01/09/2015
স্বরুপকাটি একদম হঠাত করেই কথাবার্তা ছাড়াই বলতে গেলে বাংলাদেশের ভ্রমন পিপাসুদের কাছে খুব আগ্রহের কেন্দ্রে চলে গেছে। আর শর্ট টাইম বাজেটের মাঝে ঘুরার জন্য বেস্ট একটা প্লেস এইটা । কিন্তু মোসুম বেশি দিনের না , খালি বর্ষা কাল যতদিন থাকে ততদিন , এর পর আর পেয়ারাও হয় না , ভাওসমান জলজ বাজার ও নাকি তেমন জমে না । স্বরুপকাটিকে DSLR এর বাইরে , নরমাল ক্যামেরায় দেখতে ঠিক এমনি লাগে। কিছুদিন আগে আমি গেছিলাম এইখানে , সব ছবি দেওয়া আছে ।
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর অনেক মানুশ হাজার হাজার ডলার খরচ করে থাইল্যান্ড সহ অন্যান্য অনেক দেশেই যায়, বা ভাসমান জলজ বাজার গুলা দেখতে , আবার অনেকেই ভারতের কেরালাই যায় বা সোজা বাংলাই বলতে গেলে খালে-বিলে ঘুরে বেড়ানোর জন্য । অথচ এই নিজের দেশেই, বাংলাদেশের ভেতরেই একই সাথে Floating Market আর Backwater Travel করার মতো জায়গা যে আছে , তা অনেকেই আসলে জানে না। আর এই ভ্রমনের জন্য যেতে হবে জলের দেশ স্বরুপকাটিতে । বরিশালের স্বরুপকাটির ভিমরুলি বাজার হচ্ছে ঐ এলাকার সবচেয়ে বড় ভাসমান পেয়ারার বাজার , আর কে না জানে যে বরিশালের পেয়ারা খুবই বিখ্যাত !!!!!! আর স্বরুপকাটির আটঘর-কুড়িয়ানা থেকেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পেয়ারা সাপ্লাই হয় । তাই খুব ভোরে যদি এই এলাকাটা ঘুরার ভাগ্য কারো জুটে , তাহলে সে একই সাথে অসংখ্য Floating Market দেখার সুযোগ পাবে আর খালে-বিলে ঘুরতে ঘুরতে Backwater Travel বাংলাদেশি ভার্সনটাও কভার হয়ে যাবে তার । আর একই সাথে আরেকটু সময় নিয়ে যদি বরিশাল সদর আর চাঁদপুরে নেমে পদ্মার ইলিশ দিয়ে জেলে পাড়াতে ভাত খেয়ে আসতে পারে, তাইলে তো কথায় নাই । তার উপর লঞ্চ জারনিতে যদি পূর্ণিমার চাঁদ থাকে , ব্যাস আর কি লাগে এই এক জীবনে। আর আমার এই অ্যালবামে আমি আমার সেই ভিমরুলি- স্বরুপকাটি - বরিশাল - চাঁদপুর এর বিভিন্ন স্মৃতি যততুকু পারলাম, দেখানোর চেস্টা করছি ।
আমরা প্রথমে সদরঘাট থেকে ঢাকা - হুলারঘাট - ভান্দারিয়া রুটের লঞ্চ ধরি রাতের সাড়ে ৭ টার দিকে , আর নামি পিরোজপুরের কোড়ি-খাড়া ঘাটে, যেইটা লোকালি ইন্দুরঘাট নামেই বেশি পরিচিত । সেখান থেকে একটা নৌকা ১৩০০ টাকায় ভাড়া করি , ভোর ৫ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত । ঐ নৌকা করে আটঘর- কুড়িয়ানা- ভিমরুলি বাজার , পেয়ারা বাগান , সকাল বেলায় বসা আরো অনেক ভাসমান জলবাগান সহ লোকাল ২/৩ টা বাজারে আমাদের নৌকা থামিয়ে একটু ঘুরে নেয় । আর সাপের মতো একে বেঁকে যাওয়া অনেক খালে ঘুরা ঘুরি তো আছেই। এর পর দুপুর দেড়টার দিকে আবার স্বরুপকাটি ব্যাক করে বরিশালের গুটিয়া মসজিদের উদ্দেশ্যে বাস ধরি । এর পর বরিশালের গুটিয়া মসজিদ আর দুর্গা সাগর দীঘি দেখে রাওনা দেই উজিরপুরের সাতলা এলাকাই, শাপলা বাগান দেখার জন্য, কিন্তু ভেঙ্গে ভেঙ্গে বিশাল এক জার্নি করা ছাড়া তেমন আর কিছুই হই নাই আমাদের ।
সে যায় হোক, সন্ধ্যা ৭ টার দিকে আবার সাতলা থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে রাওনা দেয়, যখন বরিশালের লঞ্চ ঘাটে এসে পোছায় তখন বাজে রাতের ১০টা , সব লঞ্চ ততক্ষনে বরিশাল ছেড়ে দিছে । পরে ঘাটের একজন থেকে জানতে পারলাম, বরগুনা থেকে ঢাকাগামী একটা লঞ্চ রাতের ১১টায় আসে, কিন্তু সেই লঞ্চ নাকি বরিশালে দাঁড়াই না , তবে যদি কিছু টাকা পয়সা দিতে পারি , তাইলে ঐ লঞ্চকে বরিশালেও দাড়া করানো যাবে ১ মিনিটের জন্য। আমরাও উনার কথা মত ৪০০ টাকা পুলিশ+ ঘাটের ইনচার্জকে দিয়ে রাতের ১১টায় ঐ বরগুনা থেকে বরিশালগামী লঞ্চকে দাড়া করাই এবং ঢাকার দিকে রাওনা হয় । ঐ লঞ্চ ভোর আট টার দিকে চাঁদপুর এসে পোঁছায়, আর ততক্ষনে লঞ্চ যাত্রার উপর বিরক্ত হয়ে আমরা ঢাকা না নেমে চাদপুরেই নেমে যায়, আর চাঁদপুরে ইলিশ মাছ দিয়ে ভাত খেয়ে কিছু ঘুরাঘুরি করে আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে লঞ্চ এ চড়ে বসি ।
ঢাকা এর TSC থেকে যাত্রা শুরু করে স্বরুপকাটি - বরিশাল - চাঁদপুর হয়ে আবার TSC এসে পোঁছানোর পরে হিসাব কষে দেখলাম , আমাদের ৮ জনের গ্রুপে জনপ্রতি মাত্র ১৭৭০ টাকা করে খরচ পরে পুরা ট্যুর এ। আর বিনিময়ে যে অভিজ্ঞতা পায়, তা অসাধারন । আর এই অভিজ্ঞতা কাউকে বলে বুজানো যাবে না , একমাত্র যদি না সে নিজের থেকে সেখানে ঘুরতে যায় ।
লেখক এবং চিত্র সংগ্রাহকঃ বিজিতা রায়