29/06/2022
শিক্ষক।
১. ছাত্র জীবনে টিউশনি করতাম।
নিজের পকেট খরচ চালানোর জন্য।
একটা বাসায় পড়াতাম।
ছাত্রের বাবা নামী একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর এরিয়া হেড। এলাহী কারবার। শানশওকত, বাংলো, আর্দালী, ড্রাইভার সব মিলিয়ে চোখ বের হয়ে আসার মতো।
এমন বাহারি বাড়িতে অস্বস্তি লাগে, আমরা তখন কবিতা লিখি, রাজনীতি করি, রাস্তায় এরশাদ বিরোধী মিছিল করি। গায়ে ঘামের গন্ধ, চুল এলোমেলো, সব মিলিয়ে নিজেকে বেমানান মনে হয়। তবু যাই, মাস শেষে টাকা লাগবে, কারেন্ট বুক সেন্টারে অনেক টাকা বাকি জমে আছে।
একদিন পড়াচ্ছি এমন সময় হল্লা মতো হলো, গাড়ি বারান্দায় সবাই তটস্থ। জানালা দিয়ে দেখি, ছাত্রের বাবা নামছেন, দরজা খুলছেন একজন, আরেকজন তার কোট নেয়ার জন্য ছুটে গেলেন। তিনি মচমচে জুতোর আওয়াজ তুলে ভেতরে চলে গেলেন।
কিছুক্ষণ পর গরগর আওয়াজের সাথে দরজা খুলে গেলো, দেখি চাকাওয়ালা ট্রে হাতে
স্বয়ং ভদ্রলোক নাস্তা নিয়ে ঢুকছেন। তারপর বললেন, ভাল আছেন? হালকা একটু খাবার এনেছি, নিলে খুব খুশি হবো।
আমি হতভম্ব ভাব কাটিয়ে শুধু মিন মিন করতে লাগলাম, আপনি---- আপনি----!
তিনি মিষ্টি হেসে বললেন, শুনুন, আমার ছেলের দায়িত্ব আপনার হাতে ছেড়ে দিয়েছি, আমি নিজ হাতে নাস্তা আনায় সে বুঝবে আপনার সম্মান কতখানি, তাহলে আপনাকে অমান্য করার সাহস পাবে না। শিক্ষকের সম্মান তাকে বোঝাতে হবে না?
২. আজ দেশের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষকদের অপমান করা হচ্ছে, এমনকি একজনকে হত্যা করা হয়েছে। এগুলো যখন দেখি অক্ষম রাগে আমার নিজের হাত কামড়াতে ইচ্ছে করে এবং চোখে ভাসে আমার সেই ছাত্রের বাবার মুখ।
মানুষে মানুষে কত পার্থক্য!
#আসুনমায়াছড়াই
#সংগৃহীতbadalSyedsir