24/06/2023
আগস্ট মাসে চলুন- দারিংবারি , গোপালপুর, তপ্তপানি
(৫ রাত্রি ৬ দিন)
_______________________________
দারিংবাড়ি - উড়িষ্যা রাজ্যের কন্ধমাল জেলার একটি উল্লেখযোগ্য শৈলশহর, মনোরম আবহাওয়ার আকর্ষণীয় শৈলময় পরিবেশের জন্য একে "উড়িষ্যার কাশ্মীর" বলা হয়ে থাকে। উড়িষ্যার কন্ধমাল জেলায় এই পার্বত্যময় জায়গাটি সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ৯১৫ মিটার উচ্চতায় অবস্থান করছে। পূর্বঘাট পর্বতশ্রেণির বিভিন্ন শৃঙ্গগুলি উঁচুনিচু তরঙ্গায়িত ছন্দে শহরটিকে ঘিরে আছে। অপূর্ব নৈসর্গিক পরিমণ্ডল স্থানটিকে স্বর্গীয় মাধুর্য দান করেছে। এর চতুর্দিকে কোথাও পাইন জঙ্গল, কোথাও নিবিড় শালবন, কফি বাগিচা বা সবুজ উপত্যকা যেন প্রকৃতি প্রেমিক পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে । পাশাপাশি আছে ঘন রেন ফরেস্ট আর বন্য জীবজন্তুর আনাগোনা। শীতের দিনে এখানে যথেষ্ট ঠাণ্ডা পড়ে, এখনও পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নথি অনুযায়ী -0.৫ ডিগ্রী সেণ্টিগ্রেড। শীতের দিনে কোনো কোনো সময় ঘাসের ডগায় বরফ জমে থাকতে দেখা যায়। দারিংবাড়ি একটি ব্লক ও তহসিল হেডকোয়ার্টার ; মোট আয়তন ৭৬৯.৬৮ বর্গ কিমি.। মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬৩ ভাগ কন্ধ উপজাতির মানুষ। স্থানীয় কুইভাষায় 'দারিং'- শব্দের অর্থ উপত্যকা, আর 'বাড়ি'- অর্থে ঘর, সেইদিক থেকে 'দারিংবাড়ি' - শব্দের অর্থ হলো- উপত্যকার বাড়ি।
তপ্তপানি- সবুজে আঁকা পাহাড়পুর।ওড়িশার গঞ্জাম জেলায়,পূর্বঘাট পাহাড়ের কোলে বসানো শীতমোড়া শহর। শীতের শহরের প্রধাণ আকর্ষণ উষ্ণ জলের কুণ্ড। তাই এই পাহাড়ি শহরের নাম তপ্তপানি। এখানেই পূজিতা হন দেবী কান্দিমাতা। উষ্ণ কুণ্ডেস্নান করলে পুণ্য ছাড়াও নানা রোগমুক্তি ঘটে। তবে নোংরা জলে স্নান করে রিস্ক নেবেন না। স্নান করলে মুক্তিলাভ হয় এটা সাধারণ মানুষের বিশ্বাস।
গোপালপুর অন সি - ওড়িশার আরও এক সোনালি বালুকাবেলা। অতীতের ‘পোর্ট অফ পালোর’ আজকের গোপালপুর অন সি। পর্যটকদের কাছে অতি জনপ্রিয় সাগর সৈকত। বিরামহীন ঢেঊ, শান্তনীল সাগর পাড়,সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মুগ্ধতা। এই নিয়েই স্নানবিলাসীদের স্বর্গরাজ্য গোপালপুর। তবে গোপালপুর থেকে ঘুরে আসতে পারেন নানা গন্তব্যে। ৩০কিমি দূরে পতি সোনাপুর এক নির্জন সাগরবেলা।পুরুষোত্তমপুরের কাছে রুশিকুল্যা নদীর পাড়ে তারাতারিণীতে চলে আসুন। সামনেই পাহাড়চুড়োয় তারাতারিণী মন্দির। ১০০০ সিঁড়ি ভেঙে পৌঁছে যান ওড়িশার শক্তিপীঠে। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রেক্ষাপটে, সবুজ আঁচলেমোড়া অসাধারণ রূপে বুঁদ হয়ে থাকুন। ২০কিমি দূরের বঙ্গোপসাগর ও রুশিকুল্যা নদীর মোহনাটি চমৎকার। ১৬ কিমি দূরের প্রাচীন গোপালপুর বন্দর,১৮ কিমি দূরের ধবলেশ্বর মন্দির ও সৈকতটি চমৎকার। গোপুরম শোভিত দ্রাবিড়ীয় শৈলীর গোপালকৃষ্ণ মন্দির দেখে নিতে ভুলবেন না। পাখির চোখে গোপালপুরকে দেখতে হলে অনুমতি নিয়ে উঠে পড়ুন লাইটহাউসের মাথায়। অপার সৌন্দর্যের বৈভবে ধরা দেয় বঙ্গোপসাগর। নির্জন সাগরপাড়, সোনালি বালুকাবেলা, বিরামহীন ঢেউয়ের মায়াময় সাগরপাড় গোপালপুর মনভুলিয়ে দেয়।
________________________________
আমাদের যাত্রা :-
প্রথম দিন:- বাড়ি থেকে হাওড়া স্টেশন। ফলকনামা এক্সপ্রেস সকাল 8-35 । বিকেলে 5 টায় ব্রহ্মপুর। গাড়িতে গোপালপুর । হোটেলে রাত্রিবাস। দ্বিতীয় দিন সারা দিন গোপালপুর। সাইট সিইং । রাতে হোটেল। তৃতীয় দিন গাড়িতে দারিংবারি। রাতে হোটেল। চতুর্থ দিন সারাদিন দারিংবারি। রাতে হোটেল। পঞ্চম দিন ব্রেকফাস্ট খেয়ে রওনা। দুপুরে তপ্তপানি । লাঞ্চ খেয়ে ঘুরে সন্ধ্যায় ব্রহ্মপুর ।স্টেশন এ অপেক্ষা। রাতের ট্রেন। ষষ্ঠ দিন সকালে হাওড়া বা শালিমার স্টেশন । সেখান থেকে বাড়ি।
গোপালপুর এ দেখবো তারাতারিনি মন্দির, ঋষিকল্য নদী, কুণ্ডেশ্বরী মন্দির, সুরাদা ড্যাম।
দারিংবারি দেখবো মন্দাশুরু নেচার ক্যাম্প, ম্যাগনেট হিল, মেঘুমা ফলস, লাভারস পয়েন্ট, এমু জু, নেচার পার্ক , হিল ভিউ, জিগাং মনাস্ট্রি, নিদুমন্দা ফলস, দারচিনি বাগান ইত্যাদি।
এর সঙ্গে তপ্ত পানি মন্দির আর উষ্ণ প্রস্রবণ।
হোটেল সব AC, গাড়ি AC, Western style toilet।
যাত্রা শুরু 19 শে আগস্ট, ফেরা 24 শে আগস্ট।
মাথা পিছু খরচ 13500 টাকা
ট্রেন এর টিকিট পাওয়া নিয়ে প্রোগ্রাম কিছু বদল হতে পারে।
ট্রেনের টিকিট আমরা ধরেছি এসি থ্রি টায়ার। তারা এসি টু তে যেতে চান তাদের এক্সট্রা টিকিটের দামটা যুক্ত হবে। যদি কেউ স্লিপার এ যেতে চান তাদের টিকিটের দাম অনুযায়ী টাকাটা বাদ যাবে। যদি এসি থ্রি না পাওয়া যায় তখন স্লিপারেই যেতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে কালবিলম্ব না করে শীঘ্রই সদর্থকভাবে জানান যে যাচ্ছেন। তখন এ্যাডভান্স নেওয়া হবে। আমরা ট্রেন ও হোটেল বুকিং শুরু করে দেবো।
হাতে তেমন সময় নেই তাড়াতাড়ি জানান।
ফোন করুন : (তাপস চট্টোপাধ্যায়) ৯৮৩০২৭৫১৭২
[আনপ্যাক ট্যুরস্ এ্যান্ড ট্রাভেলস]
_________________________________________