08/04/2026
ভদ্রলোক পেশায় একজন টেকনিশিয়ান। ইনকামও বেশ ভালোই। বহুদিন পর ভুল করেই নক দিয়েছেন ফোনে। এখন দিয়েই যখন ফেলেছেন তখন পুরনো স্মৃতিচারণ করতে লাগলেন।
সাইফ ভাই, কেমন আছেন? কি অবস্থা? ইত্যাদি।
কথা প্রসঙ্গে জানলেন যে, এখন প্রফেশন চেঞ্জ করে ট্রাভেল ট্রেডে আছি। সাথে সাথেই জিজ্ঞাসা- ভাই, আমিতো কানাডার জন্য এপ্লাই করেছি, কিন্তু ডেট পাচ্ছি না।
এটি শুনে বেশ অবাক-ই হলাম, কারণ আমি তার ব্যাগ্রাউন্ড সম্পর্কে জানি এবং সে কোনভাবেই কানাডার জন্য উপযুক্ত না (তাও আবার ট্যুরিস্ট ভিসায়)।
তা ভাই, আমার জানামতে আপনিতো খুব একটা দেশ-বিদেশ ঘোরার হিস্টোরি নাই, বিশেষ প্রয়োজনে জীবনে একবার আপনি ইন্ডিয়া ভ্রমন করেছেন মাত্র; তাহলে আশপাশে ঘোরার মতো এতো দেশ থাকতে আপনি হুট করে কানাডার জন্য আবেদন করেছেন- ব্যাপারটা হজম হচ্ছে না (!)
সাইফ ভাই, ব্যাপারটা ঠিকই ধরেছেন- কিন্তু এখানে একটা কিন্তু আছে। একপ্রকার ঘর থেকে জোড় করেই পাঠাতে চাচ্ছে, ওখানে নাকি বেশ ভালো সুযোগ-সুবিধা আছে। যারাই নিবে তারাই যাবতীয় প্রসেসিং করে দিচ্ছে অর্থাৎ ডকুমেন্ট সাপোর্টসহ যাবতীয় বিষয়; আমি শুধু পেমেন্ট করবো।
তা এই পর্যন্ত ক’টা টাকা দিয়েছেন?
দিয়েছি কয়েক লাখ। আরো পাবে বড় অংশ। কিন্তু শুরুর দিকে যেভাবে তাদের রেসপন্স ছিলো, এখন তেমন পাচ্ছি না।
তাহলে আর দিয়েন না, যা গেছে গেছেই।
কেন ভাই? এ কথা বললেন যে?
দেখুন কাছের দেশ থাইল্যান্ড-সিঙ্গাপুর যেতে হলেই ভিসা পেতে কাঠখড় পোড়াতে হয়। আরেকটু উন্নত জাপান-তুরস্ক হলেই আমাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যায় ভিসা পেতে, সেখানে এতো উন্নত একটা দেশে যাবেন, ব্যাপারটা কি এতোই সস্তা? আপনি উপযুক্ত কি না তা দেখতে হবে না? আপনার প্রফেশন কি? আর্থিক সক্ষমতা কেমন? ফিরে আসার চান্স কেমন? ব্যাগ্রাউন্ড যাচাই-বাছাই ছাড়া তাদের ভিসা কিন্তু এতো সহজ না? তাই আগেতো জানবেন যে, আপনি উপযুক্ত কি না? তারপর না হয় পরের আলাপ।
কিন্তু ভাই......! উনারাতো বললো হয়ে যাবে, উনারাই সব ম্যানেজ করে দিবে।
এই শর্টকাটের চিন্তাই এখন বড় সমস্যার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই ভাবে টাকা দিলেই সব ম্যানেজ হয়ে যাবে, কিন্তু বাস্তবে এসবের পেছনে থাকে ঝুঁকি আর প্রতারণা। কিছু অসাধু এজেন্সি মানুষকে ভুল পথে নেয়, আবার অনেকেই নিজের যোগ্যতা যাচাই না করেই এই পথে হাঁটে। ফলে শেষ পর্যন্ত টাকা হারানো, ভিসা রিজেক্ট হওয়া কিংবা ভবিষ্যতের জন্য ব্ল্যাকলিস্ট হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।
এর প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত না, জাতীয়ভাবেও পড়ছে। বিদেশে বাংলাদেশিদের প্রতি সন্দেহ বাড়ছে। যাদের আসলেই যাওয়ার যোগ্যতা আছে, তারাও বাড়তি যাচাইয়ের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে, অপ্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ আর হয়রানি বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ থাকলেও শুধু ইমেজের কারণে পিছিয়ে যেতে হচ্ছে। তাই বাস্তবতা বুঝে, নিজের অবস্থান যাচাই করে এবং সঠিক নিয়মে এগোনোই নিরাপদ ও বুদ্ধিমানের কাজ।
@ saif Vai