14/04/2026
সাভারে বিএনপি নেতা র্যাবের জালে ১ কেজির বেশি হিরোইনসহ ছাত্র নেতা মাহবুব সামিরের ভাই আটক!
সাভার উপজেলার দেওগাঁও-রাজাশন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হৃদয়কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, একটি বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয় এবং এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় ১ কেজি ২৪৫ গ্রাম হিরোইন উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হৃদয়ের বাড়ি সাভার উপজেলার দেওগাঁও গ্রামে, পোস্ট অফিস রাজাশন, জেলা ঢাকা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কিশোরগঞ্জ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে একটি সংগঠিত অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
জুলাই আন্দোলনের সময় হৃদয় ছাত্রলীগের পক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ ও ছবিও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে।
৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন তিনি। এলাকাবাসীর দাবি, হৃদয় সাভার পৌর যুবদল নেতা তাজুল ইসলাম ওরফে ‘পেট মোটা তাজুল’ এবং সাভার থানা ছাত্রনেতা মাহবুব সামীরের আপন ছোট ভাই। তিনি তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এছাড়াও, ‘পেট মোটা’ তাজুল ও মাহবুব সামির নিজেদের ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন-এর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে হৃদয় এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। তার প্রভাবে দেওগাঁও ও রাজাশন এলাকা মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।
হৃদয়ের গ্রেফতারের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, “দীর্ঘদিন আমরা আতঙ্কে ছিলাম। এখন অন্তত কিছুটা হলেও স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারছি।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।