকি (Dawki) বর্ডার দিয়ে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করতে হবে । মোটামুটি ৭-১৪ দিনের মত সময় লাগবে । এরপর ৪/৫ দিনের জন্য একটি ছুটির ব্যবস্থা করেই রওনা দেন মেঘালয়ের উদ্দ্যেশে । ভ্রমণের আগে সবচেয়ে জরুরী ও অবশ্য করণীয় হলো গুগল ম্যাপ দেখে নিজে নিজেই একটা প্লান সেট করে ফেলা । এতে করে ভ্রমণকালীন সময় অনেক উল্লেখযোগ্য ভাবেই বেঁচে যাবে এবং বেশি জায়গা অনেক সময় নিয়ে ঘুরা যাবে ।

ভ্রমণ শুরু করার আগে অতি জরুরী জিনিসপত্র যেমন পাসপোর্ট, ব্রাশ, টুথপেস্ট, তোয়ালে, টিস্যু, পাওয়ার ব্যাংক এসব সাথে আছে কিনা দেখে নিবেন। যারা সিলেট থেকে রওনা দিবেন তারা সকাল ৬/৬:৩০ এর মধ্যে সিলেট থেকে তামাবিল এর উদ্দেশ্যে রওনা দিবেন । আর যারা সিলেটের বাইরে থেকে আসবেন তারা এমন ভাবে রওনা দিবেন যেন সিলেটে সকাল ৬ টার মধ্যে পৌঁছুতে পারেন। সিলেট থেকে তামাবিল যেতে ১:৩০/২ ঘন্টার মত সময় লাগবে । ইমিগ্রেশন অফিস খোলার সময় সকাল ৯টা। যদিও আমরা যেদিন গিয়েছিলাম ওইদিন তারা ৮:৩০ বাজতেই সব অফিস খুলে ফেলে । তাড়াতাড়ি গেলে সুবিধা হবে আপনারা বর্ডার পার হয়েই বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা শুরু করে দিতে পারবেন । একটু বেলা গড়িয়ে ১১টা বেজে গেলেই বিপদে পড়ে যেতে পারেন। ভিড় বেশি হলে বর্ডার পার হতে ৪/৫ ঘণ্টাও লেগে যেতে পারে ।

ওখানেই ভ্রমণের জন্য তিন ধরনের গাড়ি পাওয়া যায় । ট্যাক্সি (৩/৪ জন), সুমো (৭/৮ জন), ট্রাভেলার (১৫/১৬ জন) এই তিন ধরণের গাড়ি আপনাদের চাহিদা অনুযায়ী ভাড়া করে নিতে হবে । প্রচলিত আছে, মেঘালয়ের ড্রাইভাররা আসামের ড্রাইভারদের তুলনায় ভাল হয় । তাই চেষ্টা করবেন ML লেখা নাম্বার প্লেট দেখে গাড়ি ভাড়া করতে । আসামের গাড়িতে AS লেখা থাকে । সবাই অবশ্য ভাড়া একটু বেশি চাইবে । আপনারা দামাদামি করে ভাড়া যত পারেন কমানোর চেষ্টা করবেন । অতঃপর ভারতীয় সময় ঠিক ৯:৩০ মিনিটে আমরা যাত্রা শুরু করি ।

িনঃ
ডাউকি থেকে Snongpdeng, Borhill Water Falls, Borhill Falls, Mawlynnong Clean Village, Nohwet Living Root Bridge, Bangladesh View Point, Mawkhong View Point হয়ে চেরাপুঞ্জি ।

#২য়_দিনঃ
Seven Sister Falls, Mawsmai Cave, Mawsmai Nongthymmai Eco Park, Wei Sawdong, Dainthlen Falls হয়ে শিলং।

#৩য়_দিনঃ
Umiam Lake, Don Vosco Museum, Cathedral, Exploring Bara Bazar, Police Bazar etc.

#৪র্থ_দিনঃ
Laban Glass Masjid (মদিনা মসজিদ), Laitlum Grand Canyon হয়ে ডাওকি হয়ে বাংলাদেশ ।

#ভ্রমণ_খরচঃ আমরা যাত্রি ছিলাম ৩ জন । সিলেট থেকে রওনা দিয়ে আবার সিলেট আশা পর্যন্ত জনপ্রতি মোট খরচ প্রায় ১০ হাজার টাকা । গাড়ির ভাড়া আর হোটেল ভাড়া একটু বেশি নিয়েছে বলে মনে হয়েছে । অবশ্য তিন দিনের ছুটিতে যাওয়াটাও খরচ বেশি হওয়ার আরেকটি কারণ । তাছাড়া আমরা যেখানে যাওয়ার আমাদের ইচ্ছামতো গিয়েছি, যা ইচ্ছা তা খেয়েছি, ইকোনোমিক ট্রিপের মধ্যেও আমরা একটু আলিশান ভাবেই ঘুরেছি।

@ ইমাদ আশরাফ ভাই এর পোস্ট থেকে নেওয়া।

Address

Fulbaria

Telephone

+8801818607024

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ভ্রমন গাইড- Travel Guide posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share