18/02/2026
শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আশ্রম (পাবনা) — ইতিহাস ও পরিচিতি
শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ১৪ সেপ্টেম্বর ১৮৮৮ সালে অবিভক্ত বাংলার পাবনা জেলার হিমাইতপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শিবচন্দ্র চক্রবর্তী এবং মাতার নাম মনমোহিনী দেবী। এই আশ্রম বা সৎসঙ্গ আশ্রম বাংলাদেশের পাবনা জেলার হেমায়েতপুর গ্রামে অবস্থিত, পাবনা শহর থেকে প্রায় ২-২.৫ কিমি পশ্চিমে। এটি শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র-এর জন্মস্থান ও প্রাথমিক কার্যক্রম কেন্দ্র ছিল।
তিনি একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান হলেও শৈশব থেকেই আধ্যাত্মিক ও মানবিক গুণাবলীতে অনন্য ছিলেন। পরবর্তীতে চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিপ্লোমা নিয়ে নিজ গ্রামে চিকিৎসা শুরু করেন এবং মানসিক ও শারীরিক রোগীদের আরোগ্যে বিশেষ গুরুত্ব দেন। অনুকূলচন্দ্রের দর্শন "সৎসঙ্গ" “যজন”, “ইষ্টভৃতি” ইত্যাদি কৌশলে মানুষের জীবন, চিন্তা ও সমাজ উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করে।
সৎসঙ্গ আশ্রমটি আদিতে সাদামাঠা বৈশিষ্টে নির্মিত হয়েছিল; এতে কোন উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য বৈশিষ্ট পরিলক্ষিত হয়নি। তবে বর্গাকৃতির ভবনটির শীর্ষদেশ চারটি ত্রিভূজ আকৃতির ক্রমহ্রাসমান ছাদে আচ্ছাদিত ছিল। এ মন্দিরের শিখর ক্ষুদ্রাকৃতির কলস ফিনিয়ালে আকর্ষনীয় বৈশিষ্টমন্ডিত ছিল। মন্দিরের পাশেই শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের পূজার ঘর অবস্থিত। এ ক্ষুদ্র ভবনটি গম্বুজবিশিষ্ট এবং ধনুক বক্র কার্নিশ ও গম্বুজের চারকোণে চারটি দৃষ্টিনন্দন শিখর ধারণ করে এক বৈচিত্রময় বৈশিষ্টের অবতারনা করেছে।
শ্রী শ্রী অনুকূল চন্দ্রের পিতা-মাতার স্মৃতিরক্ষার্থে এই মন্দির নির্মিত। মন্দিরের সম্মুখ প্রাসাদে ‘স্মৃতি মন্দির’ কথাটি পাথরের উপরে উৎকীর্ণ করা আছে। অনুকূলচন্দ্র ‘সৎসঙ্গ’ নামে একটি জনহিতকর সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। প্রকৃত অর্থে অনুকূল ঠাকুর মানবকল্যাণে তাঁর জায়গা-জমি যথাসর্বস্ব উৎসর্গ করে গেছেন। স্মৃতিমন্দিরটি অন্যান্য ইমারতের তুলনায় এখনো সুসংরক্ষিত অবস্থায় আছে। সম্প্রতি নব নির্মিত সৎসঙ্গ-আশ্রম-মন্দির সমন্বয়ে গঠিত স্থাপত্য নিদর্শনটি সহজেই সবার দৃষ্টি আকর্ষন করে।
এখানে শ্রী শ্রী অনুকূল চন্দের জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বিরাট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঐ সময় এখানে প্রচুর লোক/অতিথির সমাগম হয়। প্রায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয় বলে জানা যায়। ভারত হতেও লোকজন এখানে আসেন। এ সম্পদের প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরী। সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে আশ্রম এলাকায় প্রয়োজনীয় পর্যটন সুবিধাদি প্রবর্তন করা হলে সারা বছরই এখানে দেশী/বিদেশী পর্যটকগণ আসা/যাওয়া করবেন। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য একটি টুরিষ্ট স্পট হিসেবে বিবেচিত হবে ও সংশ্লিষ্ট খাতে আয়ের পথ সুগম করবে।
#ঠাকুরঅনুকূলচন্দ্র #শ্রীশ্রীঠাকুরঅনুকূলচন্দ্র