23/07/2026
🇭🇰 বাংলাদেশী পাসপোর্টে হংকং ই-ভিসা: ঘরে বসেই ই-ভিসা পাওয়ার সিক্রেট গাইড! আবেদনের সহজ নিয়ম ও সম্পূর্ণ গাইডলাইন।
কপি-
আমি নিজেই আমার হংকং ভিসা আবেদন করেছি ২০২৫ সেপ্টেম্বর এন্ড ঠিক ২৫ দিন পর ভিসা অ্যাপরুভাল নোটিস পেয়েছিলাম ।চীনা ক্যান্টন ফেয়ার অ্যাটেন্ড করে বাংলাদেশ ফিরার সময় হংকং ট্রাভেল করসিলাম ।বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের জন্য হংকং ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনলাইন ই-ভিসা (e-Visa) ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি হংকং ইমিগ্রেশন পোর্টাল থেকে আবেদন করতে হয়। এটি সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক প্রক্রিয়া হওয়ায় আপনাকে কোনো দূতাবাসে সরাসরি উপস্থিত হতে হবে না।
আবেদনের সম্পূর্ণ গাইডলাইন নিচে বিস্তারিতভাবে সাজানো হলো:
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Required Documents)আবেদনের পূর্বে নিচের ডকুমেন্টগুলোর স্ক্যান কপি (PDF/JPEG ফরম্যাটে) প্রস্তুত রাখুন:
পাসপোর্ট: মূল পাসপোর্টের তথ্য পৃষ্ঠার পরিষ্কার স্ক্যান কপি। ভ্রমণের তারিখ থেকে পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে এবং ন্যূনতম দুটি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে। পূর্বে ব্যবহৃত সব পুরনো পাসপোর্টের কপিও যুক্ত করতে হবে।
ছবি: হংকং ইমিগ্রেশনের নিয়ম অনুযায়ী সম্প্রতি তোলা সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের রঙ্গিন পাসপোর্ট সাইজ (3.5 cm x 4.5 cm) ছবি।
আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ: বিগত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং ব্যাংক সচ্ছলতা সনদ (Bank Solvency Certificate)। ব্যাংকে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকা বাঞ্ছনীয়।
পেশাগত প্রমাণ:চাকরিজীবী: নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC), ভিজিটিং কার্ড এবং সাম্প্রতিক ৩ মাসের পে-স্লিপ।
ব্যবসায়ী: আপডেট করা ট্রেড লাইসেন্স (ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারি করা) এবং কোম্পানির প্যাড।
ভ্রমণ পরিকল্পনা: নিশ্চিত করা রিটার্ন এয়ার টিকিট বুকিং এবং হোটেল বুকিংয়ের প্রমাণপত্র।
হংকং স্পন্সর (যদি থাকে): হংকংয়ে কোনো আত্মীয় বা ব্যবসায়িক পার্টনার থাকলে তার আমন্ত্রণপত্র (Invitation Letter) এবং তার আইডি কার্ডের কপি (এটি ভিসা প্রাপ্তির সম্ভাবনা বাড়ায়)।
অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া (Step-by-Step Application Process)
1. অফিসিয়াল পোর্টালে প্রবেশ: প্রথমে হংকং সরকারের GovHK Online Services পোর্টালে যান। সেখান থেকে "Application for Entry for Visit/Transit in Hong Kong" পেজে প্রবেশ করুন।
2. ফর্ম পূরণ: অনলাইন আবেদন ফর্মে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্টের বিবরণ, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং পেশাগত তথ্য নির্ভুলভাবে ইংরেজিতে পূরণ করুন।
3. ডকুমেন্ট আপলোড: পূর্বে প্রস্তুত রাখা পাসপোর্ট, ছবি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, এনওসি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি নির্দিষ্ট স্থানে আপলোড করুন।
4. আবেদন জমা (Submit): সমস্ত তথ্য পুনরায় যাচাই করে অ্যাপ্লিকেশনটি অনলাইনে সাবমিট করুন। সাবমিট করার পর একটি Acknowledgement Receipt বা আবেদনপত্র নম্বর পাবেন, যা দিয়ে পরবর্তীতে ভিসার স্ট্যাটাস ট্র্যাক করা যাবে।
প্রসেসিং সময় ও ভিসা ফি (Processing Time & Fees)
প্রসেসিং সময়: আবেদন করার পর সাধারণত ৪ সপ্তাহ (৩০ থেকে ৩৫ কর্মদিবস) সময় লাগে। তাই ভ্রমণের সম্ভাব্য তারিখের অন্তত ১-২ মাস আগে আবেদন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ভিসা ফি: হংকং ই-ভিসার সরকারি ফি বর্তমানে ২৩০ হংকং ডলার (HKD)। আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পর ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হবে। তখন ইমিগ্রেশন পোর্টালে লগইন করে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে এই ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে।
ভিসা ডাউনলোড: ফি পরিশোধের পর পোর্টাল থেকে আপনার ই-ভিসা (Notification Slip) ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।
অফিসিয়াল গাইডলাইন ও ফরম: আপনি যদি আবেদনের পূর্বে অফলাইন ফরমের ডেমো দেখতে চান, তবে Hong Kong Immigration Department-এর সাইট থেকে ID 1003A ফরমটি ডাউনলোড করে দেখে নিতে পারেন।
কারিগরি পরামর্শ: অনলাইন ফর্মটি পূরণের সময় আপনার ব্রাউজারে (যেমন: Chrome বা Edge) 'Pop-ups' অপশনটি চালু বা Allow রাখবেন। সব ডকুমেন্ট যেন পরিষ্কারভাবে স্ক্যান করা থাকে এবং ফাইল সাইজ 5 MB-এর কম হয়।
হংকং ই-ভিসা আবেদনের জন্য ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাংক ব্যালেন্সের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে সাধারণত প্রতি ব্যক্তির জন্য ৩,০০,০০০ থেকে ৫,০০,০০০ বাংলাদেশী টাকা (BDT) বা সমপরিমাণ ব্যালেন্স ব্যাংকে দেখানো সবচেয়ে নিরাপদ।
ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রস্তুত করার সময় নিচের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা জরুরি:
ভ্রমণ খরচের সামঞ্জস্য: আপনার মোট ব্যালেন্স যেন আপনার আনুমানিক ভ্রমণ খরচের (ফ্লাইট, হোটেল, খাওয়া-দাওয়া, ও কেনাকাটা) চেয়ে অন্তত ২-৩ গুণ বেশি হয়।
হঠাৎ বড় লেনদেন নয়: ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হঠাৎ করে বড় কোনো অ্যামাউন্ট জমা (Instant Deposit) করবেন না। ইমিগ্রেশন অফিসাররা নিয়মিত এবং স্বাভাবিক লেনদেনের ইতিহাস দেখতে পছন্দ করেন।
স্থির ব্যালেন্স (Closing Balance): বিগত ৬ মাস ধরে অ্যাকাউন্টে একটি সম্মানজনক ক্লোজিং ব্যালেন্স বজায় থাকা ভালো। হঠাৎ ব্যালেন্স শূন্য থেকে হুট করে ৫ লাখ টাকা দেখালে ভিসা বাতিলের সম্ভাবনা থাকে।
উৎস প্রদর্শন: আপনার পেশা বা আয়ের উৎসের (যেমন: বেতন বা ব্যবসা) সাথে ব্যাংক স্টেটমেন্টের নিয়মিত লেনদেনের মিল থাকতে হবে।
বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের জন্য হংকং বর্তমানে অন্যতম আকর্ষণীয় একটি ভ্রমণ গন্তব্য। যদিও আগে হংকংয়ের ভিসা পাওয়া বেশ জটিল ছিল, বর্তমান অনলাইন ই-ভিসা (e-Visa) ব্যবস্থার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন অনেক সহজ এবং স্বচ্ছ। সঠিক কাগজপত্র, একটি বাস্তবসম্মত ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং পর্যাপ্ত ব্যাংক ব্যালেন্স (৩ থেকে ৫ লাখ টাকা) দেখাতে পারলে হংকংয়ের ই-ভিসা পাওয়া মোটেও কঠিন কোনো কাজ নয়।
ভ্রমণের পরিকল্পনা করার অন্তত ১ থেকে ২ মাস আগে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে, কারণ ভিসা প্রসেস হতে প্রায় ৪ সপ্তাহ সময় লাগে। কোনো ভুল তথ্য বা ভুয়া কাগজপত্র জমা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন, কারণ এতে ভিসা রিজেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সঠিক নিয়মে আবেদন করুন এবং আপনার হংকং ভ্রমণকে আনন্দদায়ক ও নিরাপদ করুন!
Link : https://www.gov.hk/en/nonresidents/visarequire/visasentrypermits/applyvisit_transit.htm
— at Hong Kong星光大道.