08/07/2022
বিদেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরার সময় একটি বিষয় নিয়ে অনেকেই চিন্তিত থাকেন, সেটি হলো আইনানুগভাবে কী কী জিনিসপত্র তারা আনতে পারবেন,কী কী আনতে পারবেন না।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (ঢাকা এয়ারপোর্টে) একটি লম্বা সময় কাজ করার ফলে অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যাচ্ছে যে,আইন না জানা থাকার কারনে বিদেশ থেকে আগত যাত্রীরা প্রায়ই মোবাইল,মদ,সিগারেট,স্বর্ণ নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট আইনি বেড়াজালে আটকা পরেন।
অনেকসময়ই দেখা যায় পরিবার বা বন্ধুদের জন্য শখ করে কিনে আনা বা নিজের প্রয়োজনীয় কোনো একটি পণ্য আইনি অনুমোদন না থাকায় আটক করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
আবার যথাযথ নিয়ম মেনে শুল্ক দিয়ে পণ্যটি ছাড়ানোর উদ্দেশ্য থাকলেও পূর্বপ্রস্তুতি না থাকায় অনেকসময় তাও সম্ভব হয় না।
বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের প্রথম করণীয় কাজ হলো প্রত্যেক যাত্রীদের একটি ব্যাগেজ ঘোষনা ফর্ম পূরণ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে,যার মধ্যে তারা কোনো পণ্য কী পরিমাণে বহন করেছেন তার বিবরণ থাকবে।যদি তিনি শুল্ককর যুক্ত (ট্যাক্সবল)আইটেম বহন করেন,তাহলে বিমানবন্দরের রেড চ্যানেল ব্যবহার করে শুল্ককর পরিশোধ সাপেক্ষে খালাস পাবেন।আর যদি যাত্রী শুল্ককরযুক্ত কোনো পণ্য না নিয়ে আসেন,তাহলে গ্রীন চ্যানেল দিয়ে বের হয়ে যাবেন।
এবার আসা যাক গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আইটেমের বিধিনিষেধ সমূহ যেমন.....
মোবাইলঃ
বিদেশ থেকে আগত কম বেশি সব যাত্রীকেই সবচেয়ে বেশি, ছোট্ট কিন্তু সময়ের পেক্ষাপটে অধিক গুরুত্বপূর্ণ যে যন্ত্রটি নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট যাত্রীরা বড়সড় ধাক্কা খান সেটি হলো এই মোবাইল। প্রায় সব যাত্রী ই দুয়ের অধিক মোবাইল নিয়ে আসেন।
একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ২টি মোবাইল সেট শুল্ককর মুক্ত এবং সর্বোচ্চ ৬টি মোবাইল সেট শুল্ককর পরিশোধ সাপেক্ষে আনতে পারবেন।
শুল্কমুক্ত ও শুল্কযুক্ত এই ৮টির অতিরিক্ত যতটা নিয়ে আসবে ততটা আটক ও বাজেয়াপ্ত হবে।
(অবশ্য BTCL এর অনুমতি সাপেক্ষে ছাড় করানো যাবে।)
ল্যাপটপঃ
১টি শুল্ক ফ্রী এবং একের অধিক হলে শুল্ককর পরিশোধ করে আনা যাবে।
টিভিঃ
২৯" পর্যন্ত টিভি শুল্কমুক্তভাবে আনা যাবে।
৩০-৩৬"টিভি =১০,০০০৳
৩৭-৪২" =২০,০০০৳
৪৩-৪৭"=৩০,০০০৳
৪৮-৫৪"=৪০,০০০৳
৫৫-৬৫"=৫০,০০০৳
৬৫">> =৭০,০০০৳
স্বর্ণঃ
১০০গ্রাম স্বর্ণালংকার বা ২০০গ্রাম রৌপ্যলংকার শুল্কমুক্ত ভাবে আনা যাবে,এর বেশি হলে ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে।
স্বর্ণবারঃ
সর্বোচ্চ ২৩৪ গ্রাম পর্যন্ত স্বর্নবার বা স্বর্ণপিন্ড(raw gold) কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট ঘোষণা দিয়ে শুল্ককর পরিশোধ সাপেক্ষে আনা যাবে।
(প্রতি ১১.৬৬গ্রাম =২০০০৳ করে)
সিগারেটঃ
যেকোনো যাত্রী এক কার্টুন (১০প্যাক =২০০শলাকা) সিগারেট শুল্ক ফ্রী নিয়ে আসতে পারবেন।
১ কার্টুনের অতিরিক্ত সিগারেট বহন করলে তা আটক করা হয়।
মদঃ
বাংলাদেশী পাসপোর্টধারি কোনো যাত্রী মদ নিয়ে আসতে পারবেন না।আনলে তা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আটক করবে।
বিদেশি পাসপোর্টধারি একজন যাত্রী দুই বোতল বা সর্বোচ্চ ১লিটার মদ বহন করতে পারবেন।
অন্য যেকোনো মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য নিয়ে আসলেও তা আটক ও বাজেয়াপ্ত করা হয়।
কসমেটিকসঃ
ব্যক্তিগত ব্যবহার্য্য ও যুক্তিসঙ্গত পরিমান কসমেটিকস।
(১০-১২ কেজির মধ্যে হওয়াই শ্রেয়..)
এছাড়াও কোনো শুল্ক না দিয়ে আনা যাবে যেসব জিনিস:
🍏যুক্তিসঙ্গত পরিমান পরিধেয় কাপড়,খাদ্য সামগ্রী ও কসমেটিকস।(তবে কোনটিই ১৫কেজির বেশি নয়)
🍏গৃহস্থালীর ব্যবহারের পণ্য
🍏ব্যক্তিগত ব্যবহারের ক্রীড়া সরঞ্জাম
🍏টাইপরাইটার, ঘরে ব্যবহারের সেলাই মেশিন, সিলিং ফ্যান ও টেবিল ফ্যান
🍏রাইস কুকার, প্রেশার কুকার, গ্যাস ওভেন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ইলেকট্রিক ওভেন, টোস্টার, স্যান্ডউইচ মেকার, ব্লেন্ডার, ফুড প্রসেসর, জুসার ও কফি মেকার(১টি করে)
🍏বিদেশ থেকে কোনো অসুস্থ যাত্রী আসলে সেই যাত্রীর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি
🍏১৫ বর্গমিটার আয়তন পর্যন্ত কার্পেট
🍏ক্যাসেট প্লেয়ার, সিডি প্লেয়ার, বহনযোগ্য অডিও সিডি প্লেয়ার
🍏ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ কম্পিউটার, সাথে একটি ইউপিএস'ও আনা যাবে
🍏কম্পিউটার স্ক্যানার, প্রিন্টার ও ফ্যাক্স মেশিন
🍏পেশাদার কাজে ব্যবহৃত হয় এরকম ক্যামেরা বাদে ভিডিও ক্যামেরা (এইচডি ক্যমেরা, ডিভি ক্যামেরা, বেটা ক্যামেরা) ও ছবি তোলার ডিজিটাল ক্যামেরা
🍏১৯ ইঞ্চি পর্যন্ত এলসিডি কম্পিউটার মনিটর
🍏২৯ ইঞ্চি পর্যন্ত প্লাজমা, এলসিডি, এলইডি, সিআরটি টেলিভিশন
🍏সর্বোচ্চ চারটি স্পিকারসহ সিডি, ভিসিডি, ডিভিডি, এলডি বা ব্লু ডিস্ক প্লেয়ার
🍎🍎 যে সব জিনিস আনতে শুল্ক প্রদান করতে হবেঃ
√দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার হয়না এমন কোনো পণ্য শুল্ককর দিয়ে আনতে হবে।
√বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য আনিত বা বানিজ্যিক পরিমান যেকোনো পণ্য।
√অপর্যটক(যাত্রী) ব্যাগেজ বিধিমালা২০১৬ এর বিধি ৩ এর অতিরিক্ত কোন পণ্য।(~৬৫কেজি)
√রেফ্রিজারেটর ও ডিপ ফ্রিজ ৫ হাজার টাকা
√উইনডো টাইপ এয়ার কন্ডিশনার ৭ হাজার টাকা
√স্প্লিট টাইপ এয়ার কন্ডিশনার (১৮০০০ বিটিইউ পর্যন্ত) ১৫ হাজার টাকা
√স্প্লিট টাইপ এয়ার কন্ডিশনার (১৮০০০ বিটিইউ এর বেশি) ২০ হাজার টাকা
√ডিশ অ্যান্টেনা ৭ হাজার টাকা
√পেশাদার ভিডিওর কাজে ব্যবহার হয় এরকম এইচডি,
ডিভি, বেটা ক্যামেরা ১৫ হাজার টাকা
√এয়ারগান বা রাইফেল (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে) ৫ হাজার টাকা
√ঝাড়বাতি ৩০০ টাকা (প্রতি পয়েন্ট)
√ডিশ ওয়াশার, ওয়াশিং মেশিন ও কাপড় শুকানোর ড্রায়ার ৩ হাজার টাকা
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
এতক্ষণ যাবত ধৈর্য্য ও সময় নিয়ে লেখাটি পড়ে থাকলে ধন্যবাদ।আপনি কিংবা আপনার পরিচিত কেউ বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় উল্লেখিত বিষয়সমূহে একটু ধারণা রাখলে আশাকরি দীর্ঘ যাত্রাপথে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন।
(সংগৃহীত),,,,,,