24/10/2024
লহরিয়া শিব মন্দির তৃতীয় পর্ব :
অযোধ্যা পাহাড়কে কেন্দ্র করে যে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছে, তাতে ব্যবসায়িক লেনদেনের অঙ্ক ক্রমাগত বাড়ছে। এখানকার পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে লহরিয়া একটি বিশেষ আকর্ষণ। ধর্মীয় পুণ্যসাধনের পাশাপাশি লহরিয়ায় মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। প্রায় ১০০০-এরও বেশি পরিবার এই পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসায় জীবিকা নির্বাহ করে। সারা বছর, বিশেষত অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত, প্রতিদিন বহু পর্যটক এখানে আসেন। শ্রাবণ মাসের সোমবারগুলোতে প্রায় ১০,০০০ মানুষের ভিড় জমে, আর চৈত্র মাসে গাজনের মেলাতেও একই ধরনের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। মেলা, পর্যটন, ও নিত্যদিনের কোলাহলের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক রোমাঞ্চকর ঐতিহ্য। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে আদর্শ নিষ্ঠা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান বিরল, তবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লহরিয়ার আশ্রমিক আদর্শ নিষ্ঠায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। লহরিয়া আশ্রম পরিচালনায় কোনো মানুষের ব্যবস্থাপনা নেই। তাহলে কে এই আশ্রম পরিচালনা করেন? আসুন, আশ্রমিকদের কিছু বাহ্যিক আচরণ ও নিয়মের সাথে পরিচিত হই।
এখানে যাঁরা বসবাস করেন, তাঁরা 'শিব ধর্ণা' ব্রত পালন করেন এবং তাঁদের ধর্ণাবাসী বলা হয়। বিভিন্ন মনোস্কামনা নিয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষ এখানে এসে শিব ধর্ণা ব্রত পালন করেন। মনোস্কামনা পূর্ণ হলে কেউ ফিরে যান, কেউ আবার শিবারাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। তাদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠোর। সারাদিনে একবার ফলাহার করেন; ভেজানো ছোলা বা অন্যান্য ফল যা পাওয়া যায়, সেটিই তাদের খাদ্য। একটি মাত্র সাদা ধুতি বা সাদা শাড়ি পরিধান করেন, তারা সাধনায় মগ্ন থাকেন।
প্রাতঃস্নান, তিলক, আন্হিক, লহরিয়া বাবার ত্রিসন্ধ্যা পূজা-আরতি, দণ্ডীপ্রণাম, এবং নিরন্তর জপধ্যান তাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পূর্বে তারা খাপরার চালা বা পর্ণকুটিরে বসবাস করতেন, কিন্তু ইদানীং লোহরিয়া পূজা কমিটি তাদের জন্য আসবেস্টারের হলঘর নির্মাণ করেছে। ইন্টারনেট ও মোবাইলের যুগে যেখানে মানুষ সুখের সন্ধানে পরিশ্রান্ত, সেখানে এই শিব ধর্ণা ব্রত পালনকারী মহাত্মারা শাশ্বত সুখের সন্ধানে নিমগ্ন আছেন। তাদের ভক্তি ও ঐশ্বর্য মানবিক কল্যাণ সাধন করে চলেছে। বাবা ভোলানাথের এই অনুগামী মহাত্মাদের প্রতি বিনম্র প্রণাম জানাই।