31/08/2021
ভ্রমণ পিপাসুরা এবার ঘুরে আসুন, ভ্রমণের সাথে টাঙ্গাইল জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান
⬇️
নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীর নবাববাড়ী এবং এর সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী নবাব শাহী মসজিদ।
মসজিদটির প্রতিষ্ঠাকাল অজানা।
মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর এর শাসনামলে মোঘল সেনাপতি ইস্পিঞ্জার খান ও মনোয়ার খান ধনবাড়ীর রাজা ধনপতি সিংহকে পরাজিত করে এই অঞ্চলে তাদের জমিদারি প্রতিষ্ঠিত করেন।
সুতরাং এই থেকে ধারণা করা যায় এই মসজিদের বয়স চার শতাব্দীরও বেশি।
১০ কাটা জমির উপর নির্মিত এই মসজিদের মূল ভবনের উপর ৩ টি সহ মোট ৭ টি গম্বুজ আছে, আছে ১০ টি সুউচ্চ মিনার।
চিনি-টিকরি মোজাইক দিয়ে তৈরি এই মসজিদে রয়েছে ৩ টি সুসজ্জিত প্রবেশপথ।
মসজিদটি নির্মাণের বহু বছর পর ধনবাড়ির তৎকালীন জমিদার নওয়াব আলী চৌধুরী এটিকে পুনঃসংস্কার করেন এবং এটিকে আধুনিক রূপ দেন।
নান্দনিক কারুকার্য সম্পন্ন এই মসজিদের সৌন্দর্যের টানে প্রতিদিনই এখানে পাড়ি জমান হাজার হাজার দর্শনার্থী।
নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীর নির্দেশে তাঁর জীবদ্দশা থেকে এখন পর্যন্ত এই মসজিদে অবিরত কোরআন তেলাওয়াত চালু রয়েছে।
থামে নি একটি দিনের জন্য।
মসজিদে গেলেই দেখা যায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীর কবরের পাশে বসেই তেলাওয়াত করে চলেছেন একজন লোক।
নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত চালু রাখার জন্য নিযুক্ত আছেন মোট ৫ জন কারী।
মসজিদের পাশেই রয়েছে অর্ধবিঘা জমির উপর নির্মিত প্রাচীন ২ টি কবরস্থান।
মসজিদের একটি বিশেষ কক্ষে জমা রাখা আছে দানকৃত অসংখ্য কোরআন শরীফ।
দরিদ্র মুসলিমরা এখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী কোরআন নিয়ে যেতে পারেন।
এখান থেকে আবার বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় দান করা হয় কোরআন।
ধারন সংখ্যার অতিরিক্ত কোরআন জমা হয়ে গেলে এখান থেকে কিছু কোরআন বিক্রি করা হয় যার টাকা ব্যয় হয় মসজিদ এবং মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার ছাত্রদের কল্যানে।
মসজিদের ভেতরে কিছু কাঠের তাকের মধ্যে আছে বেশ কিছু কোরআন-হাদীস ও ইসলামী পুস্তক।
মসজিদের একেবারে প্রাক্কালের কার্যক্রম সম্পর্কে কারো কাছ থেকে তেমন কিছু জানা যায় নি।
তবে এই মসজিদটি ছিলো অত্র অঞ্চলের দাওয়াতী কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু।
চালু ছিলো মক্তব, যা এখনো চলমান রয়েছে।
মসজিদের বর্তমান কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমঃ
১. এখানে নিয়মিত দ্বীনি তালিম হয়।
২. বাচ্চাদের জন্য চালু আছে মক্তব।
৩. অসচ্ছল মুসলিম ও বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় বিনামূল্যে দান করা হয় পবিত্র কোরআন
৪. আগত মুসল্লী ও মুসাফিরদের জন্য প্রায়ই ব্যবস্থা করা হয় আপ্যায়নের।
# # এ স্থানটি ঢাকার বেশ অদূরেই অবস্থীত # #
এখনো যদি না যেয়ে থাকেন, তাহলে ভ্রমণ এর সাথে ঘুরে আসতে পারেন যে কোনো সময়।
ধন্যবাদ।