06/06/2026
@অমরনাথ_ এর সন্ধানে!
যাত্রা - ০২.০২.২০২৬
মাইথনে ঘুরতে গিয়ে মা কল্যাণেশ্বরী মন্দির তো অনেকেই দর্শন করেন, কিন্তু কল্যাণেশ্বরী থেকে মাইথন যাওয়ার পথেই যে লুকিয়ে আছে এক প্রাকৃতিক ও আধ্যাত্মিক মনরম পরিবেশ তা কি জানেন? হ্যাঁ, আজ বলছি ভাণ্ডার পাহাড় শ্রী শ্রী অমরনাথ শিব মন্দিরের কথা!
🔱 মন্দিরের ইতিহাস ও মাহাত্ম্য:
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, পাহাড়ের চূড়ায় এই মন্দিরের নাম 'অমরনাথ' কেন? এর পেছনে রয়েছে এক সুন্দর ইতিহাস। এই মন্দিরের দেখভাল করে সারদামণি মাতৃ আশ্রম। আশ্রমের গুরুদেব স্বামী কালিকানন্দ মহারাজ স্বয়ং সুদূর কাশ্মীরের পবিত্র অমরনাথ ধামে যাত্রা করেছিলেন। সেখান থেকে তিনি পবিত্র মাটি নিয়ে এসে এই ৫৬০ ফুট উঁচু ভাণ্ডার পাহাড়ের চূড়ায় মহাদেবকে প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে এই মন্দিরে বাবা মহাদেব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পূজিত হয়ে আসছেন।
কথিত আছে যে, যখন এই পাহাড়ে সাধারণ মানুষের আনাগোনা ছিল না, তখন একান্তে বহু সাধুরা এখানে বসে তন্ত্র ও শিব সাধনা করতো |
🚶♂️ ৩০৬ সিঁড়ির রোমাঞ্চ:
পাহাড়ের বুক চিরে চলে গেছে ৩০৬টি সুউচ্চ সিঁড়ি। একটু কষ্ট হলেও চারপাশের সবুজের চাদর আর বড় বড় পাথরের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে এই সিঁড়ি ভেঙে যখন আপনি ৫৬০ ফুট উঁচুতে পৌঁছাবেন, তখন সব ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যাবে। পাহাড়ে উঠতে উঠতে মাঝেমধ্যেই দেখা মিলবে বুনো বাঁদর আর নানা রকম পাখি ।
চারদিকের নৈসর্গিক ভিউ পয়েন্ট:
পাহাড়ের চূড়ায় শিব মন্দিরের পাশাপাশি রয়েছে ৪টি অসাধারণ ভিউ পয়েন্ট। যেখান থেকে দেখা যায়:
একদিকে সুবিশাল মাইথন জলাধার ও তাকে ঘিরে থাকা সবুজ পাহাড়ের দল।
দক্ষিণ প্রান্তে বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানা ঘেঁষে বয়ে চলা বরাকর নদ।
পূর্ব প্রান্তে ঐতিহাসিক কল্যাণেশ্বরী জনপদ।
🕒 দর্শনের সময়:
মন্দিরটি প্রতিদিন সকাল ৬:০০ টা থেকে দুপুর ২:০০ টো পর্যন্ত ।
প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য শান্ত পরিবেশ, আর শিবভক্তদের জন্য আধ্যাত্মিক শক্তি—সব মিলিয়ে উইকএন্ডে ঘুরে আসার জন্য ভাণ্ডার পাহাড় এক চমৎকার ডেস্টিনেশন।