04/05/2025
টাঙ্গুয়ার হাওর পরিচিতি
পর্ব-১
টাঙ্গুয়ার হাওর
কখনো আকাশের মতো নীল, কখনো আয়নার মতো স্বচ্ছ এমন স্নিগ্ধ রঙে রাঙা পানিতে টইটুম্বর হাওর-বাঁওড়। দূরে মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়, ঝরনা থেকে নেমে আসা স্বচ্ছ পানি, অগণিত পাখির কলতান আর করচ-হিজল বনের অপরূপ সৌন্দর্যের সমাহার দেখা যাবে শুধু টাঙ্গুয়ার হাওরেই। টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত একটি হাওর। মূলত হাওরটি সুনামগঞ্জের দুই উপজেলায় ১৮ টি মৌজায় ৫১ টি হাওরের সমন্বয়ে গঠিত। স্থানীয় লোকজনের কাছে হাওরটি নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল নামেও পরিচিত। শীত মৌসুমে পানি কমে গেলে প্রায় ২৪ টি বিলের পাড় জেগে উঠে। আঞ্চলিক ভাষায় পাড় গুলোকে বলা হয় কান্দা। প্রায় ১২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এ হাওর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি।এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার স্থান হিসাবে মর্যাদাপূর্ণ।
টাঙ্গুয়ার হাওরের রূপের বিবরণ লিখে শেষ করার মতো নয়। বর্ষা ও শীত—এই দুই মৌসুমে দুই রকমের সৌন্দর্যে অপরূপ হয়ে ওঠে এই হাওর। তবে পর্যটকদের মতে, এই হাওর তার আসল সৌন্দর্যে সাজে বর্ষাকালে। এ সময়ে পানিতে থই থই করে চারদিক। প্রতি মৌসুমে যেমন হাওর সাজে ভিন্ন রূপে, ঠিক তেমনি প্রতি বেলাতেও এর সাজ একেক রকম। ভোরবেলা হাওর থাকে সুনসান এবং স্নিগ্ধ, কিছুক্ষণ পর হাওর হয়ে ওঠে পাখির কলকাকলিতে পূর্ণ। দুপুর ও বিকেলে দেখা যায় হাওর ও এর চারপাশের বাসিন্দাদের যাপনচিত্র। আর সূর্য ডোবার সময়ে সম্পূর্ণ হাওর ঢেকে যায় সোনালি রঙের চাঁদরে। রাতের ঝকঝকে আকাশে মিটমিট করে তারার মেলা। সৌন্দর্যের এই আমেজে মেতে ওঠেন নৌকার মাঝি নিজেও। তাই সন্ধ্যার পর এই হাওরে প্রায়ই বসে বাউলগানের আসর।
কিছু কিছু জায়গায় এই হাওরের পানি এতটাই স্বচ্ছ যে পানির নিচের জলজ উদ্ভিদ কিংবা মাছ দেখা যায় খালি চোখেই। এই হাওরকে বলা হয় দেশি মাছের আধার বা ‘মাদার ফিশারিজ’। এখানে ১৪০টিরও বেশি প্রজাতির স্বাদু পানির মাছ পাওয়া যায়। এ হাওরের বিখ্যাত মাছের মধ্যে প্রথমেই উল্লেখ করা যায় মহাশোলের কথা। মাছটির দুটো প্রজাতি রয়েছে বৈজ্ঞানিক নাম যথাক্রমে Tortor এবং Torputitora, টাঙ্গুয়ার হাওরে দুই প্রজাতিই পাওয়া যেত। এছাড়াও আইড়, গাঙ মাগুর, বাইম, তারা বাইম, গুতুম, গুলশা, টেংরা, তিতনা, গরিয়া, বেতি, কাকিয়া মাছের ভাণ্ডার হাওরটি। মাছের পাশাপাশি পাখিরও অভাব নেই এখানে। ২০১৯ সালের পাখিশুমারি অনুযায়ী, হাওর ও এর আশপাশের এলাকায় ২০৮ প্রজাতির পাখি দেখা গেছে। বাংলাদেশে দেখতে পাওয়া আটটি বেয়ারের ভুঁতিহাসের পাঁচটিই পাওয়া গেছে টাঙ্গুয়ার হাওরে। বিরল প্রজাতির পাখিদের মধ্যে আরো আছে কালোপাখা টেঙ্গি, মোটাঠুঁটি ফাটানো, ইয়ার, মাছমুরাল, লালবুক গুরগুরি, পাতি লালপা, গেওয়াল বাটান, লম্বা আঙুল চা পাখিসহ অসংখ্য নাম-না-জানা পাখি। তাছাড়া হিজল, করচ, বরুণ, পানিফল, হেলেঞ্চা, বনতুলসী, নলখাগড়া, বল্লুয়া, চাল্লিয়া, সিংড়া, শালুক, শাপলা, গুইজ্জাকাঁটা, উকলসহ নানা ধরনের উদ্ভিদ এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে।
সৌন্দর্যের এই রাজ্যে স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে পরিবার, প্রিয়জন কিংবা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ভ্রমণ করতে চাইলে সাহায্য নিতে পারেন।
আমাদের হাওরের সিজন শুরু হচ্ছে আগামী ১ মে থেকে।
যেকোন প্যাকেজ এর জন্য যোগাযোগ করতে পারেন আমাদের সাথে।।
+8801726-037323
+8801580-593067
+8801924-567182
+8801749-482867