25/04/2024
হযরত মুসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময়কাল। প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ল জনজীবন। দীর্ঘদিন যাবত বৃষ্টি হচ্ছে না। জনগণ তাঁর কাছে এসে বলল, হে নবী, আপনি আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য দুআ করুন, এই বৃষ্টিহীন গরম আর সহ্য হচ্ছে না।
হযরত মুসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবাইকে ময়দানে একত্রিত হতে বললেন। সবাই জমায়েত হলো। তিনি সবাইকে নিয়ে বৃষ্টির জন্য নামাজ পড়ে দুআ শুরু করলেন।
দুআ চলাকালে রোদের তীব্রতা আরো বেড়ে গেল! সবাই আশ্চর্য হলো। অবাক হলেন হযরত মুসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং। তিনি একজন নবী হয়ে দুআ করছেন, অথচ হিতে বিপরীত হচ্ছে। ব্যাপারটা কী?
মুসা নবী আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একটা বিশেষ সুবিধা ছিল। তিনি সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে কথা বলতে পারতেন। তিনি আল্লাহর কাছে তখনই জানতে চাইলেন, এর কারণ কী প্রভু? আমি বৃষ্টির জন্য দুআ করছি, আর আপনি রোদের তেজ বাড়িয়ে দিচ্ছেন! এমনটা কেন হচ্ছে হে আল্লাহ!
আল্লাহ রাহমানুর রাহিম নবী আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ প্রশ্নের জবাবে জানালেন, তোমার এই জমায়েতে এমন এক ব্যক্তি আছে, যে চল্লিশ বছর যাবত আমার নাফরমানী এবং আমার বিরোধীতা করে আসছে। একটি দিনের জন্যও আমার বাধ্য হয়নি লোকটি। মূলত তাঁর কারণেই বৃষ্টি বন্ধ রয়েছে এতদিন থেকে।
আল্লাহর কাছ থেকে জবাব পেয়ে হযরত মুসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম জমায়েতের দিকে তাকিয়ে বললেন, দেখো বাপু আমি তোমাকে চিনি না, জানি না। তুমি যেই হও না কেন, গত চল্লিশ বছর যাবত আল্লাহর নাফরমানী করে যাচ্ছো। একটি দিনও তাঁর ইবাদত করোনি। সবসময় আল্লাহর অবাধ্য ছিলে। আজ কেন এই জমায়েতে এসেছো হে? বের হয়ে যাও দ্রুত। তোমার জন্য পুরো জাতির কষ্ট হচ্ছে।
মুসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর কথা শুনে সেই লোকটি ভাবল, এখন যদি এত লোকের সম্মুখে বের হয়ে যাই, তবে সবার সামনে ‘পাপী’ হিসেবে লজ্জা পাবো। আর যদি চুপ করে বসে থাকি, তবে বৃষ্টি আসা বন্ধ থাকবে। এখন আমি কী করি?
লোকটি বিশাল মুশকিলে পড়ে গেল। একদিকে তার ইজ্জতের সমস্যা, আরেকদিকে গরম সহ্যসীমা অতিক্রম করেছে। সবার সঙ্গে সেও কষ্ট পাচ্ছে। অবশেষে লোকটি ভাবল, আচ্ছা, আমি আল্লাহর কাছেই না হয় আমার সমস্যাটা শেয়ার করি। সে নিজের ইজ্জত বাঁচানোর স্বার্থে আল্লাহর কাছে দুআ করতে লাগল। বলল, হে আল্লাহ, চল্লিশ বছর যাবত আমি অনেক পাপ করেছি। সীমাহীন। তুমি সবই জানো। গত চল্লিশ বছর যাবত আমার সেই পাপ তুমি গোপন করে রেখেছো। আজ এই ভরা মজলিসে, এত লোকের সম্মুখে আমি মহা মুসিবতে পড়েছি। আমাকে ক্ষমা করো প্রভু। চল্লিশ বছর যখন আমার পাপ লুকিয়ে রেখেছো, আজকেও আমাকে বাঁচাও। সকলের সম্মুখে পাপী বান্দা হিসেবে আমি দাঁড়াতে পারব না। কথা দিচ্ছি আমি আর পাপ করব না। এখন থেকে তোমার হুকুম পালন করব। আমি ভালো হয়ে যাব আল্লাহ।
লোকটির দুআ শেষ হতেই ঝুমঝুম করে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল।
এদিকে হযরত মুসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবারও অবাক হলেন। আল্লাহর এ কেমন খেলা! তিনি তো বললেন, একজন লোক এই জমায়েতেই আছে যার জন্য বৃষ্টি বন্ধ। আমি তাকে বের হয়ে যেতে বললাম, কেউই তো বের হয়ে গেল না। অথচ বৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি আবার আল্লাহর কাছে জানতে চােইলেন। বললেন, হে আল্লাহ, কেউ তো এ জমায়েত থেকে বের হলো না। অথচ বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল যে! কারণটা কী?
আল্লাহ জবাব দিলেন। বললেন, যার কারণে বৃষ্টি আসা বন্ধ ছিলো, তাঁর কারণেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
মানে কী আল্লাহ?
মানে আমি তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছি। সে আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে, তওবা করেছে।
ইয়া মাবুদ, চল্লিশ বছরের পাপ মাত্র কয়েক সেকেন্ডে ক্ষমা করে দিলেন। সুবহানআল্লাহ! কিন্তু আল্লাহ, আমি তো লোকটিকে চিনতেও পারলাম না? কে সেই লোক?
আল্লাহ বললেন, যখন পাপের সাগরে ডুবে ছিলো সে, তখনই তাকে গোপন রেখেছি। আর এখন ও যখন তওবা করেছে, তখন কী করে জানাব তার পরিচয়? পাপীদের পাপ আমি যথাসম্ভব গোপন রাখি, এটা আমার সাথে আমার বান্দার একান্ত নিজস্ব ব্যাপার।
চল্লিশ বছরের পাপ কয়েক সেকেন্ডে মাফ
সংগ্রহ ও সম্পাদনা- কামরুল আলম