08/09/2022
#বাংলাদেশের_পর্যটন_এবং_রিকুইজিশন
টাংগুয়া হাওর টা বাংলাদেশের অনন্য একটা Raw পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নতুন করে সবার সামনে তুলে এনেছে তরুণ উদ্যোক্তারা।
বাহারী রকমের অত্যাধুনিক সকল সুবিধা যোগ করেছে নৌকার মধ্যে, যেখানে সকল পেশার সকল বয়সের মানুষ হাওর-নদী ভ্রমণের এবং গ্রাম-বাংলাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছে।
হাওরে সাধারণত পূর্ণিমাটা হয় মানুষের মূল আকর্ষণ, যার জন্য এই ছোট সিজনের ভেতরেই সবাই এক মাস অপেক্ষা করে থাকে।
আজকে সকল বোট মালিকদের ঘরে ঘরে খুশির জোয়ার থাকার কথা, অথচ গ্রাস করেছে "রিকুইজিশন" নামক এক ভীতি। কার বোট কোন দিন রিকুইজিশন এ পরে যায়!
কাল পূর্ণিমায় কত মানুষ সখ করে কত বোট বুক করেছিলো, বন্ধু-পরিবার নিয়ে পরিকল্পনা করেছিলো হাওর ভ্রমণে যাবে।
কিন্তু অতর্কিত রিকুইজিশন এ বেশিরভাগ বোটই আজ বুরুক্রেসির কব্জাবন্দি!
এই দেশে বসবাস করে সেই রিকুইজিশন এ না করবে, অত বড় বুকের পাটা কার আছে!
রাষ্ট্র চাইলে রাষ্ট্রীয় কারণে কোন কিছু রিকুইজিশন করতে পারে, সেটা সংবিধানে রয়েছে৷
অথচ রিকুইজিশন করা নৌকাগুলোতে আমরা চুপচাপ চেয়ে দেখি কোন আমলা কিংবা প্রশাসনিক কর্মকর্তা তার পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে ভ্রমণ করতে আসছে অন্য কোন পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধব কে বঞ্চিত করে!
তারপর ট্রিপ শেষে দেখি যে যায়গায় দু পয়সা আয় করে নৌকার পয়সা উঠতো, মাঝিমাল্লাদের ঘর চলতো, নৌকা যারা বানিয়েছে তাদেরও পরিবার চলতো, সেখানে তেলের খরচ টাও সেভাবে পাওয়া যায় না।
অন্য দিকে যে গেস্টরা বুকিং করেছিলো, তাদের অভিশাপ আর চৌদ্দ গুষ্টি শুদ্ধো গালাগালি শুনে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়।
এমনটা যে শুধু হাওরেই হয় তা না, দেশের অন্যান্য পর্যটন স্থানেও কম বেশি হয়েই আসছে।
আমরা এমন বুরুক্রেসি চাই, এমন প্রশাসন চাই যেখানে মানবতা থাকবে, আমরা মন খুলে কথা বলতে পারবো, অধিকার বুঝে পাবো। আমরা তাদের সহযোগীতা চাই, একটা কর্ম পরিবেশ চাই, তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়া যাওয়ার গাইডলাইন চাই, উৎসাহ চাই, সুপরামর্শ চাই।
আমরা সমান অধিকার চাই, যেখানে কর্তা আমাকে বুঝবে, আমিও কর্তাকে বুঝবো।
আমি কর্তাকে ভয় পেতে চাই না, আতংকে থাকতে চাই না, ভালোবাসতে চাই।
মাঝে মাঝে পর্যটন সেক্টর নিয়ে কাজ করায় মনে হয় সেই চোরের মতন চিৎকার দিয়ে বলি "আমার ভুল হয়েছে, আমাকে ক্ষমা করে দেন!"