03/04/2026
মক্কা থেকে মদীনার উদ্দেশ্যে ৪০ জন ওমরা যাত্রী নিয়ে আমরা বাসে রওনা দিলাম—৩১ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার। পথিমধ্যে এক বিনয়ী আলেম মদীনার গুরুত্ব সম্পর্কে এমন হৃদয়স্পর্শী বয়ান করলেন, যার প্রতিটি শব্দ যেন অন্তরের গভীরে গিয়ে বসলো। তাঁর কণ্ঠে ছিল আন্তরিকতা, বাচনভঙ্গিতে ছিল এক অদ্ভুত আকর্ষণ।
তিনি বললেন, “মদীনায় পৌঁছে কেউ তাড়াহুড়ো করে নবীজির রওজায় সালাম দিতে যাবেন না। আগে নিজেকে প্রস্তুত করুন—শরীর-মনকে পরিপাটি করুন। যখন অন্তর অধীর আগ্রহে ব্যাকুল হয়ে উঠবে, তখনই রওজা আতহারে হাজির হবেন। সেই আগ্রহ তৈরি হতে যদি দুই দিনও সময় লাগে, তবুও অপেক্ষা করুন।”
তিনি আরও বললেন, “নবিজী (সাঃ) কবরে জীবিত আছেন। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিজের আবদার পেশ করুন। সাহাবীরা নবিজীর মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে তাদের অনেক সমস্যার সমাধান করে নিতেন।” এ বিষয়ে তিনি অনেক উদাহরণও পেশ করলেন।
এই বয়ানটি আমার অন্তরে গভীরভাবে রেখাপাত করলো। মদীনায় পৌঁছেও তাই সেদিন আর রওজায় যাইনি। কিন্তু ভোর হতেই অন্তরে এক অদ্ভুত ছটফটানি শুরু হয়ে গেলো। যেন মন আর স্থির থাকতে চায় না।
অবশেষে সকাল প্রায় ৮টার দিকে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দিয়ে রওজায় সালাম দিতে প্রবেশ করলাম। আশ্চর্যজনকভাবে মানুষ একেবারেই কম ছিল। প্রশান্ত মনে, দীর্ঘ সময় নিয়ে নবিজী (সাঃ)-এর প্রতি সালাম পেশ করলাম।
তারপর হৃদয়ের এক গভীর ও কঠিন পেরেশানি নবিজীকে লক্ষ্য করে আরজি করলাম—
“ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ), আল্লাহ তায়ালার কাছে আমার এই বিষয়টি পৌঁছে দিন, আমার ইজ্জতটা রক্ষা করুন।”
সালাম শেষে হোটেলের দিকে ফিরছিলাম। আনুমানিক সৌদি সময় সকাল ১০টার দিকে একটি কল এলো। আর অবাক হয়ে দেখলাম—যে সমস্যাটি নিয়ে এত দুশ্চিন্তায় ছিলাম, তা যেন মুহূর্তের মধ্যেই সমাধান হয়ে গেলো।
সেদিন উপলব্ধি করলাম—বান্দা যখন ধৈর্যের সর্বশেষ সীমায় পৌঁছে যায়, তখনই আল্লাহর রহমত শুরু হয়।
আমি এ কথা বলে কোনো বুযূর্গী প্রকাশ করতে চাই না। আমার একমাত্র উদ্দেশ্য—আমরা যেন কঠিন মুসিবতের মাঝেও সবর, ইস্তেগফার এবং নবিজীর উপর দরুদ পাঠ অব্যাহত রাখি। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা আমাদের সফলতা দান করবেন।
জাহিদ মাক্কী ৩/৪/২০২৬ শুক্রবার