08/06/2017
লাউয়াছড়ার অরণ্যে ভ্রমণ!
নির্জন- নিস্তব্ধ- অচেনা এক অরণ্যে হাজারো নাম না জানা পাখির রাজত্বে হারিয়ে যেতে চান? পর্যটন নগরী ও চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের লাউড়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক আপনাকে এনে দেবে সেই সুযোগ।
১৯২৫ সালে ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা এখানকার বনরাজি এখন ঘন প্রাকৃতিক বনের আকার ধারণ করেছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশে অবশিষ্ট চিরহরিৎ বনের একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা।
জীববৈচিত্র্য ও বন্য প্রাণীর নান্দনিক সৌন্দর্যের কেন্দ্র এই ইকোপার্কটি ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশের গবেষক ও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের স্থানে পরিণত হয়েছে। ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট হিসেবে খ্যাত এই বনে যাবার পথে চোখে পড়বে মন জুড়ানো চা বাগান, পাহাড়, বন- বনানী, উঁচু-নিচু টিলা শ্রেণী, আনারস, লিচু ও লেবু বাগান, সেই সাথে স্থানীয় চা শ্রমিকদের ছোট ছোট ঝুপড়ি ঘর। পাখ-পাখালির কূজন, আর চারিদিকে সবুজের ছড়াছড়ি; যেন সবুজ একটি স্বর্গরাজ্য। লাউয়াছড়ায় প্রবেশ করা মাত্রই শুনতে পাওয়া যাবে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। গাছে গাছে পাখিদের কিচির-মিচির।
ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দকে পর্যটকরা বলে থাকেন ফরেস্ট মিউজিক। এই ফরেস্ট মিউজিক শুনতে শুনতে পর্যটকরা হারিয়ে যান বনের গহিন অরণ্যে। এ জন্য বনে রয়েছে ৩টি প্রাকৃতিক ফুট ট্রেইল বা পায়ে হাঁটা পথ। এর মধ্যে একটি ৩ ঘণ্টার, একটি ১ ঘণ্টার ও একটি ৩০ মিনিটের পথ রয়েছে।
বিরল এক নির্জন পরিবেশে অবস্থিত লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কে রয়েছে ১৬৭ প্রজাতির গাছপালা। এ ছাড়াও রয়েছে ৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৬ প্রজাতীর সরীসৃপ, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ও ২৪৬ প্রজাতির পাখি। এদের মধ্যে উল্লুক, বানর, লজ্জাবতি বানর, হনুমান, ধনেশ, শ্যামা, অজগর, মেছোবাঘ, হরিণ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এ বনের বিচিত্র পশুপাখি ও পোকামাকড়ের কলকাকলি, বানরের ভেংচি আর উল্লুকের এক গাছ থেকে অন্য গাছে ছোটাছুটি পর্যটকদের মনে আনন্দের শিহরণ জাগিয়ে তোলে।