IMAGE of Bangladesh - IB - বাংলার প্রতিচ্ছবি

  • Home
  • Bangladesh
  • Mirpur
  • IMAGE of Bangladesh - IB - বাংলার প্রতিচ্ছবি

IMAGE of Bangladesh - IB - বাংলার প্রতিচ্ছবি "IMAGE of Bangladesh - IB - বাংলার প্রতিচ্ছবি" is a Geo-spatial Tech

পাখির চোখে চট্টগ্রাম।
04/09/2022

পাখির চোখে চট্টগ্রাম।

Tour 2021 Januaryটাঙ্গাইলে অবস্থিত মহেড়া জমিদার বাড়ি -------পরিবার কিংবা বন্ধু বান্ধব মিলে একদিনের জন্যে ঘুরে আসা যায় ঢা...
14/03/2021

Tour 2021 January
টাঙ্গাইলে অবস্থিত মহেড়া জমিদার বাড়ি
-------
পরিবার কিংবা বন্ধু বান্ধব মিলে একদিনের জন্যে ঘুরে আসা যায় ঢাকার কাছেই টাঙ্গাইলে অবস্থিত মহেড়া জমিদার বাড়ি থেকে। প্রাচীন বাড়ি গুলোকে রঙ এবং মেরামত করে এখন এতই সুন্দর লাগে, এটাই হয়তো দেশের সবচেয়ে সুন্দর জমিদার বাড়িগুলোর মধ্যে একটি । বর্তমানে এটি পুলিশের প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
♣️ টিকেট কেটে জমিদার বাড়ি ঢুকেই দেখা মিলবে "বিশাখা সাগর" নামের একটি দীঘি। বিশাল বড় এই দীঘি আমাদের প্রথমেই মুগ্ধ করে দিলো। দীঘিতে বোট রাইডের ব্যবস্থা রয়েছে, আধা ঘণ্টা ১০০ টাকা। এছাড়াও ট্রাভেল কার দিয়ে পুরো জায়গাটা ঘুরে দেখা যাবে। এর জন্য খরচ হবে আধা ঘন্টা ৩০০ টাকা । দীঘি দেখে একটু এগোলেই দেখা মিলবে দুটো বিশাল সুরম্য গেট। এই গেট দিয়ে জমিদার বাড়ির মূল প্রাঙ্গনে আমরা প্রবেশ করি।
➖ চৌধুরী লজঃ জমিদার বাড়ি প্রবেশের পরেই মূল ফটক দিয়ে দেখা যায় চৌধুরী লজ। চৌধুরী লজ একটি দ্বিতল ভবন। এতে রয়েছে মোট ছয়টি কক্ষ। চৌধুরী ভবনের প্রধান ব্যক্তি ছিলেন সুধীন্দ্র কুমার রায় চৌধুরী। (সংগৃহীত)
➖ আনন্দ লজঃ সবচেয়ে আকর্ষণীয় বাড়িটি হলো আনন্দ লজ। অত্যন্ত সুন্দর কারুকাজ করা এই বাড়িটি এক দেখায় মুগ্ধ করে দেয়। সাদা ও গোল্ডেন রঙের মিশ্রনে কারুকাজ করা আটটি কলাম রয়েছে, সাথে রয়েছে দারুন সুন্দর কাজ করা বারান্দা। (সংগৃহীত)
➖ মহারাজ লজঃ বাইজেনটাইন স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত মহারাজ লজ ভবনের সামনে ছয়টি (৬) টি কলাম রয়েছে। মহারাজ লজের সামনে রয়েছে সিঁড়ির বাঁকানো রেলিং ও ঝুলন্ত বারান্দা যা ভবনের শোভা বৃদ্ধি করেছে। ভবনটিতে মোট কক্ষ আছে বারো (১২) টি। (সংগৃহীত)
➖ কালীচরণ লজঃ জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির শেষের দিকে নির্মিত এই কালীচরণ লজ অন্য ভবন থেকে অনেকটা আলাদা। ইংরেজি ‘ইউ’ (U) অক্ষরের আদলে এই ভবনটি ইংরেজ স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত। (সংগৃহীত)
➖ জমিদার বাড়ির কালীচরণ লজে এখন মিউজিয়াম করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ব্যবহৃত আগের অস্ত্র রাখা আছে। এছাড়া ভেতরের ইন্টেরিয়র ডিজাইন গুলোও চোখে লাগার মত সুন্দর। আমরা এগুলো দেখে বের হয়ে আনন্দ লজ, চৌধুরী লজ, মহারাজ লজ ঘুরে দেখি।
♣️ জমিদার বাড়ির পিছনের দিকে সুন্দর করে সাজানো। একদিকে মিনি চিড়িয়াখানা রয়েছে, যেখানে হরিণ, ময়ূর এসব দেখা যাবে। আরেক পাশে রয়েছে শিশু পার্ক, যেখানে মিনি ট্রেন, নাগরদোলা সহ বিভিন্ন ছোট রাইড এবং বাচ্চাদের খেলার সুব্যবস্থা রয়েছে। এরপর কিছুদূর এগোলে দেখা যাবে পাসরা পুকুর। এইখানের মাঝে বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এই পুকুরের পেছন দিকে সুন্দর আরেকটা বসার ব্যবস্থা রয়েছে।। পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে এখানে একটু বিশ্রাম নেয়া যাবে আবার ছবি তোলা যাবে।
আমরা এগুলো দেখে ফেরার পথ ধরি। আসার সময় রাস্তার দু'ধারের সরিষাক্ষেত মুগ্ধ করেছে আমাদের।
♣️ যাতায়াতঃ
-- মহাখালি বাস টার্মিনাল থেকে নিরালা সুপার বাসে যাওয়া যায় (টিকেট ১৬০টাকা জন প্রতি) । এছাড়া বিনিময় আছে, লোকাল, টিকেট ১০০ টাকা। এছাড়া এয়ারপোর্টেও এই বাসের কাউন্টার রয়েছে।
-- টাঙ্গাইল নাটিয়াপাড়া বাস স্ট্যান্ডের আগে দুবাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কাছে নেমে যেতে হবে।
-- এখান থেকেই সি এন জি তে করে সোজা জমিদার বাড়ি, ভাড়া ২০ টাকা জন প্রতি।
-- জমিদার বাড়িতে ৮০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে ভেতরে যেতে হবে।
♣️ খাবার--
খাওয়া দাওয়ার জন্যে এখানে ঢোকার গেটের পাশে হ্যালো ক্যাফে নামের একটি রেস্টুরেন্ট আছে।। দাম হিসেবে খাবার মোটামুটি। এছাড়াও নাটিয়াপাড়া বাজার গিয়ে লোকাল হোটেলেও খাওয়া দাওয়া সেরে ফেলা যাবে।
♣️ ♣️ বিঃ দ্রঃ যেখানেই যান সেখানের পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের।

মৈনট ঘাট ঢাকার দোহারে অবস্থিত, যেখানে গেলে আপনি মুগ্ধ হবেন, বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকবেন পদ্মা নদীর অপরূপ জলরাশির দিকে। এই ...
16/03/2020

মৈনট ঘাট ঢাকার দোহারে অবস্থিত, যেখানে গেলে আপনি মুগ্ধ হবেন, বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকবেন পদ্মা নদীর অপরূপ জলরাশির দিকে। এই বিশাল জলরাশি, পদ্মায় হেলেদুলে ভেসে বেড়ানো জেলেদের নৌকা দেখা আর পদ্মার তীরে হেটে বেড়ানো, সব মিলিয়ে কিছুক্ষণের জন্য আপনার মনে হবে আপনি এখন ঢাকার দোহারে নয়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আছেন। মূলত এই কারণেই অনেকে মৈনট ঘাটকে বলে থাকেন মিনি কক্সবাজার।
একটা সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে সূর্যাস্ত দেখলে পরবর্তী একশোটা সন্ধ্যার কথা মনে থাকবে। ঢাকার আশে পাশে হওয়ার কারনে প্রচুর মানুষ এখানে আসছে, ঘুরছে। স্পীডবোট, ট্রলার অথবা খেয়ানৌকা নিয়ে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে অনেকেই।

নবাবগঞ্জ রুটে মৈনট ঘাটে আসলে ইচ্ছা করলে পাশাপাশি দেখে যেতে পারবেন নবাবগঞ্জের জজবাড়ি, উকিলবাড়ি, আনসার ক্যাম্প, খেলারাম দাতার বাড়ি সহ আরও কিছু দর্শনীয় স্থান।

খরচ
স্পীডবোটে মৈনট ঘাট থেকে ফরিদপুরের চর ভদ্রাসন ঘুরে আসতে পারেন।যেতে হলে ১৬০ টাকা করে গুনতে হবে জনপ্রতি। ১০ থেকে ১২ জন নিয়ে চলতে পারবে। স্পীডবোটে মৈনট ঘাট থেকে চর ভদ্রাসন যেতে সাধারণত সময় লাগে ১৬ থেকে ১৭ মিনিট। পদ্মায় ঢেউ থাকলে ২০ মিনিট। ট্রলারে ভাড়া হলো ৮০ টাকা করে। ২০ মিনিটের জন্য স্পীডবোট রিজার্ভ করে পদ্মায় ভেসে বেড়াতে চাইলে গুনতে হবে ২০০০ টাকা। কয়েকজন মিলে শেয়ারে ভাড়া করলে ভালো হবে। আর দশ মিনিটের জন্য একহাজার টাকা। ট্রলার রিজার্ভ করে পদ্মায় ঘুরতে চাইলে ১ ঘন্টার জন্য ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা গুনতে হবে। অবশ্যই দামাদামি করে নেবেন। ইঞ্জিনযুক্ত ছোট নৌকা নিয়ে ঘুরতে চাইলে ১ ঘন্টায় ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা গুনতে হবে।

খাবেন কোথায়:
মৈনট ঘাটে অনেক গুলো হোটেল আছে। তার মধ্যে দুটি ভাতের হোটেল আছে জনপ্রিয়। একটি আতাহার চৌধুরীর হোটেল অপরটি জুলহাস ভূঁইয়ার হোটেল। আতাহার চৌধুরীর হোটেলে ইলিশ ৬০ থেকে ৯০ টাকা। বড় সাইজের ইলিশ খেতে চাইলে আগেই অর্ডার দিতে হবে। এছাড়াও বোয়াল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিংড়ি ৬০ থেকে আশি টাকা। ভাত ১০ টাকা প্লেট। আর কার্তিকপুর বাজারে শিকদার ফাস্টফুড নামক একটা খাবারের দোকান আছে, ঢাকা হোটেল সহ আরও কিছু ভাতের হোটেলও আছে। আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, কার্তিকপুরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি খেতে ভুলবেন না।

নিরাঞ্জন মিষ্টান্ন ভান্ডার, মুসলিম সুইটস, রনজিৎ মিষ্টান্ন ভান্ডার সহ আরও কিছু মিষ্টির দোকান আছে এখানে। ছানার রসগোল্লা ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কেজি। সাধারণ রসগোল্লা ১৫০ টাকা কেজি। চমচম ও কালোজাম ১৬০ টাকা কেজি। বালুশা ১৪০ টাকা কেজি। জিলাপি ১০০ টাকা কেজি। রসমালাই ৩০০ টাকা কেজি। দধি ১৪০ টাকা কেজি।

মৈনট ঘাট যাবার উপায় হলো:
ঢাকা থেকে মৈনট ঘাটে আসার সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায়টি হচ্ছে গুলিস্তানের গোলাপ শাহের মাজারের সামনে থেকে সরাসরি মৈনট ঘাটের উদ্দেশ্যে অনেকগুলো বাস ছেড়ে যায়। ৯০ টাকা ভাড়া আর দের থেকে আড়াই ঘন্টার বিনিময়ে আপনি পৌঁছে যাবেন মৈনট ঘাট। ফেরার সময় একই বাসে আবার ঢাকা চলে আসবেন। মৈনট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে শেষ বাসটি ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৬ টায়।

বি. দ্র: ঘুরতে গিয়ে আমরা যদি একটু সচেতন হই এবং নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনাগুলো ফেলি, তবে আমাদেরই পর্যটন স্পটগুলোই সুন্দর থাকবে।
Collected by ToB

"মেঘের দেশে বিচরণ"'Good Times & Crazy Buddies Make the Best Memories'সাজেক ভ্যালি! এই নামটার মধ্যেই কেমন জানি আলাদা একটা...
16/03/2020

"মেঘের দেশে বিচরণ"
'Good Times & Crazy Buddies Make the Best Memories'
সাজেক ভ্যালি! এই নামটার মধ্যেই কেমন জানি আলাদা একটা অনুভূতি আছে🥰। ভ্রমণ যখন নেশা তখন ঘরে বসে থাকা কেন😉! ইন্টার্ণ, রিপোর্ট, ডিফেন্স সব কিছুর চাপে😤 জর্জড়িত হয়ে সবাই যখন হন্নে হয়ে ভাবছিল কোথায় যাওয়া যায় তখন হঠাৎ সেই পুরনো প্লান টা মাথায় আসল। মোটামুটি সব জায়গায় তো যাওয়া হলো চলো সাজেক টা দেখে আসি। আর আমি "Tob helpline" গ্রুপে জানতে চাইলাম মেঘের দেশে মেঘের সন্ধান পাওয়া যাবে কিনা। কমেন্ট বক্সে একের পর এর না-বোধক উত্তর পেয়ে যখন উৎসাহের রেখা নিম্নতর হতে লাগল😔 ঠিক তখন মাথায় আসল 'পূর্ণিমা রাত,আকাশে তারার মেলা আর কুয়াশা শূন্য দূরের পাহাড়' মন্দ হবে না😇। তখনই এক ভাই উৎসাহের রেখা বাড়িয়ে দিলেন এই বলে যে," ভাই কোথাও গেলে আসলে সিজন লাগে না, এনজয় করার মত একটা মন থাকলেই চলে"😍। ব্যাস! পরের দিনই আমার সঙ্গীদের নিয়ে প্লান করে ফেললাম আর টিকেট কেটে ফেললাম। হলের ছাঁদে বসে যখন প্লান করছিলাম ঠিক তখনই কেমন জানি একটা ভালোলাগা কাজ করছিল। ভাবতেছিলাম আসলে কেমন হবে মুহুর্ত গুলো। আকাশে পূর্ণ চাঁদ, তারার ছড়াছড়ি আর আমরা হেলিপ্যাড এ বসে গল্প করছি😌। আজকে কোনোও টপিক নেই গল্পের। হঠাৎই অট্ট হাসিতে ভেঙে পড়ছি সবাই😂। এটাই বুঝি ভ্রমণের স্বার্থকতা। যেখানে থাকবে না কোনো বাধা ধরা নিয়ম, থাকবে না কোনো প্রতিবন্ধকতা🤗। শুধু কল্পরাজ্যের গল্প হবে। হঠাৎ করে আমার আনমনা মনকে প্লান করার ডায়রিতে ফিরিয়ে আনল বন্ধুর ডাক🙄। সে বলল কালকেই টিকিট কনফার্ম কর নয়ত আবার পিছিয়ে যাবে। আর সাথে টি-শার্টেরও। আমাদের প্লান ছিল ঢাকা থেকে রাতের বাসে খাগড়াছড়ি, সেখান থেকে চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করে সাজেক। ১ রাত সাজেক থাকব, সেখান থেকে পরের দিন সকাল ১০ টার স্কটে খাগড়াছড়ি শহরে ব্যাক করে আলুটিলা গুহা আর ঝুলন্ত ব্রিজ দেখব। ৩.৩০ এর বাসে করে রাঙ্গামাটি যাবো। রাতে হোটেল ঠিক করে পরের দিন নৌকা রিজার্ভ করে রাজবন বিহার,চাকমা রাজার বাড়ি, সুভলং ঝর্ণা,আদিবাসী গ্রাম, চাং পাং রেস্তোরাঁ তে দুপুরের খাবার, ঝুলন্ত সেতু আর বিকেল টা পলওয়েল পার্কে কায়াকিং করব। সন্ধ্যা ৬.৩৫ এ চট্টগ্রাম শহরে ব্যাক করব। রাতে বন্ধুর বাসায় থাকব। পরের দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখব৷ রাতে আবার বন্ধুর বাসায়। পরের দিন পতেঙ্গা ও নেভাল হয়ে রাতের বাসে ঢাকা ব্যাক করব। প্লান মোটামুটি লম্বা। টোটাল আসা যাওয়া ছাড়া ৪ রাত ৫ দিন। প্লান শেষে বরাবরের মত সবাইকে জানানোর পালা। যদিও আমি কাউকে এটা বলি না যে যাবি কিনা!☺ বলি যে টিকেট কবে কাটব বল😁। জানি "Crazy Buddies" এর সব গুলাই আমার চেয়ে বড় Crazy🤪. যাক ৭ জনের টিকিট কেটে ফেললাম। ৯-৩-২০২০ তারিখ রাত ১০.৩০ মিনিট সেন্ট-মার্টিন পরিবহন এ। মাঝখানে ২ রাত যেন কাটেই না😐। ফেইসবুকে "মেঘের রাজ্যে বিচরণ নামে" গ্রুপ খুললাম😍। শুরু হলো প্রহর গুনা। আলহামদুলিল্লাহ! যারা আমার জীবনের অর্ধাংশ, যাদের নিয়েই আমার প্রতিটা গল্প, আর সেই প্রিয় ৭ টা মুখ নিয়েই আমাদের যাত্রা🥰। যাওয়ার দিন মনে মনে ভাবলাম আমরা ৭ জনের গ্রুপ আছি(৫ টা ছেলে ২টা মেয়ে)। যদি ২ জোড়া কাপল পেয়ে যেতাম তাহলে চাঁদের গাড়ি শেয়ারিং করা যেত। খরচ টাও কমে আসত। ছাত্রজীবনে ট্যুরের প্রধান প্রতিবন্ধকতা যেখানে খরচ সেখানে এটা ভাবা ছাড়া উপায় নাই। আল্লাহর উপর ভরসা করে বাসা থেকে বের হলাম পান্থপথের উদ্দেশ্য। কিন্তু যাওয়ার পথে ঘটল আসল বিপর্যয়। এক বন্ধুর আম্মু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ল😔৷ সে কাউন্টার থেকে বাড়ির উদ্দেশ্য রওয়ানা হলো। আমরা বাকি ৬ জন স্তব্ধ হয়ে বসে রইলাম😑। এদিকে বাস ছাড়ার ৩০ মিনিট বাকি। ওরে ছাড়া ট্যুরে যেতেও মন চাচ্ছে না৷ কিন্তু সে বলল তোরা যা। দোয়া কর যেন আম্মু সুস্থ হয়ে যায়। তাহলে আমি সাজেক মিস করলেও রাঙ্গামাটিতে যোগ দিব তোদের সাথে। কথা গুলো বলছিল আর ভিতর টা কেমন জানি দুমড়ে-মুচরে যাচ্ছিল😣। আসলে নিয়তির কাছে সবাই অসহায়। যাক তার কথায় সবাই রওয়ানা হলাম। বাসে বসলাম। ট্যুরে যাচ্ছি অথচ কারও মন ভালো নেই😑। সবার মনে চিন্তা আর প্রার্থনা, হে আল্লাহ! তুমি ওর আম্মুকে তাড়াতাড়ি সুস্থ করে দাও🙂। আমাদের সামনে এক ভাইয়া বসেছিলেন৷ তিনি আমাদের লক্ষ্য করতেছিলেন। সিট থেকে উঠে আমাদের কাছে আসলেন। পরিচিত হলেন। আমাদের মন খারাপের কারণ জানলেন। আমাদের ট্যুর প্লান জানলেন। তারপর তিনি বললেন, আমি আমার আরও ২ ফ্রেন্ড সবাই বউ সহ সাজেক যাচ্ছি যদি আপনাদের অসুবিধা না হয় তাহলে একসাথে আমাদের ট্যুর প্লান টা সাকসেসফুল করতে চায়✌। তখন ভাবলাম। অনিশ্চয়তা জীবনেরই অংশ। হয়ত তার কপালে নেই, তাই আমাদের সাথে যেতে পারছে না। সবাই নতুন উদ্যম ফিরে পেলাম।উনারা ৬ জন আর আমরা ৬ জন। বাসেই ভাইয়াদের সাথে ফ্রি হয়ে গেছিলাম সবাই। সুন্দর একটা মন হলো ভ্রমণকারীদের বৈশিষ্ট্য এটা মিথ্যে নয়❤। বাস খাগড়াছড়ি যাওয়ার আগেই আমরা একই পরিবারের সদস্য এর মতে হয়ে গেলাম। কেউ দেখে ভাববেই না আমরা বাসে উঠার আগেও কেউ কাউকে চিনতাম না। বাস চলছে। চোখে ঘুম নেই। ভাবছিলাম কুমিল্লা পার হয়ে ঘুমাব কিন্তু বাস মিরসরাই দিয়ে খাগড়াছড়ি রোডে ঢুকার পর কোনোও চোখ ঘুমাতে চাইবে না। কোনো চোখ এই দৃশ্য মিস করতে চাইবে না। ভয়ংকর সুন্দর এই দৃশ্য😱। চোখ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সামনে রাস্তার পানে। খুঁজে বেড়ায় রাস্তার বাক। হঠাৎ বাস খাঁড়া উপরে উঠে আবার নেমে যায় খাঁড়া নিচে। এই ফিলিংস টা মনোমুগ্ধকর। পাহাড়ি রাস্তায় হেলতে দুলতে বাস ভোর ৬ টায় খাগড়াছড়ি পৌঁছাল। বাস থেকে নেমে ফ্রেশ হয়ে সবাই নাস্তা করে নিলাম। তারপর আমি আর বড় ভাইয়াদের একজন মিলে চাঁদের গাড়ি ঠিক করে নিলাম। প্যাকেজ ১ রাত + পরের দিন শহর। চাঁদের গাড়ি শহর থেকে দিঘিনালার উদ্দেশ্য চলল। আর আমরা সবাই উঠে পড়লাম গাড়ির ছাদে। কেউ এটা মিস করবেন না। কারণ বাঘাইছড়া থেকে সেনাবাহিনী কাউকে উপরে উঠতে দেয় না। পাহাড়ি রাস্তায় চাঁদের গাড়ির ছাঁদে বসার যে কি অনুভূতি তা কেউ না উঠলে বুঝবেন না। আমি আবার যাব শুধু এ ফিল টা নেওয়ার জন্য। যাক গাড়ি দিঘিনালা হয়ে ৯.৩০ এ বাঘাইছড়া আর্মি ক্যাম্পে পৌঁছাল। নাম এন্ট্রি করে অপেক্ষা করতে লাগলাম। ১০ টার স্কটে আমরা সাজেক ভ্যালির উদ্দেশ্য রওয়ানা হবো। অপেক্ষা সবসময় বিরক্তিকর হয়। কিন্তু তা যে এক্সট্রিম লেভেলে চলে যাবে জানা ছিল না। সেদিন আমাদের ১০ টার স্কট ১২.৩০ মিনিটে ছাড়ে। যারা সকালের স্কটে গিয়ে বিকেলের স্কটে ফিরে আাসার পরিকল্পনা করে গিয়েছিলেন তাদের কি অবস্থা হয়েছিল ভেবে দেখেন৷ তারা যেতেই পারল না😑। যাই হোক, গাড়ি ছাড়ল। মনে মনে দেশের পর্যটন শিল্পের গোষ্ঠী উদ্ধার করতে করতে🤬 যখন দৃষ্টি পড়ল সামনের রাস্তার দিকে তখন সব ভুলে গেলাম। অবাক করা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম রাস্তার দিকে❤। ড্রাইভার ভাইয়া আমাদের বলে দিলেন সবাই যেন শক্ত করে ধরে বসি। রাস্তা অনেক ঢালু। আবার অনেক উঁচু৷ বিশেষ করে শেষের ৪ কি.মি. রাস্তা ভয়ংকর💥। এ রোড টার বিশেষ মোহ আছে। যা সবাইকে বার বার সাজেক যেতে উস্কানি দেয়। সব গুলা পাহাড় ট্রেক করে গাড়ি যখন শেষ পাহাড়ে উঠছিল তখন নিচ থেকে সাজেকের রঙ্গিন কটেজ গুলা দেখা যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল পাহাড়ের পাদদেশে ঠাঁই দাড়িয়ে আছে কোনো সভ্যতা। যেখানে রুপকথার গল্প হয়। যেখানে নেই কোনো কৃত্রিমতা। গাড়ি আস্তে আস্তে উপরে উঠছে আর সে মেঘের রাজ্য আরও স্পষ্ট ভাবে দৃষ্টি গোচর হচ্ছে। একদম শেষ বাকে এসে ভয় পেয়ে গেলাম। মনে হচ্ছিল ৯০° খাঁড়া পাহাড়ে গাড়ি উঠছে🙄। একটু এদিক সেদিক হলেই শেষ! যাক গাড়ির ড্রাইভার গুলো খুবই দক্ষ। আমরা ২.৩০ এর দিকে পৌঁছে গেলাম সেই কল্প বাস্তবতায়। যা কেড়ে নিয়েছিল কত রাতের ঘুম😍। ভ্রমণ পিপাসুদের এমনই হয়। তারা প্রতিটি ভ্রমণ স্পট সম্পর্কে আলাদা একটা ফ্যান্টাসিতে ভুগে। যা সেই স্পটে গিয়ে পরিতৃপ্ত হয়। আমাদের এখন কটেজ খোঁজার পালা। শুক্র-শনি ছাড়া রুম এভেলেইবল। তাই তেমন কষ্ট হয় নি রুম পেতে। ভালো বারান্দার ভিউ দেখে আমরা একটা কটেজ ঠিক করে নেয়। ঐ কটেজ এর নিজস্ব খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা আছে। তারা আমাদের ৩ বেলা খাবারের প্যাকেজ দেখাল। আমরা দুপুরে ব্যাম্বো চিকেন,রাতে বারবিকিউ আর পরের দিন সকালে খিচুড়ি-- এই প্যাকেজ টা নিলাম। আমরা রুমে চলে গেলাম ফ্রেশ হওয়ার জন্য এদিকে হোটেল এ আমাদের ব্যাম্বো চিকেন রান্না করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ১ ঘন্টার মধ্যে রুমে ডাক আসল আমাদের খাবার রেডি আর আমরাও পাহাড়ের ছড়ার ঠান্ডা পানি দিয়ে শাওয়ার সেরে নিলাম। সবার সমস্ত ক্লান্তি নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো। আমাদের সামনে ব্যাম্বোচিকেন পরিবেশন করা হলো। দেখতে যতটা ইন্টারেস্টিং খাবারটা তার চেয়েও বেশি টেস্টি। ইয়ামি ইয়ামি😋। ক্ষুধার্ত পেটে তখন যা সামনে আসতো তাই গপাগপ গিলতাম। কিন্তু আমরা সবাই এই ব্যাম্বোচিকেনের প্রেমে পড়ে গেলাম। সত্যিসত্যিই অসাধারণ। অবশ্যই টেস্ট করবেন। খাবার শেষ করতে করতে ৪.৩০ বেজে গেলো। এদিকে আমাদের গাড়ি কটেজের সামনে অপেক্ষা করতে লাগলো। পরবর্তী প্লান সাজেকের সবথেকে উঁচু চূড়া কংলাক পাহাড়ে সূর্যাস্ত দেখা। সাজেক আসতে আড়াই ঘন্টা সময় নষ্ট হওয়ার আমাদের আর বিশ্রামের সময় থাকল না। এবার আবারও উঠে পড়লাম গাড়ির ছাঁদে। হেলিপ্যাড পার হয়ে গাড়ি যখন মাটির রাস্তা ধরে যাচ্ছিল আমরা সবাই ছাঁদে গড়াগড়ি খেতে লাগলাম😅। ড্রাইভার সাহেবকে তাড়াতাড়ি বললাম গাড়ি থামাতে। সবাই ভিতরে গিয়ে বসলাম। ২ জনের অসহায় অবস্থা দেখে সবাই হাসতে হাসতে🤣 পেট ব্যাথা হবার উপক্রম। গাড়ি পাহাড়ের গোঁড়ায় ছেড়ে দিলো আমাদের। এখন ২০-২৫ মিনিটের ট্রেকিং এর পথ। খাঁড়া পাহাড় বেয়ে উঠতে হবে সেই কংলাকের চূড়ায়। বাঁশের দরকার পড়ে না। এমনিতেই উঠা যায়। আর যে কেউ উঠতে পারবেন। দেখলাম ৫৫-৬০ বছরের ভ্রমণ প্রেমিক আঙ্কেল -আন্টিও সাজেকের চূড়ায়🤔। সেখানে সূর্যাস্ত দেখলাম। সূর্যাস্ত দেখার ২ টা আলাদা ফিল আছে। সাগরে একধরনের ভালো লাগা আর পাহাড়ে আরেক ধরনের। তাই ভ্রমণ প্রেমীদের শুধু কক্সবাজার,কুয়াকাটা অথবা সেন্টমার্টিন এর সূর্যাস্তের গল্প না করে কংলাক পাহাড়ে সূর্যাস্ত অবলোকন করা উচিত। তাহলে প্রকৃতির প্রতি প্রেম আরও বাড়বে। সূর্যাস্ত দেখে চলে আসলাম হেলিপ্যাড এ। সেখানে অবশ্যই ব্যাম্বো টি এর স্বাদ টা নিতে ভুল করবেন না। আর তেঁতুল এর টি বেস্ট। হেলিপ্যাড এ আমরা বেশি সময় নষ্ট করি নি। আমাদের হেলিপ্যাড নিয়ে আলাদা প্লান। যাক চা শেষ করে চলে গেলাম কটেজে। একটু বিশ্রাম নিলাম। একটু পর ডাক আসলো রাতের খাবারের। ৯.৩০ এ গেলাম রাতের খাবার খেতে। বারবিকিউ সাথে পরটা। দুর্গম পাহাড়ে এত সুস্বাদু রান্না দেখে আমরা অবাক। এক্সপেকটেশন এর চেয়ে ১০১% বেশি। শহরের নামীদামী রেস্তোরাঁ গুলাও যেন ফেইল। খাবার খেয়ে চলে গেলাম হেলিপ্যাডে। এখন আমার ট্যুরে আসার দিনের ভাবনার জগৎ টাকে খোঁজার পালা। হ্যা। আকাশে পূর্ণ চাঁদ😌। আর তারার মেলা। শুয়ে তাকিয়ে আছি তাদের মিলনমেলা দেখতে😌। এ দৃশ্য অন্য কোথাও খুঁজে পাবেন না। ভাবনার সাথে ১০০% মিলে গেলো😍। অনেকে সাজেক আসে মেঘ দেখতে আর মেঘ না পেলে হতাশ হয়ে এক বুক হতাশার গল্প লিখে😑। অন্যদেরও হতাশ করে। তারা কি ভেবে দেখে না শুধুমাত্র মনটাকে সেট করে নিলেই হয়😃। তা যে-কোন পরিবেশে আপনাকে আনন্দ দিতে বাধ্য। তবে হ্যা। অবশ্যই সঙ্গী থাকতে হবে মনের মত🥰। বাতাস, পূর্ণিমা চাঁদের আলো, তারার মেলা। সাথে বন্ধু-বান্ধবের গল্প। সময়টা কেমন জানি আমাদের সাথে হিংসা করছিল😒। খুব তাড়াতাড়ি অতিবাহিত হতে লাগল সময়। কখন যে ঘড়ির কাঁটায় ১ টা বেজে গেলো,টেরই পেলাম না। যদিও কটেজে যেতে ইচ্ছে করছিল না তবুও শরীর টা দিল না। তার একটু রেস্ট দরকার। কারণ সে আমাদের কে সকালের জন্য প্রস্তুত করবে৷ চলে গেলাম রুমে। এত ঠান্ডা পরিবেশ মনে হচ্ছিল শীতকাল। কম্বল জড়িয়ে দিলাম ঘুম। পরবর্তী প্লান সূর্যোদয় দেখা। ৫ টায় ঘুম ভেঙে গেল। সবাই তড়িঘড়ি করে রেডি হয়ে দৌড় দিলাম হেলিপ্যাডের উদ্দেশ্য। এদিকে চাঁদ মামা এখনও ঠায় দাঁড়িয়ে। আমাদের দেখে যেন মুখ লুকাতে থাকল😌। একপাশে চাঁদ আর অপর পাশে লাল আভা❤। মানে জানান দিচ্ছে সূর্য উঠবে💥। সবাই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সেদিকে। সাজেক যাওয়ার সব থেকে বড় আকর্ষণ ছিলো আমার কাছে ভোরের মুহুর্ত টুকু। সাজেক ভ্যালি তুমি বড়ই অপরূপ😍। তুমি মায়াবী❤। তুমি প্রেয়সী🥰। চোখ বন্ধ করলে এখনও ভোরের রূপ ভেসে উঠে অবলীলায়। সূর্যোদয় দেখে সাজেক পুরোটা একটা চক্কর দিয়ে ৯.৩০ এ নাস্তা করতে গেলাম। নাস্তা সেরে ১০ টার স্কটে ফিরার পালা। আমি ফিরছি। কিন্তু মনটা রেখে আসছি সাজেক ভ্যালি। আবার যাব মনটাকে ফিরিয়ে আনতে।(লেখা অনেক বড় হয়ে গেছে। বাকি প্লান সম্পূর্ণ করেই আমরা ঢাকায় ব্যাক করেছি। ট্যুরের বাকি অংশ লুকানো থাকুক মনের ভিতর। অবসর সময়ে গল্প করার খোরাক হবে।)

কিভাবে যাবেন ও খরচাখরচঃ-
১.ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি নন-এসি বাস -৫২০ টাকা।(সব বাস সেইম।আমি গিয়েছিলাম সেইন্টমার্টিন পরিবহনে। ভাড়া-৬০০।শান্তি পরিবহনে গেলে দীঘিনালা যেতে পারবেন ভাড়া-৫৮০)
২.চাঁদের গাড়ি খাগড়াছড়ি শহর/দীঘিনালা সব জায়গা থেকে সেইম। রিজার্ভ নিতে হবে। ঐখানে ভাড়ার লিস্ট আছে।আমরা সাদা কালার নিয়েছিলাম। ১২ জনের ভাড়া ৯,৭০০ টাকা।১৬ জন ইজিলি বসতে পারবে।এর থেকে ছোট ১২ জনের একটা আছে ভাড়া-৮১০০টাকা।১ রাত থাকা ও পরের দিন খাগড়াছড়ি শহর ঘুরাবে।
৩.আমরা মেঘের বাড়ি রিসোর্টে ছিলাম। ভাড়া ২ টা ডাবল রুম ২৫০০ টাকা। আর খাবারের প্যাকেজ ৩ বেলা ৫০০ টাকা।
৪.আমাদের পার-পারসন খরচ(শুধু সাজেক)ঃ-
ভাড়া(আসা-যাওয়া) -১১২০
চাঁদের গাড়ি-৮০০
খাবারের প্যাকেজ-৫০০
রুম ভাড়া-২৫০
সাজেকে অন্যান্য খরচ-২০০
খাগড়াছড়ি শহরে খরচ-টিকেট+খাবার+অন্যান্য-৫০০
সর্বমোট-৩,৩৭০টাকা।

এখন আসল কথায় আসি। প্রকৃতি অকৃপণ ভাবে আমাকে তার রূপ বর্ণনা করার সুযোগ করে দিয়েছে বিধায় আমি লিখতে পেরেছি। দয়া করে কেউ প্রকৃতিকে হত্যা করবেন না। ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন। প্রকৃতিকে ভালোবাসুন। দেখবেন সে দ্বিগুণ লাভে ভালোবাসা ফেরত দিবে।ধন্যবাদ।
Collected by ToB

 #অনিন্দ্য_সুন্দর_রূপকথার_খুমের_রাজ্যের_ভ্রমণ_কাহিনী🏞আমিয়াখুম, নাফাখুম, ভেলাখুম ও রেমাক্রি 🏕🌱বহু দিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে,...
16/03/2020

#অনিন্দ্য_সুন্দর_রূপকথার_খুমের_রাজ্যের_ভ্রমণ_কাহিনী

🏞আমিয়াখুম, নাফাখুম, ভেলাখুম ও রেমাক্রি 🏕

🌱বহু দিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে,
বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে
দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,
দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু
''দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শিষের উপরে
একটি শিশিরবিন্দু''🌾

আশায় আশায় দিন যায়নি, বরং আশা পূরন হয়েছে। বলা হয় কোন জিনিস যদি মন থেকে চাওয়ার মত চাওয়া হয়, তাহলে আল্লাহ্‌ তায়ালা সেই আশা পূরন করেন এবং এই প্রমাণ আমি পেয়েছি। বহুদিন ধরে বাংলাদেশের নায়াগ্রা খ্যাত নাফাখুম ও আমিয়াখুম যাবার ইচ্ছে ছিলো, কিন্তু যাই যাই করে আর যাওয়া হয়নি। অবশেষে মহান আল্লাহ্‌ আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকালেন, পূর্ন করলেন আমাদের বাসনা। আমরা ছিলাম সাতজন, ১৪ই ফেব্রুয়ারী কাকডাকা ভোরে বান্দরবান এসে পৌঁছাই আমরা। কালক্ষেপণ না করে চলে যাই থানচি ৩নং বাসস্ট্যান্ডে, গিয়েই টিকেট কেটে ফেলি। বান্দরবান থেকে থানচির ২য় বাস সকাল ৯ টায়। তারপর বলিপাড়া বিজিবি ক্যাম্পে ফর্মপূরন করতে হয়। ১:৩০মিনিটে থানচি গিয়ে পৌঁছাই, তারপর থানচি ঘাটে ফর্ম পূরন করি।

থানছি পৌঁছাতেই আমাদের গাইড উসাই মারমা সবার আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে থানা পুলিশের অনুমতি ও বিজিবির অনুমতি নিয়ে নেয়। দুপুরের খাবার খেয়ে ৩ টায় উঠে পড়ি নৌকাতে।

নৌকাতে যাওয়ার সময় অসাধারণ সৌন্দর্য দেখতে দেখতে পৌঁছে যাই পদ্মমুখ/পদ্মঝিরি তে। এখান থেকেই শুরু হয় সবার আসল পরিক্ষা😊মানে পায়ে হাটা শুরু। ঝিরিপথ আর উঁচুনিচু পাহাড় পাড়ি দিয়ে যেতে হবে আমাদের গন্তব্য থুইসা পাড়ায়। ঝিরিপথ ধরে হাটতে হাটতে সবাই যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন ঝিরিপথের পানিতে গা ভাসিয়ে শরীর টাকে শান্তি দিয়ে আবার প্রশান্ত করে হাটা শুরু করতে হয়,তখনি মনে মনে গেয়ে উঠি

🌸কত-যে গিরি কত-যে নদী -তীরে
বেড়ালে বহি ছোটো এ বাঁশিটিরে,
কত-যে তান বাজালে ফিরে ফিরে
কাহারে তাহা কব।
আমারে তুমি অশেষ করেছ, এমনি লীলা তব–
ফুরায়ে ফেলে আবার ভরেছ জীবন নব নব🏵

পথিমধ্যে একজন বমি করে অবস্থা যা তা, সে খুবই অসুস্থ হয়ে যায়। তার জন্য কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার শুরু হয় আমাদের যাত্রা। হাটতে হাটতে সূর্য ডুবে যায়, চারিদিকে অন্ধকার। এই প্রথম রাতের বেলায় ট্রেকিং করছি ঘন জংগল ও বিশাল পাহাড়ের মাঝে। গাইডের ছোট্ট লাইট আর আমাদের মোবাইলের আলোতে খুবই সাবধানে ঝিরি পথ ও পাহাড় পাড়ি দিতে হচ্ছে। রাত ৮.৩০ টায় থুইসা পাড়ায় পৌছেই গোসল করে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। কারণ খুব ভোরে আবার হাটা শুরু করতে হবে।

ভোর ৫.৩০ টায় ঘুম থেকে উঠে খিচুড়ি খেয়ে রওনা হই ভেলাখুমের উদ্যেশ্যে। আমরা ৭ জন থুইসা পাড়া থেকে দেবতা পাহাড় পাড়ি দিয়ে ভেলাখুম ও আমিয়াখুম পৌছালাম। ভেলাখুমে ভেলায় চড়ে যাওয়ার মুহুর্তটা সারাজীবনের জন্য অন্যরকম পাওয়া হয়ে থাকবে। স্বচ্চ পানিতে গা ভিজানো, বিশাল পাথরের সাক্ষাৎ সবকিছুই আপনার কষ্টকে ভুলিয়ে দিবে। আর আমিয়াখুমের সৌন্দর্য কি এক অদ্ভুত বাধনে আপনাকে জড়িয়ে নিবে। ইচ্ছে করবে শতজনম এখানে থেকে যাই। আমিয়াখুমের স্বচ্চ পানিতে ঝাপ দেওয়া, সাতার কাটা ও এক অন্যরকম অনুভূতি। যাই হোক এখানে ২ ঘন্টা সময় কাটিয়ে আবারো রওনা দিলাম থুইসা পাড়ার উদ্দেশ্য। থুইসা পাড়াতে দুপুরের খাবার খেয়ে রওনা হলাম নাফাখুমের উদ্দেশ্যে। ঝিরিপথ দিয়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য আর ছোট্ট ছোট্ট পাথরের সমারোহের মাঝখানে পড়ন্ত বিকেলে নাফাকুং (প্রচলিত অর্থে নাফাখুম) পৌছালাম। পৌছেই খুমের ধারে শান্ত হয়ে ৩০ মিনিট বসে ছিলাম। পানির প্রবাহের সাথে শব্দের কিঞ্চিৎ মিলন আপনাকে স্বর্গীয় ভাব এনে দিবে। সন্ধ্যা নামার পরে খুমের পাশের কটেজে রাতে থাকার স্বীদ্ধান্ত নিলাম, যেখান থেকে সরাসরি নাফাখুম দেখা যায়। রাতের খাবার খায়ে সবাই খুব করে আড্ডা দিলাম, অন্যদিকে সারাক্ষণ খুমের আওয়াজ এক অন্য অনুভূতি মনকে নাড়িয়ে দেয়। কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম টেরই পেলাম না🤔

খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি চারিদিকে কুয়াশা আর কুয়াশা 💨 কুয়াশা ভেদ করে নাফাখুমের পাশে গিয়ে কিছুক্ষণ আনমনে বসে রইলাম। কিভাবে সম্ভব ❔এক নাগাড়ে ২৪ ঘন্টা পানির প্রবাহ থাকা, যা ৩৬৫ দিনই একই অবস্থা। এভাবেই কেটে গেল অনেকটা সময়। তারপর খিচুড়ি খেয়ে নাফাখুম কে বিদায় দিয়ে রওনা হলাম রেমাক্রির উদ্দেশ্যে। ২.২০ ঘন্টা হাটার পরে রেমাক্রি পৌছেই আগে ঠিক করে রাখা বোটে করে থানছি পৌছালাম। এখানে বলে রাখা ভালো রেমাক্রি থেকে থানচি বোট ভ্রমণটা এককথায় অসাধারণ। প্রকৃতিকে পরিপূর্ণভাবে পাওয়া যায় এখানে। ১ টায় থানছি পৌঁছে খাওয়া-দাওয়া করে ৩ টার বাসে রওনা হয়ে ৮ টায় বান্দরবান শহর পৌছালাম। এখান থেকে ৩ জন ঢাকা, ২ জন চট্টগ্রাম ও ২ জন কক্সবাজার রওনা হলো। এবং ৬০ ঘন্টার রোমাঞ্চকর, বন্ধুত্বপূর্ণ ও অসাধারণ মুহুর্তের সমাপ্তি ঘটল👍

👀স্বপ্ন দেখতে শিখুন। আপনার কোটি কোটি টাকার প্রয়োজন নেই। শুধু কান পেতে শুনুন হৃদয়ের কথা।

🚼কারণ দিন শেষে, ‘‘জীবন চমৎকার!’’

🗒যাত্রার তারিখঃ ১৪-১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
🌄যাত্রার স্থানঃ আমিয়াখুম, ভেলাখুম, নাফাখুম ও রেমাক্রি
🎭যাত্রার সদস্য সংখ্যাঃ ৭ জন
💰জনপ্রতি খরচঃ ৩৬০০ টাকা (বান্দরবান শহর থেকে বান্দরবান শহর)
🕵গাইড ভাড়াঃ ৫০০০ টাকা (২ রাত)
🚣বোট ভাড়াঃ ৪৫০০ টাকা (থানচি থেকে পদ্মমুখ ও রেমাক্রি থেকে থানচি)
🚌বাস ভাড়াঃ ২০০ টাকা জনপ্রতি (বান্দরবান থেকে থানচি)
🍛 খাবারঃ ১০০/১৫০ টাকা প্রতিবেলা
🎪থাকাঃ ১৫০ টাক জনপ্রতি
📲ঃ ওখানে কোন মোবাইল নেটওয়ার্ক নাই
🚫ID কার্ডের ২ টা ফটোকপি ও ১ কপি ছবি রাখবেন।

🌀 পরিবেশ ঠিক থাকলে পর্যটন বাঁচবে, তাই যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলবেন না। তাছাড়া অপচনশীল কোন কিছু যেখানে সেখানে ফেলে আপনার মূর্খতার প্রমান দিবেন না।

#ভ্রমন_হোক_সুন্দর_আনন্দময়_ও_স্বরণীয়🚩

যেভাবে যাবেন: এইখানে যেতে হলে আপনাকে বাধ্যতা মুলুক থানছি থেকে গাইড নিতে হবে😊
আর ঢাকা-বান্দরবন-থানছি-পদ্ম মুখ-হরিচন্নদ্রপাড়া-থুইসাপাড়া-আমিয়াখুম- ভেলাখুম- নাফাখুম-রেমেক্রি হয়ে ফিরে আসতে হবে👎

ঐতিহ্য ঘেরা আগরতলা শহরে দুই দিন।অনেক দিন থেকে আগরতলা যাওয়ার ইচ্ছা,ঠিক ছোটবেলা থেকে টেলিভিশনের পর্দায় যখন ভেসে উঠত  দূরদর...
16/03/2020

ঐতিহ্য ঘেরা আগরতলা শহরে দুই দিন।
অনেক দিন থেকে আগরতলা যাওয়ার ইচ্ছা,ঠিক ছোটবেলা থেকে টেলিভিশনের পর্দায় যখন ভেসে উঠত দূরদর্শন কেন্দ্র আগরতলা।তাই এবারের ভ্রমন ঐতিহ্য ঘেরা আগরতলা,ছোটবেলা থেকে ধারণ করা ইচ্ছাটার জন্য। আখাউড়া থেকে সীমানা পেরোলেই আগরতলা শহর। তাছাড়া প্রাচীন রাজা মহা রাজাদের আদি নিবাস, শহরজুড়ে রাজাদের নানান নিদর্শন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত, কোলাহল মুক্ত একটা পরিচ্ছন্ন পরিপাটি ছোট শহরে এমনিই হেঁটে হেঁটে ঘুরে বেড়ানো সত্যিই উপভোগ্য ।
প্রথম দিন- পায়ে হেঁটে আগরতলা শহর :
৮ই নভেম্বর সকাল সাড়ে ছয়টায় কমলাপুর থেকে পারাবত ট্রেনে আমাদের যাত্রা শুরু আগতলার দিকে। যেহেতু তিন দিনের ছুটি তাই মনে মনে তিন ঘণ্টার প্রস্তুতি ইমিগ্রেশন আর কাস্টমের জন্য । সকাল নয়টায় পৌঁছলাম আজমপুরে, সিএনজি করে আখাউড়া চেকপোস্ট মাত্র বিশ মিনিটের পথ। সেখানে গিয়ে দেখি ট্রাভেল ট্যাক্সের লম্বা লাইন,সবার হাতে একাধিক পাসপোর্ট। আমাদের ঢাকা থেকে ট্রাভেল ট্যাক্স দেয়ার কারনে মাত্র ৪০ মিনিটে আমাদের দুই দেশের ইমিগ্রেশন আর কাস্টমের কাজ শেষ।সকাল দশটায় আমরা আগরতলায়।
আগরতলা প্রবেশ করে চা পর্ব শেষ করে চলে গেলাম হোটেলে ,জগন্নাথ বাড়ি রোড। কিছুক্ষণ বিশ্রাম করার পর বের হলাম পায়ে হেঁটে আগরতলা শহর দেখতে, গুগল ম্যাপ হিসেবে সবকিছুই এক কিলো মিটারের মধ্যে।প্রথমে হাঁটতে হাঁটতে গেলাম পোস্ট অফিস চৌমুনিতে,যেটা কামান চৌমুনি নামে পরিচিত। সেখানে মুক্তি যুদ্ধে ব্যবহৃত দুটি ট্যাঙ্ক রয়েছে।এখানে নিউ আদর্শ হোটেলে দুপুরের খাবার সেরে,রাস্তার ওপাড়ে ত্রিপুরা কংগ্রেস ভবনের সামনে এক কাপ চা শেষ করে হরি গঙ্গা বসাক রোড ধরে মোটর স্ট্যান্ড পার হয়ে সোজা গেদু মিয়ার মসজিদে ।প্রাচীন এই মসজিদটি দেখতে অনেকটা পুরান ঢাকার তারা মসজিদের মত।
গেদু মিয়ার মসজিদ থেকে পনের মিনিট হাঁটার পথ ত্রিপুরা রাজবাড়ি ,যা সরকারী মিউজিয়াম উজ্জয়ন্ত প্যালেস নামে পরিচিত।মহারাজা রাধা কিশোর মাণিক্য এই প্রাসাদের স্থপতি। এখানে বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধ নিয়ে দুর্লভ তথ্য বহুল একটি গ্যালারি রয়েছে।
প্রাসাদ থেকে বের হয়ে একটু বাদিকে গেলেই পরবে প্রাচীন লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির ।সেই পথ ধরে সামান্য এগিয়ে বাদিকে গেলেই আকাশবাণী আগরতলা।
ধীরে ধীরে বিকাল শেষে নামল সন্ধ্যা ।সন্ধ্যায় যেন আরও প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠল আগরতলা।সন্ধ্যায় আবার পোস্ট অফিস চৌমুনিতে।বিকালের চা পর্ব শেষ করে আশে পাশে সপিং মল আর বিগ বাজার ঘুরে শেষ করলাম প্রয়োজনীয় কেনাকাটা।
দ্বিতীয় দিন- সিপাহিজলা অভয়ারণ্য,উদয়পুর এবং নীরমহলঃ
ঘুম ভাঙল খুব সকালে ,তখনো মনে হয় আগরতলাবাসি শেষ রাতের ঘুমে মগ্ন। সকাল আটটায় নাস্তা করলাম আগরতলার বিখ্যাত শেরওয়ালি সুইটস এ। রাজবাড়ির সামনে থেকে সারা দিনের জন্য একটা গাড়ি নিয়ে যাত্রা শুরু সিপাহিজলা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য,উদয়পুর আর নীরমহলে।
আগরতলা থেকে মাত্র ২৫ কিমি দূরে সিপাহিজলা অভয়ারণ্য, অনেকটা মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মতোই । আয়তন মাত্র ১৯ বর্গকিমি হলেও জীব বৈচিত্রের জন্য এই অভয়ারণ্যে খ্যাতি রয়েছে। প্রায় সাড়ে ৪০০ রকমের উদ্ভিদের আবাসস্থল এই অভয়ারণ্য। আগরতলা থেকে সিপাহিজলা যাবার পথটি বেশ রোমাঞ্চকর।
উদয়পুর, আগরতলা থেকে দূরত্ব ৫৫ কিলোমিটার। মধ্যযুগে ত্রিপুরার রাজাদের রাজধানীও ছিল এই উদয়পুর। সে সময় রাঙামাটি নামেই পরিচিত ছিল এই জায়গাটি। ত্রিপুরার উদয়পুরকেও ‘লেক সিটি’ বলাই যায় নির্দ্বিধায়। সুখসাগর, অমরসাগর, জগন্নাথ দিঘি, মহাদেব দিঘি ইত্যাদি সুদৃশ্য জলাশয় সৌন্দর্য বাড়িয়েছে উদয়পুরের। আবার মন্দির-নগরীও বলা যেতে পারে উদয়পুরকে। ত্রিপুরাসুন্দরী, ভুবনেশ্বরী, গুণবতী মন্দিররাজি, বিষ্ণু মন্দির, মহাদেব মন্দির, দুর্গামন্দির, জগন্নাথ মন্দিরের মতো প্রাচীন ও বিখ্যাত মন্দিরগুলির অবস্থান এখানেই।
গোমতী নদীর তীরে মহারাজা গোবিন্দমাণিক্য দেবী ভুবনেশ্বরীর মন্দিরটি নির্মাণ করান ১৬৬০-১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে, এই মন্দিরটি অবশ্য বিগ্রহহীন। অতীতে এই মন্দিরে নাকি নরবলি দেওয়া হত। এমনটাই জনশ্রুতি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই মন্দিরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত নিয়েই রচনা করেছিলেন তাঁর বিখ্যাত নাটক ‘বিসর্জন’ এবং উপন্যাস ‘রাজর্ষি’। মন্দিরের পাশেই রয়েছে প্রাচীন রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ।
নীরমহল-নামকরণ থেকেই বোঝা যায় জলের উপর দাঁড়িয়ে আছে যে মহল, উত্তর-পূর্ব ভারতের একমাত্র জলমহল হল এটি। আগরতলা থেকে ৫১ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত জনপদটির নাম মেলাঘর। মেলাঘরের দুই কিলোমিটার দূরেই অবস্থান নীরমহলের। বিশাল রুদ্রসাগর সরোবরের ঠিক কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে আছে অপূর্ব এই রাজপ্রাসাদ। মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ শুরু করান এই সুদৃশ্য প্রাসাদটির। প্রাসাদের স্থাপত্যে মুঘল শৈলীর প্রভাব যথেষ্টই বোঝা যায়।
সারা দিন শেষে সন্ধ্যাটা কাটালাম উদ্দেশ্যহীন ভাবে আগরতলা শহর ঘুরে তারপর সিনেমা দেখা রূপসী সিনেমা হলে।পরদিন সকাল আটটায় আগরতলা ছেড়ে,সাড়ে এগারটায় আজমপুর থেকে কালিনী এক্সপ্রেস ধরে দুপুর দুইটায় ঢাকা।
আখাউড়া-আগরতলা সম্পর্কে কিছু তথ্য :
ঢাকা থেকে আগরতলা ট্রেনে কম সময়ে যাওয়া যায়, আজমপুর ,আখাউড়া । সেখান থেকে সিএনজি করে আখাউড়া চেকপোস্ট মাত্র বিশ মিনিটের পথ। সরাসরি বাস আগরতলা যায় কিন্তু সময় ছয় ঘণ্টার বেশি লাগে ।ট্রাভেল ট্যাক্স ঢাকা থেকে দিয়ে গেলে অনেকটা সময় বাঁচানো যায়। অবশ্যই ডলার এনডোর্সমেন্ট করে নিতে হবে নাহলে দুই দেশের পোর্টে অনেক ঝামেলা করে। আসার সময় কেনাকাটার বিলের কপি/ডলার ভাঙানোর স্লিপ আগরতলা কাস্টমে দেখাতে হয়। আগরতলা ইমিগ্রেশন কিছুটা ধীর গতির।
হোটেল নিতে পারেন পোস্ট অফিস চৌমুনি বা এর আশেপাশে কারন বিগ বাজার থেকে শুরু করে সব সপিং মল এখানেই। খাবারের জন্য KFC,শেরওয়ালি সুইটস, নিউ আদর্শ হোটেল,স্বস্তি নিরামিশ হোটেল।
ঘুরার জন্য গাড়ি পাবেন রাজবাড়ির সামনে এবং মটর স্ট্যান্ড এ।
প্রকৃতি ও পরিবেশের পরিছন্নতা আর সৌন্দর্য রক্ষার মধ্যদিয়ে আমাদের ভ্রমন হোক আনন্দময়।
Collected by ToB

অবারিত রূপের আধার দেখেছেন? অসহ্য রকম চোখ জুড়িয়ে যাবার মতোন সৌন্দর্য? জামদানী শাড়িতে নববধুর দীঘল চুলে কুসুম রোদে ওম নেয়ার...
16/03/2020

অবারিত রূপের আধার দেখেছেন? অসহ্য রকম চোখ জুড়িয়ে যাবার মতোন সৌন্দর্য? জামদানী শাড়িতে নববধুর দীঘল চুলে কুসুম রোদে ওম নেয়ার দৃশ্য বিদেশ ফেরত যুবকের চোখে যেমন লাগার কথা! তেমনই.. আহা, কত সুন্দর করিয়া ধরণী মোদের করেছো দান। সবুজের সাথে কোথাও কুশমি রঙের মিশেল, অস্থির রকমের শান্ত কুচকুচে কালো জল,এলাকার মুরব্বি শাদা বকের চোখ এড়িয়ে অজস্র পাসপোর্ট আনতে ভুলে যাওয়া সাইবেরিয়ান পরিযাযী বালিহাঁসেদের সাথে-লোকাল পানকৌড়ির প্রেম প্রেম ভাব, সেগুন গাছেদের স্কাউট সদস্যের মত শৃংখলা, উলুবনের ঢাল, পানেদের বরজ আর ফাগুনের অস্তমিত বেলা ফুরাবার দিনে কোকিলের কুহুতানের মিশের ফ্লেভর নিতে কেমন লাগবে আপনার? তাও যদি হয়, গুড়ুম পানসি নৌকায় অযান্ত্রিক গভীর গহীন ঝিরিপথের অন্দরে.. অউফস... আমার শব্দ ভান্ডার এখানে ফুরিয়ে যাতেছে.. মাথায় আতেছে..কিন্তু রিদমিক কীবোর্ডে লিখা যাতেছেনা..😊

প্রকৃর এমন অবাক রূপের মোহনা আমাদের বাঁশখালীর প্রতি প্রান্ত এধারওধার। আপনি হয়তো বলবেন ধূর ছাই, এইখানে কিচ্ছু নাই..

আমি বলবো, মোনের চোখ খুলে দিন,মেলে দিন অদৃশ্য অতলান্তিক মোনের ডানা। মেঘ দেখে প্রেয়সীকে কাছে আসার আহবানে উন্মত্ত তাগড়া ময়ূরের মত পেখম মেলে দিন বাংলাদেশের এই অপার দরীয়া পাড়ের গাঁও গেরামের কিসসায়। রোদ চশমা পড়ে নিন, রহমানুর রাহিম এই অসহ্য সৌন্দর্য অবগাহনের যথেষ্ট শক্তি আপনার কর্নিয়াদ্বয়কে দেননি😊

প্রভূ সারা বাংলাদেশটাকে কুন ফা এয়া কুনের হকুমে ঢেলে সাজিয়ে দিয়েছেন। আমরা অমানুষেরা চলার রাস্তায় চৌরাস্তা বেঁধে রেখেছি৷ দু'ধারের বিস্তৃত রূপুনি, রাস্তাটা যেন সদ্য তালাকপ্রাপ্ত আধপ্রৌঢ়বয়সী কসিমুদ্দি!🙄

এসব অযুহাত ছাড়ুন, দৃষ্টি মেলে দিন.. ঘর হতে দুই পা ফেলিয়া, একটি ধানের শিষের উপর কয়েকটি শিশির বিন্দুতে..
কিছু সুস্থির চিত্রা হরিণচিত্র সন্নিবেশিত হোল। গরীবের মোবাইল ক্যামেরার দোষ দিয়েন সমস্যা নেই। তবে এর রূপকথাচিত্র হাজার গুনে চমকিত করবে সত্য, আই গ্যারান্টি।
যারা ঘুরতে পসন্দ করেন, ঢুঁ মেরে আসুন। বাঁশখালী আসার মান্দাত্তা আমলের রাস্তা-নিম্নমানের গাড়ি, পার্কের অব্যবস্থাপনার জন্যে আমি দায়ী নই🙄🙏 চট্টগ্রাম থেকে বহদ্দার হাট বাস টার্মিনাল থেকে বাঁশখালী সুপারে ৮০ টাকায় অথবা সিনেমা প্যালেস থেকে এস আলমে ১২০ টাকা খরচায় মনছুরিয়া বাজার নামবেন, সেখানে সি এনজি অটো অপেক্ষা করছে আপনার জন্যে। সি এনজি ভাড়া প্রতি জন কুড়ি টাকা অটোয় ত্রিশ টাকা নেবে৷ পার্সোনাল ভিহিকেলস হলে পার্কিং খরচ দিতেই হবে। গেটে মাত্র কুড়ি টাকার টিকিটে অন এয়া হবেন। নৌকা ভ্রমণে যারে যা ঠকাতে পারেন মাথায় রেখে দরদাম করবেন😊 দুনিয়ায় ফিক্সড রেট বলতে কিছুই নেই, ফিক্সড রেটে বাটা কোম্পানিও ডিস্কাউন্ট দেয়.. হা হা
🎖উপরি হিসেবে দেখে আসতে প্ল্যানে রাখুন, পুকুরিয়ার বিস্তৃত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ চা বাগান, ৪০০বছরের ঐতিহ্যবাহী বখশি হামিদ জামে মসজিদ,বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত।
🕵যে কোন সমস্যার জন্যে ৯৯৯ - এর সাহায্য নিন😊 বড় আয়োজন বা ছোট সমস্যা হলে আমাকে জানান।
🎙যথেষ্ট বিন লটকানো আছে। প্লিজ চিপস কফি বা বোতল সংক্রান্ত আবর্জনা ফেলে লেকের পানি নস্ট করবেন না। দেশটা তো আমাদেরই💕

কুয়াকাটা ভ্রমণের আদ্যপান্ত।খরচ ও গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা।আমরা গিয়েছিলাম ৭ জন। সবাই আগের দিন রাত পর্যন্ত অনিশ্চিয়তার ম...
07/03/2020

কুয়াকাটা ভ্রমণের আদ্যপান্ত।
খরচ ও গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা।
আমরা গিয়েছিলাম ৭ জন। সবাই আগের দিন রাত পর্যন্ত অনিশ্চিয়তার মধ্যে থাকার পরও পরদিন সদরঘাট চলে গেলাম। খাবারের পর্বটা সেরে সন্ধ্যা ৬.৩০ টার ঢাকা-বগা-পটুয়াখালী লঞ্চে উঠে গেলাম, লঞ্চে উঠার আগে রাতের জন্যে কিছু নাস্তা কিনে নিলাম কারণ লঞ্চে জিনিসের দাম অনেক বেশি। শুধুমাত্র এরকম লঞ্চ জার্নি উপভোগ করার জন্যে হলেও ১৫০০-২০০০ টাকা খরচ করা ব্যাপার না। যদিও দিনের বেলা হলে আরো বেশি উপভোগ্য হতো
ভোর ৪.০০ টায় পটুয়াখালী সদরঘাট নেমে অটোতে করে বাস স্ট্যান্ড গেলাম সেখান থেকে বাসে করে কুয়াকাটা। প্রথমে নেমে মনে হয়েছিল তেমন বেশি ভাল লাগবে না, বন্ধুদের কেউ কেউ বলছিল পতেঙ্গা(চট্টগ্রাম) বীচের মত। কয়েকটা হোটেল দেখে ওয়েস্টার্ন হোটেলে চার বেডের(৭-৮ জন থাকা যাবে) একটা রুম নিলাম। আমি চেয়েছিলাম হোটেলটা যেন বীচ থেকে খুব কাছে হয় সে হিসেবে দাম টাম(১৭০০ টাকা, ১২.০০-১২.০০টা) সব মিলিয়ে ভালোই লেগেছে। একটা রুম নিয়ে দুপুরের ভাত খেলাম রাজধানী হোটেলে(দাম ও মান খারাপ না)।
বিকালে বীচে যাওয়ার আগে চৌরাস্তার পাশে একটা বৌদ্ধ মন্দির আছে সেটা দেখে নিলাম যেটার পাশেই 'কুয়া' টি যার নামে কুয়াকাটা নামকরণ করা হয়েছে।
যখন বীচে গেলাম সবাই মিলে তখন সাগরের উত্তাল ঢেউ ও গর্জনে পার্থিব সবকিছু ভুলে অসাধারণ অনুভূতি কাজ করলো। কক্সবাজারের মত এখানে ফুটবল খেলা নিয়ে কোন রেস্ট্রিকশন নেই। বেশি ভাল লেগেছে কক্সবাজারের মত কুয়াকাটায় মানুষ গিজগিজ করে না আর যে বিষয়টি উল্লেখ্য, কক্সবাজারের সমুদ্রের পানি অনেক নোনতা যার ফলে কিছুক্ষণ পানিতে লাফালাফি করলেই চোখ নাক জলে যেটা কুয়াকাটার পানিতে অনেক কম। আমরা প্রায় ৩.৫ ঘন্টা ছিলাম পানিতে কিন্তু চোখ জলে নি যেটা কক্সবাজারে ভাবাই যায় না।
১ম দিন সন্ধ্যা আর রাত টা বীচে-মার্কেট এ কাটিয়ে দিলাম। পরদিন সকালে কিছুক্ষণ বীচে থেকে ডাব খেয়ে হোন্ডা ভাড়া করে নিলাম বীচ থেকে দূরে অন্যান্য দ্বীপ টিপ ঘুরার জন্যে। ওরা ১৭-১৮ টা প্লেস ঘুরানোর কথা বলে আসলে প্লেস মাত্র ৫-৬ টা। প্রথম নিয়ে গেল #রাখাইন পল্লীতে যার মুখেই আরেকটি বৌদ্ধ মন্দির আছে যেখানে ৩৬ ফুট লম্বা একটি মূর্তি আছে। রাখাইন পল্লীটা অনেক ব্যাতিক্রম ও চমৎকার লেগেছে। ওদের ঘর বাড়ি, জীবনযাপন সত্যি অসাধারণ মনে হয় যেন অন্য কোন দেশ। বাড়ির আঙিনা ছোট ছোট গাছে ভর। টিনের দোতলা ঘর, ঘরের সামনে ওদের বানানো জামা কাপড়ের দোকান ইত্যাদি এক কথায় অবিশ্বাস্য।
সেখান থেকে গেলাম #ঝাউবন সংলগ্ন কুয়াকাটার শেষমাথায় যেখানে পানির রঙের কথা বাদ দিলে সেন্টমার্টিনের ফিলিংস আসে। বীচের পাড় পুরোটা ঝাউ গাছে ভরা, বিশাল ঝাউ বাগান আরেক পাশে কিছুটা নিস্তব্ধ সাগর। কপালে থাকলে সেখানকার লাল কাঁকড়া গুলো চোখে পড়বে যেগুলো সূর্যের কিরণ বাড়ার সাথেসাথে গর্ত থেকে ঝাঁকেঝাঁকে বেরিয়ে আসে। খুব সুন্দর দেখতে।
ঝাউবন থেকে বীচের উপর দিয়ে সোজা চলে যাবে #গঙ্গামতীর_চরের দিকে ঝাউবন বীচ থেকে একটু এগিয়ে গেলেই বিভিন্ন ধরনের গাছপালা ও এক পাশের সমুদ্রের পানি আর সাথে বাইক রাইডিং আপনাকে মুগ্ধ করবেই আর মনে হবে "এই পথ যদি না শেষ হয়"
বাইকওয়ালা মামাদেরকে বললে ছবি তোলার জন্যে বা এমনিতে কিছুক্ষণ দাঁড়াবে।
সেখান থেকে ছোট একটা নদী পার হয়ে(পার বাইক ৩০/- টাকা) গঙ্গামতীর চর সেখানেও একপাশে সাগর, আরেক পাশে বিচিত্র রকমের গাছ বাইকে পেরিয়ে একটা রাস্তা ধরে পাড়ে উঠে আসবে সেখান থেকে সোজা কুয়াকাটা মেইন বীচের চৌরাস্তা পেরিয়ে অন্য দিক চলে যাবে যেখানে #লেবুর_চর ও #তিন_নদীর মোহনা দেখিয়ে নিয়ে আসবে। তিন নদীর মোহনায় দাঁড়িয়ে #ফাতরার_চর দেখা যায় যেটি সুন্দর বনের একটি অংশ। শীতকালে কুয়াকাটা বীচ থেকে বোটে করে সেখানে যাওয়া যায় কিন্তু আমাদের ভাগ্যে সেটি দূর থেকে দেখার সৌভাগ্যই মিলল। তবে আপনি বেশি সময় নিয়ে কুয়াকাটা গেলে চৌরাস্তা থেকে ভ্যান গাড়ি করে #আলীপুর বীজ পর্যন্ত যেতে পারেন সেখান থেকে ট্রলারে ৪০-৫০ টাকা করে ফাতরার চর যাওয়া যায়। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় সূর্যোদয় সূর্যাস্ত ভালোভাবে দেখার সুযোগ হয় নি।
সত্যি বলছি বাইক রাইডিং টা পয়সা উসুল রাইড ছিল।
২য় দিন রাতে প্রায় ৪ কেজি ওজনের টুনা মাছের BBQ খেয়েছিলাম। অসাধারণ ছিল। ট্যুরের পূর্ণতার উপকরণ ছিল সেটি।
সবাই জায়গাটার মায়ায় পড়ে গেলাম। সবার মন খারাপ ছিল সাগর কন্যা কুয়াকাটা ছেড়ে আসতে। মনে হচ্ছিল আরো এক রাত থেকে যাই।
অনেকেই বলে পটুয়াখালী হয়ে গেলে নাকি ভাল কিন্তু আমরা আসার সময় বরিশাল সদরঘাট হয়ে এসেছি যেটা বেস্ট মনে হয়েছে আমার কাছে। রাস্তাগুলো অসাধারণ। বরিশাল দিয়ে আসায় যে লাভটা হলো সেটা হলো, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দেখা, ঝালকাঠি জেলাটা দেখা, বরিশালের মত সিম্পল, সুশৃঙ্খল, গোছালো, Noise-disturbanceless, জ্যাম-ঝামেলাহীন অথচ অনাড়ম্বর শহরটা দেখা। অসাধারণ ছিল শহরটা। হাতে সময় থাকলে অনেকক্ষণ সেখানে আড্ডা দেয়া যেতো।

#জেনে রাখবেন:
১. টাইমিং অনেক ইম্পর্টেন্ট। ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর লঞ্চ সন্ধ্যা ৬-৭ টায় ছাড়ে, একই সময়ে পটুয়াখালী থেকেও ছাড়ে। আর ঢাকা থেকে বরিশালের লঞ্চ ৭.৩০-৮.৩০ টায় ছাড়ে, একই সময়ে বরিশাল থেকেও ছাড়ে। আর বাস রাত ৯.০০ টা পর্যন্ত (কলাপাড়া থেকে ঢাকা)
২. বরিশাল যাওয়ার জন্য বাস জার্নি করা বোকামি।
৩. লঞ্চ এ ডেকের(ডেক মানে আপনার কোন নির্দিষ্ট সিট নেই আপনি এর বাইরে লঞ্চের যে জায়গায় নিজের জায়গা করে নিতে পারেন কেবিনের বাইরে) টিকেট কাটলে লঞ্চে উঠা মাত্রই দোতলায় যে পাশে কেবিন আছে সে পাশে মানে একদম সামনের দিকটা দখল করে নিবেন।
৩. পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা অথবা বরিশাল/লেবুখালী থেকে কুয়াকাটার পথটা weather ভাল থাকলে বাসের ছাদে করে যাবেন অবশ্যই এতে ভাড়াও সেভ হবে আর নদীমাতৃক এলাকাটির অপরূপ সৌন্দর্য ও দেখতে পাবেন।
৪. বাইক, হোটেল ও অন্যান্য দরাদরির বিষয়গুলোতে তুমুল দরদাম করবেন। বাইকে দুজন করে নেয়। আমরা ৬০০/- করে নিয়েছিলাম। বাইক আপনি চাইলে নিজেও ড্রাইভ করতে পারেন তবে সেটা না করাই ভাল কারণ অনেক ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা আছে।
৫.১ম দিন রাতে পরের দিনের জন্যে বাইক ভাড়া করে রাখুন, পরদিন ভোরে ওরাই আপনার হোটেলের সামনে গিয়ে আপনাকে কল দিবে।
৬.DSLR, বাইকওয়ালা এদের বারংবার প্রশ্ন ও যন্ত্রণা এড়াতে কৌশলি হবেন।
৭. দাম টাম সব মিলিয়ে পুষিয়ে আসার মত ভাল হোটেল কম। দু একটা 5 star মানের হোটেল আছে আর কিছু 3 star মানের হোটেল আছে বাকিগুলো সাধারণ।
৮. চা-টা ও হালকা নাস্তার জন্যে চৌরাস্তা থেকে বেড়িবাঁধ রোডে একটু বামে গেলে ছিদ্দিক চাচার দোকান আছে। চাচা অনেক ভাল মানুষ, চা ও খারাপ বানায় না। ওখানকার কোন তথ্য জানার হলে নির্ভয়ে চাচাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।
চাচার নাম্বার: 01829879722
৯. পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা বাসগুলো সিটিং না তবে কিছুক্ষণ পরপর ই একটা বাস ছাড়ে এছাড়াও একদম লঞ্চঘাটের সামনে থেকে বাইকে করে পটুয়াখালী যাওয়া যায়(জনপ্রতি ভাড়া ৩৫০-৬০০টাকা, সিজন অনুযায়ী)।
১০. আপনি যাওয়ার আগে অবশ্যই কুয়াকাটার weather দেখে যাবেন কারণ এখন বৃষ্টির মৌসুম।
#খরচ
১. ঢাকা টু পটুয়াখালী লঞ্চ ডেকে ২৫০-৩০০ টাকা, ঢাকা টু বরিশাল লঞ্চ ২৫০ টাকা। বরিশালের লঞ্চগুলো তুলনামূলক ভাল। ডাবল কেবিন ১৮০০-৩৫০০(মান ভেদে) টাকা
২.পটুয়াখালী টু কুয়াকাটা বাসের সিটে ১৫০ টাকা (নরমালী ৮০ টাকা কিন্তু পর্যটকদের থেকে ১৫০ করে নেয়) ছাদে গেলে ৭০-৮০ টাকা। পটুয়াখালী টু লেবুখালী/বরিশাল ২০০-২৫০।
৩. লেবুখালী থেকে বরিশাল সদরঘাট করে জনপ্রতি ১৫০ টাকা।
৪. লঞ্চের ডেকে যাওয়াই ভাল। বিশেষ করে যদি ফ্রেন্ড সার্কেল হয়।

#কিছু নাম্বার:
১.ওয়েস্টার্ন হোটেল। ফ্যামিলি রুম ১৫০০-২০০০। থাকতে পারবেন ৪-৮ জন। নাম্বার: 01743037869(মিজান ভাই-ম্যানেজার)
২.হোটেল সাগরকন্যা। নন এসি টুইন। ভাড়া ১৭-১৮০০। থাকতে পারবেন সর্বোচ্চ ৪ জন। 01748424729
৩.হোটেল বিশ্বাস সী প্যালেস। ভাড়া ২০০০ নন এসি টুইন।
01730093356
৪.হোটেল কুয়াকাটা ইন। ভাড়া ১৪০০-১৬০০ নন এসি টুইন। 01750008177
(3 star মানের হোটেলগুলোতে টুইন রুমে ৪ জনের বেশি allowed না)
৫. পটুয়াখালীর লঞ্চ:
কুয়াকাটা-১। ০১৭৩৬৬২০৫৮০
সুন্দরবন-৯। ০১৭১১৩৫৮৮১০
৬. বরিশালের লঞ্চ:
সুন্দরবন-৯। ০১৭১৪০১৭২৭২
সুরভী-৮। ০১৭১২৭৭২৭৮৬

#অনুরোধ
আমাদের একটাই উপসাগর/ সাগর তাই কেউ একটি চিরকুটও ফেলবেন না দয়া করে। যাওয়ার সময় লঞ্চে কিছুক্ষণ পরপর ই কেউ না কেউ কিছু না কিছু ফেলছে। দয়া করে সাগর বা নদীতে কিছু ফেলবেন না। অনেক স্মার্ট, শিক্ষিত ভদ্রলোক ও এই কাজটি করে। এক সময় সব নদীই বুড়িগঙ্গার মত হয়ে যাবে। ভাবুন একবার। পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে কি রেখে যাচ্ছি আমরা। কি ফেলছেনা মানুষ নদী-সাগরে। ডাব, ড্রিংস খেয়ে বোতলটা বীচে ফেলে আসছে। একটু কষ্ট করে পাড়ে এনে ফেললে কি হয়।
collected by ToB

Address

Mirpur
1216

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Friday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Telephone

+8801683294245

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when IMAGE of Bangladesh - IB - বাংলার প্রতিচ্ছবি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to IMAGE of Bangladesh - IB - বাংলার প্রতিচ্ছবি:

Shortcuts

Share