18/04/2026
মিশরের ঐতিহাসিক বাজার খান এল খলিলি
(خان الخليلي)
কায়রো শহরের ভিড়ভাট্টা পেরিয়ে যখন আমি খান এল খলিলি বাজারে ঢুকলাম, মনে হলো যেন কয়েক শ’ বছর পেছনে চলে গেছি। সরু গলি, পুরনো খিলানওয়ালা দরজা আর কাঠের জানালাগুলো দেখে মনে হচ্ছিল আমি যেন মধ্যযুগের কায়রো ঘুরে বেড়াচ্ছি।
চারপাশে রঙিন লণ্ঠনের আলো, আতরের ঘ্রাণ আর বিক্রেতাদের মিষ্টি ডাক—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত পরিবেশ। দোকানে দোকানে সোনার গয়না, রূপার অলংকার, তামা ও পিতলের কাজ, কার্পেট, মশলা—যতই দেখি ততই মুগ্ধ হয়ে যাই।
হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম বিখ্যাত এল ফিশাওয়ি ক্যাফেতে। বলা হয় কয়েক শত বছর ধরে এই ক্যাফে কফি আর চায়ের অতিথি আপ্যায়ন করে আসছে। সেখানকার কাঠের চেয়ারে বসে আমি পুদিনা চা খেলাম, সাথে চলছিল শীশার ধোঁয়া আর মানুষের গল্পগুজব। মুহূর্তটা যেন সময়কে থামিয়ে দিয়েছিল।
মাঝে মাঝে এই বাজারের অলি-গলিতে ভেসে আসে মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের সুমধুর ধ্বনি। হয়তো কেউ এক কোণে বসে নিজের হৃদয় থেকে কোরআন তেলাওয়াত করছেন, আর সেই সুর ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে।
বাজার ঘুরতে ঘুরতে চোখে পড়ল আশেপাশের প্রাচীন ইসলামিক স্থাপত্য—পুরনো মসজিদ আর মাদ্রাসার দেয়ালগুলো যেন শতাব্দীর কাহিনি শোনাচ্ছিল।
রাতে বাজার আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠল। রঙিন আলোয় ঝলমল করতে লাগল গলিগুলো, আর এক কোণে শুরু হলো ছোট্ট সঙ্গীতের আসর। স্থানীয় শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী আরবি গান গাইছিলেন, সাথে তবলা আর উডের সুর। আমি দাঁড়িয়ে শুনছিলাম, মনে হচ্ছিল আমি এক জীবন্ত ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছি।
যখন আপনি খান এল খলিলির গলিগুলো দিয়ে হাঁটবেন, তখন নিজেকে অজান্তেই খুশি ও সুখী মনে হবে, কারণ এই বাজারের প্রতিটি কোণ ভরা থাকে মানুষের আনন্দ, হাসি আর উচ্ছ্বাসে।
খান এল খলিলি শুধু একটা বাজার নয়—এটি কায়রোর প্রাণকেন্দ্র, ইতিহাসের সাক্ষী, শিল্প-সংস্কৃতির আসর এবং মিশরের আত্মার প্রতিচ্ছবি। এখানে এলে মনে হয়, ইতিহাস কখনো হারায় না; বরং সে বেঁচে থাকে আলো, রঙ আর মানুষের ভিড়ে।