15/06/2022
নিকলী হাওর ভ্রমনে রাখতে পারেন দর্শনীয় স্থানের তালিকায়ঃ
কবি চন্দ্রাবতী মন্দির
বাংলা ভাষার প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী। বাবা দ্বিজবংশী দাশ। বিখ্যাত কাব্য ‘মনসা মঙ্গল’ এর রচয়িতা। মা সুলোচনা। কিশোরগঞ্জ শহর হতে ৬ কিলোমিটার দূরে এক নদী। ফুলেশ্বরী। কূলে পাতোয়াইর গ্রাম। যে গ্রামে চন্দ্রাবতীর জন্ম। সাল ১৫৫০ খ্রিঃ।
হৃদয়-মনে শিহরণ জাগানিয়া চন্দ্রাবতীর জীবন! বিরহবিদূর রুপকথার এক অঙ্গার নায়িকা। কিশোরী চন্দ্রবতীর হৃদয়ে সিঁদকাটে এক ব্রাহ্মন যুবক। নাম, জয়ানন্দ। সেই সুত্রে বিবাহের দিন ধার্য্য । ঘটনাচক্রে জয়ানন্দ ধর্মান্তরিত হয়। এক মুসলিম নারীকে বিয়ে করেন। চন্দ্রাবতীর কিশোরী হৃদয় ভেঙ্গে খানখান! বেঁচে থাকার আশ্রয় খোঁজেন। পিতার কাছে জানান মন্দিরের আবদার। পিতা এর মানে জানেন।গগনবিদারী! কন্যার চোখে চোখ রাখেন দ্বিজবংশী। মন্দির গড়েন। ভাগ্যকে উপহার মেনে হয়েছিলেন দেবদাসী!
একদা জয়ানন্দ ফিরে আসে। পাগল প্রায়! জয়ানন্দের হাহাকারে প্রকম্পিত পাতোয়া ফুলেশ্বরী। ততোদিনে কাব্যের ঘোরে দেবদাসীর পাষাণীর হৃদয়। অভিমানী! হৃদয় কপাটে খিল।
দ্বারে দ্বারে বিফল জয়ানন্দ উম্মাদ। পাষাণীর সাথে যার নিত্যির সখ্য, ফুলেশ্বরীর জলে দেয় আত্মহুতি! উথলিয়ে ভাঙ্গে কবির জোড়াতালির হৃদয়! জয়ানন্দের দেহের পাশে দেহ ফেলে ছুটে আরাধ্যের খোঁজে!
কালের স্বাক্ষি কারুকার্য মন্ডিত দুটি মন্দির। অষ্টক ভুজ আকৃতির ৩২ ফুট উঁচু। এক কক্ষের নীচ তলায় সাত কুলুঙ্গি। উপর তলায় পোড়া মাটি সদৃশ কারুময় প্রশস্ত কুলুঙ্গি। দ্বিতীয় তলা থেকে ক্রমশ সরু উপরিভাগ। কবি চন্দ্রাবতী শিব মন্দির বা কবি চন্দ্রাবতী মন্দির। জীবদ্দশার বড় অংশ নিয়ে মন্দিরগুলো কবিময়। মন্দিরের পাশেই কবিবাড়ির ধ্বংসাবশেষ । ১৯৯০ খ্রিঃ দেশের প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষ এটির সংস্কার করেন।
যাতায়াতঃ দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে নামুন কিশোরগঞ্জ শহরে। জেলা সদর হিসাবে ট্রেন/বাস ইত্যাদি বাহনে। এখানে বিমান বন্দর নেই। আসুন
বিখ্যাত শহীদি মসজিদ মোড়। রিক্সা/অটোতে কবির বাড়ি।
খাওয়া-দাওয়াঃ কিশোরগঞ্জ শহর "হোটেল আর হাসপাতাল" র জন্য খ্যাতিময় হয়ে উঠেছে। রসনা বিলাসে অনেকগুলো রেস্টুরেন্ট রয়েছে। ধরণেও ভিন্নতা। সহজ মুল্যে ভালো পরিবেশে সুস্বাদু খাবার। গন্তব্যে রওনার আগে খেয়েই রওনা দিলে ভালো। মন্দিরের কাছেও দু'টো হোটেল রয়েছে।
রাত যাপনঃ উদ্দেশ্য যেহেতু হাওর ভ্রমন, পরবর্তী যাত্রা সুবিধা বিবেচ্য। উজান-ভাটির জেলার মধ্যমণি নিকলী উপজেলা। হাওরের দ্বার খ্যাত। হাওরের কুল ঘেঁষা, জল ধোয়া পরিবেশে রয়েছে বেশ কিছু হোটেল রিসোর্ট। আলম রিসোর্ট, দ্য মার্সি রিসোর্ট, হোটেল হাওর প্যারাডাইস, চেয়ারম্যান গেষ্ট হাউজ, হোটেল শাহজাহানসহ আধুনিক সুবিধা। জলের দেশে, জলের পাশে, জলের উপর, ঢেউ দুলুনির নৌকায় ঘুম। বোটেল। খেতে পাবেন হাওরে হাঁস-মাছ-মিঠা পানির শুঁটকীসহ ট্রেডিশনাল খাবার। বিশ্রাম শেষে যেখান থেকে আপনার দর্শনীয় তালিকার সবই দৃষ্টির নাগালে!
পরবর্তী যাত্রায় রঙিণ বাহারি নৌকা ভাড়া নিতে পারেন। "রথ দেখা কলা বেচার" মতো। "জার্নি বাই বোট" এ দর্শনীয় স্থান ভ্রমন। দৃষ্টি হারানো সুবিশাল হাওর ভ্রমনে পাবেন "গাইড"।
সব মিলিয়ে, হাওরে আপনার ভ্রমনকে নির্ঝঞ্ঝাট আর আনন্দময় করতে " হাওর সিটি"র সেবার পসরা।
স্বাগতম, হে অতিথি। সুস্বাগতম!