26/03/2026
🤎
ভিউ আর লাইকের ইঁদুর দৌড়ে যখন নেটদুনিয়া অস্থির, তখন এক তরুণ নিরবে বুনে যাচ্ছেন জীবনের অন্য এক গল্প। তিনি জোবায়ের ইসলাম। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিন থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করা এই তরুণের নেশা এখন ক্যামেরা আর প্রকৃতির মেলবন্ধনে জীবনের গল্প বলা। তার ফেসবুক পেজ “যা ইচ্ছে তাই” তারই প্রমাণ।
আজকালকার সময়ে মানুষ বড় ভিডিও দেখতে চায় না, কয়েক সেকেন্ডেই স্ক্রল করে চলে যায়। কিন্তু জোবায়ের ইসলামের ভিডিওর জাদুকরী শক্তি এখানেই। একবার দেখা শুরু করলে আপনি আর স্কিপ করতে পারবেন না। তার অসাধারণ সাবলীল উপস্থাপনা আর দৃশ্যপটের গভীরতা দর্শকদের বেঁধে রাখে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। এটি কেবল একটি ট্রাভেল ভিডিও নয়, বরং এটি একটি ভিজ্যুয়াল ট্রিট।
জীবনের শত হতাশা, দুঃখ আর প্রতিকূলতার মাঝে আমরা যখন খেই হারিয়ে ফেলি, জোবায়ের তখন সমাধান খোঁজেন প্রকৃতির কাছে। হুটহাট প্ল্যান করে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়েন নিজেকে ‘হিল’ করতে। কোলাহলপূর্ণ শহর ছেড়ে সেই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই উঠে আসছে তার ক্যামেরার লেন্সে।
পুরো বাংলাদেশ চষে বেড়াচ্ছেন জোবায়ের। কখনও মেঘে ঢাকা পাহাড়, কখনও গর্জনমুখর সমুদ্র, আবার কখনও গ্রামবাংলার শান্ত সমতল। প্রকৃতির মাঝে নিজেকে বিলীন করে দেওয়ার এই যে আকুলতা, তা তিনি ছড়িয়ে দিচ্ছেন হাজারো দর্শকের মাঝে। তার ভিডিওগুলো দেখলে মনে হয়, তিনি কেবল ঘুরছেন না, বরং জীবনের একেকটি অধ্যায় দর্শকদের সাথে ভাগ করে নিচ্ছেন।
যে যুগে কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা ভিউ কামানোর নেশায় মত্ত, সেখানে জোবায়ের আমাদের ভাবনার জগতকে নাড়া দিচ্ছেন। তার কন্টেন্টগুলোতে কোনো কৃত্রিমতা নেই, আছে জীবনের নির্ভেজাল সত্য। দর্শক হিসেবে আমরা যখন তার ভিডিও দেখি, মনে হয় এটি আমাদেরই কোনো লুকানো গল্প। গত কয়েকদিন তার ভিডিওগুলো দেখে মনে হয়েছে, তিনি যেন জীবন থেকে তুলে আনা অথেন্টিক সব গল্প বলছেন।
“যা ইচ্ছে তাই!”- নামটার সার্থকতা যেন জোবায়ের নিজের জীবন দিয়েই প্রমাণ করছেন। ঘুরতে গিয়ে তিনি পাচ্ছেন নতুন নতুন অভিজ্ঞতা, আর আমরা পাচ্ছি তাকে দেখার এক অনন্য সুযোগ।
জোবায়ের ইসলামের এই ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং চলুক আজীবন। তার এই পথচলা সফল হোক এবং তিনি এভাবেই জীবনের জয়গান গেয়ে যান। এমনটাই প্রত্যাশা তার অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষীর।
লেখা ও গল্প: Thoughts Behind The KU