27/03/2023
রাজপ্রাসাদ: আজিজে মিসর, হযরত ইউসুফ (আ:) এর একমাত্র মুসলিম ফারাও সম্রাট, যিনি আল্লাহকে প্রভু রুপে গ্রহণ করেছিলেন।
----------------------------------------------------------------
(এই ফেরাউন, একজন “মুসলিম” ফারাও সম্রাট ছিলেন। এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন)
আসুন জেনে নেই, হযরত ইউসুফ (আ:) এর ফেরো “আখনাতুনের” গল্প।
হযরত ইউসুফ (আ.) যে ফারাও বাদশাহর সময়ে “আজিজে মিসর” বা মিশরের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেই ফারাও বাদশাহ হলেন, #চতুর্থ_আমেন_হোতেপ_বা_আখনাতুন। একমাত্র ফারাও সম্রাট যে এক আল্লাহর উপর ঈমান এনেছিলেন।
মিশরের “তিল্লুল আমারনা” তার রাজপ্রাসাদে, হাইরোগ্লাফিক্স ভাষায় স্পষ্ট অক্ষরে আখনাতুনের কথাগুলো খোদাই করা আছে:
আখনাতুন এক আল্লাহর ইবাদাতের প্রতি মানুষদের আহ্বান করেছিলেন। এক স্রষ্টায় বিশ্বাসী ছিলেন।
আখনাতুনের কথাগুলো ছিলো,
يا أيها الإله الأحد الذي لا يوجد بجانبه شأن لأحد خلقت الأرض علي حسب رغبتك و لم يكن بجوارك أحد
“হে অদ্বিতীয় সত্তা, একক প্রভু, যে পরাক্রমশালীর সমকক্ষ কেউ নেই। এই বিশ্ব জগৎ সৃষ্টি করেছেন, যেমনটি আপনি চেয়েছেন। এই সৃষ্টি জগতের আপনিই একমাত্র স্রষ্টা বা প্রতিপালক।”
আহ! সূরা ইখলাসের সাথে তার কথাগুলো কতই না মিল।
হযরত সাইয়্যেদুনা ইউসুফ (আ.) এর সময়ের ফারাও সম্রাট কে এই আখনাতুন?
যার বাবা ছিলেন, তৃতীয় আমেন হোতেপ। সেই হিসেবে তার উপাধি চতুর্থ আমেন হোতেপ। এই নামেই মিশরবাসী সবাই তাকে চিনতো। এবং তার উপাসনা করতো। কিন্তু বাদশাহ একদিন হঠাৎ করেই রাষ্ট্রের সবাইকে আমন্ত্রণ করলেন। ঐ দিনটি ছিলো, আমুন দেবতার মিশরের বিজয়ের দিন। স্বভাবতই সূর্য দেবতা আমুনের সম্মানে, বাদশাহ রাজকীয় পোষাক পরিধান ও আমুনকে শ্রদ্ধা জানানোর কথা ছিলো। কিন্তু বাদশাহ একি করলেন! স্বাভাবিক পোষাকেই সবার সামনে এলেন। তখন সবার মাঝে গুঞ্জন শোনা গেল, কি ব্যাপার! বাদশাহর তো দেখছি আমুন দেবতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কোনো ইচ্ছাই নেই।
তিনি দেবতাকে অপমান কেন করছেন?
সবার নিরবতা ভেঙ্গে, আমেন হোতেপ বললেন, আমি সবার মনের কথা বুঝতে পেরেছি, আজকে কেন আমি দেবতা আমুনকে শ্রদ্ধা জানাইনি। কেন উত্তম পোষাক পরিধান করিনি।
তোমরা শুনে রাখ, আজ থেকে আমার নাম আখন আতুন বা এক শ্রষ্টার উপাসনাকারী। সেই সাথে আজ থেকে মিসরের প্রধান ধর্ম আতুন তথা আল্লাহর ধর্ম। এ সময়ে তার পাশেই দাড়িয়ে ছিলেন, নবিউল্লাহ আজিজে মিশর, আজমালুল খলক হযরত ইউসুফ (আ.)
আমুন দেবতার পুরোহিতদের বললেন, তোমাদের এই জড় পদার্থের শ্রষ্টাকে বাহিরে নিয়ে যাও। এ বলে তিনি মূর্তিটি সবার সামনে নিক্ষেপ করলেন।
আখনাতুন মূলত একজন সম্রাট হলেও, তার সব দায়িত্ব দিয়েছিলেন, হযরত ইউসুফ (আ.)কে। তার পরামর্শ ছাড়া তিনি কোনো কাজ করতেন না। ইউসুপ (আ.) প্রধানমন্ত্রী হলেও রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতা ও শাসনের অধীকারী ছিলেন তিনি।
হযরত নবী ইয়াকুব (আ.) ও সাইয়্যেদুনা ইউসুফ (আ.) ভাইয়েরা যখন মিশরে আগমন করেন, বাদশা আখনাতুন ছুঁটে গিয়েছিলেন তাদের স্বাগত জানাতে। এবং তাদের বসবাসের জন্য মিশরের ম্যানুফেস বা বর্তমান মিতরাহিনাতে জায়গা নির্ধারন করে দেন। এবং তাদের রাজকীয় মেহমানে ভূষিত করেন।
মিশরে যতগুলো জায়গাতে তার মূর্তি দেখেছি, সবগুলোর চেহারা ঠিক একই রকম। লম্বাটে গাল বিশিষ্ট এক অদ্ভূত চেহারার অধিকারী ছিলেন তিনি। এই মূর্তিগুলো এখন তৈরী হয়েছে এমনটি নয়, এগুলো আজ থেকে চার হাজার বছর পূর্বের তৈরী।
যার এই তিমসালটি Egyptian National Civilization Museum এ সংরক্ষিত রয়েছে।
লেখক,
সাইমুম আল-মাহদী,
শিক্ষার্থী, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো-মিশর।
“মিশর: আরদুল আম্বিয়া”, আমার অপ্রকাশিত বইয়ের একটি অংশ থেকে।
(লেখাটি অপরিবর্তিত রেখে, ম্যাগাজিন কিংবা পত্রিকায় পাবলিস্ট করার অনুমতি দেওয়া হল।)