24/03/2026
৫০০ বছরের ঐতিহ্যের পদধ্বনি—ঐতিহাসিক বাঘা ঈদমেলা
রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন জনপদ—বাঘা। যেখানে ১৫২৩ সালে সুলতান নুসরাত শাহ নির্মাণ করেছিলেন সুলতানি স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন—দশ গম্বুজ বিশিষ্ট বাঘা শাহী মসজিদ। এই মসজিদ আর হযরত শাহ দৌলা রহমতুল্লাহি আলাইহির মাজার প্রাঙ্গণকে কেন্দ্র করেই গত ৫০০ বছর ধরে চলে আসছে এক ঐতিহাসিক উৎসব—বাঘা ঈদমেলা।
মেলার ইতিহাস
লোকমুখে প্রচলিত আছে, আধ্যাত্মিক সাধক হযরত শাহ দৌলা এবং তাঁর পাঁচ সঙ্গীর বাঘায় আগমনের পর থেকেই এই মেলার গোড়াপত্তন হয়। সেই থেকে আজ অবধি, প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের দিন থেকে শুরু করে পুরো এক মাস ব্যাপী এই মেলা প্রাঙ্গণ থাকে উৎসবমুখর। এটি কেবল একটি মেলা নয়, বরং উত্তরবঙ্গের এক প্রাচীন ঐতিহ্যের জীবন্ত দলিল।
৩. সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মিলনস্থল
ভয়েস ওভার: বাঘার এই মেলা এক অনন্য অসাম্প্রদায়িক মিলনস্থল। একদিকে মাজার ও মসজিদে ধর্মপ্রাণ মানুষের ইবাদত-বন্দেগি, অন্যদিকে মেলার অবারিত আনন্দ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লক্ষাধিক মানুষের সমাগমে এখানে তৈরি হয় এক পীর-মাশায়েখের আধ্যাত্মিক আবহ আর লোকজ সংস্কৃতির অপূর্ব মিশেল।
মেলাজুড়ে থাকে লোকজ কারুশিল্পের বিশাল সমাহার। বাঁশ, বেত আর মাটির তৈরি তৈজসপত্রের পাশাপাশি বাঘার ঐতিহ্যবাহী কাঠের আসবাবপত্রের খ্যাতি দেশজুড়ে। ভোজনরসিকদের জন্য মেলার বিশেষ আকর্ষণ হলো—বিশাল আকৃতির সব মিষ্টি আর মচমচে গরম জিলাপি। সাথে খাজা, কদমা আর মুড়িমুড়কির চিরচেনা ঘ্রাণ তো আছেই।
গ্রামীণ বিনোদনের প্রাণ—নাগরদোলা, সার্কাস আর রোমাঞ্চকর মোটরসাইকেল খেলা ছোট-বড় সবার নজর কাড়ে। দীর্ঘ এক মাস ব্যাপী এই বিশাল মেলা পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কমিটি নিশ্চিত করে এক সুশৃঙ্খল পরিবেশ। এই মেলা যেমন স্থানীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে, তেমনি আগলে রাখে আমাদের শত বছরের পুরোনো ভ্রাতৃত্বের বন্ধন।
বাঘার এই ৫০০ বছরের পুরোনো মেলা আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমাদের শিকড়ের কথা। ইট-পাথরের ব্যস্ত নাগরিক জীবনে এই মেলা যেন এক চিলতে শান্তির পরশ। ঐতিহ্যের এই ধারা বেঁচে থাকুক প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
-শাহ্ জালাল মাসিম
এডমিন, লালপুর ট্রাভেল ভ্লগ