30/11/2024
অফ বিট উত্তরাখন্ড আর হিমাচল এর তীর্থন, পাব্বার ভ্যালির ভ্রমণ।
ভেবেছিলাম সকাল ৬ টায় রওনা দেবো, কিন্তু হলো না। গাড়ি তো রাতেই হোটেল এ এসে গেছিলো। প্রথম দিন, এতো বড় টীম, মালপত্র গাড়ির মাথায় তোলা, বাঁধা এসব এ বেশ কিছুটা সময় লাগলো। পরম পিতার কাছে প্রার্থনা করে আমরা এবার রওনা দিলাম। ফেরার সময় আবার ঐ হোটেল এ ফিরবো এরকম কথা ফাইনাল করে বেরোলাম। সকালে শুধু চা খেয়ে বেরোলাম। রাস্তায় ব্রেকফাস্ট করতে হবে। এবার আমাদের রুট টা একদম অন্য রকমের। এমনকি চন্ডিগড় থেকে যে গাড়ি এলো তাদেরও খুব পরিষ্কার ধারণা নেই রাস্তা সম্পর্কে। আমরা প্রথমে আম্বালা থেকে পাওটা সাহিব যাবো। প্রায় 105 km journey. পাওটা সাহিব এক বিখ্যাত গুরুদ্বারা। যমুনা নদীর তীরে অবস্থান।দশম শিখ গুরু গোবিন্দ সিং জি মাত্র 16 বছর বয়সে তখনকার সিরমুর এর রাজা মৈদানি প্রকাশ এর আমন্ত্রণে আনন্দপুর সাহিব থেকে এখানে আসেন ও বসবাস করতে থাকেন। তার পা এখানে টিকে গিয়েছিলো ( প্রায় 4 বছর তিনি এখানে অবস্থান করেছিলেন ), আর তাই থেকে পাওটা সাহিব নাম হয়েছিল।দশম গ্রন্থ ও এখানে রচিত হয়েছিল। এখানে একদম গুরুদ্বারা র নিচে দিয়ে যমুনা নদী বয়ে চলেছে। বেশ স্পষ্ট পাহাড়ের রেখা। আর গুরুদ্বারার মেইনটেন্যান্স অসাধারণ। লঙ্গর পরিষেবা সর্বদা সবার জন্য প্রস্তুত, এমন কি চা এর জন্য আলাদা লঙ্গর দেখলাম। অনেক দিন ধরে ভাবছিলাম এখানে আসবো, সেভাবেই প্ল্যান করেছিলাম। আর একটু সময় পেলে নিশ্চই আরও ভালো লাগতো। আরও দু জায়গা নাহান আর রেণুকা খুব কাছে। পরে সুযোগ পেলে আসবো নিশ্চই। তবে যমুনার অবয়ব সত্যিই যথেষ্ট পীড়াদায়ক। জল খুব কম, কিরকম যেন অপরিষ্কার, অথচ এখান থেকে যমুনাত্রী কত টুকুই বা, মেরে কেটে 180/190 km. যাহোক লঙ্গর খেয়ে আমরা আবার এগোতে থাকলাম। পাহাড় আরও স্পষ্ট হচ্ছে, পরিষ্কার যেন সেই পাহাড়ের ডাক আমরা শুনতে পাচ্ছি। যামুনানগর, ডাকপাথার, হয়ে পৌঁছে গেলাম কালসি তে। কালসি একটা ছোট্ট গঞ্জ। এখানে সমতল শেষ আর খাড়া পাহাড়ে চড়া শুরু। বেশ কয়েকবার এ রাস্তায় আসা হলো। আগে এখানে গেট সিস্টেম ছিল মানে দু ঘন্টা নিচে থেকে গাড়ি ওপরে উঠতো আবার দু ঘন্টা ওপরে থেকে নিচে গাড়ি নাবতো। এবার দেখছি রাস্তা কিছুটা চওড়া হয়েছে, গেট সিস্টেম আর নেই। কালসি তে আর একটা অসাধারণ জিনিস আছে সেটা হলো সম্রাট অশোক এর শিলালিপি। ভাবা যায় সম্রাট অশোকের বিস্তার কতদূর ছিল। বিশাল এক শিলার গায়ে লেখা। Archeological department সুন্দর ভাবে জায়গাটা maintain করছে। আগে নিশ্চই যমুনা নদী পাস দিয়ে বয়ে যেত এখন বেশ কিছুটা দূরে বহমান। ভারি ভালো লাগলো আবারো এসে। অনেকেরই মনে হচ্ছিলো শিলাটা এলো কোথা থেকে? নিশ্চই নদী থেকেই তোলা হয়েছিলো। কালসি কে বিদায় দিয়ে চললাম এবার পাহাড় চড়তে। এবার যাবো চক্রতা। চক্রতা মূলত একটা ক্যান্টনমেন্ট। আসে পাশে দেখার মধ্যে টাইগার ফলস এছাড়া আছে প্রকৃতির পাগল করা রূপ। চক্রতা নিয়ে আমার আর দীপার অনেক সুখস্মৃতি রয়েছে। প্রথম জীবনের snow ফল এখানেই দেখেছিলাম। কিন্তু ঐ মুশকিল কোনোবার ই এসে আগের বার এর সাথে মিলাতেই পারিনা। আধুনিক তো হচ্ছেই তার সাথে সেই প্রকৃতির রূপ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এখনো চক্রতার একটা আদিম রূপ আছে তবে সেই প্রথম বারের রূপ টা কে কোথাও খুঁজে পেলাম না। এবার অবশ্য চক্রতা ছাড়িয়ে আরও কিছুটা গিয়ে লখান্ডি নামে একটা ছোট্ট জনপদে রাত্রিবাস। Sunset তো চক্রতা তে বৈকালিক চা পানের সাথে সাথে হয়ে গেল। এবার দ্রুত অন্ধকার নাবছে। চক্রতা ছেড়ে বেশ কিছুটা যেতে হবে। এরপর কোনো গ্রাম নেই। জংলী পাহাড়ি রাস্তা। চললাম চক্রতা ছেড়ে, এক নিকষ ঘন কালো রাস্তা আর ওপরে তারা ভর্তি আকাশ নিয়ে। লখান্ডি র হোমস্টের মালিক রোহন ফোন করে জানতে চাইছে কতদূর এলাম। ওর চিন্তাও হচ্ছিলো রাত হয়ে যাচ্ছে। বড় কেউ রাতে এই রাস্তায় আসে না। দেখতে দেখতে আমরা লখান্ডি এলাম। সবাই খুব ক্লান্ত। সেই কোন সকালে বেরিয়েছি আম্বালা থেকে। প্রায় 200+ km জার্নি হলো আজ। ঘর এলোট করে যে যার ঘরে ঢুকে ফ্রেস হয়ে সোজা ডিনার টেবিল এ মিট করলাম। দারুন উপভোগ্য ডিনার সামনে এলো। চিকেন সহযোগে, desert সহযোগে জম্পেশ ডিনার করে বিছানায় গেলাম। কালকে নতুন দিন, এক দারুন প্ল্যান। কালকেও লখান্ডি থাকবে।