08/09/2026
মুন্না - জুবায়ের ভাইয়ের ট্রাজেডি ২০১৫
পুরো টাইমলাইন
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫
মিরপুরের পাঁচ বন্ধু বান্দরবানের রুমা এলাকায় ট্রেকিংয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
*আবদুল্লাহ আল জুবায়ের
*জাকির হোসেন ওরফে মুন্না
*আবু মিয়াজি ওরফে সাগর
*প্রিতম সাহা
*ঈদ
পরে স্থানীয় গাইড মাংসাই/মাংকা ম্রো তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
জাগো নিউজের ৭ অক্টোবরের প্রতিবেদনে ফিরে আসা বন্ধু সাগর ও প্রিতমের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে বাসে করে তারা রওনা হন।
নিশ্চিত তথ্য: পাঁচ বন্ধু মিরপুর থেকে রওনা হয়েছিলেন।
অনিশ্চিত: বিভিন্ন প্রতিবেদনে বয়স ও নামের বানানে পার্থক্য রয়েছে।
২৭ সেপ্টেম্বর রাত
মুন্না, জুবায়ের, সাগর, প্রিতম ও ঈদ বাসে করে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হন।
অন্যদিকে মাংসাই ম্রো তখন তাদের সঙ্গে ছিলেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাংসাইয়ের সঙ্গে মুন্নার ৫/৬ বছরের বন্ধুত্ব ছিল এবং ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে মাংসাই প্রথমবার ঢাকায় গিয়ে মুন্না ও জুবায়েরের বাসায় থেকেছিলেন।
এটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরবর্তীতে মাংসাইকে নিয়েই একটি সন্দেহ তৈরি হয়েছিল।
২৮ সেপ্টেম্বর
তারা রুমায় পৌঁছান।
রুমা বাজারে পাঁচ বন্ধু সেনাবাহিনীর কাছে নাম রেজিস্ট্রি করেন। এরপর তারা বগালেক, কেওক্রাডং ও পাসিংপাড়ার দিকে যান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা সাধারণ পর্যটক ছিলেন না। এর আগেও তারা বান্দরবানে ট্রেকিং করেছিলেন।
জুবায়েরের আত্মীয় এম নাওয়াদ আশেকিন পরে জানান, জুবায়ের এর আগেও প্রায় ১৫ বার ওই এলাকায় ট্রেকিং করেছিলেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল।
২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর
দলটি পাসিংপাড়ায় অবস্থান করে।
পরে পাসিংপাড়ার কংসাই ম্রোকে সঙ্গে নিয়ে তারা জাদুছড়ি পাড়ায় যায়। তাদের লক্ষ্য ছিল রাইক্ষ্যং খাল এবং আশপাশের দুর্গম এলাকা দেখা।
২ অক্টোবর / ৩ অক্টোবর: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা
এখানেই সংবাদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তারিখের পার্থক্য।
কিছু পরবর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২ অক্টোবর নিখোঁজ হন।
২০১৫ সালের সমসাময়িক কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ৩ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে ঘটনা ঘটে।
২০১৭ সালের প্রতিবেদনে আবার ২ অক্টোবর বলা হয়েছে।
তাই সবচেয়ে নিরাপদভাবে বলা যায়:
২ থেকে ৩ অক্টোবর ২০১৫-এর মধ্যে, রাইক্ষ্যং পুকুর/নতুন পুকুর/শিপ্রু বা সিদ্ধুপাড়া এলাকার কাছে মুন্না, জুবায়ের ও তাদের গাইড নিখোঁজ হন।
ওই দিন সকালে কী হয়েছিল?
ফিরে আসা বন্ধুদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রিতম সাহা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
তাই:
সাগর + ঈদ + প্রিতম ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে:
মুন্না + জুবায়ের + মাংসাই
চ্যাপলং ঝরনা/রাইক্ষ্যং এলাকার দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এটাই ছিল তাদের শেষ যাত্রা।
৩ অক্টোবর বিকেল: অপহরণের খবর
ফিরে আসা বন্ধুদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা পাসিংপাড়ায় ফিরে যাওয়ার পর খবর পান যে অস্ত্রধারীরা মুন্না, জুবায়ের ও মাংসাইকে ধরে নিয়ে গেছে।
জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাসিং কারবারির স্ত্রীকে জাদুছড়ি এলাকার একজন স্থানীয় ব্যক্তি ফোন করে জানান যে ALP সদস্যরা অস্ত্রের মুখে তিনজনকে নিয়ে গেছে।
কিন্তু এখানেই একটি বড় সতর্কতা
এটা প্রত্যক্ষ প্রমাণ নয়।
কারণ মুন্না বা জুবায়েরকে ধরে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য কোনো সাংবাদিক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রত্যক্ষ করেনি। খবরটি আসে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে।
৪ অক্টোবর
পরিবার ও প্রশাসনের কাছে নিখোঁজ হওয়ার খবর পৌঁছাতে শুরু করে।
৫ অক্টোবরের জাগো নিউজ রিপোর্টে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।
৫ অক্টোবর: পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে পারে
বিডিনিউজের ৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে জুবায়েরের আত্মীয় এম নাওয়াদ আশেকিন বলেন, পরিবার ৫ অক্টোবর জানতে পারে যে মুন্না ও জুবায়ের অপহৃত হয়েছেন।
এই পর্যায়ে স্থানীয় সূত্রে বলা হচ্ছিল:
সাতজন অস্ত্রধারী তাদের ধরে নিয়ে গেছে।
তাদের মধ্যে দুজন ইউনিফর্ম পরা ছিল এবং তারা রাখাইন ভাষায় কথা বলছিল।
এ কারণে ধারণা করা হয়, তারা মিয়ানমারভিত্তিক কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য হতে পারে।
সত্য বনাম সন্দেহ
নিশ্চিত: তিনজন নিখোঁজ।
স্থানীয়দের দাবি: অস্ত্রধারীরা তাদের ধরে নিয়ে গেছে।
সন্দেহ: তারা মিয়ানমারের কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সদস্য।
৭ অক্টোবর: প্রথম বড় দাবি
জাগো নিউজে ফিরে আসা দুই বন্ধু সাগর ও প্রিতমের বক্তব্য প্রকাশিত হয়।
তারা বলেন, তাদের চোখের সামনে অপহরণ হয়নি। তারা ফিরে আসার পর স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন।
এই প্রতিবেদনে মাংসাইয়ের ভাই পাসিং ম্রো দাবি করেন:
অপহরণকারীরা নিজেদের ALP সদস্য পরিচয় দিয়েছে।
আরও দাবি করা হয়, তিনজনকে মিজোরামের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মুক্তিপণ নিয়ে প্রথম সংখ্যা
এই প্রতিবেদনে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণের কথা বলা হয়েছিল।
কিন্তু পরের প্রতিবেদনে মুক্তিপণের অঙ্ক ৫০ লাখ টাকা হয়ে যায়।
অর্থাৎ মুক্তিপণের তথ্য শুরু থেকেই অসঙ্গত ছিল।
৮ অক্টোবর: ৫০ লাখ টাকার দাবি সামনে আসে
প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মাংসাইয়ের ভাই পাসিং ম্রো দাবি করেন:
অপহরণকারীরা নিজেদের ALP সদস্য পরিচয় দিয়ে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে।
তিনি বলেন, অপহৃতদের সীমান্তের দুর্গম এলাকায় রাখা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
আরও বলা হয়, একজন ব্যক্তি রুমা বাজারে এসে দাবি করেছেন যে তিনি ওই এলাকায় অপহৃত পর্যটকদের দেখেছেন।
কিন্তু জুবায়েরের বাবা কী বললেন?
জুবায়েরের বাবা আবদুর রব খান বলেন:
তাঁদের পরিবারের কাছে কেউ সরাসরি মুক্তিপণ দাবি করেনি।
এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ:
৫০ লাখ টাকা দাবি = পরিবারের পক্ষ থেকে পাওয়া একটি পরোক্ষ তথ্য
৫০ লাখ টাকা সরাসরি অপহরণকারীরা জুবায়েরের পরিবারের কাছে চেয়েছিল = প্রমাণিত নয়।
৯ অক্টোবর
বিডিনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এই পর্যায়ে নিখোঁজ হিসেবে বলা হচ্ছিল:
জাকির হোসেন মুন্না
আব্দুল্লাহ জুবায়ের
মানছাই ম্রো
লাল রিং ছাং বম
কারণ স্থানীয় সূত্রে দাবি উঠেছিল যে আরও একজন গাইড লাল রিং ছাং বমও আটক হয়েছিলেন। �
এখানেই ঘটনার সংখ্যাগত জটিলতা শুরু হয়।
আসলে কয়জনকে আটক করা হয়েছিল?
কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়:
মুন্না
জুবায়ের
মাংসাই
লাল রিং ছাং বম
মোট ৪ জন নিখোঁজ।
আবার অন্য প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট ৬ জনকে অস্ত্রধারীরা আটক করেছিল:
মুন্না
জুবায়ের
মাংসাই
লাল রিং ছাং বম
অভিরাং ত্রিপুরা
মনীন্দ্র ত্রিপুরা
এর মধ্যে অভিরাং ও মনীন্দ্রকে সেই রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়। �
তাই সবচেয়ে সম্ভাব্য চিত্র:
৬ জন আটক → ২ জন ছেড়ে দেওয়া → ৪ জন নিখোঁজ।
তবে পরবর্তী তদন্ত ও সংবাদে মূল ফোকাস হয়ে যায় মুন্না, জুবায়ের ও মাংসাইয়ের ওপর।
১২ অক্টোবর
মুন্না ও জুবায়েরকে উদ্ধারের দাবিতে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন হয়।
পরিবারের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
মুন্নার স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, আট দিন ধরে তাঁর স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই এবং তিনি সরকারের কাছে তাকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। �
১৩ অক্টোবর
২০১৭ সালের তদন্ত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৩ অক্টোবর ২০১৫ পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলা করা হয় এবং আদালত একদিনের রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কিন্তু:
তাদের কাছ থেকে মুন্না ও জুবায়েরের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। �
এটা তদন্তের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
১৬ অক্টোবর: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান
উদ্ধার অভিযানের সময় যৌথবাহিনী তাংজং পাড়া এলাকায় সশস্ত্র ব্যক্তিদের সঙ্গে গোলাগুলিতে জড়ায়।
সেখানে উদ্ধার করা হয়:
• একটি মার্ক-২ এসকে রাইফেল
• একটি হ্যান্ড গ্রেনেড
• তিনটি ম্যাগাজিন
• একটি ওয়াকিটকি
• প্রায় ২০০ রাউন্ড গুলি
• একজন নিখোঁজ পর্যটকের আইডি কার্ড �
এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ যে নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত এমন একটি এলাকায় পৌঁছেছিল যেখানে নিখোঁজদের সঙ্গে সম্পর্কিত বস্তু পাওয়া যায়।
কিন্তু কী পাওয়া যায়নি?
মুন্না, জুবায়ের বা মাংসাইকে পাওয়া যায়নি।
আর তখনও নিশ্চিত করা যায়নি যে গোলাগুলি ALP-এর সঙ্গে হয়েছিল কিনা। �
অক্টোবরের শেষ দিকে
উদ্ধার অভিযান চলতে থাকে।
স্থানীয়দের একটি অংশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করছিল:
ALP তাদের ধরে নিয়ে গেছে।
কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী তখনও অপহরণকারীদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি। �
এমনকি রাঙামাটি পুলিশ সুপার সতর্ক করে বলেছিলেন, বিদেশি কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর নাম ব্যবহার করে স্থানীয় কোনো গোষ্ঠীও ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারে। �
এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ সংবাদে “ALP অপহরণ করেছে” কথাটা যতটা নিশ্চিতভাবে ছড়িয়েছিল, তদন্তকারী কর্মকর্তারা তখনও সেটাকে নিশ্চিত বলে গ্রহণ করেননি।
ফেব্রুয়ারি ২০১৬: চার মাস পর
২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, চার মাস পার হয়ে গেছে।
তবুও প্রশাসনের কর্মকর্তারা আশা করছিলেন:
মুন্না, জুবায়ের ও মাংসাই হয়তো জীবিত আছেন।
তাদের উদ্ধারে কয়েক দফা অভিযান হয়েছিল। �
একই প্রতিবেদনে আবার বলা হয়, অপহরণকারীরা নিজেদের ALP পরিচয় দিয়ে অর্ধ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল।
কিন্তু চার মাসেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। �
২০১৬ জুড়ে
আমি যে নির্ভরযোগ্য সংবাদ আর্কাইভগুলো পেয়েছি, সেখানে ২০১৬ সালে তাদের উদ্ধার, মৃত্যু, মরদেহ পাওয়া বা জীবিত থাকার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ তদন্ত চললেও রহস্যের সমাধান হয়নি।
২০১৭: তদন্তের নতুন পর্যায়
২০১৭ সালের মধ্যে মামলাটি কয়েকটি সংস্থার হাত ঘুরে যায়।
প্রথমে:
বিলাইছড়ি থানা পুলিশ
তারপর:
রাঙামাটি ডিবি
এরপর:
সিআইডি
২০১৭ সালের নভেম্বরের প্রতিবেদনে বিলাইছড়ি থানার তৎকালীন ওসি বলেন, অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছিল। তিনি কয়েক মাস তদন্ত করেন, কিন্তু কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় মামলাটি ডিবিতে যায়। ডিবিও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। পরে খাগড়াছড়ির সিআইডি তদন্তের দায়িত্ব নেয়। �
১৫ নভেম্বর ২০১৭: দুই বছর পর
এই তারিখটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শেষ মাইলফলক।
বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়:
দুই বছর পরও মুন্না ও জুবায়েরের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তদন্ত:
পুলিশ → ডিবি → সিআইডি
হয়ে গেছে।
২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর আটক পাঁচজনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল, কিন্তু তাদের কাছ থেকে নিখোঁজদের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। �
এখন পুরো ঘটনাটাকে ৩ ভাগে দেখলে
🟢 যেগুলো মোটামুটি নিশ্চিত
১. মুন্না ও জুবায়ের মিরপুর থেকে বান্দরবানে ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন।
২. তাদের সঙ্গে সাগর, প্রিতম ও ঈদ ছিলেন।
৩. স্থানীয় গাইড মাংসাই ম্রো তাদের সঙ্গে ছিলেন।
৪. তারা বগালেক, কেওক্রাডং, পাসিংপাড়া ও জাদুছড়ি এলাকার দিকে গিয়েছিলেন।
৫. ২/৩ অক্টোবরের দিকে মুন্না, জুবায়ের ও মাংসাই আলাদা হয়ে দুর্গম এলাকায় যান।
৬. এরপর তারা আর ফিরে আসেননি।
৭. নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক অনুসন্ধান চালায়।
৮. ১৬ অক্টোবরের অভিযানে নিখোঁজ একজনের আইডি কার্ডসহ অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাওয়া যায়।
৯. ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর পাঁচজনকে আটক করা হয়েছিল।
১০. ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মুন্না ও জুবায়েরের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। �
🟡 যেগুলো জোরালো দাবি, কিন্তু চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়
ALP অপহরণ করেছে
স্থানীয় মানুষ, মাংসাইয়ের ভাই এবং কয়েকটি সংবাদসূত্র এই দাবি করেছে।
কিন্তু পুলিশ/নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলেই ALP-এর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে পারেনি। �
৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ
মাংসাইয়ের ভাই পাসিং ম্রো দাবি করেছিলেন ৫০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল।
কিন্তু জুবায়েরের বাবা বলেছেন, তাঁদের কাছে কেউ সরাসরি মুক্তিপণ চায়নি। �
অপহৃতরা মিয়ানমারে চলে গেছে
স্থানীয়দের এমন দাবি ছিল। এমনকি মিজোরামের দিকে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
কিন্তু এর কোনো নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
🔴 যেগুলোকে সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়
“মুন্না ও জুবায়েরকে ALP হত্যা করেছে”
প্রমাণ নেই।
“তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল”
প্রমাণ নেই।
“তারা মিয়ানমারে মারা গেছে”
প্রমাণ নেই।
“মাংসাই তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন”
এটাও প্রমাণিত নয়।
বরং প্রথম আলোর প্রতিবেদনে ফিরে আসা বন্ধু সাগর স্পষ্টভাবে বলেন, তাদের কাছে মাংসাইয়ের জড়িত থাকার কোনো কারণ মনে হয়নি। �
সবচেয়ে বড় রহস্যটা আসলে কোথায়?
আমার দেখা সংবাদগুলো মিলিয়ে সবচেয়ে বড় রহস্য হলো:
একটা পরিচিত ট্রেকিং রুটে যাওয়া দুইজন অভিজ্ঞ ট্রেকার এবং একজন স্থানীয় গাইড কীভাবে সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হয়ে গেলেন, অথচ দুই বছর ধরে কোনো নিশ্চিত অবস্থান, মরদেহ, মুক্তিপণের লেনদেন বা অপহরণকারীর পরিচয় নিশ্চিত করা গেল না।
আরেকটি অদ্ভুত বিষয় হলো আইডি কার্ড উদ্ধার হওয়া। ১৬ অক্টোবর অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে একজন নিখোঁজ পর্যটকের আইডি কার্ড পাওয়া যায়, কিন্তু সেই পর্যটক বা তার গাইডকে পাওয়া যায়নি। �
সুতরাং ২০১৭ সালের শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে সৎ সিদ্ধান্ত হলো:
তারা নিখোঁজ/সম্ভাব্য অপহরণের শিকার হয়েছিল, কিন্তু কারা তাদের নিয়ে গিয়েছিল, কেন নিয়ে গিয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাদের কী হয়েছিল, তা তদন্তে নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
আর একটা সংশোধন বিশেষভাবে মনে রাখা ভালো: “মিরপুর থেকে ছয়জন গিয়েছিল এবং ছয়জনই গায়েব হয়েছিল” এটা ঠিক নয়। সমসাময়িক সূত্র অনুযায়ী মূল পাঁচ বন্ধু ছিলেন মুন্না, জুবায়ের, সাগর, প্রিতম ও ঈদ; গাইড মাংসাই পরে তাদের সঙ্গে ছিলেন। ফিরে আসা বন্ধুদের বক্তব্য অনুযায়ী সাগর, প্রিতম ও ঈদ ফিরে আসেন।
লিখা- Vhomor Dheman