Sagor Travels

Sagor Travels Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Sagor Travels, Travel Company, Pabna.

শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আশ্রম (পাবনা) — ইতিহাস ও পরিচিতিশ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ১৪ সেপ্টেম্বর ১৮৮৮ সালে অবি...
18/02/2026

শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আশ্রম (পাবনা) — ইতিহাস ও পরিচিতি

শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ১৪ সেপ্টেম্বর ১৮৮৮ সালে অবিভক্ত বাংলার পাবনা জেলার হিমাইতপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শিবচন্দ্র চক্রবর্তী এবং মাতার নাম মনমোহিনী দেবী। এই আশ্রম বা সৎসঙ্গ আশ্রম বাংলাদেশের পাবনা জেলার হেমায়েতপুর গ্রামে অবস্থিত, পাবনা শহর থেকে প্রায় ২-২.৫ কিমি পশ্চিমে। এটি শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র-এর জন্মস্থান ও প্রাথমিক কার্যক্রম কেন্দ্র ছিল।

তিনি একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান হলেও শৈশব থেকেই আধ্যাত্মিক ও মানবিক গুণাবলীতে অনন্য ছিলেন। পরবর্তীতে চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিপ্লোমা নিয়ে নিজ গ্রামে চিকিৎসা শুরু করেন এবং মানসিক ও শারীরিক রোগীদের আরোগ্যে বিশেষ গুরুত্ব দেন। অনুকূলচন্দ্রের দর্শন "সৎসঙ্গ" “যজন”, “ইষ্টভৃতি” ইত্যাদি কৌশলে মানুষের জীবন, চিন্তা ও সমাজ উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করে।

সৎসঙ্গ আশ্রমটি আদিতে সাদামাঠা বৈশিষ্টে নির্মিত হয়েছিল; এতে কোন উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য বৈশিষ্ট পরিলক্ষিত হয়নি। তবে বর্গাকৃতির ভবনটির শীর্ষদেশ চারটি ত্রিভূজ আকৃতির ক্রমহ্রাসমান ছাদে আচ্ছাদিত ছিল। এ মন্দিরের শিখর ক্ষুদ্রাকৃতির কলস ফিনিয়ালে আকর্ষনীয় বৈশিষ্টমন্ডিত ছিল। মন্দিরের পাশেই শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের পূজার ঘর অবস্থিত। এ ক্ষুদ্র ভবনটি গম্বুজবিশিষ্ট এবং ধনুক বক্র কার্নিশ ও গম্বুজের চারকোণে চারটি দৃষ্টিনন্দন শিখর ধারণ করে এক বৈচিত্রময় বৈশিষ্টের অবতারনা করেছে।

শ্রী শ্রী অনুকূল চন্দ্রের পিতা-মাতার স্মৃতিরক্ষার্থে এই মন্দির নির্মিত। মন্দিরের সম্মুখ প্রাসাদে ‘স্মৃতি মন্দির’ কথাটি পাথরের উপরে উৎকীর্ণ করা আছে। অনুকূলচন্দ্র ‘সৎসঙ্গ’ নামে একটি জনহিতকর সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। প্রকৃত অর্থে অনুকূল ঠাকুর মানবকল্যাণে তাঁর জায়গা-জমি যথাসর্বস্ব উৎসর্গ করে গেছেন। স্মৃতিমন্দিরটি অন্যান্য ইমারতের তুলনায় এখনো সুসংরক্ষিত অবস্থায় আছে। সম্প্রতি নব নির্মিত সৎসঙ্গ-আশ্রম-মন্দির সমন্বয়ে গঠিত স্থাপত্য নিদর্শনটি সহজেই সবার দৃষ্টি আকর্ষন করে।

এখানে শ্রী শ্রী অনুকূল চন্দের জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বিরাট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঐ সময় এখানে প্রচুর লোক/অতিথির সমাগম হয়। প্রায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয় বলে জানা যায়। ভারত হতেও লোকজন এখানে আসেন। এ সম্পদের প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরী। সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে আশ্রম এলাকায় প্রয়োজনীয় পর্যটন সুবিধাদি প্রবর্তন করা হলে সারা বছরই এখানে দেশী/বিদেশী পর্যটকগণ আসা/যাওয়া করবেন। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য একটি টুরিষ্ট স্পট হিসেবে বিবেচিত হবে ও সংশ্লিষ্ট খাতে আয়ের পথ সুগম করবে।

#ঠাকুরঅনুকূলচন্দ্র #শ্রীশ্রীঠাকুরঅনুকূলচন্দ্র

কিংবদন্তি মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের স্মৃতি সংগ্রহশালা ও পৈতৃক বাড়ি — ইতিহাসবাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়িকা অভিনেত্রী সুচিত্...
05/02/2026

কিংবদন্তি মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের স্মৃতি সংগ্রহশালা ও পৈতৃক বাড়ি — ইতিহাস

বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়িকা অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন চলচ্চিত্র জগতে এক অসাধারণ কিংবদন্তি নাম "গ্রেট গার্বো অফ বাঙালি সিনেমা” হিসেবে বিশ্ববিখ্যাত। তিনি বাংলা সিনেমার এক অমর নায়িকা।

সুচিত্রা সেন ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল সিরাজগঞ্জের ভাঙ্গাবাড়িতে তাঁর মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তিনি বেড়ে ওঠেন পাবনা শহরের গোপালপুর হেমসাগর লেনের পৈতৃক বাড়িতে। এটি তাঁর জন্মস্থান ও শৈশবের স্মৃতি ধারণ করে।

দেশভাগের আগেই সুচিত্রা সেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পাবনা ছেড়ে কলকাতায় চলে যান। এরপর ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ঐতিহাসিক বাড়িটি একটি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দখল হয়ে ইমাম গাজ্জালী স্কুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্থানীয়দের উদ্যোগে দীর্ঘ আইনি সংগ্রামের পর ১৬ জুলাই ২০১৪ বাসাটি দখলমুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ৬ এপ্রিল ২০১৭-এ এই পৈতৃক বাড়িটি “সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা (Smrity Shangrahashala)” আকারে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

স্মৃতি সংগ্রহশালার সামনে সুচিত্রা সেনের একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। সংগ্রহশালায় মূলত সুচিত্রা সেনের জীবনীচিত্র, সিনেমার ফটোগ্রাফ ও কিছু স্মৃতিচিহ্ন প্রদর্শিত হয়। এখানে একটি ছোট চলচ্চিত্র প্রদর্শনী কক্ষও রয়েছে। এখানে যথেষ্ট সংগ্রহ নেই এবং পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ নাই। রান্নাঘর, পরিবারিক মন্দির ইত্যাদি ভগ্নাংশ অবস্থায় রয়েছে।

জেলা প্রশাসন ভবিষ্যতে একটি উন্নত সংগ্রহশালা বা নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে এবং মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতি রয়েছে।

#সুচিত্রাসেন
#সুচিত্রাসেনের_পিতৃক_বাড়ি #বাংলা_সিনেমা

দুলাই (সুজানগর উপজেলা) পাবনা জেলার ঐতিহাসিক আজিম চৌধুরীর জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের জমিদারি যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত...
04/02/2026

দুলাই (সুজানগর উপজেলা) পাবনা জেলার ঐতিহাসিক আজিম চৌধুরীর জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের জমিদারি যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য ও ইতিহাসে সমৃদ্ধ একটি জায়গা। এটি এক-সময় এ অঞ্চলের মুসলিম জমিদারদের মধ্যে সবচেয়ে প্রতাপশালী ও স্বনামধন্য বাড়ি হিসেবে খ্যাত ছিল। আজ তা অতীতের গৌরব ধারণ করে ধ্বংসের পথে থাকা ঐতিহাসিক নিদর্শনেরূপে দাঁড়িয়ে আছে।

এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ২৫০-৩০০ বছর আগে দুলাই গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়। মূল প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মুনশি রহিমউদ্দিন সারকার, যিনি পরবর্তীতে চৌধুরী উপাধি লাভ করেন। তাঁর পিতা শারফউদ্দিন সারকার মধ্য এশিয়ার সামারকন্দ (Turkestan) থেকে আগত হয়ে দুলাইতে স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তুলেন।

এই জমিদার বাড়ি আজিম চৌধুরীর নামে বেশি পরিচিত, কারণ তার সময়েই এটি সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও খ্যাতি অর্জন করে। আজিম চৌধুরী (ফখরউদ্দিন আহলে আহসান আজিম চৌধুরী) ছিলেন জমিদার হিসেবে গ্রামের অর্থনৈতিক ও সমাজিক কেন্দ্রবিন্দু। তিনি দুলাইতে তিনটি ইন্ডিগো (নিল) কারখানা স্থাপন করেন, যা সেই সময়কার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। তার দান-উদান ও সমাজসেবার জন্য এলাকার মানুষ তাকে সম্মান করত, ও তিনি চিকিৎসা-সহায়তায় স্থানীয় একটি ডিসপেন্সারিও প্রতিষ্ঠা করেন।

জমিদার বাড়িটি ছিল বিশাল এক সম্পত্তি, যেখানে
দুইতলা ভবন, বিশাল পুকুর, বহু দরজা ও ১১টি দ্বার ছিল। মূল গেটের আগ্রভাগে দুটি হাতি ও একটি কামান নিরাপত্তা হিসেবে রাখা হয়েছিল।
বাড়ির মধ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন রহিমউদ্দিন সারকার-যা আজও স্থায়ী আছে।
জমিদারের পরিবারের আভিজাত্য, অতিথি-আয়োজন ও প্রশাসনিক কাজের জন্য আলাদা স্থাপনা ছিল।

জমিদারি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর ১৯৫০ সালে East Bengal State Acquisition and Tenancy Act-এর মাধ্যমে জমিদারিত্ব বাতিল হলে বাড়িটির ভূমিকা ও অবস্থান ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। পরে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিরোধ ও দখল-দাবিতে জটিলতা হয়, আর তা-ই বাড়ির পরম্পরাগত সংরক্ষণে বিঘ্ন ঘটায়। কিছু জায়গা স্থানীয় প্রভাবশালীদের দ্বারা দখলও হয়েছে। ফলে বাড়িটি আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত ও পরিপূর্ণ অবস্থায় নেই, শুধু অপ্রতুল অবশিষ্টাংশ রয়ে গেছে।

#আজিমচৌধুরীরজমিদারবাড়ি
#দুলাইজমিদারবাড়ি #পাবনাইতিহাস

পাবনা বেড়া পোর্ট — সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব..পাবনা জেলার বেড়া উপজেলা বহুদিন ধরেই নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্যের জন্য...
03/02/2026

পাবনা বেড়া পোর্ট — সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব..

পাবনা জেলার বেড়া উপজেলা বহুদিন ধরেই নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্যের জন্য পরিচিত। এখানে প্রবাহিত হুরাসাগর নদী মূলত যমুনা নদীরই একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। নদীপথই ছিল যোগাযোগ ও ব্যবসার প্রধান মাধ্যম। যার ফলে বেড়া অঞ্চলে গড়ে ওঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ নদীঘাট ও বাণিজ্য কেন্দ্র, যা আজকের “বেড়া পোর্ট” নামে পরিচিত

এই নদীর পাড়ে একসময় নোঙর করত শত শত নৌকা। এই ঘাট দিয়েই চলত উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যের শিরা-উপশিরা। সময় বদলেছে, নদীর গতিপথ বদলেছে, কিন্তু পাবনা বেড়া পোর্ট আজও বহন করে এক গর্বিত ইতিহাস।

বিশেষ করে জুট, ধান, তামাক, লবণ ও আত্রাজাতীয় পণ্যগুলো—এই পোর্ট থেকে বিভিন্ন স্থানে নৌকাযোগে পাঠানো হতো। তখনকার দিনে নদীপথ ছিল দেশের অন্যতম প্রধান পরিবহন ও বাণিজ্য পথ। এর ফলে বেড়া পোর্ট একসময় সজীব বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত এবং ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য ছিল।

কিন্তু যখন প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হলো, সড়ক ও রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি পেল এবং নদীপথের উপর নির্ভরশীলতা কমতে লাগল। সেই সঙ্গে অনেক নদী বা শাখানদী আগের মতো নৌচলাচলের উপযোগী থাকতে পারছিল না, ফলে বেড়া পোর্টের মূল বাণিজ্যিক ভূমিকাও ক্রমেই কমে গেল। আগের মত জোড়ালো পণ্য পরিবহনের প্রয়োজন কমে যাওয়ায় পোর্টটি সময়ের সাথে অবহেলিত হয়ে পড়ল এবং কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেল।

২০১০-এর শেষ দিকে বা ২০১৯ সালের দিকে, পোর্ট এলাকায় একটি অবৈধ নদীঘাট/পোর্ট স্থাপন করা হয়েছিল যেখানে ট্রাক ও নৌকাগুলো দিয়ে পণ্য ওঠা-নামা করতেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সেটি সরকারের অনুমোদিত ছিল না। বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (BIWTA) জানিয়েছিল যে, শুধুমাত্র তাদের অনুমোদিত পোর্টগুলোই বৈধভাবে পরিচালিত হতে পারে এবং স্থানীয় নেতাদের দ্বারা পরিচালিত অবৈধ পোর্টটি ২০১৯ সালের শেষে উচ্ছেদ করা হয়।

সম্প্রতি (২০২৫ সালের নভেম্বরে) নগরবাড়ী নদী পোর্ট নামে আধুনিক একটি নতুন পোর্ট উদ্বোধন করা হয়েছে যা বেড়া উপজেলার কাছেই অবস্থিত। নগরবাড়ী পোর্ট আধুনিকভাবে চালু হওয়ায় পুরনো বেড়া পোর্ট আজ মূলত ইতিহাসের অংশ।

#বেড়া_পোর্ট #পাবনার_ইতিহাস #নদী_বাংলাদেশ

একদন্ত হাট (বাজার) — ইতিহাস ও প্রেক্ষাপটএকদন্ত হাট (একদন্ত বাজার) হলো পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের একটি ...
02/02/2026

একদন্ত হাট (বাজার) — ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট

একদন্ত হাট (একদন্ত বাজার) হলো পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। এটি ঐ ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় হাটগুলির মধ্যে একটি এবং এলাকার মানুষের অর্থ-সামাজিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বাজারটিকে একদন্ত ইউনিয়ন এবং কাছাকাছি গ্রামের কৃষক–ক্রেতা ও বণিকরা সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে মিলিত হয়ে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় ও বাণিজ্যিক লেনদেনের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

ব্রিটিশ শাসনামলের বিভিন্ন শাসনিক নথিতে “Ekdanta Hat” বা Ek­danta Bazaar-এর উল্লেখ পাওয়া গেছে যেখানে আটঘরিয়া -এর অন্তর্গত এলাকায় স্থাপিত বাজার হিসেবে বাণিজ্য-কার্য চালানোর তথ্য সংরক্ষিত ছিল। এটি তখনও স্থানীয় কৃষিপণ্য ও পণ্য পরিবহনের হাব হিসাবে কাজ করত, বিশেষ করে ধান, পাট, ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিকভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য।

একদন্ত ইউনিয়ন ও বাজারের অর্থনৈতিক ভূমিকা: ঐতিহ্যগতভাবে এই এলাকার কৃষি-ভিত্তিক অর্থনীতির প্রধান কেন্দ্রগুলোর একটি হয়ে উঠেছে একদন্ত হাট। কৃষকরা ধান, গম, পাট, শাকসবজি, ফল-ফলাদি নিয়ে এখানে বিক্রি করেন এবং কাছাকাছি গ্রাম থেকে বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করেন। ইউনিয়নের বহুমুখী কৃষি উৎপাদন ও তাঁতশিল্পের সাথে এই হাট-বাজারের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্য: যদিও একদন্ত হাট-এর প্রতিষ্ঠার নির্দিষ্ট সাল বা জমিদারী সময়ের দলিল পাওয়া যায়নি, স্থানীয় প্রেক্ষাপটে এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এলাকার মানুষের শেয়ার বাজার, ক্রয়-বিক্রয়ের কেন্দ্র, সামাজিক ত্রাণ বিনিময় ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে এসেছে। ইউনিয়নে অন্যান্য হাট-বাজারের সাথে একদন্ত হাট উল্লেখযোগ্য স্থানীয় অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবেও বিবেচিত।

হাটবার: সোমবার, বৃহস্পতিবার

#একদন্তহাট #আটঘরিয়া

ঈশ্বরদী এয়ারপোর্ট | এক নীরব ইতিহাসএক সময় পাবনার আকাশে উড়তো যাত্রীবাহী বিমান। আজ সেই বিমানবন্দর দাঁড়িয়ে আছে নিঃশব্দে, স্ম...
01/02/2026

ঈশ্বরদী এয়ারপোর্ট | এক নীরব ইতিহাস

এক সময় পাবনার আকাশে উড়তো যাত্রীবাহী বিমান। আজ সেই বিমানবন্দর দাঁড়িয়ে আছে নিঃশব্দে, স্মৃতির ভার নিয়ে। ঈশ্বরদী এয়ারপোর্ট পাবনা অঞ্চলের এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা, যার ইতিহাস প্রায় এক শতাব্দীর কাছাকাছি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় (১৯৪০-এর দশক) ব্রিটিশ শাসনামলে এই বিমানবন্দরটি নির্মাণ করা হয়।
মূল উদ্দেশ্য ছিল সামরিক বিমান চলাচল ও জরুরি যোগাযোগ। তখন ঈশ্বরদী ছিল রেল ও স্থল যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র—এই কৌশলগত কারণেই জায়গাটি নির্বাচন করা হয়। পাকিস্তান আমলে ঈশ্বরদী এয়ারপোর্ট থেকে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল শুরু হয়। ১৯৬০-এর দশকে Pakistan International Airlines (PIA) এখান থেকে ঢাকা ও অন্যান্য রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে। এ সময় এটি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঈশ্বরদী থেকে নিয়মিত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে।১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত এখানে যাত্রীবাহী বিমান নামতো-উড়তো।

বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় ১৯৮৯ সালের পর যাত্রী সংকট, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং বিকল্প সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নত হওয়ার কারণে ধীরে ধীরে ফ্লাইট কমে যায়। ১৯৯০-এর দশকে একাধিকবার চালুর চেষ্টা হলেও তা টেকসই হয়নি ২০১৩ সালে স্বল্প সময়ের জন্য আবার ফ্লাইট চালু হয় ২০১৪ সালের পর আবার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় বাণিজ্যিক ফ্লাইট। বর্তমানে ঈশ্বরদী এয়ারপোর্টে কোনো নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট নেই। তবে বিশেষ প্রয়োজনে সরকারি ও প্রশিক্ষণ ফ্লাইটে ব্যবহার হয়। আজ এখানে নেই কোনো যাত্রী কোলাহল, তবে রানওয়ে আর টার্মিনাল এখনো সাক্ষী হয়ে আছে এক গৌরবময় অতীতের।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ায় অনেকেই মনে করছেন—ঈশ্বরদী এয়ারপোর্ট আবার চালু হওয়া উচিত।

#ঈশ্বরদী_এয়ারপোর্ট #ঈশ্বরদী #পরিত্যক্ত_এয়ারপোর্ট

পাকশি হার্ডিঞ্জ ব্রিজ (Hardinge Bridge) – ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাংলাদেশের উত্তর–দক্ষিণ রেল যোগাযোগের এক অবিস্মরণীয় নিদর্শন হল...
31/01/2026

পাকশি হার্ডিঞ্জ ব্রিজ (Hardinge Bridge) – ইতিহাস ও ঐতিহ্য

বাংলাদেশের উত্তর–দক্ষিণ রেল যোগাযোগের এক অবিস্মরণীয় নিদর্শন হলো পাকশি হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশি, পদ্মা নদীর ওপর অবস্থিত এই ঐতিহাসিক রেলসেতুটি শুধু একটি সেতু নয়—এটি আমাদের উপমহাদেশের প্রকৌশল ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়।

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১০ সালে এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৯১৫ সালে তা সম্পন্ন হয়। তৎকালীন ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ (Lord Hardinge)–এর নামানুসারেই এর নামকরণ করা হয় Hardinge Bridge।

প্রায় ১.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মিত হয়েছিল অত্যাধুনিক (তৎকালীন সময়ে) ইস্পাত কাঠামো দিয়ে। প্রবল স্রোত ও প্রশস্ত পদ্মা নদীর ওপর এমন শক্তপোক্ত রেলসেতু নির্মাণ ছিল সে সময়ের এক বিরাট চ্যালেঞ্জ—যা সফলভাবে মোকাবিলা করেছিলেন ব্রিটিশ প্রকৌশলীরা।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ চালু হওয়ার ফলে কলকাতা থেকে আসাম ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেল যোগাযোগ সহজ হয়। আজও এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এর অবদান অপরিসীম।

পদ্মা নদীর বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এই সেতু সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সময় অসাধারণ সৌন্দর্য ধারণ করে। তাই ইতিহাসপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে পাকশি হার্ডিঞ্জ ব্রিজ একটি বিশেষ আকর্ষণ।

বাংলার ইতিহাস, প্রকৌশল আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব মিলন—পাকশি হার্ডিঞ্জ ব্রিজ।

#পাকশি #হার্ডিঞ্জব্রিজ

পাবনার জোড় বাংলা মন্দির — ইতিহাস, স্থাপত্য ও ঐতিহ্যজোড় বাংলা মন্দির বাংলাদেশের পাবনা শহরের কালাচাঁদপাড়া এলাকায় অত্যন্ত প...
11/01/2026

পাবনার জোড় বাংলা মন্দির — ইতিহাস, স্থাপত্য ও ঐতিহ্য

জোড় বাংলা মন্দির বাংলাদেশের পাবনা শহরের কালাচাঁদপাড়া এলাকায় অত্যন্ত পরিচিত ও পুরাতন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে খ্যাত। এটি বাংলাদেশের স্থাপত্য ঐতিহ্যের একটি অনন্য উদাহরণ এবং দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান।

মন্দিরটি “জোড় বাংলা” আর্কিটেকচার শৈলীতে নির্মিত — অর্থাৎ দু’টি দোচালা (পিচ-ছাদ) ধাঁচের ঘর একসঙ্গে জোড়া করে বানানো হয়েছে, যা বাংলা স্থাপত্যের একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরন।

পশ্চিমদিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকা মন্দিরটির সামনের দিকের বারান্দা, খিলান এবং ছাদের নকশা ঐতিহ্যবাহী বাঙালি স্থাপত্য দক্ষতার পরিচায়ক।

জোড় বাংলা শৈলীর মন্দিরটিতে দুটি দোচালা অংশ রয়েছে — পূর্ব দিকটি মন্ডপ (বারান্দা/গোষ্ঠের ঘর), আর পশ্চিম দিকটি গর্ভগৃহ/প্রধান মন্দির অংশ হিসেবে ব্যবহৃত।

মন্দিরটি বলা হয় ১৮শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে নির্মিত। যদিও শিলালিপি না থাকায় সঠিক নির্মাণ তারিখ পাওয়া যায়নি, স্থানীয় ঐতিহাসিক ঐতিহাসিক বই অনুযায়ী এটি মুর্শিদাবাদ নবাবের তহশিলদার ব্রজমোহন ক্রোরী কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল বলে জানা যায়।

সময়ের সাথে বিভিন্ন স্থানে মন্দিরের টেরাকোটা ফলক ও ইটের নকশা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে, তবে আগে এখানে দেবদেবীর নানা মূর্তিসহ ইটের কারুকাজ ছিল যা এর আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি করত।

1897 সালের ভূমিকম্পে মন্দিরের অনেক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।1971 সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মন্দির থেকে রাধা-কৃষ্ণের কৃত্রিম মূর্তি চুরি হয়ে যায়, যার ফলে বহু স্থানীয় ঐতিহ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বর্তমানে মন্দিরে নিয়মিত আর পূজা আরাধনা হয় না, এবং এটি অনেকাংশে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। তবে বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন।

#জোড়বাংলামন্দির #বাংলারঐতিহ্য #ঐতিহাসিকস্থাপনা

চাটমোহর শাহি মসজিদ উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা। এই মসজিদটি মূলত মোগল আমলে (১৭শ শতক) নির্মিত...
09/01/2026

চাটমোহর শাহি মসজিদ উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা। এই মসজিদটি মূলত মোগল আমলে (১৭শ শতক) নির্মিত বলে ইতিহাসবিদদের ধারণা। স্থানীয়ভাবে একে “শাহী মসজিদ” নামে ডাকা হয়, যা তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর একটি নিদর্শন।

মসজিদটি ইট দিয়ে নির্মিত এবং এতে মোগল স্থাপত্যের স্পষ্ট ছাপ দেখা যায়। একাধিক গম্বুজ, পুরু দেয়াল, মিহরাবের কারুকাজ এবং চুন-সুরকির ব্যবহার মোঘল স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে। মসজিদের নকশা সরল হলেও গাম্ভীর্যপূর্ণ, যা সে সময়কার ধর্মীয় স্থাপনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

শাহি মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থানই নয়, বরং এটি চাটমোহর অঞ্চলের ইতিহাস, ইসলামি সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বহু বছর ধরে এই মসজিদ এলাকাবাসীর ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

বর্তমানে মসজিদটি স্থানীয় মুসল্লিদের নিয়মিত নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। সময়ের সাথে সাথে কিছু সংস্কার কাজ হলেও মূল ঐতিহ্য ও প্রাচীন কাঠামো এখনো দৃশ্যমান, যা ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।

চাটমোহর শাহি মসজিদ প্রমাণ করে—পাবনা শুধু সাহিত্য ও সংস্কৃতির জেলা নয়, বরং ইতিহাস ও স্থাপত্য ঐতিহ্যেরও এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার।

আপনি যদি ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভালোবাসেন, তাহলে এই মসজিদটি একবার হলেও ঘুরে দেখার মতো।

#চাটমোহর_শাহি_মসজিদ #পাবনা #মোগল_স্থাপত্য
#ঐতিহ্যবাহী_বাংলাদেশ

Address

Pabna

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sagor Travels posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category