18/07/2025
নমস্কার,
'কাছে দূরে' ট্যুরস এণ্ড ট্রাভেলস এর পক্ষ থেকে আগামী ৯-১০ আগষ্ট (১ রাত ২ দিন) এর সুন্দরবন ভ্রমণে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাই। আশাকরি আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে আমরা খুব সুন্দর একটি ভ্রমণের স্মৃতি নিয়ে ফিরতে পারবো।
মনে রাখবেন আমরা যাচ্ছি ইউনেস্কো স্বীকৃত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এবং বিশ্বের রামসার সাইটগুলির অন্যতম এক বিরল ভৌগোলিক অঞ্চলে। আমরা প্রকৃতি উপভোগ করার সঙ্গে সঙ্গে জানার চেষ্টায় থাকবো এখানকার ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি, এখানকার জীববৈচিত্র্যের ধরণ। নিছক আনন্দ করতে গিয়ে এখানকার বিপন্ন প্রকৃতিকে যেন আমরা আরও বিপন্ন করে না তুলি সেটাও মনে রাখবো আমরা।
আমরা সকাল ৭ টা থেকে ৭:১৫ র মধ্যে কলকাতা জাদুঘরের সামনে জমায়েত হবো । গাড়ি আগে থেকেই ওখানে থাকবে।
সায়েন্স সিটির সামনে থেকেও গাড়িতে ওঠা যাবে।
সকাল ৭:৩০- ৭:৪৫ : গদখালির
উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবো আমরা। যাত্রাপথে প্রাতঃরাশের(সম্ভাব্য মেনু:- স্যাণ্ডউইচ, ফ্রুট জুস,) ব্যবস্থা থাকছে। জলের বোতল দেওয়া হবে জন প্রতি। পথে একটি পেট্রল পাম্পে গাড়ি থামবে। চা পানের বিরতি। যাঁরা চা খেতে চান খেয়ে নেবেন।
সকাল ১১-১১:৩০ এর মধ্যে আশাকরি গদখালি পৌঁছে যাবো আমরা। সেখান থেকে খেয়াঘাটে যাবো এবং আমাদের জন্য রাখা খেয়া করে আমরা পৌঁছাবো গোসাবা। গোসাবা থেকে রিজার্ভ অটোরিক্সা, ইঞ্জিন ভ্যান (যে যান যেমন লাইনে থাকবে) এ সওয়ার হয়ে আমরা পৌঁছাবো জটিরামপুর খেয়াঘাট। অটো স্ট্যাণ্ড যাবার পথে দেখে নেবো হ্যামিল্টন বাংলো। অটোয় যেতে যেতে চোখে পড়বে প্রয়াত তুষার কাঞ্জিলাল এর স্মৃতিবিজড়িত কর্মস্থল রাঙাবেলিয়া। খেয়াঘাট থেকে রিসর্টের নৌকা গোমর নদী পেরিয়ে আমাদের পৌঁছে দেবে আমাদের গন্তব্যস্থল সাতজেলিয়া দ্বীপের সুকুমারী বা দয়াপুর গ্রামের ইকো ভিলেজ রিসর্টে।
দুপুর ১টা- ১:৩০ এর মধ্যে আশাকরি আপনারা চেক ইন করতে পারবেন আপনাদের রুমে(নন এসি ইকো কটেজ)।
দুপুর ২টোর মধ্যে আমরা মধ্যাহ্ন ভোজ (সম্ভাব্য মেনু:- ভাত, ডাল, ভাজা, তরকারি, ইলিশ , ভেটকির পাতুরি, চাটনি।) সেরে পাশের গ্রামে ঘুরতে যাবো। কথা বলবো গ্রামের মানুষের সাথে, জানবো তাদের জীবন ও জীবিকার ধরণ।
তারপর আমরা মাঝি চালিত ছোট বোটে করে বেরিয়ে পড়বো মাছরাঙা, বক, শঙ্খচিল ইত্যাদি বিভিন্ন রকম পাখি দেখতে এবং সামুদ্রিক কাঁকড়া ও অন্যান্য প্রাণী এবং ম্যানগ্রোভ পরিদর্শনে। সেই সঙ্গে উপরি পাওনা সূর্যাস্তের মনোরম শোভা।
সূর্যাস্তের ( বিকাল ৪:৩০ টা) পর ফিরে এসে চা এবং ভেজ/চিকেন পকোড়া আপনাকে ইকো ভিলেজে পুনরায় স্বাগত জানাবার পর স্থানীয় যাত্রাপালার (বনবিবির পালা ) আয়োজন থাকবে।
রাত ৯. ০০- রাত্রিকালীন আহার(সম্ভাব্য মেনু:- ফ্রায়েড রাইস, চিলিচিকেন)
এরপরে রাত্রিকালীন এক নৌকা ভ্রমণের সুযোগ থাকবে সুন্দরবনের জলজ প্রকৃতির এক বিশেষ রূপ চাক্ষুষ করতে। আবারও ছোট নৌকায়। অবশ্য এই নৌকা ভ্রমণটি কেউ নাও করতে পারেন। তাছাড়া এই বিশেষ ভ্রমণটি পরিস্থিতি বুঝে রাত্রিকালীন আহার এর আগেও হতে পারে।
রাতে আমরা নিজেরাও গান-কবিতা-গল্পে কাটাতেই পারি আরও কিছুটা সময়, কিন্তু মনে রাখতে হবে পরদিন কিন্তু ভোর
৬ টার মধ্যে যাত্রা শুরু করতেই হবে। তাই উঠে পড়তে হবে ৫ টা নাগাদ। গরম জল লাগলে বালতি ক'রে দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় দিন সকাল ৬ টার মধ্যে যাত্রা শুরু করে সারাদিন একটি বড় যন্ত্রচালিত বোটে করে ঘুরবো আমরা। থাকবে সজনেখালি, সুধন্যখালি, দোবাঁকি এই তিনটি ওয়াচ tower পরিদর্শন। সেই সঙ্গে পীরখালী, বনবিবিভারাণী, সুন্দরখালি, খোনাখালী, চোরাগাজী, গাজীখালী, পাঁচমুখানি পরিদর্শন।
প্রাতরাশ এবং দ্বিপ্রহরকালীন আহার বোটেই হবে।
বিভিন্ন রকম বন্য জন্তু দেখার সম্ভাবনা যাতে বাড়ে তাই খাঁড়ি ধরে যাবো আমরা। ভাগ্য ভালো থাকলে মিলতে পারে তেনার দর্শন। সারা বিশ্বে একমাত্র এই স্থানেই ম্যানগ্রোভ অরণ্যে বাঘের দেখা মেলে।
বিকালে সূর্যাস্তের পর চা-বিস্কুট/পকোড়া খেয়ে আমাদের বোটভ্রমণ শেষ হবে গদখালি তে। সেখান থেকে বাতানুকূল গাড়ি আমাদের পৌঁছে দেবে কলকাতা ও কামারপুকুর।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আশা করা যায় আমরা রাত 9টার মধ্যে কলকাতায় ফিরতে পারবো।