09/04/2025
বোলপুরে মৃৎশিখার অনতিদূরে রায়পুরে লর্ড সিনহা র বাড়ি গেছেন কখনো ?
বোলপুরে মৃৎশিখার অদূরে রায়পুর একটি শান্ত, সবুজ গ্রাম — কিন্তু ইতিহাসের পাতায় এর বিশেষ স্থান রয়েছে। কারণ এখানেই জন্মেছিলেন সত্যেন্দ্রপ্রসন্ন সিংহ, যিনি পরবর্তীকালে ইতিহাসে খ্যাত হন "লর্ড সিংহা" নামে। তিনি শুধু বাংলার নয়, সারা ভারতের গর্ব।
লর্ড সিংহার জন্ম ১৮৬৩ সালের ২৪ মার্চ, রায়পুর গ্রামে। তাঁর পরিবার ছিল জমিদার। শিক্ষাজীবনের সূচনা বোলপুর ও কলকাতায় হলেও তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান লন্ডনে। লন্ডনের লিংকনস ইন-এ তিনি আইন শিক্ষালাভ করেন। ভারতে ফিরে এসে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে খ্যাতনামা ব্যারিস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। সেখান থেকেই তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। তিনি ছিলেন একাধারে ব্রিটিশ ভারতের আইন পরিষদের সদস্য, এবং পরবর্তীতে গভর্নর জেনারেলের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্যও হন।
১৯১৯ সালে সত্যেন্দ্রপ্রসন্ন সিংহ হন ব্রিটিশ হাউস অব লর্ডসে মনোনীত প্রথম ভারতীয় সদস্য। এটিই তাঁকে "লর্ড সিংহা" খেতাব এনে দেয়। তিনি ছিলেন প্রাক-স্বাধীন ভারতের আন্তর্জাতিক কণ্ঠস্বর।
আজও রায়পুর গ্রামে তাঁর পৈতৃক বাড়ি রয়েছে — যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকটাই বিবর্ণ। এই জায়গাটি এক সময় প্রগতিশীল চিন্তার কেন্দ্র ছিল। তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে একটি জাদুঘর বা হেরিটেজ প্রকল্প গড়ে তোলা যেতে পারে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। লর্ড সিংহা ছিলেন এক অনন্য ব্রিজ-বিল্ডার — যিনি উপনিবেশিক শক্তির সঙ্গে সমঝোতা করে ভারতীয়দের উন্নয়নের জন্য পথ দেখিয়েছেন। আজকের তরুণ প্রজন্ম তাঁর কাহিনী জানলে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে গ্রামীণ পটভূমি থেকেও যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছানো সম্ভব — তা তিনি দেখিয়ে গেছেন।
রায়পুর শুধু একটি গ্রাম নয় — এটি ইতিহাসের অংশ। লর্ড সিংহার মতো একজন মহান মানুষ এখান থেকে উঠে এসেছেন, যাঁর জীবন আদর্শ হতে পারে আজকের সমাজের জন্য। তাঁর জীবন ও কর্ম আরও বেশি করে প্রচার হওয়া দরকার — বিশেষ করে বাঙালি এবং ভারতীয়দের মাঝে।
মৃৎশিখায় এক রাত কাটিয়ে চলুন না পরেরদিন সকালে ঘুরে আসি লর্ড সিনহা র বাড়ি থেকে।
Subhasisdigitalnomad