19/04/2026
কাশ্মীর-বৈষ্ণদেবী
"হর্ সোকতা জান্-এ কি বা কাশ্মীর দর্ আ-য়াদ ৷
গর্ মুরগি কাবাব অস্ত্ বা বল্ ও পর্ আ-য়াদ ৷৷" !
এর অর্থ হল, মৃত মানুষও কাশ্মীরে এলে নতুন প্রান পায় ৷ কাবাব হয়ে যাওয়া মুরগিও ডানা মেলে উড়ে যায় ৷
অতুলনীয় সৌন্দ্যর্যের অপর নামই কাশ্মীর ৷ কিন্তু এই কাশ্মীর ঋতুর সাথে নিজের রূপ বদলায় ৷ মার্চ-এপ্রিলের সাদা বরফের কাশ্মীর, জুন-জুলাইতে সবুজ কাশ্মীর, আর অক্টোবর-নভেম্বরে লাল কাশ্মীর ৷ চিনার গাছের পাতা লাল হয়ে যখন পুরো কাশ্মীরই লাল হয়ে ৷ ড্রীম ট্যুর এন্ড ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনায় কাশ্মীর ভ্রমনের এক আকর্ষনীয় প্যাকেজ নিয়ে আমরা হাজির হলাম আপনাদের কাছে ৷
ট্যুর ১
যাত্রাশুরু - ১৭ ই মার্চ
ঘরে ফেরা - ২৯ শে মার্চ
ট্যুর ২
যাত্রা শুরু - ২৬ শে মার্চ
ঘরে ফেরা - ৭ ই এপ্রিল
ট্যুর ৩
যাত্রা শুরু - ৬ ই এপ্রিল
ঘরে ফেরা - ১৮ ই এপ্রিল
ট্যুর ৪
যাত্রা শুরু - ১৭ ই অক্টোবর
ঘরে ফেরা - ২৯ শে অক্টোবর
ট্যুর ৫
যাত্রা শুরু - ২৯ শে অক্টোবর
ঘরে ফেরা - ১০ ই নভেম্বর
ট্যুর প্ল্যান —
প্রথম দিন —
কলকাতা স্টেশন থেকে জম্মু-তাওয়াই এক্সপ্রেসে যাত্রা শুরু
দ্বিতীয় দিন—
ট্রেনেই কাটবে সারাদিন ৷
তৃতীয় দিন—
সকালে পৌছাবো জম্মু স্টেশনে ৷ সেখান থেকে ২/২ ডিলাক্স নন এসি বাসে রওনা হবো কাটরা শহরের উদ্দেশ্যে ৷ ৪৮ কিলোমিটার রাস্তা দেড় ঘন্টায় পৌছোবো শহরের প্রানকেন্দ্রে ৷ বিকালে ঘুম থেকে উঠে পায়ে হেটে ঘুরে নেবো কাটরা শহর ৷ টুকিটাকি কেনাকাটি ও সেরে নিতে পারবেন ৷ ঐ দিন হোটেলে পৌছনোর পর থেকে আপনার খাওয়া দাওয়ার দ্বায়িত্ব আমাদের ৷ বাঙালি রাঁধুনির দল থাকবে আমাদের সাথেই ৷ যারা বৈষ্ণদেবী দর্শণ করতে চান, তারা ঐ দিনই সেরে নিতে পারেন৷
( সরাসরি ট্রেনে টিকিট না পেলে প্রথম দিন হাওড়া থেকে পূর্বা এক্সপ্রেস বা অন্য কোনো ট্রেনে দিল্লী এবং দ্বিতীয় দিন দিল্লী থেকে উত্তর সম্পর্কক্রান্তি বা শিবশক্তি এক্সপ্রেস ধরে সোজা কাটরা ৷ )
চতুর্থ দিন—
এদিনটা বৈষ্ণদেবী দর্শনের জন্যই বরাদ্দ রাখা আছে ৷ হেলিকপ্টার, ঘোড়া, পালকি, ব্যাটারি চালিত গাড়ি বা পায়ে হেঁটেই দর্শন সেরে আসতে পারবেন আপনি ৷ একদিকে ১৬ কিলোমিটার রাস্তা ৷ আর হ্যাঁ, পূন্য শহর কাটরাতে আমাদের নিরামিশ বিভিন্ন পদই খেতে হবে ৷
পঞ্চম দিন—
সকাল সকাল ব্রেকফাষ্ট সেরেই গাড়িতে রওনা দেবো শ্রীনগরের উদ্দেশ্যে ৷ অসাধারন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরা রাস্তার দু'ধারে দেখার শেষ নেই ৷ ডালিম, লেবু, আখরোট আর আপেলের গাছে ভরা কখনও সমতল কখনও পাহাড়ি পথ ৷ তবে এসময়ে সেরা আকর্ষণ অবশ্যই কেশর চাষ ৷সারা বছরে মধ্যে শুধুমাত্র ঐ সময়ই পম্পোরে রাস্তার দুধারে দেখবেন জমি ভরা কেশর ফুল ৷ অনন্তনাগ হয়ে ২৩৬ কিলোমিটার রাস্তা পৌছতে আমাদের বিকাল হয়ে যাবে ৷ লাঞ্চ সেরে নেবো রাস্তাতেই ৷ রাস্তাতেই দেখে নেবো কাশ্মীরি ব্যাটের কারখানা ৷ বিকালে ঠিক সময়ে পৌছলে হোটেলে ফ্রেস হয়ে নিয়ে চাইলেই সন্ধ্যাটা কাটিয়ে আসতে পারবেন ডাললেকের ধারে ৷ শ্রীনগরে এই হোটেলেই আমরা থাকবো আরও তিনদিন ৷
ষষ্ঠ দিন:—
আগের দিন যেহেতু সারাদিন রোড জার্নি হয়েছে তাই এদিন আর দূরে যাবো না ৷ এদিনটা রইল শ্রীনগরে লোকাল সাইটসিনের জন্য ৷ হজরতবল দরগা, চশমে শাহী, শালিমার গার্ডেন, নিশাত বাগ সহ ডাললেকে শিকারাতে ঘুরে দেখে নেবো চারচিনার, নেহেরু পার্ক, মীনাবাজার সহ আরও অনেক কিছু ৷
সপ্তম দিন:—
সকালে ব্রেকফাষ্ট সেরে আমরা রওনা দেবো ৮০ কিলোমিটার দূরে সোনমার্গের উদ্দেশ্যে ৷ শহর ছেড়ে বেরোনোর পরই আপনার যাত্রা সঙ্গী সিন্ধু নদীর পাশে অল্প ঢালের রাস্তায় আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন ৷ কাশ্মীরে পৌছে এই প্রথম বরফ দেখবেন আপনারা ৷ তাই বেশ কয়েকঘন্টা সেখানে কাটিয়ে তারপর আমরা বিকালে ফিরবো হোটেলে ৷ সন্ধ্যাবেলাতে চাইলেই ডাললেকে কাটাতে পারবেন আপনি ৷
অষ্টম দিন:—
এদিন সকালে ব্রেকফাষ্ট সেরে আমরা বেড়িয়ে পরবো ৫৫ কিলোমিটার দুরে গুলমার্গের উদ্দেশ্যে ৷ প্রথম চল্লিশ কিলোমিটারে তনমার্গ পৌছতে আমাদের বাংলার মতই সমতল ৷ কিন্তু শেষ বারো কিলোমিটারে পাহাড়ি রাস্তার প্রতিটা বাঁকেই থাকবে আপনার জন্য চমক ৷ দুপাশের পাহাড়ি নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য্য আপনাকে অন্য জগতে নিয়ে যাবে ৷ হিলটপে পৌছে আপনি দেখবেন এ তো আপনার খুব চেনা জায়গা ! কাশ্মীরের এই পাহাড় আপনি বহুবার দেখেছেন ছবিতে সিনেমায় ৷ মন্দির, স্কী পয়েন্ট, গল্ফ কোর্স দেখতে দেখতে আপনার সারা বেলা কেটে যাবে ৷ আপনি চাইলেই টিকিট কেটে চেপে পড়তে পারেন গন্ডোলায় (উচ্চতম কেবলকার) ৷ প্রায় ৪০মিনিট ধরে মিডিল স্টেশন পার করে যখন আপার স্টেশনে পৌছবেন তখন মনে হবে পৃথিবীর সব জায়গাই আপনার থেকে নীচে ! বরফে ঢাকা পাহাড় চূড়াতেও আপনি স্কী করতে পারবেন, স্লেজ গাড়িতে চাপতে পারবেন ৷ তবে লাইন ও সময় বাঁচাতে অনলাইনে আগেই টিকিট কেটে নেওয়া ভালো ৷গুলমার্গ থেকে কিছুতেই ফিরতে মন চাইবে না আপনার ৷
নবম দিন:—
সকালে ঘুম থেকে চা জলখাবার সেরে বেরিয়ে পড়বো ৮৮ কিলোমিটার দুরে পহেলগাঁও এর উদ্দেশ্যে ৷ অনন্তনাগ থেকে অমরনাথ যাত্রার এই রাস্তার দুধারে আখরোট আর আপেলের বাগানে ভরা ৷ লোকমুখে এর নামই হয়ে গেছে আপেলভ্যালী ৷ আপেলভ্যালী পার হতে না হতেই আপনার সঙ্গী হবে লিডার নদী ৷ এই নদীই পহেলগাঁও কে আলাদা মাত্রায় পৌছে দেয় ৷ ছোটবেলায় পাহাড়ের মাঝে আঁকা বাকা নদীর যে অপটু হাতে আমরা ছবি আঁকতাম তাই যদি কোনো পটু শিল্পী একে ফেলে তবে তা পহেলগাঁও ই হবে ৷ সাথে বাড়তি সংযোজন বরফে ঢাকা সাদা পাহাড়ের চূড়া গুলো যা আপনার হোটেলের রুম থেকেও দেখা যাবে ৷ ভারতবর্ষে এর চাইতে সুন্দর ট্যুরিষ্ট ডেষ্টিনেশন আছে কি না বলা কঠিন ৷ দুপুরের মধ্যে পহেলগাঁও তে পৌছে লাঞ্চ সেরে বিকাল বেলায় ঘোড়ার পিঠে চড়ে আপনি ঘুরে আসতে পারেন বাইসরন ৷ লোকাল নাম, মিনি সুইজারল্যান্ড ! আশাকরি নাম শুনেই বুঝতে পারছেন জায়গাটি কেমন ৷
দশম দিন:—
সকালে ব্রেকফাষ্ট সেরে একটা লোকাল ট্যাক্সি নিয়ে ( পহেলগাঁও এর সাইটসিনে বাইরের গাড়ি প্রবেশ নিষেধ) চলে যেতে পারেন অমরনাথ যাত্রায় হাঁটা পথ যেখান থেকে শুরু হয় সেই চন্দনওয়াড়িতে ৷ বরফে ঢাকা চন্দনওয়াড়ী আপনার বেশ ভালো লাগবে ৷ সেখান থেকে ফেরার পথেই দেখে আসুন বেতাব ভ্যালী ৷ সাজানো এই বেতাব সিনেমা খ্যাত পার্কে অদ্ভুত ভাবে লিডার নদীর এক অন্য রূপ দেখবেন ৷ তারপরই চলে যান আরু ভ্যালীতে ৷ যাত্রাপথ থেকে উপত্যাকার সৌন্দর্য্য সবটাই আপনার সারাজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে ৷ ফিরে এসে বিকালে সেরে ফেলুন আপনার স্মৃতিতে রাখার মত কেনাকাটা ৷ কাশ্মীরি শাল থেকে স্টোল, ড্রাই ফ্রুট সহ নানা দোকান পাবেন পহেলগাঁও মেন মার্কেটে ৷
নয়তো গিয়ে বসুন শহরের গাঁ ঘেসে বয়ে চলা লিডার নদীর তীরে ৷ সময় কি ভাবে কেটে যাবে বুঝতেও পারবেন না ৷ আর হ্যাঁ, আগেরদিন যারা বাইসরন যাননি তাদের কিন্তু যারা গেছিলেন তাদের অভিজ্ঞতা শোনার পর যেতেই হবে ঐ মিনি সুইজারল্যান্ডে ৷
একাদশ দিন:—
খুব সকাল সকালই আমরা রওনা দেবো সেই চেনা পথেই আবার জম্মুর উদ্দেশ্যে ৷ চেনা পথও আপনার অচেনা লাগবে এ রাস্তার সৌন্দর্য্যে ৷ রাস্তাতেই সেড়ে নেবো ব্রেকফাষ্ট ও লাঞ্চ ৷ বিকাল বিকাল আমরা পৌছোবো জম্মু স্টেশনে ৷ রাতে আবার জম্মু-তাওয়াই এক্সপ্রেসে রওনা দেবো বাংলার উদ্দেশ্যে ৷
দ্বাদশ দিন—
সারাদিন ট্রেনেই অলস সময় কাটবে আমাদের ৷ আর আনমনে ভাবতে থাকবো কি দেখলাম ! আবার কবে আসবো ৷
ত্রয়োদশ দিন—
আমরা কলকাতা পৌছবো জীবনভরের কিছু ভালো অভিজ্ঞতা নিয়ে ৷ একবার যে কাশ্মীর গেছে সে কবি আমির খসরুর ভাষাতেই বলতে বাধ্য হবে —
"অগর ফিরদৌস বার রু এ জমিন অস্ত
হমিন অস্ত, হমিন অস্ত, হমিন অস্ত "
অর্থাৎ , পৃথিবীতে যদি কোথাও জন্নত থাকে তবে তা এখানেই, তা এখানেই, তা এখানেই ৷
( এ ক্ষেত্রেও সরাসরি ট্রেনে টিকিট না পেলে দিল্লী হয়ে ফিরে আসতে হবে )
কি কি পাবেন :—
১) সমস্ত ডিলাক্স ক্যাটাগরির হোটেল ৷
২) ২/২ ডিলাক্স বাস(জম্মু থেকে কাটরা), বাকি দিন গুলোতে টেম্পো ট্রাভেলার ৷
৩) কাটরা পৌছনোর পর থেকে ফেরার দিন লাঞ্চ পর্যন্ত বাঙালি খাবার ৷ সকালে চা ও জলখাবার, দুপুরে মাছ, মাংস,ডিম, ডাল,তরকারী সহ ভাত৷ রাতে চাইলে রুটি ৷ কাটরাতে সব নিরামিশ পদ ৷
৪) প্রতিটি জায়গায় ও স্পটে আমাদের নিঃস্বার্থ গাইড ৷
৫) সবচাইতে মূল্যবান জিনিস যেটা পাবেন সেটা হল, আমাদের অভিজ্ঞতা, বিশ্বাস আর ভরসা ৷
কি কি পাবেন না:—
১) ট্রেনের টিকিট ও ট্রেনের খাবার ৷
২) মিনারেল ওয়াটার
৩) কুলির খরচ, দর্শনীয় স্থানের এণ্ট্রি ফী, পহেলগাঁওতে লোকাল গাড়ির খরচ,ঘোড়ায় চাপার খরচ, কেবলকারের টিকিট
৪) আর যেটা একদমই পাবেন না সেটা হল চিটিংবাজি ৷
খরচ কত ????
ডবল শেয়ারিং এ ১৭০০০/-
ট্রিপল শেয়ারিং এ ১৬০০০/-
(ট্রেনের টিকিট আমাদের কেটে দিতে হলে টিকিটের মূল্যের সাথে জনপ্রতি প্রতি টিকিটে ৫০০/- করে অতিরিক্ত দিতে হবে)
( ৫ থেকে ১০বছরের নীচের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ৪০% ছাড় ৷ পাঁচ বছরের নীচে বিনামূল্যে )
#বুকিং এর জন্য জনপ্রতি স্লিপারে জনপ্রতি ৫০০০/- অগ্রিম জমা দিতে হবে ৷
# # আগষ্টের মধ্যে জনপ্রতি আরও ৫০০০/- জমা দিতে হবে ৷
# # # বাকি টাকা প্রথমদিন হোটেলে পৌঁছে দিতে হবে ৷
( বুকিং এর পর বাকি টাকা চাইলে মাসিক কিস্তিতেও দিতে পারবেন )
যোগাযোগ :—
ড্রীম ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস
গোপাল চাকী — 7003829180/ 9433510348
সুদীপ্ত চক্রবর্তী — 9830861386 / 7980756933
অফিস— কেওটা জি.টি.রোড বটতলা
( কেওটা উজ্বল সংঘের বিপরীতে )
সাহাগঞ্জ, হুগলী, ৭১২১০৪
অফিসে থাকবেন সুজিত বিশ্বাস - 8777679372
দূর্গাপুর শাখা —হাডকো, বিধাননগর, দূর্গাপুর, ৭১৩২১২
অভিজিৎ চক্রবর্তী
8900769074
হাওড়া শাখা — দাস ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস
মোহিয়ারী রোড, PNB এর পাশে
জগাছা, হাওড়া
প্রিতম দাস 9330447984
এই ট্যুরটিই ২৪ শে এপ্রিল থেকে ২৬ শে এপ্রিলের মধ্যে বুকিং করলে জনপ্রতি ১২৫০০/- লাগবে