16/04/2018
মেয়েটি স্নান করছে কিংবা পোশাক পাল্টাচ্ছে... অনেক ছেলে আছে তা লুকিয়ে লুকিয়ে সেই দৃশ্য দেখে।
ছেলেটি এতে তৃপ্তি পেলেও এটি একটি বিকৃত যৌন আচরণ বা সেক্সুয়াল পারভার্শন... বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে ভয়েরিজম বলে।
দুনিয়াতে এরকম হরেকরকমের সেক্সুয়াল পারভার্শন আছে...
অনেকে আছে ভিড়ের মধ্যে মেয়ে দেখলেই শরীর ঘেঁষার চেষ্টা করে... কিংবা কনুই দিয়ে বুক স্পর্শ করে... এটাকে বলা হয় ফ্রটিউরিজম...
আবার অনেকে আছে অন্যের সামনে উলঙ্গ হলে বা নিজের যৌনাঙ্গ দেখালে ভাল লাগে... বিশেষ করে মেয়েদের হোস্টেল বা স্কুলের আশেপাশে ইচ্ছে করে কিছু লোক প্রসাব করার আছিলায় পেনিস দেখানোর চেষ্টা করে... এটাকে এক্সিবিশনিজম বলে।
স্কুলে থাকতে একবার একটা ঘটনা দেখেছিলাম... অদ্ভুত বিচার... গরু মাঠে চরছিল, এক ছেলে গরুর সাথে সেক্স করে... প্রাণীর সাথে এরূপ সেক্স করাকে বিস্টিয়ালিটি বলা হয়।
অনেকে আছে অন্যের প্রসাব করা দেখে সেক্সুয়াল ফিলিংস পায়... এটিকে বলা হয় ইউরোল্যাগনিয়া...
মা বাচ্চাকে দুধ খাওয়াচ্ছে, সেটি দেখে যাদের সেক্সুয়াল ফিলিংস জাগে সেটি হল গ্যালাকটোফিলিয়া...
শুধু তাই নয়, মৃত নগ্ন শরীর দেখেও অনেকে সেক্সুয়াল ফিলিংস পায়, যেটাকে বলে নেক্রোফিলিয়া।
এগুলো সবই সেক্সুয়াল পারভার্শন...
কিন্তু সবচেয়ে মারাত্মক পারভার্শন হল পেডোফিলিয়া...
শিশুদের প্রতি যৌন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হওয়াকে পেডোফিলিয়া বলে...
গত বছরের ঘটনা.. শেষ বিকেলের দিকে দুজন মহিলা এক চার বছরের বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে আসল। কি হয়েছে বলছে না, খালি কাঁদছে। পরে জানালো পাশের বাড়ির এক ছেলে রেপ করেছে বাচ্চাটিকে।
প্রাইমারী চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বাচ্চাটিকে বেডে শুয়ায়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল
, একদম চুপ করে আছে সে। ভ্যাজাইনার ওখানে রক্ত আর বেশ খানিক গর্ত হয়ে গেছে (ছিড়ে যাওয়ার কারণে)...
খাতায় নোট নিয়ে পরিষ্কার করে তুলা গজ দিয়ে জায়গাটা চেপে হসপিটলে রেফার করে দেওয়া হয়েছিল।
গত কয়েকদিনের খবর সবাই তো জানেন আট বছরের মেয়েকে রেপ করেছে।
অনেক সময় এমন ও হয় বিচার চেয়েও বিচার না পেয়ে শেষে বাবা তার ছোট্ট মেয়েটিকে নিয়ে অভিমানে ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পরে আত্মহত্যা করে ফেলে!
যৌন আকাঙ্ক্ষা সবারই আছে... অন্যান্য স্বাভাবিক মানবিক বৈশিষ্ট্যের মত এটিও একটা বৈশিষ্ট্য..
পুরুষদের অন্যতম আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল পুরুষত্ব.. কিন্তু সমাজ পুরুষত্বের সঙ্গা হিসেবে আমাদের কি শিখিয়েছে?
যেসব পুরুষদের যৌন ক্ষমতা আছে, তাদের পুরুষত্ব আছে, যাদের যৌন ক্ষমতা নেই অর্থাৎ ধ্বজভঙ্গ তাদের বলা হয় পুরুষত্বহীন।
কিন্তু যৌনতাই কি আসলে পুরুষত্ব? সেক্স তো যে কেউ করতে পারে... রাস্তার কুকুরও পারে, মানুষও পারে। তাহলে কুকুরকেও কি পৌরুষ সম্পন্ন বলব?
নিজের পৌরুষ দেখাতে গিয়ে সবার সাথে লিপ্ত হওয়া বা সাত বছর বয়সী বাচ্চাকে জোর করে করা কিংবা রাস্তাঘাটে একাকি কোন মেয়ে পেয়ে রেপ করে হত্যা করাই কি পুরুষত্ব?
আসলে এগুলো পুরুষত্ব না, এগুলো পশুত্ব। পশুত্ব আর পুরুষত্ব এক জিনিস না!
যৌনতার পুরুষত্ব শুধু একজন নারীর জন্যই... প্রকৃত পুরুষত্ব সকল নারীর জন্য... সকল নারীকে সম্মান করাই হল প্রকৃত পুরুষত্ব, হোক সে নারী একজন শিশু, তরুণী কিংবা বৃদ্ধা কোন মহিলা।
একজন সত্যিকার পুরুষ সবসময় নারীদের সম্মান করে... তার কাছে একজন নারী সবসময় নিজেকে সম্পুর্ন নিরাপদ বোধ করে, একজন একা নারী কখনওই "সুযোগ" নয় বরং সেটা দায়িত্ব!
একজন সত্যিকার পুরুষ কখনো কোন নারীকে আঘাত করে না, জোর করে না... যদি সে কাউকে চায়, নিজ যোগ্যতা দিয়ে তাকে অর্জন করে...
একজন সত্যিকার পুরুষ সেভাবেই একজন নারীর সাথে আচরণ করে, যেভাবে সে তার বাবার কাছ থেকে মায়ের প্রতি আচরণ আশা করে...
একজন সত্যিকার পুরুষ সেই, যে একজন মেয়েকে একাকি পেয়েও সুযোগ না নিয়ে বরং নিরাপদে তাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসে।
এগুলোই সত্যিকার পুরুষত্ব...
রেপকে না বলুন, নারীদের নিরাপদ রাখুন, আর নিজেদের দানবিক রূপ ও চিন্তাধারা পাল্টান, অন্যকে ও সাহায্য করুন।
©দেবপ্রিয়া