01/12/2018
ফ্রিল্যান্সিং কি, কেন? কিভাবে শিখবেন
https://bit.ly/2Rs5XFw
ফ্রিল্যান্সিং কি, কেন? কিভাবে শিখবেন, কি শিখবেন? ফ্রিল্যান্সিং এর নাড়ি-নক্ষত্র জেনে নিন
-------------------------------------------------
ফ্রিল্যান্সিং কি? (শুধুমাত্র নতুনদের জন্য)-তবুও একটু দেখে নেই…
ফ্রিল্যান্সিং --'''মুক্তপেশা''' (Freelancing), কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকে মু্ক্তভাবে কাজ করাকে বোঝায়। যারা এধরণের কাজ করেন তাদের বলা হয় "মুক্তপেশাজীবী" (Freelancer)। এধরণের কাজে কোনো নির্দিষ্ট মাসিক বেতন ভাতা নেই তবে স্বাধীনতা আছে, ইচ্ছা মতো ইনকামের সুযোগ ও আছে। এজন্য স্বাধীনমনা লোকদের আয়ের জন্য এটা একটা সুবিধাজনক পন্থা। আধুনিক যুগে বেশিরভাগ মুক্তপেশার কাজগুলো [ইন্টারনেট|ইন্টারনেটের] মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। ফলে মুক্ত পেশাজীবীরা ঘরে বসেই তাদের কাজ করে উপার্জন করতে পারেন। এ পেশার মাধ্যমে অনেকে প্রচলিত চাকরি থেকে বেশি আয় করে থাকেন, তবে তা আপেক্ষিক। ইন্টারনেটভিত্তিক কাজ হওয়াতে এ পেশার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি হাজারো ক্লায়েন্টের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ ঘটে।
আউটসোর্সিং :- কোন প্রতিষ্ঠান তার কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগ না দিয়ে বাহিরের কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজটি করিয়ে নেয়া। এটা হতে পারে কম্পিউটার রিলাটেড কাজ অথবা কোন প্রোডাক্ট উৎপাদন। কম্পিউটার রিলাটেড হলে এমন হতে পারে কোন পণ্যের ডিজাইন, কোন সফটওয়্যার, এনিমেশন, ডাটা প্রসেসিং, গ্রাফিক্স, মাল্টিমিডিয়া ইত্যাদি। প্রোডাক্ট হলে হতে পারে সম্পূর্ণ উৎপাদন অন্য প্রতিষ্ঠান দিয়ে করিয়ে নেয়া। কোন প্রতিষ্ঠানের আউটসোর্সিং সিদ্ধান্ত নেয়ার কারন উৎপাদনের খরচ কমানো। পণ্যের গুণগত মান ঠিক রেখে উৎপাদনে খরচ কমানোই আউটসোর্সিংয়ের মূল লক্ষ্য। মুলত তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর কাজগুলো আউটসোর্সিং এ করা হয়।
ফ্রীলান্সিংয়ের জন্য আমাদের কিছু ওয়েবসাইটের শরণাপন্ন হতে হয়। এই সকল ওয়েব সাইট আউটসোর্সিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। এই সকল সাইটকে বলা হয় ফ্রীলান্স মার্কেট প্লেস। এই সব ওয়েবসাইটে যারা কাজ দিয়ে থাকে তাঁদেরকে বলা হয় বায়ার এবং যারা কাজগুলো সম্পন্ন করে তাঁদেরকে বলা হয় ফ্রীলান্সার, প্রোভাইডার, সেলার, অথবা কোন কোন ক্ষেত্রে কোডার। একটি কাজ সম্পন্ন করার জন্য একাধিক ফ্রীলান্সাররা আবেদন করে, এই সকল আবেদনকে বলা হয় বিড করা। ফ্রীলান্সারে আবেদন করার সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ম রেট দেয়া থাকে। তাই আবেদন করার সময় ফ্রীলান্সাররা কত টাকায় কাজটি সম্পন্ন করতে পারবে তা উল্লেখ করতে হয়। বিড করার পর ক্লায়েন্ট সকল কিছু বিবেচনা করে যাকে ইচ্ছা তাকে নির্বাচন করতে পারে। কাজের অভিজ্ঞতা, টাকার পরিমাণ এবং মন্তব্যের উপর নির্ভর করে বায়ার ফ্রীলান্সারকে নির্বাচন করে। নির্বাচন করার পর বায়ার প্রজেক্ট এবং নির্ধারিত টাকা ঐ সাইটের একাউন্ট এস্কোতে জমা রাখে। কাজ শেষ হবার পর ফ্রীলান্সার সম্পূর্ণ প্রজেক্টি সাইটটে জমা দিতে হয়। এরপর বায়ার ফ্রীলান্সারের কাজটি যাচাই করে দেখে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে বায়ার তখন সাইটে একটি ইয়েছ/ওকে বাটনে ক্লিক করে কাজটি গ্রহন করে। সাথে সাথে এস্কো থেকে ঐ অর্থ ফ্রীলান্সারের একাউন্টে জমা হয়ে যায়। ঐ সাইট থেকে কাজটি পাওয়া এবং কাজটি প্রসেসিং এ সকল সার্ভিসের জন্য ঐ সাইটকে আয়ের একটা অংশ কমিশন হিসাবে প্রদান করতে হয়।
==কাজের ধরণ==
মুক্তপেশার কাজের পরিধি অনেক বেশি। বিশ্বব্যাপী এধরণের কর্মপদ্ধতির চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে শীর্ষে থাকা কয়েকটি কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
*লেখালেখি ও অনুবাদ: নিবন্ধ, ওয়েবসাইট কন্টেন্ট, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ছোট গল্প, প্রাপ্তবয়স্কদের গল্প এবং এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় ভাষান্তরকরণ উল্লেখযোগ্য।
*সাংবাদিকতা: যারা এবিষয়ে দক্ষ তারা বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পত্রপত্রিকায় লেখালেখির, চিত্রগ্রহণের পাশাপাশি ইন্টারনেটভিত্তিক জনসংযোগ করে থাকেন।
*গ্রাফিক্স ডিজাইন: লোগো, ওয়েবসাইট ব্যানার, ছবি সম্পাদনা, অ্যানিমেশন ইত্যাদি।
*ওয়েব ডেভলপমেন্ট: ওয়েবসাইট তৈরি, ওয়েবভিত্তিক সফ্টওয়্যার তৈরি, হোস্টিং ইত্যাদি।
*কম্পিউটার প্রোগ্রামিং: ডেস্কটপ প্রোগ্রামিং থেকে ওয়েব প্রোগ্রামিং সবই এর আওতায় পড়ে।
*ইন্টারনেট বিপণন/ইন্টারনেট মার্কেটিং: ইন্টারনেটভিত্তিক বাজারজাতকরণ কার্যক্রম, যেমন ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে বিপণন।
*গ্রাহক সেবা: দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির গ্রাহককে টেলিফোন, ইমেইল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহাজ্যে তথ্য প্রদানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা।
*প্রশাসনিক সহায়তা: দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন কাজের ডাটা এন্ট্রি করণ, ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করা ইত্যাদি।
ফ্রিল্যান্সার হতে চান না অন্যকিছু, কয়েকটি ধাপে আপনি পরিকল্পনা করতে পারেন
--------------------------------
আপনি ফ্রিল্যান্সার হতে চান, নির্দিষ্ট করে কল্পনা করুন আপনি ওয়েব ডিজাইনার হতে চান, গ্রাফিক ডিজাইনার হতে চান অথবা এনিমেটর বা প্রোগ্রামার হতে চান। ব্লগ তৈরী করে তার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে চান। যা কিছু ইচ্ছে কল্পনা করতে পারেন, কল্পনাকে বাস্তবে রুপ দেয়ার জন্য আপনাকে কাজ করতে হবে। আর সেজন্য প্রয়োজন পরিকল্পনা। আপনার অবশ্যই প্রয়োজন ব্যক্তিগত সাফল্য লাভের পরিকল্পনা। খুব সহজে কয়েকটি ধাপে আপনি পরিকল্পনা করতে পারেন।
আপনি কি চান সেটা জানুন ?
আপনি কি আসলে ওয়েব ডিজাইনার হতে চান নাকি এনিমেটর হতে চান সেটা নিশ্চিত করুন। ওয়েব ডিজাইন লাভজনক দেখে মনে করলেন সেটা শেখা উচিত, পরদিন এনিমেশন দেখে শখ জাগল এনিমেটর হবেন, একে চাওয়া বলে না। আপনি একই সময়ে যেমন উত্তর এবং দক্ষিনে যেতে পারেন না তেমনি একই সময়ে ওয়েব ডিজাইনার এবং এনিমেটর হতে পারেন না। দুটিও অত্যন্ত বড় বিষয়। আপনার পরিকল্পনার প্রথম ধাপ, আপনার লক্ষের ডেফিনিশন ঠিক করুন।
প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি নিশ্চিত করুন ?
অস্ত্র ছাড়া আপনি যুদ্ধে যেতে পারেন না। তেমনি যন্ত্রপাতি ছাড়া আপনি কাজ করতে পারেন না। আপনার কাজের জন্য কি কি প্রয়োজন তার লিষ্ট তৈরী করুন, সেগুলি কিভাবে পাওয়া সম্ভব জানার চেষ্টা করুন। অনেক সময় অর্থের কারনে স্বপ্নপুরন হয়না এটা মেনে নিন। সংগতি যদি না হয় তাহলে সময় নষ্ট করবেন কেন, বিষয় পরিবর্তন করে ফেলুন। কম্পিউটার সংক্রান্ত বিষয় যদি হয় সেক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি ছাড়াও শিক্ষা-মেধা ইত্যাদির কথাও বিবেচনায় রাখুন। কোন কাজে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা প্রয়োজন, কোন কাজে অংক প্রয়োজন। এটা না থাকলে চেষ্টা করেও বেশিদুর যেতে পারবেন না। আপনার পক্ষে প্রয়োজনীয় যা কিছুর ব্যবস্থা করা সম্ভব তারওপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা করুন।
সময় ঠিক করুন?
প্রোগ্রামার হব একথা বলে আপনি যদি ৫-১০ বছর পার করেন তাহলে আপনি প্রোগ্রামার হচ্ছেন না। পরিকল্পনার সাথে সময়কে সম্পৃক্ত করুন। ১ মাসে কতটুকু করবেন, ১ বছরে কতটুকু করবেন নির্দিষ্ট করে ফেলুন। মাঝেমাঝে সেটা যাচাই করুন। যদি পিছিয়ে থাকেন তাহলে জানবেন আপনি লক্ষে পৌচচ্ছেন না। লক্ষে পৌছুতে হলে গতি বাগিয়ে টার্গেট পুরন করুন।
আপনি যদি ফ্রীলান্সার হতে চান তাহলে পোস্টটি পড়া চালিয়ে যান…
আমি কি ফ্রীলান্সার হতে পারব? চলুন উত্তর খুঁজা যাক
আপনি যদি ঠিক করেন আপনি একজন ফ্রীলান্সার হবেন তাহলে আপনার প্রায়ই একটি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় আর সেটা হল আমি কি ফ্রীলান্সার হতে পারব কি না । আমার মতে ফ্রীলান্সার হতে হলে যে ৩ টি জিনিসের প্রয়োজন হয় তা হল ১. আগ্রহ ২. আত্মবিশ্বাস ৩. ধৈয্য এই তিনটি জিনিস থাকলেই আপনি ফ্রীলান্সার হতে পারবেন ।
যারা প্রফেশনাল মানের ফ্রীলান্সার তারা কখনই এই ৩টি জিনিস কে নষ্ট হতে দেয় না । আপনি যদি ফ্রীলান্সার হতে চান বা ফ্রীলান্সিং জগতে পা রাখতে চান তাহলে প্রথমেই আপনার যে জিনিসটির প্রয়োজন হবে তা হল আগ্রহ । যদি আপনার প্রচণ্ড পরিমাণ আগ্রহ না থাকে তবে এই জগতে পা না রাখাই ভাল । আমি এমন অনেক লোক দেখেছি যারা কিছুটা আগ্রহ নিয়ে ফ্রীলান্সিং করতে আসে আর সেই আগ্রহ আবার কিছু দিন পরেই হারিয়ে যায় যে কারনে তারা সফল হতে পারে না । ফ্রীলান্সিং একটা ক্রিয়েটিভ জিনিস যেখানে অল্প পরিমাণ আগ্রহ দিয়ে হয় না ।
ফ্রীলান্সিং করতে হলে তো আপনাকে কাজ শিখতে হবে তাই না! আর কাজ শিখার জন্যও আপনার প্রচুর পরিমাণ আগ্রহ লাগবে এবং প্রচুর পরিমাণ চেষ্টা থাকা লাগবে । আপনি যদি প্রচুর পরিমাণ চেষ্টা না করেন তাহলে ভাল করে কাজও শিখতে পারবেন না আর সফলও হতে পারবেন না । একটি ছড়া আমরা সবাই পরেছি আর সেই ছড়ার দুটি লাইন আমি আপনাদের জন্য উল্লেখ করছি '' পারিবনা এ কথাটি বলিওনা আর , একবার না পারিলে দেখ শতবার " মানুষ পারে না এমন কিছু নেই । চেষ্টা করলে সবকিছুই করা সম্ভব । ফ্রীলান্সিং এ সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি সেটি হল আত্মবিশ্বাস। আপনাকে নিজের উপর প্রচুর পরিমাণ আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে ।
আপনাকে ভাবতে হবে যে সবাই যদি পারে তাহলে আমি পারব না কেন? তারা আজকে সফল আর আমিও একদিন তাদের মতই সফল হব । আর তারপর যে জিনিসটি লাগবে সেটি হল ধৈয্য। আপনাকে প্রচুর পরিমাণ ধৈয্য ধারন করতে হবে । আপনি হয়ত অনেক আগ্রহ নিয়ে কিছু দূর আগালেন কিন্তু এর পর থেমে গেলেন । এটা কখনই করা যাবে না । আপনাকে প্রতিটা কাজ ধৈয্য সহকারে করতে হবে । নিজেকে কাজের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে হবে । তাহলেই আপনি এগিয়ে যেতে সক্ষম । আবার অনেকেই আছেন যারা বলেন যে ভাইয়া আমিতো জেনারেল এর স্টুডেন্ট তো আমি কি ফ্রীলান্সিং করতে পারব ? হ্যাঁ আপনি পারবেন । এখন যারা ফ্রীলান্সিং করছেন তারা সবাই কি ইঞ্জিনিয়ার বা আইটি এর স্টুডেন্ট? না সবাই ইঞ্জিনিয়ার বা আইটি এর স্টুডেন্ট না । জেনারেলে পড়ে এমন অনেক স্টুডেন্ট আছে যারা ফ্রীলান্সিং করে ।
কি শিখবেন ? কেন শিখবেন ?
বর্তমানে আমকে অনেকেই ফেসবুকে প্রশ্ন করেন ভাইয়া আমি ফ্রীল্যান্সিং করতে চাই তো আমি কোন কাজটি শিখবো ? এই প্রশ্নের জবাবে আমি যা বলতে চাই তা হলঃ আপনাকে আগে চিন্তা করতে হবে আমি কি করতে চাই বা কি শিখতে চাই কেননা আপনার মন যেটা চায় না সেটা আপনি কখনোই ঠিক ভাবে করতে পারবেন না । আর যদি করেনও তাহলে সফল হতে পারবেন না ! প্রত্যেকটা মানুষ দুইটা জিনিস কে বেশী ভালবাসে আর তা হল এক তার পেশা দুই তার নেশা । আপনি হয়ত গান শুনতে পছন্দ করেন কিন্তু গাইতে নয় ! সেই রকম প্রত্যেকটা জিনিসই । গান শুনাটা হয়ত আপনার নেশা, পেশা নয় ! আপনাকে ডিসাইড করতে হবে কোনটা আপনার নেশা আর কোনটা আপনার পেশা । আপনার যদি গ্রাফিক্স ডিজাইন ভাল লাগে তার মানে এই না যে আপনি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হয়ে ফ্রীল্যান্সিং করতে পারবেন? একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে হলে যে গুন গুলো আপনার মাঝে থাকা দরকার সেগুলো আপনার মাঝে আছে কিনা সেটা নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে । আপনি কি ভাল আঁকা আকি করতে পারেন ?
আপনি কি ক্রিয়েটিভ জিনিস চিন্তা করতে পারেন ? কোন ডিজাইন নিয়ে চিন্তা করতে পারেন ? এই তিনটি প্রশ্ন নমুনা মাত্র । আপনি যদি এই সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন তাহলে আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে পারবেন । এখন কথা হল আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইনার এর ট্রেনিং করে ডিজাইনার হলেন এর কিছু দিন পর দেখা গেল আপনার কাছে আর গ্রাফিক্স ডিজাইন টা ভাল লাগছে না তখন আপনি চাইছে ন ওয়েব ডিজাইন শিখবেন আর সেই ইচ্ছা নিয়ে ওয়েব ডিজাইন শিখা শুরু করলেন ! এই ভাবে কিন্তু আপনি সফল হতে পারবেন না । আপনি যদি সফল হতে চান তাহলে আপনাকে কাজের শুরুতেই ভাবতে হবে । সবার আগে আপনার লক্ষটা কে নির্ধারণ করতে হবে । লক্ষ্য ছাড়া আপনি এগিয়ে যেতে পারবেন না, আর এগিয়ে গেলেও আপনি সফল হতে পারবেন না ! লক্ষ্য ছাড়া আপনার জীবনের সার্থকতা আসবে না।
প্রতিটা কাজ করার আগে আপনাকে নিজের কাছে প্রশ্ন করতে হবে যেঃ
• আমি কাজটি কেন করব?
• আমার কোন কাজটি সব থেকে বেশী ভাল লাগে ?
• যেটা করব সেটা কি আমার নেশার জন্য করব নাকি পেশার জন্য করব ?
• আমি কাজটি করতে পারব কি না ?
• কাজটি করার জন্য যে সকল গুনাবলি থাকা দরকার তা আমার আছে কিনা ?
• আমার জন্য কাজটি উপযুক্ত কিনা ?
• আমার ভবিষ্যৎ কি হবে ?
• আমার উপার্জনের মাধ্যম কি এটাই হবে নাকি সাথে অন্য কিছুও করব ?
এই প্রশ্নের গুলোর উত্তর যদি পেয়ে যান তাহলে আপনার সফলটা কেউ ঠেকাতে পারবে না ।
আপনি যদি ভাল লেখা লিখি করতে পারেন তাহলে আপনি লেখা লিখি কে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারেন । আপনার যদি প্রোগ্রামিং ভাল লাগে তাহলে আপনি ওয়েব ডিজাইন অথবা ওয়েব ডেভেলপমেন্টে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন । অনেকেই মনে করেন যে ওয়েব ডিজাইন অথবা ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ শিখতে হলে কম্পিউটার সায়েন্স এর স্টুডেন্ট হতে হয় এটা একদম ভুল ধারনা ! যারা ওয়েব ডিজাইন অথবা ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ করে তারা সবাই কি স্টুডেন্ট? অবশ্যই নয় ! প্রায় ৭৫% ই সিএসই এর স্টুডেন্ট নয় । চাইলে আপনি ও ওয়েব ডিজাইন অথবা ওয়েব ডেভেলপমেন্টে ক্যারিয়ার করতে পারবেন ।
আপনার যদি সার্চ ইঞ্জিন কে নিয়ে খেলা করতে ভালবাসেন তাহলে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন ।
মূল কথা হল যেটাই শিখুন না কেন ভালো করে না শিখলে কোন মূল্য নেই ।
কি শিখবেন তা তো গেলো এবার হচ্ছে কিভাবে শিখবেন…তা দেখার পালা…
দুই ভাবে শিখতে পারেন।
১। কোন প্রতিষ্ঠান থেকেঃ ভালো একটি প্রতিষ্ঠান সম্পরকে খবর নিন তারপর সেখান থেকে শিখতে পারেন বা কোন বড় ভাই থাকলে ।
ফ্রিল্যান্সিং কি, কেন? কিভাবে শিখবেন, কি শিখবেন? ফ্রিল্যান্সিং এর নাড়ি-নক্ষত্র জেনে নিন
-------------------------------------------------
ফ্রিল্যান্সিং কি? (শুধুমাত্র নতুনদের জন্য)-তবুও একটু দেখে নেই…
ফ্রিল্যান্সিং --'''মুক্তপেশা''' (Freelancing), কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকে মু্ক্তভাবে কাজ করাকে বোঝায়। যারা এধরণের কাজ করেন তাদের বলা হয় "মুক্তপেশাজীবী" (Freelancer)। এধরণের কাজে কোনো নির্দিষ্ট মাসিক বেতন ভাতা নেই তবে স্বাধীনতা আছে, ইচ্ছা মতো ইনকামের সুযোগ ও আছে। এজন্য স্বাধীনমনা লোকদের আয়ের জন্য এটা একটা সুবিধাজনক পন্থা। আধুনিক যুগে বেশিরভাগ মুক্তপেশার কাজগুলো [ইন্টারনেট|ইন্টারনেটের] মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। ফলে মুক্ত পেশাজীবীরা ঘরে বসেই তাদের কাজ করে উপার্জন করতে পারেন। এ পেশার মাধ্যমে অনেকে প্রচলিত চাকরি থেকে বেশি আয় করে থাকেন, তবে তা আপেক্ষিক। ইন্টারনেটভিত্তিক কাজ হওয়াতে এ পেশার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি হাজারো ক্লায়েন্টের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ ঘটে।
আউটসোর্সিং :- কোন প্রতিষ্ঠান তার কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগ না দিয়ে বাহিরের কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজটি করিয়ে নেয়া। এটা হতে পারে কম্পিউটার রিলাটেড কাজ অথবা কোন প্রোডাক্ট উৎপাদন। কম্পিউটার রিলাটেড হলে এমন হতে পারে কোন পণ্যের ডিজাইন, কোন সফটওয়্যার, এনিমেশন, ডাটা প্রসেসিং, গ্রাফিক্স, মাল্টিমিডিয়া ইত্যাদি। প্রোডাক্ট হলে হতে পারে সম্পূর্ণ উৎপাদন অন্য প্রতিষ্ঠান দিয়ে করিয়ে নেয়া। কোন প্রতিষ্ঠানের আউটসোর্সিং সিদ্ধান্ত নেয়ার কারন উৎপাদনের খরচ কমানো। পণ্যের গুণগত মান ঠিক রেখে উৎপাদনে খরচ কমানোই আউটসোর্সিংয়ের মূল লক্ষ্য। মুলত তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর কাজগুলো আউটসোর্সিং এ করা হয়।
ফ্রীলান্সিংয়ের জন্য আমাদের কিছু ওয়েবসাইটের শরণাপন্ন হতে হয়। এই সকল ওয়েব সাইট আউটসোর্সিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। এই সকল সাইটকে বলা হয় ফ্রীলান্স মার্কেট প্লেস। এই সব ওয়েবসাইটে যারা কাজ দিয়ে থাকে তাঁদেরকে বলা হয় বায়ার এবং যারা কাজগুলো সম্পন্ন করে তাঁদেরকে বলা হয় ফ্রীলান্সার, প্রোভাইডার, সেলার, অথবা কোন কোন ক্ষেত্রে কোডার। একটি কাজ সম্পন্ন করার জন্য একাধিক ফ্রীলান্সাররা আবেদন করে, এই সকল আবেদনকে বলা হয় বিড করা। ফ্রীলান্সারে আবেদন করার সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ম রেট দেয়া থাকে। তাই আবেদন করার সময় ফ্রীলান্সাররা কত টাকায় কাজটি সম্পন্ন করতে পারবে তা উল্লেখ করতে হয়। বিড করার পর ক্লায়েন্ট সকল কিছু বিবেচনা করে যাকে ইচ্ছা তাকে নির্বাচন করতে পারে। কাজের অভিজ্ঞতা, টাকার পরিমাণ এবং মন্তব্যের উপর নির্ভর করে বায়ার ফ্রীলান্সারকে নির্বাচন করে। নির্বাচন করার পর বায়ার প্রজেক্ট এবং নির্ধারিত টাকা ঐ সাইটের একাউন্ট এস্কোতে জমা রাখে। কাজ শেষ হবার পর ফ্রীলান্সার সম্পূর্ণ প্রজেক্টি সাইটটে জমা দিতে হয়। এরপর বায়ার ফ্রীলান্সারের কাজটি যাচাই করে দেখে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে বায়ার তখন সাইটে একটি ইয়েছ/ওকে বাটনে ক্লিক করে কাজটি গ্রহন করে। সাথে সাথে এস্কো থেকে ঐ অর্থ ফ্রীলান্সারের একাউন্টে জমা হয়ে যায়। ঐ সাইট থেকে কাজটি পাওয়া এবং কাজটি প্রসেসিং এ সকল সার্ভিসের জন্য ঐ সাইটকে আয়ের একটা অংশ কমিশন হিসাবে প্রদান করতে হয়।
==কাজের ধরণ==
মুক্তপেশার কাজের পরিধি অনেক বেশি। বিশ্বব্যাপী এধরণের কর্মপদ্ধতির চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে শীর্ষে থাকা কয়েকটি কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
*লেখালেখি ও অনুবাদ: নিবন্ধ, ওয়েবসাইট কন্টেন্ট, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ছোট গল্প, প্রাপ্তবয়স্কদের গল্প এবং এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় ভাষান্তরকরণ উল্লেখযোগ্য।
*সাংবাদিকতা: যারা এবিষয়ে দক্ষ তারা বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পত্রপত্রিকায় লেখালেখির, চিত্রগ্রহণের পাশাপাশি ইন্টারনেটভিত্তিক জনসংযোগ করে থাকেন।
*গ্রাফিক্স ডিজাইন: লোগো, ওয়েবসাইট ব্যানার, ছবি সম্পাদনা, অ্যানিমেশন ইত্যাদি।
*ওয়েব ডেভলপমেন্ট: ওয়েবসাইট তৈরি, ওয়েবভিত্তিক সফ্টওয়্যার তৈরি, হোস্টিং ইত্যাদি।
*কম্পিউটার প্রোগ্রামিং: ডেস্কটপ প্রোগ্রামিং থেকে ওয়েব প্রোগ্রামিং সবই এর আওতায় পড়ে।
*ইন্টারনেট বিপণন/ইন্টারনেট মার্কেটিং: ইন্টারনেটভিত্তিক বাজারজাতকরণ কার্যক্রম, যেমন ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে বিপণন।
*গ্রাহক সেবা: দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির গ্রাহককে টেলিফোন, ইমেইল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহাজ্যে তথ্য প্রদানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা।
*প্রশাসনিক সহায়তা: দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন কাজের ডাটা এন্ট্রি করণ, ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করা ইত্যাদি।
ফ্রিল্যান্সার হতে চান না অন্যকিছু, কয়েকটি ধাপে আপনি পরিকল্পনা করতে পারেন
--------------------------------
আপনি ফ্রিল্যান্সার হতে চান, নির্দিষ্ট করে কল্পনা করুন আপনি ওয়েব ডিজাইনার হতে চান, গ্রাফিক ডিজাইনার হতে চান অথবা এনিমেটর বা প্রোগ্রামার হতে চান। ব্লগ তৈরী করে তার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে চান। যা কিছু ইচ্ছে কল্পনা করতে পারেন, কল্পনাকে বাস্তবে রুপ দেয়ার জন্য আপনাকে কাজ করতে হবে। আর সেজন্য প্রয়োজন পরিকল্পনা। আপনার অবশ্যই প্রয়োজন ব্যক্তিগত সাফল্য লাভের পরিকল্পনা। খুব সহজে কয়েকটি ধাপে আপনি পরিকল্পনা করতে পারেন।
আপনি কি চান সেটা জানুন ?
আপনি কি আসলে ওয়েব ডিজাইনার হতে চান নাকি এনিমেটর হতে চান সেটা নিশ্চিত করুন। ওয়েব ডিজাইন লাভজনক দেখে মনে করলেন সেটা শেখা উচিত, পরদিন এনিমেশন দেখে শখ জাগল এনিমেটর হবেন, একে চাওয়া বলে না। আপনি একই সময়ে যেমন উত্তর এবং দক্ষিনে যেতে পারেন না তেমনি একই সময়ে ওয়েব ডিজাইনার এবং এনিমেটর হতে পারেন না। দুটিও অত্যন্ত বড় বিষয়। আপনার পরিকল্পনার প্রথম ধাপ, আপনার লক্ষের ডেফিনিশন ঠিক করুন।
প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি নিশ্চিত করুন ?
অস্ত্র ছাড়া আপনি যুদ্ধে যেতে পারেন না। তেমনি যন্ত্রপাতি ছাড়া আপনি কাজ করতে পারেন না। আপনার কাজের জন্য কি কি প্রয়োজন তার লিষ্ট তৈরী করুন, সেগুলি কিভাবে পাওয়া সম্ভব জানার চেষ্টা করুন। অনেক সময় অর্থের কারনে স্বপ্নপুরন হয়না এটা মেনে নিন। সংগতি যদি না হয় তাহলে সময় নষ্ট করবেন কেন, বিষয় পরিবর্তন করে ফেলুন। কম্পিউটার সংক্রান্ত বিষয় যদি হয় সেক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি ছাড়াও শিক্ষা-মেধা ইত্যাদির কথাও বিবেচনায় রাখুন। কোন কাজে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা প্রয়োজন, কোন কাজে অংক প্রয়োজন। এটা না থাকলে চেষ্টা করেও বেশিদুর যেতে পারবেন না। আপনার পক্ষে প্রয়োজনীয় যা কিছুর ব্যবস্থা করা সম্ভব তারওপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা করুন।
সময় ঠিক করুন?
প্রোগ্রামার হব একথা বলে আপনি যদি ৫-১০ বছর পার করেন তাহলে আপনি প্রোগ্রামার হচ্ছেন না। পরিকল্পনার সাথে সময়কে সম্পৃক্ত করুন। ১ মাসে কতটুকু করবেন, ১ বছরে কতটুকু করবেন নির্দিষ্ট করে ফেলুন। মাঝেমাঝে সেটা যাচাই করুন। যদি পিছিয়ে থাকেন তাহলে জানবেন আপনি লক্ষে পৌচচ্ছেন না। লক্ষে পৌছুতে হলে গতি বাগিয়ে টার্গেট পুরন করুন।
আপনি যদি ফ্রীলান্সার হতে চান তাহলে পোস্টটি পড়া চালিয়ে যান…
আমি কি ফ্রীলান্সার হতে পারব? চলুন উত্তর খুঁজা যাক
আপনি যদি ঠিক করেন আপনি একজন ফ্রীলান্সার হবেন তাহলে আপনার প্রায়ই একটি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় আর সেটা হল আমি কি ফ্রীলান্সার হতে পারব কি না । আমার মতে ফ্রীলান্সার হতে হলে যে ৩ টি জিনিসের প্রয়োজন হয় তা হল ১. আগ্রহ ২. আত্মবিশ্বাস ৩. ধৈয্য এই তিনটি জিনিস থাকলেই আপনি ফ্রীলান্সার হতে পারবেন ।
যারা প্রফেশনাল মানের ফ্রীলান্সার তারা কখনই এই ৩টি জিনিস কে নষ্ট হতে দেয় না । আপনি যদি ফ্রীলান্সার হতে চান বা ফ্রীলান্সিং জগতে পা রাখতে চান তাহলে প্রথমেই আপনার যে জিনিসটির প্রয়োজন হবে তা হল আগ্রহ । যদি আপনার প্রচণ্ড পরিমাণ আগ্রহ না থাকে তবে এই জগতে পা না রাখাই ভাল । আমি এমন অনেক লোক দেখেছি যারা কিছুটা আগ্রহ নিয়ে ফ্রীলান্সিং করতে আসে আর সেই আগ্রহ আবার কিছু দিন পরেই হারিয়ে যায় যে কারনে তারা সফল হতে পারে না । ফ্রীলান্সিং একটা ক্রিয়েটিভ জিনিস যেখানে অল্প পরিমাণ আগ্রহ দিয়ে হয় না ।
ফ্রীলান্সিং করতে হলে তো আপনাকে কাজ শিখতে হবে তাই না! আর কাজ শিখার জন্যও আপনার প্রচুর পরিমাণ আগ্রহ লাগবে এবং প্রচুর পরিমাণ চেষ্টা থাকা লাগবে । আপনি যদি প্রচুর পরিমাণ চেষ্টা না করেন তাহলে ভাল করে কাজও শিখতে পারবেন না আর সফলও হতে পারবেন না । একটি ছড়া আমরা সবাই পরেছি আর সেই ছড়ার দুটি লাইন আমি আপনাদের জন্য উল্লেখ করছি '' পারিবনা এ কথাটি বলিওনা আর , একবার না পারিলে দেখ শতবার " মানুষ পারে না এমন কিছু নেই । চেষ্টা করলে সবকিছুই করা সম্ভব । ফ্রীলান্সিং এ সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি সেটি হল আত্মবিশ্বাস। আপনাকে নিজের উপর প্রচুর পরিমাণ আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে ।
আপনাকে ভাবতে হবে যে সবাই যদি পারে তাহলে আমি পারব না কেন? তারা আজকে সফল আর আমিও একদিন তাদের মতই সফল হব । আর তারপর যে জিনিসটি লাগবে সেটি হল ধৈয্য। আপনাকে প্রচুর পরিমাণ ধৈয্য ধারন করতে হবে । আপনি হয়ত অনেক আগ্রহ নিয়ে কিছু দূর আগালেন কিন্তু এর পর থেমে গেলেন । এটা কখনই করা যাবে না । আপনাকে প্রতিটা কাজ ধৈয্য সহকারে করতে হবে । নিজেকে কাজের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে হবে । তাহলেই আপনি এগিয়ে যেতে সক্ষম । আবার অনেকেই আছেন যারা বলেন যে ভাইয়া আমিতো জেনারেল এর স্টুডেন্ট তো আমি কি ফ্রীলান্সিং করতে পারব ? হ্যাঁ আপনি পারবেন । এখন যারা ফ্রীলান্সিং করছেন তারা সবাই কি ইঞ্জিনিয়ার বা আইটি এর স্টুডেন্ট? না সবাই ইঞ্জিনিয়ার বা আইটি এর স্টুডেন্ট না । জেনারেলে পড়ে এমন অনেক স্টুডেন্ট আছে যারা ফ্রীলান্সিং করে ।
কি শিখবেন ? কেন শিখবেন ?
বর্তমানে আমকে অনেকেই ফেসবুকে প্রশ্ন করেন ভাইয়া আমি ফ্রীল্যান্সিং করতে চাই তো আমি কোন কাজটি শিখবো ? এই প্রশ্নের জবাবে আমি যা বলতে চাই তা হলঃ আপনাকে আগে চিন্তা করতে হবে আমি কি করতে চাই বা কি শিখতে চাই কেননা আপনার মন যেটা চায় না সেটা আপনি কখনোই ঠিক ভাবে করতে পারবেন না । আর যদি করেনও তাহলে সফল হতে পারবেন না ! প্রত্যেকটা মানুষ দুইটা জিনিস কে বেশী ভালবাসে আর তা হল এক তার পেশা দুই তার নেশা । আপনি হয়ত গান শুনতে পছন্দ করেন কিন্তু গাইতে নয় ! সেই রকম প্রত্যেকটা জিনিসই । গান শুনাটা হয়ত আপনার নেশা, পেশা নয় ! আপনাকে ডিসাইড করতে হবে কোনটা আপনার নেশা আর কোনটা আপনার পেশা । আপনার যদি গ্রাফিক্স ডিজাইন ভাল লাগে তার মানে এই না যে আপনি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হয়ে ফ্রীল্যান্সিং করতে পারবেন? একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে হলে যে গুন গুলো আপনার মাঝে থাকা দরকার সেগুলো আপনার মাঝে আছে কিনা সেটা নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে । আপনি কি ভাল আঁকা আকি করতে পারেন ?
আপনি কি ক্রিয়েটিভ জিনিস চিন্তা করতে পারেন ? কোন ডিজাইন নিয়ে চিন্তা করতে পারেন ? এই তিনটি প্রশ্ন নমুনা মাত্র । আপনি যদি এই সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন তাহলে আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে পারবেন । এখন কথা হল আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইনার এর ট্রেনিং করে ডিজাইনার হলেন এর কিছু দিন পর দেখা গেল আপনার কাছে আর গ্রাফিক্স ডিজাইন টা ভাল লাগছে না তখন আপনি চাইছে ন ওয়েব ডিজাইন শিখবেন আর সেই ইচ্ছা নিয়ে ওয়েব ডিজাইন শিখা শুরু করলেন ! এই ভাবে কিন্তু আপনি সফল হতে পারবেন না । আপনি যদি সফল হতে চান তাহলে আপনাকে কাজের শুরুতেই ভাবতে হবে । সবার আগে আপনার লক্ষটা কে নির্ধারণ করতে হবে । লক্ষ্য ছাড়া আপনি এগিয়ে যেতে পারবেন না, আর এগিয়ে গেলেও আপনি সফল হতে পারবেন না ! লক্ষ্য ছাড়া আপনার জীবনের সার্থকতা আসবে না।
প্রতিটা কাজ করার আগে আপনাকে নিজের কাছে প্রশ্ন করতে হবে যেঃ
• আমি কাজটি কেন করব?
• আমার কোন কাজটি সব থেকে বেশী ভাল লাগে ?
• যেটা করব সেটা কি আমার নেশার জন্য করব নাকি পেশার জন্য করব ?
• আমি কাজটি করতে পারব কি না ?
• কাজটি করার জন্য যে সকল গুনাবলি থাকা দরকার তা আমার আছে কিনা ?
• আমার জন্য কাজটি উপযুক্ত কিনা ?
• আমার ভবিষ্যৎ কি হবে ?
• আমার উপার্জনের মাধ্যম কি এটাই হবে নাকি সাথে অন্য কিছুও করব ?
এই প্রশ্নের গুলোর উত্তর যদি পেয়ে যান তাহলে আপনার সফলটা কেউ ঠেকাতে পারবে না ।
আপনি যদি ভাল লেখা লিখি করতে পারেন তাহলে আপনি লেখা লিখি কে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারেন । আপনার যদি প্রোগ্রামিং ভাল লাগে তাহলে আপনি ওয়েব ডিজাইন অথবা ওয়েব ডেভেলপমেন্টে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন । অনেকেই মনে করেন যে ওয়েব ডিজাইন অথবা ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ শিখতে হলে কম্পিউটার সায়েন্স এর স্টুডেন্ট হতে হয় এটা একদম ভুল ধারনা ! যারা ওয়েব ডিজাইন অথবা ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ করে তারা সবাই কি স্টুডেন্ট? অবশ্যই নয় ! প্রায় ৭৫% ই সিএসই এর স্টুডেন্ট নয় । চাইলে আপনি ও ওয়েব ডিজাইন অথবা ওয়েব ডেভেলপমেন্টে ক্যারিয়ার করতে পারবেন ।
আপনার যদি সার্চ ইঞ্জিন কে নিয়ে খেলা করতে ভালবাসেন তাহলে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন ।
মূল কথা হল যেটাই শিখুন না কেন ভালো করে না শিখলে কোন মূল্য নেই ।
কি শিখবেন তা তো গেলো এবার হচ্ছে কিভাবে শিখবেন…তা দেখার পালা…
দুই ভাবে শিখতে পারেন।
১। কোন প্রতিষ্ঠান থেকেঃ ভালো একটি প্রতিষ্ঠান সম্পরকে খবর নিন তারপর সেখান থেকে শিখতে পারেন বা কোন বড় ভাই থাকলে ।
২। নিজে নিজেঃ নিজে নিজে শিখার ক্ষেত্রে প্রথমে আপনার ইন্টারনেট কানেকশন লাগবে। তারপর ইউটিউব থেকে ফ্রী ভিডিও এর মাধ্যমে শিখতে পারেন যেকোন বিষয়। আরও অনেক টিউটোরিয়াল সাইট আছে যা থেকে আপনি শিখতে পারবেন।