21/05/2021
Shnongpdeng Tour- সোনাংপেডাং ভ্রমণ
ভ্রমণ পিপাসুদের মন সবসময় উদগ্রীব থাকে কখন ঘুরে দেখবে অপরূপ এ সৃষ্টিজগত। সুযোগ পেলেই ইচ্ছে করবে কোনো পাহাড়ে, নদীর তীরে, জল প্রপাতের পাহাড়ি ঢালে কিংবা কোনো শান্ত নদীর তীরে ঘুরে বেড়াতে।
তাই মাত্র দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি, পাসপোর্ট আর পাসপোর্টে ভারতের ডাউকি সীমান্ত পারি দেওয়ার অনুমতি থাকলে। আপনি পেতে পারেন একদম আপনার স্বপ্নের মতো নানা রকম রঙে রাঙানো কল্পনার সবকিছু একই সঙ্গে। তেমন একটি জায়গা হলো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের স্নোনাংপেডাং গ্রাম। ভারতের মেঘালয় রাজ্যে, কিন্তু আমাদের দেশের একদম সীমান্ত ঘেঁষে থাকা পাহাড়ের পাদদেশে এর অবস্থান। ভারতের নানা জায়গা থেকে এখানে আসা বা যাওয়া যতটা সহজ তার চেয়ে অনেক বেশি সহজ আর কম সময়ে আমাদের চলে যাওয়া যায় অপার্থিব স্বচ্ছ জলের এই সোনাংপেডাং গ্রামে। সস্তাও বটে এ দর্শনীয় এলাকা।
সিলেটের সোবহানীঘাট বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে করে দেড় ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাবেন তামাবিল সীমান্তে। দুই দেশের কাস্টম ও ইমিগ্রেশন শেষ করে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যেতে পারবেন এক টলটলে স্বচ্ছ জলের ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম সোনাংপেডাং।
যদি রাতে থাকতে চান তবে দেখে শুনে একটা পাহাড়ি ঘর বা কটেজ ভাড়া করে ব্যাগপত্র রেখে চলে যান সবুজ অরণ্য আর পাহাড়ে পাহাড়ে ঘেরা, স্বচ্ছ নদীর পাথর বিছানো তীরে। এর টলটলে জল আপনার জন্য অপেক্ষা করছে বিস্ময় নিয়ে। উমগট নদীর পানি এতটাই টলটলে, স্বচ্ছ আর কাচের মতো ঝকঝকে যে নদীর নিচের পাথর, বালু, শেওলা, রঙিন মাছ, ভেসে চলা নানা জলজ প্রাণী, সাঁতার কেটে যাওয়া নানা রকম পাহাড়ি প্রাণের সকল অস্তিত্ব দেখা যাবে দুচোখ মেলে। নদীর যে কোনো জায়গা থেকেই।
পাথরে, বাঁশের সেতুতে, পাহাড়ের যে কোনো প্রান্তে বসে আপনি প্রাণ ভরে উপভোগ করতে পারবেন স্বর্গীয় দৃশ্য। যার চারপাশে আপনাকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে আছে অরণ্যে অরণ্যে ঢাকা সুবিশাল পাহাড়ের দেয়াল। এই সবুজ পাহাড়ের দেওয়ালে বসে আছে রঙিন পাহাড়ি ঘরবাড়ি। নদীর জলে, পাথরে পাথরে ভেসে আছে নানা রঙের নৌকা কায়াকিং এর জন্য প্রস্তুত হয়ে। আছে স্রোতে ভেসে চলার জন্য রোমাঞ্চকর রাফটিং এর আয়োজন। আর আছে দুই পাহাড়ের মাঝে দোলনায় দোল খাওয়ার মতো অদ্ভুত রোমাঞ্চকর সেতু। যেখানে উঠে গা ছমছম করবে যে কারুর, কিন্তু একটা ভিন্ন রকম রোমাঞ্চ আপনাকে অদ্ভুত মায়ায় বেঁধে রাখবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।