21/08/2021
নিচের এই ঘটনাটা আমিও ২০১৬ তে মুন্না ভাই এবং সোহাগ ভাইয়ের কাছ থেকে শুনেছিলাম।
বেশ কয়েকজন জানতে চাইলেন ধূপপানি কেন রহস্যময়? আমি এর আগে তিনবার এখানে গেলেও আমার চোখে রহস্যময় কিছু পড়েনি কিন্তু যেহেতু স্থানীয় একজন ভান্তে সপ্তাহে ৬ দিন এখানকার গুহায় ধ্যান করেন তাই আগে সপ্তাহে শুধু একদিনই এখানে যেতে দেয়া হতো। (যদিও এখন আর যেকোন দিন যেতে কোন বাধা নেই।) তাছাড়া স্থানীয় মানুষ ও শহুরে কিছু পর্যটক ও যারা সেখানে রাত্রিযাপন করতে চেয়েছেন তারা অতিপ্রাকৃতিক কিছু অভিজ্ঞতার সন্মুখীন হয়েছেন যার একটি নিন্মরুপ:
মুন্না ডং এর বক্তব্য : ২০১৬ইং ঈদুল আযহা'র ছুটিতে আমি আর সোহাগ ফারুয়া গিয়েছিলাম। কিন্তু আর্মিদের জন্য আর সামনে যেতে পারি নাই। তাই বাধ্য হয়েই আমাদের ফিরে আসতে হয়। ফিরতি পথে দেখা হয়ে যায় সোহেল ভাই এর সাথে। উনার অনুরোধে আমরা দ্বিতীয় বারের মতো ধুপপানি ঝরণায় যাই। চলতি পথেই আমি আর সোহাগ প্ল্যান করি যে, আজকে আমরা ধুপপানি পাড়ায় থেকে যাব এবং রাতে ধুপপানি ঝরণার নিচে তাঁবুতে থাকবো। একই দিনে যত ট্র্যাভেলার এসেছিলেন সবাই চলে গেলে আমরা পুতুলের সাথে কথা বলে ঠিক করে রাখি যে, রাতে আমরা তিনজন ধুপপানি ঝরণার নিচে তাঁবু করে থাকবো। পুতুল ও রাজি হয়ে গেল। কিন্তু রাতে রওয়ানা দেয়ার আগ-মূহুর্তে পুতুল জুম পাহারা দিতে যেতে হবে এই অজুহাত দেখিয়ে আমাদের সাথে যেতে অস্বীকৃতি জানালো। রাত ৮টার দিকে গ্রামের সবাই যখন শুয়ে পড়লো তখন আমরা চুপি চুপি ধুপপানি ঝরণায় নেমে গেলাম।
রাত ৮টা থেকে ১১.৩০মিনিট পর্যন্ত আমি আর সোহাগ তাঁবু করে ছিলাম ওখানে এবং এই ৩ঘন্টা ৩০মিনিট সময়কাল ছিল আমাদের জন্য খুবই বিরক্তিকর।
প্রথমত আমার এবং সোহাগের বয়সের যোগফল প্রায় ৮০বছর। এবং আমরা প্রতিবন্ধীও নই। এবং যেহেতু আমি মুসলমান সেহেতু আমি জ্বীনে বিশ্বাসী। আমরা ধূপপানি ঝর্ণায় যা যা দেখতে পাই তা ছিল নিন্মরুপ:
(১) ঝরণার পানির মধ্যেই আমরা বিশাল আকারের ধ্যানরত ভান্তের অবয়ব দেখতে পাই।
(২) ঝরণার ভেতর দিয়ে কাউকে লাইট জ্বালিয়ে হেঁটে যেতে দেখি ৩/৪বার।
(৩) মানুষের চোখ থেকে কয়েকগুণ বড় লাল একচোখা কিছু একটা দেখতে পাই। পরের দিন সকালে পুতুলের সাথে কথা বলে জানতে পারি গ্রামের অনেকেই এটা দেখেছে। এবং ওদেরকে বড় ভান্তে নাকি গ্রামবাসীলে আগেই বলেছে যে বড় লাল একচোখ ওয়ালা একটা কিছু এই ঝরণায় বসবাস করে।
(৪) আমাদের দুটো ডিএসএলআর দিয়ে অল্প কয়েকটা ছবি তোলার পর আর ছবিই তুলতে পারি নাই। বাটন চাপি কাজ হয় না। আমরা না হয় ভুল দেখেছি কিন্তু মেশিন ভুল করবে কেন?
(৫) ঝিরির চিংড়ি মাছগুলো পাগল হয়ে লাফাচ্ছিল। মাছ ধরে ধরে বড় হয়েছি কিন্তু মাছের এমন আচরণ কখনও চোখে পড়েনি।
(৬) ঝরণা থেকে উপরে উঠার পরেই ক্যামেরা দুটো ঠিক হয়ে গেল।
উনাদের এই স্টেটমেন্টের পরিপ্রেক্ষিতে কামরুল হাসান সজীব উনাদের কিছু প্রশ্ন করেন যা নিন্মরুপ:
"১/ ভান্তে কে? উনি কি দরবেশ টাইপ, আমাদের মত সাধারণ অবয়বের কেউ? গ্রামবাসী তাকে চেনে? উনি আগে লোকালয়ে থাকতেন?
২/ কতক্ষণ সময় ঝর্ণার পানিতে ভান্তের অবয়ব দেখা গেছে? দেখা যাওয়া অবস্থায় আপনি আর সোহাগ কোন কথা বলেছেন নিজেদের মধ্যে?
৩/ চাঁদের আলোয় এসব দেখেছেন? নিজেরা কোন আলোক প্রক্ষেপণ করেছিলেন কি?
৪/ একচোখা দৈত্যটা কোথায় কিভাবে কি অবস্থায় হাটাহাটি করছিল?
৫/ মাছ গুলোর অস্বাভাবিক আচরণ কিভাবে নজরে এল আপনাদের?
৬/ এই প্যারানরমাল এক্টিভিটি গুলোর স্থায়িত্ব কতক্ষণ ছিল?
৭/ গ্রামবাসী আপনাদের কি এসব প্যারানরমাল ইন্সিডেন্ট এর ব্যাপারে আগে সতর্ক করেছিল? যা দেখেছেন তা আগেভাগে মনের মধ্যে গেঁথে ছিল নাতো? মনস্তাত্ত্বিক দিক দিয়ে আপনারা কেমন ছিলেন, যখন ঝর্ণায় নামছিলেন? কনফিডেন্ট নাকি কোন কারনে ভীতসন্ত্রস্ত?"
জবাবে মুন্না সাহেব জানান:
"(১) বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ পর্যায়েত ধ্যানী ধর্ম গুরুদের ভান্তে বলা হয়ে থাকে। শুধু ঐ গ্রামের নয় আশে পাশের সকল গ্রামের লোকেরাও ধূপপানির ভান্তেকে চেনেন এবং প্রথমবার আমরা যখন ধুপপানি যাই তখন আমাদের সাথেও উনার পরিচয় হয়।
(২) সেকেন্ড হবে না কয়েক মূহুর্ত করে হবে।
(৩)চাঁদের আলোয় নয় এবং আমরা কোন আলোও ব্যবহার করিনি। কারণ উপরেই ভান্তেরা ধ্যান করে থাকেন। যাতে তারা আমাদের উপস্থিতি বুঝতে না পারেন তাই আলো ব্যবহারের সুযোগ ছিলোনা।
(৪) সত্যি কথা বলতে এক চোখা ব্যাপারটা আমার নজরে আসে নাই। এটা শুধু সোহাগ দেখেছে।
(৫) আমরা যখন ফেরত আশার জন্য ঝিরিতে নামি তখন চিংড়ি মাছ গুলোর অস্বাভাবিক আচরণ দেখতে পাই কারণ আমরা টর্চ জ্বেলেই ফেরত আসছিলাম।
(৬) এর উত্তর খুঁজতে আবার যেতে হবে।
(৭) গ্রামবাসী জানতোই না যে আমরা যাব। শুধু পুতুল জানতো। আর পুতুলের সাথে এই ব্যাপারে কোন কথাই হয় নাই।"
ছবি ও লেখা অপু নজরুল ভাইয়ের।