19/11/2025
হাতের কাছে ডুয়ার্স বলতে পারেন৷ পাহাড়, নদী, ঝর্ণা জঙ্গলের এক অনন্য সুন্দর সঙ্গম হল ঝাড়গ্রাম-বেলপাহাড়ি৷ সবচেয়ে কাজের ব্যাপার হল, হাওড়া থেকে শনিবার গিয়ে আবার সোমবার এসে অফিস করা যায়৷ যারা দীঘা, পুরী, দার্জিলিং এর বাইরে এবার অন্য কিছু একটু ভাবছেন তাদেী জন্য।
কোথায় কী?
ঝাড়গ্রাম
_________________
কলাবনির জঙ্গল, ঝাড়গ্রাম ঢোকার মুখে পিচ রাস্তার আকাশ ঢেকে রেখেছে শালের সারি, এটা যাস্ট অসামান্য ভালো লাগবেই৷
ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি ( ভেতরে ঢুকতে দেবে না যদি না ভেতরের রিসর্টে থাকেন) বাইরে থেকে দেখতে পাবেন।
ঝাড়গ্রাম ডিয়ার পার্ক (বাচ্চা থাকলে অবশ্যই ঘুরে আসুন, শুধু হরিন ছাড়াও আরও অনেক কিছু আছে)
ঝাড়গ্রাম সাবিত্রী মন্দির।।
চিল্কিগড়
(ঝাড়গ্রাম থেকে দূরত্ব ১৬ কিমি)
____________
চিল্কিগড় রাজবাড়ি ও ৪৫০ বছরের পুরনো কনকদুর্গা মন্দির (জঙ্গলের মাঝে নদীর ধারে)
(ঝাড়গ্রাম থেকে দূরত্ব ১৬ কিমি)
চিল্কিগড় রাজবাড়ি, বাড়িখানা আছে, আহামরি কিছু নয়, তবে যতই হোক রাজারবাড়ি তো! মন্দির থেকে সামনেই, ঘুরে নিন, যখন এসেই পড়েছেন৷
বেলপাহাড়ি
(ঝাড়গ্রাম থেকে ৩৭ কিমি দূরত্বে)
__________________
ঘাঘরা ঝর্ণা, ঢাঙিকুসুম ঝর্না, গাররাসিনি, কানাইসহ পাহাড়, লালজল, কাঁকড়াঝোড়, কেতকী ঝর্ণা, চাতড়া, খাঁদারাণীর ড্যাম, তালবেড়িয়া ড্যাম, ঝিলিমিলি, সাতমাইল, সুতান৷
অফবিট (এগুলোতে নিজের খাওয়ার নিজের গাড়ি মাস্ট)
_____________
আর একটু অফবিট চাইলে ঘুরে নিতে পারেন
কাঞ্জিয়াড়া, ঘাঘরি।
কী কী চেখে দেখবেন,
বেলপাহাড়ি বাজারে কাঁচালঙ্কা নামের ভাতের হোটেলে -দেশি মোরগ থালি/ দেশি মাটন থালি/নিরামিষ থালি।
ঝাড়গ্রামে লোকাল বোর্ডের চপ-মুড়ি।
ঝাড়গ্রাম গ্রিন পার্কে দেশি মাটন
মহুল চাইলে খেতে পারেন, বেলপাহাড়িতে পাবেন৷ (যারা ড্রিক করেন না তারা অ্যাভয়েড করুন)
ঝাড়গ্রামে SBI এর সামনে চা।
শিলদাতে ঝামাল পাড়া ঢোকার মুখে ফুচকা/পাঁপড়ি চাট৷ ঝাড়গ্রাম থেকে বেলপাহাড়ি যাওয়ার পথে শিলদা পড়ে৷
ঝাড়গ্রামে অশোকা হোটেলের মোগলাই৷
শীতের সিজনে ঝাড়গ্রামের কুণ্ডু সুইটসের নলেন গুড়ের গরম রসগোল্লা।
হাসপাতাল মোড়ের চা-আড্ডার লেমন-হানি টি
ঝাড়গ্রামের গব্বরের রাবড়ি দেওয়া মালাই টোস্ট
কীভাবে আসবেন?
হাওড়া থেকে সকাল ৬.২০ মিনিটে ইস্পাত এক্সপ্রেস ধরে ঝাড়গ্রাম নামবেন৷ সকাল ৯ টার মধ্যে ঝাড়গ্রামে নামিয়ে দেয় (লেট না থাকলে) অথবা সকাল ৫.৪০ ধর্মতলা থেকে বাস ছাড়ে রাজ্য সরকারের পরপর অনেককটা বাস আছে সেগুলো করে ঝাড়গ্রাম বা সরাসরি বেলপাহাড়ি আসা যায়। ট্রেনে চেয়ারকার রিজার্ভ করলে ১০৭ থেকে ১১৫ পড়ে (নন এসি) এসি (৩৫০ মতো) আর জেনারেল টিকিট কাটলে ৪৫ টাকা মতো পড়ে হাওড়া টু ঝাড়গ্রাম৷
যদি প্ল্যানে বেলপাহাড়ি+ঝাড়গ্রাম থাকে তাহলে সাজেস্ট করব প্রথমে বেলপাহাড়ি ঘুরে নিন৷ প্রথম রাতটা বেলপাহাড়ি/কাঁকড়াঝোড়/ঘাঘরা/আমলাশোলে একেবারে জঙ্গল ও প্রকৃতির মাঝে থাকুন, হোমস্টে/ রিসর্ট দুটোই পাবেন।
( ডে-১)
ঝাড়গ্রাম স্টেশন থেকে গাড়ি নিয়ে সোজা বেলপাহাড়ি ও সংলগ্ন এলাকাতে আগে থেকে বুক করে রাখা হোম স্টেতে চলে আসুন। সকাল ১০.৩০-এর মধ্যে ঢুকে যাবেন৷ এরপর ফ্রেস হয়ে বেরিয়ে পড়ুন৷ (ব্রেকফাস্ট করে নিন আর লিখলাম না, ঝাড়গ্রাম থেকে বেলপাহাড়ি আসার পথে আপনারা কি আর কিছু না খেয়ে থাকবেন?)
লাঞ্চের আগে দেখে নিন ঘাঘরা ঝর্না, ঢাঙিকুসুম ঝর্ণা (চাইলে এগুলোতে স্নানও সারতে পারেন। অবশ্য নভেম্বরের শেষে খুব বেশি জল থাকে না ঢাঙিকুসুমে।)
ফিরে গিয়ে লাঞ্চ, হালকা রেস্ট, বিকেলে বেরিয়ে পড়ুন গাররাসিনি পাহাড় ও আশ্রম, কাছেই খাঁদারাণীর ড্যাম। পাহাড়ের উপর নির্জন আশ্রমে পারলে সন্ধ্যে আরতি দেখুন৷ এটি যোগীরাজ শ্যামচরণ লাহিড়ী মহাশয়ের আদর্শচালিত আশ্রম। মন ভালো হয়ে যাবে৷
এরপর রুমে ফিরুন, বেশি রাত না করায় ভালো, জঙ্গলে হাতি থাকে। এরপর ডিনার সেরে গাছের ফাঁক দিয়ে জঙ্গলের জোৎস্না উপভোগ করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ুন৷
(ডে-২)
ব্রেকফাস্ট সেরে ৯টার মধ্যে বেড়িয়ে পড়ুন কাঁকড়াঝোরের দিকে৷
কাঁকড়াঝোড়, চাতড়া, লালজল, আমলাশোল প্রায় একই রুটে। প্রচুর ছবি তোলা আর ভ্লগ বানাতে ব্যস্ত না হয়ে পড়লে দুপুর ১টার মধ্যে ফিরে আসা যায় হোমস্টেতে৷ তারপর লাঞ্চ সেরে বিকেলে ৩.৩০ এর মধ্যে বেরিয়ে পড়ুন তালবেড়িয়া ড্যাম৷ পাহাড়ের মাঝের এই ড্যামের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই। এখানে নৌকাবিহার করতে পারেন৷ অনেককটা নৌকা আছে, যারা নির্জনতা, প্রকৃতিকে একসঙ্গে একপ্লেটে পেতে চান তাদের জন্য তালবেড়িয়া অবশ্য ভ্রমণ।
আজকের মতো অনেক নাচানাচি হল, এবার হোমস্টেতে ফিরুন আর গতকালের মতোই খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন৷
ডে- (৩)
সকালে উঠুন, স্নান ও ব্রেকফাস্ট করে রুম ছেড়ে দিন। সোজা চিল্কিগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিন৷ মন্দির দেখুন (এটা মিস করবেন না, এরকম জঙ্গলের মাঝে মন্দির শুধু উপন্যাসেই পড়েছেন৷) নদীর ঘাটে এসে বসুন, মন্দির সংলগ্ন জঙ্গলে একটু ঘুরে নিন৷
এখানে জঙ্গলে একটা খাঁড়ি মতো আছে, বোটিং হয় এখানে (কিছুটা সুন্দরবনের মতো ফিল হবে, তবে বছরে ৩১৭দিন বোটিং বন্ধই দেখি! আপনার চোদ্দগুষ্টির ভাগ্য ভালো হলে এটা খোলা পেতে পারেন৷ তখন চাপতে পারবেন।)
এটার পর সোজা ঝাড়গ্রাম ফিরুন। হাতে সময় ও অর্থ থাকলে এদিন ঝাড়গ্রামে রাত কাটান৷ যে খাবারগুলো বলেছি ওগুলো খান (অন্তত লোকাল বোর্ডের চপ, বিশেষ করে কলকাতা থেকে যারা আসবেন তাদের এই চপ চেখে বোঝা উচিৎ চপ জিনিসটা মালপোয়ার মতো ন্যাতানো হয় না, আবার বেসনের বলও হয় না।) আর সময় না থাকলে এদিন চিল্কিগড় থেকে ফিরে সোজা ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি দেখে নিন, তারপর ঝাড়গ্রাম স্টেশন বিকেল ৪টার দিকে আবার ইস্পাত এক্সপ্রেস ধরুন এই ট্রেন হাওড়াতে নামায় ৭টার দিকে ( মানে রেলের খাতায় কলমে এই সময় নামায়, বাস্তবের সঙ্গে যার কোনও সম্পর্ক নেই)
এছাড়া হাওড়া থেকে ঝাড়গ্রাম আসা ও ফিরে যাওয়ার জন্য একাধিক সরকারি বাস ও বেসরকারি বাস রয়েছে৷ প্রায় সবকটি ধর্মতলা থেকে ছাড়ে, ধর্মতলা ফিরে যায়৷ ধর্মতলা বেলপাহাড়ি একটি এসি বাসও রয়েছে (সময় ও ভাড়াটা হালকা বেশি ২৬০/পারহেড, তবে বেশ কমফোর্টেবল জার্নি, ফোন করে এই বাসে আগাম বুকিং করা যায়।)
আরও বেশি সময় থাকলে বেশ কিছু অফবিট ঘুরে নিতে পারেন৷
এবারে প্রশ্ন হল,
ঝাড়গ্রাম-বেলপাহাড়ি-ঘাটশিলা-ঝিলিমিলি তো আর দার্জিলিং, দীঘা, পুরি নয়। ট্রেন ধরলাম। বেরোলাম গিয়ে হোটেল বা রিসর্ট বুক করলাম৷ বাসে চেপে ঘুরলাম চলে এলাম৷ বেলপাহাড়ি ট্যুর মূলত অফবিট। ঘোরার জায়গা, পাহাড় নদী ঝর্ণাতে বাস রুট নেই। গাড়ি ভাড়া করে ঘোরায় ভরসা৷ বা বেলপাহাড়িতে থেকে টোটোয় করে কিছুটা ঘোরা যায়। প্রচুর হোমস্টে ও রিসর্টও নেই, যে এলাম দেখলাম জয় করলাম, থুড়ি থাকলাম, ঘুরলাম হয়ে যাবে৷ বেলপাহাড়ি, কাঁকরাঝোড়, ঝিলিমিলি, ঘাটশিলা থাকার জায়গা হাতেগোনা। শীতের ঘোরার মরশুমে সেগুলো প্রায় আগে থেকে বুক হয়ে যায়। তাই আগেভাবে বুক করে আসাটা বুদ্ধিমানের। অন্তত যদি জঙ্গল পাহাড়ের হোমস্টে তে দুটোদিন কাটাতে চান৷
তবে সুবিধা হল যদি আপনাদের ২ জন, তিনজন ৪ জন, ৬-৮-১০ জনের একটা গ্রুপ থাকে, অফিস কলিগ, বন্ধুবান্ধব, পরিবার মিলে ঘুরে আসতে চান তাহলে খুব অল্প খরচেই ২ রাত ৩ দিন বা ৩ রাত ৪ দিনে ঘুরে নিতে পারবেন সব কটা জায়গা। সঙ্গে মাঝ জঙ্গলে থেকে দেশী মুরগীর স্বাদ বা সার ছাড়া শাকসব্জী, পুকুরের ক্যামিক্যাল বিহীন মাছের স্বাদ নিতে পারবেন।
আপনারা নিজেরাও অনলাইন চেক করতে পারেন৷ অথবা শাল ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস এর সঙ্গে ঘুরে দেখতে পারেন ঝাড়গ্রাম-বেলপাহাড়ি-কাঁকরাঝোড়-
ঘাটশিলা-ঝিলিমিলি। মাত্র ৪৩৯৯ টাকা থেকে শালের বেলপাহাড়ির ঘোরার প্যাকেজ শুরু হচ্ছে৷
শালকে বেছে নেবেন কেন?
১) বেলপাহাড়ি, ঝাড়গ্রাম, শিলদা, কাঁকরাঝোড়, ঝিলিমিলি, ঘাটশিলার ছেলেমেয়েরা মিলেই এটা শুরু করেছে। এই মাটিটাকে ওরা হাতের তালুর মতো চেনে৷ তাই আপনি ঠিক কী চাইছেন, জঙ্গল না পাহাড়, না লোকালয় সবটা বুঝে কথা বলে ওরা প্যাকেজ বানায়।
২) যে থাকার জায়গাগুলো এরা অফার করে সেটা শালের টিম ঘুরে ঘুরে সিলেক্ট করা। যেটা অন্য কোথাও পাওয়া সহজ নয়।
৩) যিনি গাড়ির ড্রাইভার তিনিই গাইড, আপনি নতুন তাই কী দেখবেন সেটা না জানলেও বা কোনও স্পট মিস করে গেলেও ড্রাইভার মিস করতে দেবে না৷ সে আপনাদের নিয়ে যাবে স্পটে বলবে সেখানের বিশেষত্ব কী আছে। এমন অনেক জায়গা আছে যা ইন্টারনেট জানে না কিন্তু শালের টিম মেম্বার ও ড্রাইভার জানে৷
৪) ট্যুরে থাকাকালীন ২৪x৭ সাপোর্ট। যে কোনও এর্মাজেন্সি সিচুয়েশন সাহায্যের প্রচেষ্টা।
৫) খাবার, যে কোনও ট্যুরে গিয়ে আমরা চাই দুটো জিনিস, ভিড়ভাট্টা থেকে দূরে প্রকৃতির কোলে থাকা আর ভালো খাওয়া। শালের প্যাকেজের মধ্যে থাকছে জঙ্গলের সবচেয়ে অরিজিনাল স্বাদের মেনু। সকালের জলখাবার, দুপুরের খাবার /মাছ/মাংস/দেশী মুরগী/মাটন/তাজা সব্জি (যে রকমটা আপনারা চাইবেন) বিকেলে হালকা চা পকোড়া, রাতের খাবার। ভালো গাড়িতে ঘোরা। ফ্রি গাইড।
বেলপাহাড়ি ট্যুর শুরু হচ্ছে মাত্র ৪৩৯৯ টাকা পার হেড থেকে ( ৮ জনের গ্রুপের জন্য ) । তবে হ্যাঁ আমাদের বুকিং ক্যাপাসিটি অনেকটাই নির্ভর করে হোমস্টে/রিসর্টের ফাঁকা থাকার উপর। শীতের সময় দ্রুত বুকিং হয়ে যায়। তাই আগেভাগে বুকিং করলে শুভস শীঘ্রম। যেহেতু আগেই বলেছি বেলপাহাড়ি অঞ্চলে রিসর্ট/হোমস্টে/হোটেলের সংখ্যা কমই। তাই একটা লেভেলের পর আর বুকিং নিতে পারি না আমরা। তাই যদি এবার দীঘা, পুরী দার্জিলিংয়ের বাইরে অন্য কিছু ভাবছেন। তাহলে চলে আসুন, বেলপাহাড়ি,ঝাড়গ্রাম,কাঁকড়াঝোর, ঝিলিমিলি, ঘাটশিলা।
বুকিংয়ের জন্য ফোন করুন : 8670657785/ +919933937284 / 8583868960
শে খ র ভা র তী য়।।
শীত আসছে, প্রতিবছর এই একই জিনিস অনেককে আলাদা আলাদাভাবে করে দিতে হয়, তাই এবার আগেভাগেই সবার জন্য দিয়ে দিলাম। :) প্লিজ সেভ করে নেবেন, শেয়ার করে দেবেন যার লাগবে।
ছবি- (ফেসবুক থেকে পাওয়া)