28/12/2024
Plan ❤️🙏
িনের_ত্রিপুরা_ট্যুর_প্ল্যান❤️🙏
ভারতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য, এবং উত্তর পূর্ব ভারতের সেভেন সিস্টারস্ এর অন্যতম ত্রিপুরা রাজ্য। আয়তনের দিক থেকে ছোটো হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে কিন্তু ভরপুর এই রাজ্য। যদিও উত্তর পূর্ব ভারতের প্রতিটা রাজ্যেরই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কোনো তুলনা হয়না। উত্তর পূর্ব ভারতের ৭টি রাজ্যের মধ্যে আসাম, অরুণাচল এবং মেঘালয়কে যদি বাদ দেওয়া যায়, তাহলে বাকি ৪টি রাজ্যে ( ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, মনিপুর, মিজোরাম) কিন্তু পর্যটকদের আনাগোনা একদমই কম। কিন্তু বর্তমানে স্যোসাল মিডিয়ার কল্যাণে নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরাতে কিন্তু পর্যটকদের সংখ্যা কিছু হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে সঠিক প্রচার, ওই এলাকার স্থায়ী, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।
আজকের এই পোস্টে আমি ত্রিপুরার রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ট্যুরিস্ট স্পট ও ৩ থেকে ৪ দিনের ট্যুর প্ল্যান দেওয়ায় চেষ্টা করেছি। পোস্টটিতে ত্রিপুরা রাজ্যের ভ্রমন নিয়ে প্রায় সমস্ত বিষয়কেই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি ।পোস্টটি সম্পূর্ন পড়ে নিতে পারলে আপনাদের ত্রিপুরা সম্পর্কে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।
©️ ভ্রমন পিপাসু 🙏
#ত্রিপুরা_কেমন_করে_পৌঁছোবেন : - ত্রিপুরা আপনি দুভাবে পৌঁছোতে পারেন, এক ফ্লাইট, দুই, ট্রেন। ট্রেন সবচেয়ে বাজেট ও আরামদায়ক মাধ্যম হতে পারে। তবে আপনি চাইলে খুবই কম খরচে ফ্লাইটে বা কলকাতা বা গৌহাটি থেকে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা চলে আসতে পারবেন। ত্রিপুরা, সেভেন সিস্টারস্ এর মধ্যে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত। কিন্তু বর্তমানে ত্রিপুরা যাওয়ার জন্য বেশ কিছু নতুন ট্রেনের ব্যবস্থা হয়েছে। কলকাতা থেকেও রাজধানী শহর আগরতলা যাওয়ার জন্য বেশ কিছু ট্রেন আছে। তবে আপনি যদি আসাম থেকে ত্রিপুরা আসতে চান তাহলে বাসেও আসতে পারেন। ফ্লাইটে আসলে অনেক কম সময়ে আপনি কলকাতা থেকে আগরতলা পৌঁছে যেতে পারবেন। তাছাড়া ধর্মপুরের নিকট কৈলাশহরেও একটা এয়ারপোর্ট আছে।
আপনার ত্রিপুরা ট্যুর দুটো জায়গা থেকে শুরু অথবা শেষ করতে পারেন, এক রাজধানী আগরতলা থেকে, দুই উত্তর ত্রিপুরা জেলার সদর শহর ধর্মনগর। বেশিরভাগ ট্যুরিস্টরাই আগরতলা থেকে শুরু করে আগরতলাতে এসেই তারের ট্যুরটা শেষ করে তবে আমি যে প্ল্যানটা দেবো সেটা আগরতলা থেকে শুরু হয়ে ধর্মনগরে গিয়ে শেষ হবে।
#কোন_সময়ে_আসবেন :- ত্রিপুরা আপনি চাইলে সারাবছরই ভ্রমন করতে পারেন। তবে ত্রিপুরাতে গরমটা একটু বেশি, তাই এই সময়টা Avoid করতে পারেন। আর পারলে বর্ষাকালটাকের সময়টা কেও বাদে আসতে পারলে আরো ভালো। কিছু কিছু রোড আছে বর্ষাতে আরো খারাপ হয়ে যায়, আর আপনি যদি ত্রিপুরার পাহাড়ি এলাকাতে ভ্রমন করতে চান তাহলে বর্ষাকালকে পুরোপুরি Avoid করুন।
এখানে আসতে হলে আপনি অক্টোবর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে যেকোনো সময় এখানে আসতে পারেন। এই সময়ে পরিবেশ মনোরম থাকায় অনেকটা আরামে আপনারা ঘোরার আনন্দ নিতে পারবেন।
িনের_ট্যুর_প্ল্যান_করবেন :- এমনিতে আপনারা ত্রিপুরা ঘুরতে গেলে নিজেদের পছন্দমতো যেকটা দিন চাইবেন ঘুরতে পারবেন। ত্রিপুরা যেহেতু ছোটো রাজ্য তাই মোটামোটি ৪-৫ দিনের প্ল্যান করলে পুরো ত্রিপুরা ভালো মত ঘুরে ফেলতে পারবেন। তবে আজকের এই পোস্টে আমি ৪ রাত ৪ দিনের ট্যুর প্ল্যান দেবো। যেহেতু ট্রেনের টাইম গুলো একটু অন্যরকম, তা নাহলে আরো ২টা রাত আপনাদের বেঁচে যেতো।
©️ ভ্রমন_পিপাসু
#ত্রিপুরার_বিভিন্ন_ট্যুরিস্ট_স্পট :- ত্রিপুরা ছোটো রাজ্য এখানে দেখার মত কিছু দারুণ দারুণ স্পট আছে, এমন কিছু অবাক করা মত জায়গা আছে যেগুলো কেবলমাত্র আপনি আমাদের দেশের মধ্যে ত্রিপুরাতেই পাবেন। দেখার মত এখানে প্রচুর জায়গা থাকলেও আপনারা ৩ দিনের মধ্যে যে সমস্ত জায়গাগুলো দেখতে পাবেন, আমি সেগুলোই খালি তুলে ধরছি এই পয়েন্টে....
১. উজয়ন্ত প্যালেস।
২. কমলা সাগর।
৩. আল্পনা গ্রাম।
৪. কসবা কমলাসাগর কালি মন্দির।
৫. শেপাহিজলা জুলজিক্যাল পার্ক।
৬. নীরমহল।
৭. টেপানিয়া ইকোপার্ক।
৮. উদয়পুরের বিভিন্ন লেক।
৯. ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির।
১০. ছবিমুড়া।
১১. ঊনকোটি।
#ট্যুর_প্ল্যান :- এবার আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, সেটা হলো আপনারা কিভাবে আপনাদের ত্রিপুরা ট্যুর প্ল্যানটা সাজাবেন। আপনারা বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন দিক থেকে আপনাদের ট্যুরটা শুরু করতে পারেন। তবে আমি যেরকম ভাবে ঘুরেছিলাম সেই প্ল্যানটা এখানে শেয়ার করছি, আপনারা সেটা দেখে নিয়ে আপনাদের পছন্দমত ট্যুর সাজাতে পারেন, বা কোনো জায়গা অ্যাড ও বাদ দিতে পারেন। ট্যুর শুরুর আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আপনারা কোন সময়ে আগরতলা পৌঁছোবেন। কলকাতা থেকে আগরতলা আসার জন্য দুটো সরাসরি ট্রেন আছে এক - কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস এবং দুই - গরিব রথ এক্সপ্রেস। কাঞ্চনজঙ্ঘাতে আসলে আপনারা বিকেল বিকেলে পৌঁছোবেন, গরিবরথে আসলে ভোরেই পৌঁছে যাচ্ছেন আগরতলা তবে সপ্তাহে একদিন(রবিবার)। সকাল সকাল পৌঁছোলে একটা সুবিধে থাকে যে ওই দিনটাকে আপনারা কাজে লাগাতে পারবেন। তবে ত্রিপুরা অনেকটা দূরের রাস্তা তাই একটু হলেও রেস্টের প্রয়োজন, তাই আমি বিকেল থেকেই আপনাদের প্ল্যানটা দিচ্ছি।
©️ ভ্রমন_পিপাসু
#প্রথম_দিন :- ধরে নিলাম আপনারা কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ধরে আগরতলা পৌঁছোচ্ছেন। সন্ধে ৬টা মধ্যে হয়তো আপনারা পৌঁছে যাবেন। হোটেল ও গাড়ি আগে থেকে বুক করে আসা ভালো, তবে আগরতলা এসেও আপনারা হোটেল ও গাড়ি বুক করতে পারবেন, আমরা এসেই বুক করেছিলাম, হোটেল ও গাড়ি details ও ফোন নম্বর আমি পরের পয়েন্টে দিয়ে দেবো। প্রথম দিন আপনাদের ঘোরার কিছুই হবে না তেমন, স্টেশন থেকে হোটেলে সোজা চলে আসুন, এবং হোটেলে এসে ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নিন, এবং এই দিন চাইলে আপনার পায়ে হেঁটে বা টোটো করে আশ পাশটা, আগরতলা শহরটা ঘুরে দেখতে পারেন, আর গাড়ি আগে থেকে বুক না করা থাকলে সেটা সামনাসামনি কথা বলে বুক করে নিতে পারেন, এ দুটো কাজ করতে পারেন। যাইহোক তাড়াতাড়ি ডিনার করে সেদিনের মত তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ুন। এবার দ্বিতীয় দিনের অপেক্ষা।
#দ্বিতীয়_দিন :- দ্বিতীয় দিন সকাল হোটেল থেকে চেকআউট করে ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়ে পড়ুন সাইটসিং এর উদ্দেশ্যে। গাড়িকে আগে থেকে বলে রাখবেন সকালে সকাল আসার কথা। গাড়ি একবারে দুদিনের জন্য বুক করে নিবেন। আজকের আপনাদের ট্যুর প্ল্যান যেটা হবে সেটা হল - আপনারা আজকে সারাদিন আগরতলা শহর ও শহর থেকে কিছু দূরে অবস্থিত দর্শনীয় স্থান গুলোকে দেখে নিয়ে নাইট স্টে করবেন গোমতী জেলার সদর শহর - উদয়পুরে যা ত্রিপুরার তৃতীয় বৃহত্তম শহর।
প্রথমেই দেখে নিন - আগরতলা শহর থেকে প্রায় ৫ কি.মি দূরে অবস্থিত বাংলাদেশ বর্ডার লাগোয়া গ্রাম লঙ্কামুড়া, এই গ্রামের খ্যাতি বর্তমানে আল্পনা গ্রাম হিসেবে। গ্রামটিতে আসলেই দেখতে পাবেন পুরো গ্রাম জুড়ে সব বাড়ি দেওয়ালে গ্রামবাসীদের উদ্যোগে আল্পনা করা। প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে পুরো গ্রাম জুড়ে এই আল্পনা করা হয়ে থাকে, তাই এই সময়ের আসে পাশে আসলে আল্পনা গুলোকে অনেক ভালো অবস্থায় দেখতে পাবেন, অনেকে এই জায়গাটি সম্পর্কে জানে না, কিন্তু গ্রামটিতে আসলে আপনাদের বেশ ভালোই লাগবে, এরপর চলে আসুন আগরতলা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত - ত্রিপুরার মানিক্য রাজাদের প্যালেস - উজ্জয়ন্ত প্যালেস। ১৮৯৯-১৯০১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মানিক্য বংশের রাধাকিশোর মানিক্য এই প্রাসাদটি নির্মাণ করান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উজ্জয়ন্ত প্যালেস এবং নীরমহল এই দুটি প্যালেসেরই নামকরণ করেন। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ত্রিপুরা সরকার এই প্রসাদটিকে কিনে নেন বর্তমানে এটি ত্রিপুরা রাজ্য মিউজিয়াম। সোমবার বাদে বাকি ছয় দিনই সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই মিউজিয়াম, এন্ট্রি ফি - ২০ টাকা। এটি দেখার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জগন্নাথ মন্দিরটি থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।
এবার আপনারা চলে আসুন আগরতলা শহরের বাইরে দিকে। আগরতলা শহরের মধ্যে অবস্থিত জায়গাগুলো দেখে নিয়ে এরপর চলে আসুন ২৬ কি.মি দক্ষিণে অবস্থিত কমলাসাগরে, এখানে পৌঁছোতে আপনাদের প্রায় ১ ঘন্টা ১৫ মিনিটের মত সময় লেগে যাবে। কমলাসাগরে দেখার মত দুটো স্পট আপনারা পেয়ে যাবেন, এক কমলাসাগর জলাশয় এবং দুই কসবা কমলাসাগর কালী মন্দির। ত্রিপুরার রাজা ধনমানিক্য পঞ্চদশ শতকে এই জলাশয়টা খনন করেন। এই জলাশয়টি একদমই বাংলাদেশ বর্ডার লাগোয়া, এর ঠিক পাশেই আছে বাংলাদেশের কসবা রেলস্টেশন যা কুমিল্লা জেলার অংশ। স্বাধীনতার সময়ে এই কসবা এলাকাটি দুই দেশের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। এরপর দেখে নিন ঠিক পাশেই অবস্থিত কসবা কালী মন্দির, এই মন্দিরটিও একই সময়ে রাজা ধনমানিক্য নির্মাণ করেন।
এই দুটো জায়গা দেখা হয়ে গেলে এবার রওনা দিন নেক্সট স্পটের উদ্দেশ্য, আর সেটা হল নীরমহল, যার অবস্থান শিপাহিজলা জেলার মেলাঘর শহরের নিকট। ত্রিপুরা বেড়াতে আসলে যেকটি জায়গা আপনাদের অবশ্যই দেখে উচিত তার মধ্যে অন্যতম হল এই নীরমহল। এটি ভারতের বৃহত্তম ওয়াটার প্যালেস। আমাদের দেশে দুটি ওয়াটার-প্যালেস আছে একটি রাজস্থানের জলমহল এবং দ্বিতীয়টি ত্রিপুরার নীরমহল। ত্রিপুরার মানিক্য বংশের শেষ রাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর মেলাঘরের নিকট রুদ্রসাগর লেকের মাঝে এই বিশাল প্যালেসটি নির্মাণ করেন। অসাধারন স্থাপত্য ও কারুকাজে সজ্জিত এই প্যালেস। এখানে পৌঁছোতে হলে আপনাকে রুদ্রসাগর লেকের রাজবাড়ি ঘাটের বোটিং পয়েন্ট থেকে বোটে করে আপনাদের পৌঁছোতে হবে। বোটভাড়া জনপ্রতি - ৫০ টাকা। নীরমহলটি দেখতে কিন্তু আপনাদের অনেকটা সময় লেগে যাবে তারপর যাওয়া আসা তো আছেই, এখান থেকে ফিরে এসে দুপুরের লাঞ্চটা আপনারা এখান থেকেই করে নিন, আশপাশে বা মেলাঘর শহরে বেশ কিছু খাওয়ার দোকান পেয়ে যাবেন। লাঞ্চ করে নিয়ে সন্ধে আগেই পৌঁছে যান উদয়পুরে, যা ত্রিপুরার লেক সিটি নামেও পরিচিত। এই মেলাঘর থেকে উদয়পুর খুব একটা দূরে না, মাত্র ২০ কি.মি পৌঁছোতে ৩০ - ৩৫ মিনিটের মত সময় লাগবে। উদয়পুর পৌঁছে সোজা চলে আসুন হোটেলে, এবং ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নিন তারপর রাতের খাওয়ার খেয়ে শুয়ে পড়ুন, এভাবেই আপনাদের দ্বিতীয় দিনের ইতি ঘটবে। এবার সবচেয়ে আকর্ষনীয় তৃতীয় দিনের অপেক্ষা।
©️ ভ্রমন_পিপাসু
#তৃতীয়_দিন :- তৃতীয় দিনটা আপনাদের শুরু হবে উদয়পুর থেকে। উদয়পুরকে বলা হয়ে থাকে "লেক সিটি অফ ত্রিপুরা"সেটা আগেই বলেছি। কারণ এই উদয়পুরের আসে পাশে আছে বেশ কিছু লেক ও বড় বড় দিঘী। যেমন - অমর সাগর, ধনী সাগর, জগন্নাথ দিঘী প্রভৃতি। এগুলো দেখে নিতে পারেন, এছাড়াও আছে একটি প্রাচীন রাজবাড়ি, প্রাচীন ভুবনেশ্বরী মন্দির, এবং সবচেয়ে বিখ্যাত ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির, যেটা উদয়পুর থেকে ৮ কি.মি দূরে মাতাবাড়িতে অবস্থিত। মা ত্রিপুরা সুন্দরী থেকেই এই জায়গার নাম হয়েছে মাতাবাড়ি। সকাল সকাল স্নান করে চলে আসুন মাতাবাড়ির ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরে কারণ সকালের দিকে ভিড়টা কম থাকে। মন্দিরে দর্শন করুন, চাইলে পুজোও দিতে পারেন। ৫১ সতীপীঠের অন্যতম এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন ত্রিপুরার রাজা ধনমানিক্য ১৫০১ খ্রিস্টাব্দে। পুজো দেওয়া হয়ে গেলে ব্রেকফাস্ট করে নিন। এরপর চলে আসুন আজকের সবচেয়ে আকর্ষনীয় স্পট #ছবিমুড়া দেখতে। এই ছবিমুড়া যেতে হলে আপনাকে পৌঁছতে হবে পার্শ্ববর্তী অমরপুর শহরে, এখানে পৌঁছতে আপনাদের ১ ঘন্টার মত সময় লেগে যাবে। এই অমরপুর থেকে ছবিমুড়ার দূরত্ব প্রায় ৮ কি.মি।
এই ছবিমুড়া যেকারনে বিখ্যাত সেটা হল দুপাশের জঙ্গল ও উচু পাহাড়, ও মাঝের ভ্যালিতে বয়ে চলা গোমতি নদীতে বোটিং, এই বোটিং করতে করতে আপনি দুপাশের পাহাড়ে দেখতে পাবেন বিভিন্ন দেবদবীর খোদিত মূর্তি। এই সব কয়েকশো বছর আগে খোদাই করা মূর্তি গুলো দেখতে যেতে যেতে আপনার মনে হবে আপনি অন্য কোনো জগতে চলে গিয়েছেন। এই জিনিসটাকে কিন্তু কোনো ভাবেই মিস করবেন না কারণ এটা অনেকটা আপনাকে অ্যামাজনের জঙ্গলে বোটিং এর ফিলিং দেবে। জনপ্রতি ১০০ টাকা করে ভাড়া, আপনারা অনেকজন থাকলে গোটা নৌকাটাই বুক করে নিতে পারবেন নাহলে শেয়ারের অপশন তো আছেই। ছবিমুড়া দেখা complete হয়ে গেলে, আবার ও একই পথে অমরপুর হয়ে ফিরে চলে আসুন উদয়পুরে। উদয়পুর এসে এখানকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং বিভিন্ন প্রাচীন মন্দির যেমন - গুনবতী মন্দির, পুরনো রাজবাড়ি/ প্যালেস এবং ভুবনেশ্বরী মন্দির, এবং উদয়পুরের বিভিন্ন লেক ও দিঘী। আজকে যেহেতু আপনারা খুবই সকাল সকাল পুজো দিয়ে বেরিয়েছিলেন তাই এত সকালে এই ঐতিহাসিক স্থান গুলো ওপেন হয়না তাই, ছবিমুড়া ঘুরে এসে এগুলো দেখে নিতে পারেন, আর আপনাদের হাতে হয়তো সময় কম থাকবে তাই চাইলে এই দিঘি গুলো বাদও দিতে পারেন খুন একটা দেখার কিছু নেই।
সমস্ত জায়গা দেখা সম্পূর্ণ হয়ে গেলে এবার আপনারা উদয়পুরের যেকোনো ভালো হোটেল থেকে দুপুরের লাঞ্চটা করে নিন। লাঞ্চ করে নিয়ে রওনা দিন আগরতলার উদ্দেশ্যে। এখান থেকে আগরতলার দূরত্ব প্রায় ৫৫ কি.মি। তবে রাস্তায় আপনারা আরো একটা স্পট দেখে নেবেন সেটা হল সিপাহীজলা ওয়াইল্ড লাইফ স্যাঞ্চুয়ারি ও জাতীয় উদ্যান। স্যাঞ্চুয়ারি, জাতীয় উদ্যান এবং বড় আকারের চিড়িয়াখানায় সংমিশ্রন বলতে পারেন। এই জায়গাটি পড়বে উদয়পুর থেকে আগরতলার মাঝে বিশালগড়ের কাছে। প্রায় ১৫০ ওপরে বন্য জন্তু ও পাখি এখানে আসলে দেখতে পাবেন, এই জায়গাটি বাচ্চাদের খুবই ভালো লাগবে। যে দুটো দুস্পাপ্য জিনিস আপনারা এখানে দেখতে পেতে পারেন সেটা হল - Spectacles Monkey এবং Clouded Leopards, গাড়ি নিয়ে সোজা জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে যেতে পারবেন ভেতরে পার্কিং এর ব্যবস্থা আছে। এই সিপাহীজলা স্যাঞ্চুয়ারি আজকে আপনাদের লাস্ট স্পট এরপর আপনারা সোজা চলে যাবেন আগরতলার উদ্দেশ্যে, আগরতলা পৌঁছতে পৌঁছতে আপনাদের হয়তো রাত হয়ে যেতে পারে, তাই প্রথম দিন যে হোটেল বুক করেছিলেন, তৃতীয় দিনের সেই হোটেলটি আগে থেকে বলে রাখবেন, তাহলে অনেকটা ঝামেলা কম পোহাতে হবে। এভাবেই আপনাদের তৃতীয় দিনের পরিসমাপ্তি ঘটবে।
#অন্য_প্ল্যান :- আপনারা তৃতীয় দিনে চাইলে আপনাদের প্ল্যানটাকে সামান্য চেঞ্জ করে এই উদয়পুর থেকেই আরো একটা দারুন জায়গা থেকে ঘুরে আসতে পারেন। জায়গাটি হলো ডম্বুর লেক। জায়গাটি উদয়পুর থেকে ৬০ কি.মি দূরে অবস্থিত। তবে এই জায়গাটিকে যদি আপনাদের প্ল্যানে অ্যাড করতে চান তাহলে আরো একটা দিন বাড়াতে হবে, বা কোনো একটা স্পট বাদ দিতে হবে। তবে আমার মতে ছোটো একটা রাজ্য ত্রিপুরায় দেখার জায়গা খুবই সীমিত তাই কোনো জায়গা না বাদ দিয়ে একটা দিন অ্যাড করে নিতে পারেন তাহলে চাপ ও ঝামেলা কম হবে।
সেই জন্য আপনারা প্রথম দিন আগরতরা থেকে আসার পথে কমলাসাগর, কসবা কালীবাড়ি, নীরমহল, মাতাবাড়ির ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির, উদয়পুরের বিভিন্ন লেক, পুরনো রাজবাড়ি, ভুবনেশ্বরী মন্দির, গুনবতী মন্দির এগুলো দেখে নিয়ে রাতটা উদয়পুরে থেকে যান। এরমধ্যে কিছু জায়গা হয়তো আপনাদের বাদ যেতে পারে।
নেক্সট দিন সকাল সকাল উঠে প্রথমেই চলে যান ডুম্বুর লেক, এখানে ডম্বুর ঝর্না, ড্যাম, লেকে বোটিং ছাড়াও এই লেকের আইল্যান্ড গুলো দেখে নিয়ে চলে আসুন ছবিমুড়াতে। এই দুটি জায়গায় কিন্তু আপনাদের অমরপুর হয়েই যেতে হবে। তারপর অমরপুর থেকে লাঞ্চ করে সোজা রওনা দিন আগরতলার উদ্দেশে, হাতে যদি সময় থাকে তাহাকে সিপাহীজলা স্যাঞ্চুয়ারি থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।
©️ ভ্রমন_পিপাসু
#চতুর্থ_দিন :- চতুর্থ দিনটা আপনারা রাখবেন ঊনকোটির জন্য। যেহেতু ঊনকোটি আগরতলা থেকে অনেকটাই দূরে তাই এই দিকটা আপনারা গাড়ি রিজার্ভ না করে ট্রেনের সাহায্য নিতে পারেন। ট্রেনে আগরতলা থেকে আপনাদের আসতে হবে উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরে। সকাল থেকেই আপনারা ট্রেন পেয়ে যাবেন এই ধর্মনগর আসার জন্য। স্টেশনে নেমে টোটো ধরে ধর্মনগর স্ট্যান্ডে চলে আসুন সেখানে একটা হোটেল নিয়ে নিন, হোটেলে ব্যাগপত্র রেখে বাইরে এসে একটা টোটো বা অটো রিজার্ভ করে নিন যা আপনাকে ঊনকোটি ঘুরিয়ে আবার আপনাকে স্ট্যান্ডে ছেড়ে দেবে। তবে আপনারা শেয়ার লাইন গাড়িতেও যেতে পারেন, এটাতে ভাড়া কম লাগবে কিন্তু ১ কি.মি মত রাস্তা আপনাদের হাঁটতে হবে, অটোতে গেলে অটো আপনাকে একবারে ঊনকোটি এন্ট্রিগেট পর্যন্ত পৌঁছে দেবে।
ঊনকোটি নিয়ে বিশেষ কিছু হয়তো বলার প্রয়োজন পড়বে না, আপনারা অনেকেই প্রায় জানেন, ঊনকোটির ইতিহাস পৌরাণিক কাহিনী এবং ঊনকোট নামের অর্থ। ঊনকোটির পাথরের ভাস্কর্য গুলো ভাল ভাবে দেখতে আপনাদের অনেকটা সময় ই প্রায় লেগে যাবে। ২ ঘণ্টার মত এখানে কাটিয়ে আবার অটো / টোটো ধরে চলে আসুন ধর্মনগরের আপনাদের হোটেলে। ঊনকোট থেকে ধর্মনগরের দূরত্ব প্রায় ২০ কি.মি, যেতে আপনাদের প্রায় ৪০ মিনিটের মতো সময় লেগে যাবে। বিকেল ও সন্ধ্যেটা আপনারা ধর্মনগর কালীবাড়ি থেকে ঘুরে আসতে পারেন, কালীবাড়ির সামনেই আছে একটি বড় দিঘি সেটার মাঝে মহাদেবের একটা সুন্দর মূর্তিও বসানো আছে। সন্ধের দিকে খুবই সুন্দর লাগবে। এরপর ধর্মনগর বাজার থেকে রাতের ডিনারটা করে হোটেলে ফিরে চলে আসুন। নেক্সট দিন হোটেল থেকে চেকআউট করে ধর্মনগর স্টেশন এবং সকাল ১১ টার কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ধরে এর ঠিক পরের দিনই পৌঁছে যান কলকাতা। এভাবেই আপনাদের ৩ - ৪ দিনের ত্রিপুরা ট্যুরের সমাপ্তি ঘটবে।
#পঞ্চম_দিন :- আপনাদের হাতে যদি আরো একটা দিন থাকে বা একটা দিন বাড়াতে চান তাহলে পূর্ব ত্রিপুরার মিজোরাম ও বাংলাদেশ বর্ডার লাগোয়া পাহাড়ি এলাকা - জাম্পুই হিল থেকে অবশ্যই ঘুরে আসতে পারেন। আগরতলা বা ধর্মনগর দুজায়গা থেকেই আপনি এখানে আসতে পারেন তবে ধর্মনগর থেকে আসলে রাস্তা প্রায় অর্ধেক কমে যাবে। আর আপনি শেয়ারে আসতে চাইলে ধর্মনগরের আগে পেঁচারথোল স্টেশনের নামতে হবে সেখানে থেকে বাসে করে কাঞ্চনপুর শহরে, তারপর আবার গাড়ি চেঞ্জ করে বা শেয়ার গাড়িতে জাম্পুই হিল। এই এলাকা যেহেতু মিজোরাম ও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম লাগোয়া সেই কারণে এখান পাহাড়ি লুসাই ও মিজোদের বসবাস।
এই জাম্পুই হিলের প্রধান বড় গ্রাম বলতে পারেন ভাংমুন। এই ভাংমুনের সরকারি ইডেন ট্যুরিস্ট লজ থাকার জন্য সবচেয়ে বেস্ট এখানে দুরাত বা একরাত থেকে আশপাশের বেশ কিছু দারুণ জায়গা দেখে ফেলতে পারেন - যেমন, ভাংমুনের পরিচ্ছন্ন গ্রাম, মিজোরাম ভিউ পয়েন্ট, সুসু পয়েন্ট, বেতলিংছিপ - ত্রিপুরার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ প্রভৃতি। এই ইডেন লজ ছাড়াও কিছু হোমস্টে আছে। আপনি এই ইডেন লজ অনলাইনে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে বুক করতে পারবেন।
©️ ভ্রমন_পিপাসু
#হোটেল_ও_গাড়ি : - এই ট্যুর প্ল্যানে আমি ত্রিপুরার তিনটি শহরে থাকার কথা উল্লেখ করেছি। অনেক আবার আগরতলা থেকেই তাদের ট্যুরটা করে থাকে। তবে আপনি যদি আগরতলা বাদেও ত্রিপুরার বাকি শহর গুলোতে একটা করে রাত থাকেন তাহলে আপনাদের যেমন জার্নিটাও কম হবে ঠিক তেমনি ত্রিপুরার বাকি শহর গুলো কেমন, সেটা সম্পর্কে ধারণা পাবেন। প্রথমে আসি আগরতলা নিয়ে। আগরতলা শহরের কেন্দ্রস্থল বটতলা এখানেই আপনারা প্রচুর হোটেল ও গাড়ি স্ট্যান্ড থেকে বুক করার গাড়ি পেয়ে যাবেন। এছাড়াও স্টেশনের আশেপাশেও অনেকগুলো ভালো ও মাঝারি মানের হোটেল আছে, কিছু হোটেলের নাম ও নাম্বার নিচে দিয়ে দিচ্ছি আপনারা চাইলে ফোন করে বুক করে নিতে পারেন -
১. Central Guest House - 098565 68157
২. Hotel Samrat - 097741 41061
৩. Hotel Gateway - 070055 60688
৪. Hotel Welcome Palace - 0381 238 0101
স্টেশনের সামনে কিছু হোটেল :-
১. HOTEL Invite - 09862319484
২. Snehalata Homestay - 6909369095
#উদয়পুরের কিছু হোটেল -
১. Hotel Residency - 01246201186
২. Hotel Royal Inn - 09856042427
৩. The Imperial Hotel - 09089731730
#ধর্মনগরের কিছু হোটেল :-
১. Juri Tourist Lodge
২. Hotel Unakoti
3. Karan Guest House - 09862275546
৪. Hotel Asha - 03822233633
এবার আসি গাড়ির কথায়। আপনি আগরতলা এসে বটতলা স্ট্যান্ড থেকে কথা বলে গাড়ি বুক করে নিতে পারেন। আমরাও তাই করেছিলাম, তবে ড্রাইভারের নাম্বার টা হারিয়ে গেছে। এর বাদেও কিছু গাড়ি বুকিং এজেন্সির নাম্বার আমি দিচ্ছি তাদেরকে আপনি ফোন করে আপনাদের প্ল্যানটা বুঝিয়ে গাড়ি বুক করে নিতে পারেন। ছোট্ট গাড়ি ৩ - ৪ হাজার টাকা এবং বড় গাড়ি ৪ - ৫ হাজার টাকার মতো নেবে।
১ Niljyoti Travel Agency, Agartala - 09436456088
২. Rajmala Tour & Travels - 09436489095
৩. Porijayee Tour and Travels - 08257990410
#খরচ :- এবার আসি সবার প্রশ্ন যে পয়েন্টার দিকে থাকে সেটা হল খরচ। খরচের ব্যাপারটা সঠিক ভাবে বলা খুবই কঠিন, কারণ খরচা বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্নরকম হতে পারে। তবে আমি ত্রিপুরা ট্রিপের খরচ সমন্ধে একটা ধারনা বা আইডিয়া দিতে পারি। তবে আপনি যদি বাজেট ট্রাভেলার হোন তাহলে গাড়ি ভাড়া না করেও বাস, ট্রেন বা অটো / টোটোতে এই ট্যুরটাকে সম্পূর্ন করতে পারেন। কারন গাড়ি ভাড়ার পিছনে সবচেয়ে বেশি খরচ হবে এই ট্যুরে। আপনারা যদি ৩ দিনের গাড়ি ভাড়া করেন নেন তাহলে ছোটো গাড়ি নিতে পারে ১১ - ১২ হাজার টাকার মধ্যে, দরদাম করলে এর কমও হতে পারে। এবার আপনারা যদি ৪ জন থাকেন তাহলে সেটা ভাগ হয়ে যাবে।
এবার আসি দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ - হোটেল খরচ নিয়ে। মোটামোটি আপনাদের ৪ রাত ত্রিপুরাতে থাকতে হবে এরমধ্যে উদয়পুরে থাকার খরচ আপনাদের একটু বেশি লাগবে। তবে যেহেতু আপনারা শীতের এখানে আসবেন তাতে নন - এসি রুমেই আপনাদের হয়ে যাবে। তাতে ভাড়া ও একটু কম গুনতে হবে। আগরতলা শহরে আপনারা ৮০০ - ১০০০ টাকার মধ্যে হোটেল পেয়ে যাবেন। কিন্তু ধর্মনগর ও উদয়পুরে সেটা আরো বেড়ে যাবে।
এবার আসি খাওয়ার খরচের ব্যাপারে। ত্রিপুরাতে খাওয়ার খরচ মোটামোটি আমাদের রাজ্যের মতই। এখানে ভেজ ও ননভেজ দুধরনের খাওয়ারই পেয়ে যাবেন। ৩ বেলা খাওয়ারের জন্য আপনারা গড়ে ৪০০ টাকা ধরে রাখতে পারেন।
এছাড়াও কিছু আরো এক্সট্রা খরচা আছে যেমন - ট্রেন ভাড়া, টোটো ভাড়া, বোটিং এর খরচ বিভিন্ন জায়গার এন্ট্রি টিকিট এবং পার্কিং প্রভৃতি।
আসা করি পোস্টটি আপনাদের ভালোই লেগেছে এবং আপনাদের ত্রিপুরা ট্রিপ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কাজে লাগবে সেইজন্য অবশ্যই পোস্টটি পুরো পড়বেন।
ধন্যবাদ 🙏
ভ্রমন_পিপাসু