17/02/2025
আমার গত জীবনে অল্প হলেও এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর ১০ টি দেশ ভ্রমণ করার সৌভাগ্য হয়েছে। ১১ তম দেশ হিসেবে আগামী মাসে জাপান ঘুরতে যাব। এবং আগামী সামারকে উপলক্ষ করে ভিসা প্রসেসিং চলছে হংকং, থাইল্যান্ড, UK, সুইজারল্যান্ড সহ ইউরোপের অন্তত আরও ৫/৭ টি দেশ ভ্রমণ করার। ইচ্ছে আছে যদি বেচে থাকি তবে আমার জীবনের ৫০তম জন্মদিনটি ৫০তম কোন দেশে যেনো উদযাপন করতে পারি!!
এই পথ টুকু পাড়ি দিতে অতিক্রম করেছি ৯৩৬৫৭ কিলোমিটার পথ। ব্যবহার করেছি ১০ টি দেশের ১৮টি এয়ারপোর্ট, ১২ টি এয়ারলাইনসের ২৪ টি ফ্লাইট। ঘুরে দেখেছি ১০ টি দেশের অন্তত ২৫ টি শহর। এই ১০ টি দেশ ভ্রমণ করতে গিয়ে ইমিগ্রেশন অফিসারের সম্মুখীন হতে হয়েছে মোট ৩০ বার। আজকে লিখব আমার গত ৩০ বার ইমিগ্রেশন অতিক্রম করার অভিজ্ঞতা নিয়ে।
আমার প্রথম বিদেশ যাত্রা ছিল ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে কাতারের উদ্দেশ্যে। কাতার ছাড়াও ওমান, দুবাই, সৌদি আরব এবং জর্ডান ভ্রমণ করব। সবগুলোই ই-ভিসা করা। মাত্র দুই মাস আগে প্রস্তুতকৃত একদম ব্র্যান্ড নিউ একটি সাদা পাসপোর্ট হাতে নিয়ে চলে গেলাম ঢাকা এয়ারপোর্টে। আমার পাসপোর্টে তখনো পর্যন্ত কোন ভিসা নেই। এন্ট্রি-এক্সিট সিল দূরে থাক, পাসপোর্টে একটা কলমের খোচাও লাগেনি। এমন একটি পাসপোর্ট হাতে নিয়ে একদম ভয়-ডর বিহীন ফুরফুরা মেজাজে বোর্ডিং পাস নেয়ার জন্যে সিরিয়ালে দাড়িয়ে আছি। আমার সাথে কাগজে প্রিন্ট করা কোন ডকোমেন্ট নেই। এয়ার টিকিট, ভিসা, খেলার টিকিট সহ সবকিছু মোবাইল ফোনে ডাউনলোড করা।
ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের বোর্ডিং কাউন্টারের সুন্দ্রী মেয়েটিকে আমার পাসপোর্টটি দেয়া মাত্রই নাকের কাছে নিয়ে একটু গন্ধ শুকে বলল-
- ইমমম....নাইস স্মেল। বাট নাথিং ইনসাইড ইউর পাসপোর্ট। হোয়ার ডু ইউ ওয়ান্ট টু গো?
আমি একটু মুচকি হাসি দিয়ে বললাম- আমি কাতার যাব।
সে আমার পাসপোর্ট স্ক্যান করতে করতে বলল- ফর ওয়ার্ল্ডকাপ?
নাইস ম্যান। হ্যাভ এ নাইস ট্রিপ বলেই আমার হাতে টিকিট আর পাসপোর্ট ধরিয়ে দিল।
বিপত্তি বাজলো ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যাওয়ার পর। ইমিগ্রেশন অফিসারকে আমার পাসপোর্ট আর টিকিট দেয়ার পর পাসপোর্ট হাতে নিয়ে জিজ্ঞেস করল কোথায় যাবেন? বললাম খেলা দেখতে যাব কাতারে। তিনি সাদা পাসপোর্টটি একটু নেড়েচেড়ে সামান্য দূরে দাড়ানো একজন অফিসারকে দেখিয়ে বললেন- আপনি ওনার কাছ থেকে একটু ক্লিয়ারেন্স নিয়ে আসুন। আমার ফুরফুরা মন একদম বিমর্ষ হয়ে গেলো।
গেলাম অফিসারের কাছে। তিনি একটা জায়গায় নিয়ে শুরু করলেন বিস্তর জিজ্ঞাসা। আমরা দুজন ছিলাম। আমার ফ্রেন্ড অবশ্য আগে কয়েকটি দেশ ট্রাভেল করেছিল। তাই তাকে বিশেষ জিজ্ঞেস করেনি। কিন্তু আমার সাথে যা শুরু করল তাতে নিজেকে মুরগী চুরির মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামীর মতো মনে হলো। প্রথমবার হলেও বিদেশ যাত্রাটা আমার কাছে বার্ষিক পরীক্ষা শেষে মামা-বাড়ি যাওয়ার মতই মনে হয়েছিল। তাই প্রথমবার বিদেশ যাত্রার আগে কিকি কাগজ-পত্র সাথে নিতে হয় জানতামও না। হাতে পাসপোর্ট আর মোবাইলে ভিসা, টিকিট ডাউনলোড করা আছে। আর কি চাই?!!
ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন কোথায় যাবেন? বললাম-কাতার যাব খেলা দেখতে।
- পাসপোর্ট নারা চারা করে জিজ্ঞেস করলেন আপনার ভিসা কোথায়? বললাম- মোবাইলে আছে।
- খেলার টিকিট, হোটেল বুকিং এসব কোথায়? বললাম- মোবাইলে আছে।
- রিটার্ন টিকিট সেইটাও কি মোবাইলে আছে?
- কি করেন আপনি? বললাম- আমি পেশায় ব্যবসায়ী।
- কি ধরনের ব্যাবসা? বললাম-.......... ব্যাবসা।
- হাতে কোন ডকুমেন্টস আছে? ভিজিটিং কার্ড, ট্যাক্স সার্টিফিকেট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট হাতে কোন প্রমান আছে? কি করে বুঝব আপনি কি করেন। আপনি তো ফেরত আসবেন না!! (আমি চুপ হয়ে গেলাম)।
ভদ্রলোকের কথা শুনে চরম অপমানবোধ করলাম। আসলেইতো! আমার কাছে দেখানোর মতো কোন কিছুই নাই। এইটা কোন কথা?!!
হুট করে মনে পরল আছে, সব আছে। তবে আগের মতই মোবাইলে আছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাগজপত্র অফিসের প্রয়োজনে বিভিন্ন দপ্তরে মেইল করে পাঠাতে হয়। সেগুলো বের করে অফিসারকে দেখালাম। তিনি দেখলেন এবং বললেন....
- শোনেন, আপনাকে দেখেই মনে হয়েছে আপনি ঘুরে ফেরত আসবেন। তাইবলে ব্যসিক কিছু কাগজপত্র প্রিন্ট করে হাতে রাখাটা ফরমালিটিস। আপনাকে ক্লিয়ারেন্স দিয়ে দিচ্ছি। তবে ভবিষ্যতে সবকিছু প্রিন্ট করে হাতে নিয়ে আসবেন।
কথায় আছে, বান্দরে কলা খাইলেও নাকি পাছায় মাপ দিয়া খায়।সেই একবারই প্রথম, এবং একবারই শেষ। তারপর থেকে যতবার বিদেশে গিয়েছে, প্রতিবার প্রয়োজনীয় সকল পেপার্স ভিসা থেকে শুরু করে রিটার্ন টিকিট পর্যন্ত সিরিয়াল করে সাজিয়ে নিয়ে গেছি। যেনো চাইলেই বের করে দিতে পারি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, সেদিনের পর থেকে আজ পর্যন্ত পরবর্তী ২৯ বার দেশে কিংবা বিদেশে কোনদিন কোন ইমিগ্রেশনে ২ মিনিটের বেশি সময় লাগেনি। তবে মালয়শিয়াতে একবার ইমিগ্রেশন অফিসার জিজ্ঞেস করেছিল আমার হোটেল বুকিং আছে কি নেই। কিন্তু দেখতে চায়নি।
আর চীনের সাংহাই ইমিগ্রেশনে একবার পরেছিলাম মহা বিপদে। ভয়ে মেরুদণ্ড বাকা হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। সেইটা লিখব দ্বিতীয় পর্বে। কিন্তু লিখেই লাভ কি!!?? যদি আপনাদের কাছ থেকে কোন সাড়া না পাই? আমার এই লেখা যদি ভাল লাগে তবে অবশ্যই মন্তব্য করবেন। ভাল মন্ধ জানাবেন। আর ভ্রমণ বিষয়ে ভিসা, এয়ার টিকিট, হোটেল সহ সস্তায় কিভাবে ভ্রমণ করা যায় এসব বিষয়ে কোন কিছু জানার থাকলে কমেন্টে প্রশ্ন করবেন। আমি চেষ্টা করব অভিজ্ঞতার আলোকে উত্তর দিতে। এটা আমার প্রথম ভ্রমণ বিষয়ক লিখা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন বিষয়ে আমার আছে অনেক মজার সব অভিজ্ঞতা। আপনাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেলে ইনশাআল্লাহ এই পেইজে নিয়মিত লিখব। তাই আমার এই নতুন পেইজটি আপনার বন্ধুদের কাছে শেয়ার করে পেইটিকে ফলো দিতে বলুন। তবেই আমি অনুপ্রাণিত হব এবং লিখব।