24/06/2024
পঞ্চম কেদারের অন্তিম কেদার হলো দেবভূমি উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় অবস্থিত শ্রী কল্পেশ্বর ধাম। এখানে মহাদেবের জটার পূজা করা হয়।
কথিত আছে মহাভারতের যুদ্ধের সময় গোত্র হত্যা ও ব্রাহ্মণ হত্যার পাপ লাগে পঞ্চপান্ডবদের উপর।এই পাপ খন্ডন করতে তারা কাশী বিশ্বনাথ ধামে আসে মহাদেবের পূজা করতে। মহাদেব তাদের দেখা দেবেন না বলে একটি ষন্ডের রূপ ধারণ করে লুকিয়ে যান।মহাদেবকে খুঁজতে এরপর পঞ্চপাণ্ডব উত্তরাখণ্ডের দিকে এগোতে থাকে। গুপ্তকাশীর কাছে ভীম ষন্ডরুপী মহাদেবকে চিনতে পেরে যান এবং তার লেজ ধরে ফেলেন।তখন মহাদেব আবির্ভূত হন।।তার শরীরের বিভিন্ন অংশ বর্তমান পঞ্চকেদারের জায়গা গুলোয় প্রকট হয় এবং পঞ্চপাণ্ডব সেখানে সেখানে পাঁচটি মন্দির স্থাপনা করেন। প্রথম কেদার শ্রী কেদারনাথ ধামে ষন্ডরুপী মহাদেবের পিঠ, দ্বিতীয় কেদার শ্রী মদমহেশ্বর ধামে পেট, তৃতীয় কেদার তুঙ্গনাথ ধামে বাহু, চতুর্থ কেদার রুদ্রনাথ ধামে মুখ এবং পঞ্চম কেদার কল্পেশ্বর ধামে জটার পুজো করা হয়।
পঞ্চকেদারের বাকি কেদার মন্দিরগুলো যেমন শীতের সময় বন্ধ থাকে তুষারপাতের জন্য কিন্তু কল্পেশ্বর মহাদেবের মন্দির সারা বছর খোলা থাকে তাই বছরে যে কোন সময় আপনারা যেতে পারেন| যাওয়ার জন্য প্রথমে আপনাদের পৌঁছাতে হবে জোশিমঠ বা হেলং গ্রাম যা বদ্রিনাথ যাওয়ার রাস্তায় পড়ে| বদ্রিনাথ যাওয়ার রাস্তায় জোশিমঠ যাওয়ার আগে হেলাং বলে একটি জায়গা আছে যেখান থেকে রাস্তা কেটে যাচ্ছে এবং কল্পেশ্বর চলে যাচ্ছে উর্গম ভ্যালী হয়ে।
হরিদ্বার থেকে জোশিমঠের দূরত্ব হচ্ছে প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার এবং এই দূরত্ব যেতে বাসগুলোর টাইম লাগে মোটামুটি কম করে হলেও বারো ঘন্টা। বাসস্ট্যান্ড থেকে সকালবেলা একটিমাত্র সরকারী বাস বদ্রিনাথের জন্য যায় সকাল 5.30 টা নাগাদ ছাড়ে বাকি প্রচুর প্রাইভেট বাস প্রাইভেট ট্যাক্সি যায়। সরকারি বাসে যেতে গেলে আপনাদের সকাল চারটের মধ্যে হরিদ্দার বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে যেতে হবে যাতে করে আপনারা ভালো সিট পাবেন আর যদি বেসরকারি বাসে যেতে চান তাহলে আগের দিন বুক করে রাখতে পারেন আর প্রাইভেট গাড়িতে করে যেতে গেলে সেটা তো আপনাদের নিজেদেরকে ব্যবস্থা করতে হবে। এই তিন ভাবেই আপনারা জোশিমঠ পৌঁছাতে পারেন। তো একদম সকালে জার্নি শুরু করে দেবেন। পথে পড়বে ঋষিকেশ, দেবপ্রয়াগ(ভাগীরথীর সঙ্গে অলকানন্দা নদীর সঙ্গমস্থল), শ্রীনগর, রুদ্রপ্রয়াগ(অলকানন্দা আর মন্দাকিনীর সঙ্গমস্থল) এবং সবশেষে জোশিমঠ। কল্পেশ্বর যাওয়ার জন্য হেলাঙ্গ বলে একটি জায়গায় আপনাদের নামতে হবে যেটা জোশিমঠ যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে পরে এবং এটি একটি ছোট্ট জনপদ। এখানে হোটেল সংখ্যা খুবই কম এবং এখান থেকে কল্পেশ্বর যাওয়ার জন্য যে শেয়ারিং গাড়ি পাওয়া যায় সেগুলো সংখ্যায় খুবই কম এবং যদি আপনারা একক ভাবে যান তাহলে আপনাদের জন্য খুবই অসুবিধা হবে তাই আপনারা যদি জোশিমঠ চলে যান সেখান থেকে অনেক গাড়ি পেয়ে যাবেন পরদিন সকালে যেগুলো কল্পেশ্বর পৌঁছে দেবে। হেলঙ্গ থেকে কল্পেশ্বরের দূরত্ব মোটামুটি পনের কিলোমিটার এবং সেটা খুবই সুন্দর ছবির মত উর্গম ভ্যালির মধ্যে দিয়ে যায়। এমনিতে পাহাড়ি রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ কিন্তু উর্গম ভ্যালি হচ্ছে একদম ছবির মত সুন্দর। এইরকম দৃশ্য দেখতে দেখতে আপনারা পৌঁছে যাবেন কল্পেশ্বর মন্দিরের একদম ৫০০ মিটার দূরে। পথে পড়বে ছবির মত সুন্দর দেবগ্রাম। কলপেশ্বর মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে কল্প গঙ্গা এবং সেই গল্প গঙ্গাতে আপনারা স্নান করে মন্দির দর্শন করতে পারেন এখানে মন্দিরে ভিড় খুবই কম থাকে এবং খুব সুন্দর দর্শন হবে আপনাদের। মন্দিরের সামনে পুজোর থালি পাওয়া যায় সেগুলো আপনারা কিনে নিয়ে গিয়ে দর্শন করতে পারেন এবং দর্শন করে তারপর আবার একইভাবে আপনারা ফিরে আসতে পারেন জোশিমঠ। এর আশেপাশে ঘোরার জায়গা রয়েছে আউলী যেটা ভারতের সুইজারল্যান্ড নামেও পরিচিত সেখানে আপনারা যেতে পারেন এবং অবশ্যই চারধাম এর অন্যতম ধাম বদ্রীনাথ ধামে যেতে পারেন। আমার ভ্রমণ কাহিনীটা ভালো লাগলে আমার পেজটাকে লাইক করে শেয়ার ফলো করার অনুরোধ রইলো।