Star Tours & Nature Outdoor

Star Tours & Nature Outdoor NURTURE THRU NATURE.THE MAIN THEME OF OUR TOURISM PROMOTION ALONG WITH ADVENTURE TOURISM ACTIVITY.WE R IN TOLLYGUNJE, SOUTH KOLKATA.

এক দিনের মেদিনীপুর ভ্রমণ।গতকাল দারুন একটা বেড়ানো হলো।সকাল বেলা তে ঘুম ভেঙে শান্ত মেদিনীপুর শহরের এক অন্য রূপ দেখলাম।ঠিক ...
26/07/2026

এক দিনের মেদিনীপুর ভ্রমণ।
গতকাল দারুন একটা বেড়ানো হলো।সকাল বেলা তে ঘুম ভেঙে শান্ত মেদিনীপুর শহরের এক অন্য রূপ দেখলাম।ঠিক ছিল আজ প্রথমেই গোপগড় যাবো।ঘুরে আবার হোটেল এ ফিরে ব্রেকফাস্ট,স্নান সেরে পরবর্তী জায়গা গুলো তে যাবো।চটপট সবাই রেডি হলাম।বেড টি খেয়ে চললাম গোপগড় এর দিকে।মেদিনীপুর থেকে শালবনির দিকে একটু খানি গিয়েই গোপগড় এর রাস্তা।ঘড়ি তে তখন সকাল সাড়ে সাত টা।ঠিক আট টায় গেট খুললো।টিকিট কেটে ঢুকতে হলো।গোপগড় আসলে এখন একটা ইকো পার্ক এর মতো সাজানো।কথিত আছে মহাভারত এর বিরাট রাজার গড় এখানেই ছিল।যদিও সেসবের অস্তিত্ব আজ আর নেই।একটা খুব পুরোনো ইটের structure আছে।স্থানীয় গোপ রাজাদের ভাঙা গড়ের অংশ এটা।তখন কার বিপ্লবী দের আনাগোনা ছিল।সেও আজকে ভাঙা।ঢুকেই দারুন এক পরিবেশ পেলাম।2001 সালে এই ইকো পার্ক উদ্বোধন হয়েছে।প্রচুর গাছপালা,পাখি,প্রজাপতি দেখলাম।সকালের নরম আলোতে দারুন লাগছিলো হাঁটতে।আর এক পাশে দেখলাম প্রচুর সারি দিয়ে পাইন আর দেবদারু গাছ লাগানো।দেখে অবাক হলাম।এতো পুরো নর্থ বেঙ্গল,বা উত্তরাখন্ড বা হিমাচল বা কাশ্মীরের কোনো জায়গা মনে হচ্ছে।তারিফ করতেই হয় এত সুন্দর ভাবে সব কিছু maintain হচ্ছে।মেদিনীপুর ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট এর অধীনে এটি।ভেতরে দু কামরার থাকার ঘর,ক্যান্টিন সব রয়েছে।উত্তম ব্যবস্থা।আগে থেকে বুক করে থাকাও যায়।খুব ভালো লাগলো।সকালের এই non poluted বাতাস আর সূর্যের আলো।এখানে পিকনিক করার ও ব্যবস্থা আছে।মরসুম শুরু হচ্ছে তাতেই দেখলাম পিকনিক এর জন্য এক পার্টি।তবে পিকনিক এরিয়া গুলো বেশ নোংরা।এদিকে অবশ্যই কতৃপক্ষ এর নজর দেয়া উচিত।খুব ভালো সকাল সকাল এক বুক অক্সিজেন ভরে এবার আমরা বেরিয়ে এলাম। এবার হোটেল এ ফিরে এলাম।ধীরে ধীরে রবিবার এর বাজার জমে উঠছে।ফিরে ব্রেকফাস্ট সারলাম।সরকারি হোটেলের ব্যবস্থাপনায় লুচি,সবজি,ডিম,মিষ্টি,কলা আর চা দিয়ে দারুন সূচনা হলো।সবাই স্নান করে রেডি হয়ে এবার একটু পা চালিয়ে গাড়িতে উঠে বসলাম।এবারের গন্তব্য কর্ণগড়।কর্ণগড় এ দুটি জায়গা।একটি কর্ণগড় এর মহামায়া temple কমপ্লেক্স আর দ্বিতীয় টি কর্ণগড় এর ধ্বংসাবশেষ।টিকিট কেটে মন্দির কমপ্লেক্স এ ঢুকলাম।এখানে মূল মন্দির দুটি।মহামায়া মন্দির আর অনাদিলিঙ্গ দণ্ডশ্বর মন্দির।মন্দির কমপ্লেক্স টা খুব সুন্দর,একেবারে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।দারুন maintain.খুব বিখ্যাত আর জাগ্রত মন্দির বলে স্থানীয় বিশ্বাস।প্রচুর লোকজন এসেছেন পুজো দিতে।আর জায়গাটার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও খুব।কাছেই কর্ণগড় দুর্গের ধ্বংসবশেষ।সব মিলিয়ে খুব ভালো লাগলো।এখানেও থাকার সুব্যবস্থা আছে।
এবার চললাম কর্ণগড় দুর্গের ধ্বংসবশেষ দেখতে।এরও প্রাচীন ইতিহাস আছে। আসে পাশের আদিবাসী ( যারা মেদিনীপুর,মানভূম,বাঁকুড়া,সিংভূম এলাকা তে থাকতেন ) তারা স্থানীয় জমিদার বা রাজাদের কাছে শ্রমের বিনিময়ে জমি পেতেন।এবার ব্রিটিশ সরকার ঐ সব জমির ওপরে রাজস্ব আদায় এর জন্য সক্রিয় হলো।তাতেই বিদ্রোহ শুরু হলো।এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলো।বিভিন্ন জায়গাতে এই বিদ্রোহ কঠোর ভাবে দমন করা হতে লাগলো।এই বিদ্রোহ কে চুয়ার বিদ্রোহ বলা হয়।কর্ণগড় এ তখন রাজা ছিলেন অজিত সিং।রাজা নিঃসন্তান ছিলেন।তার দুই রানী ছিল।রানী ভবানী আর ছোট রানী শিরোমনি।রাজার মৃত্যুর পর রানী শিরোমনি নেতৃত্বে আসেন।তিনি নাড়াজোল রাজ ত্রিলোচন সিংহ এর সহায়তায় স্থানীয় কৃষক দের নিয়ে ব্রিটিশ দের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন।প্রথম দিকে সাফল্য পেলেও ব্রিটিশ দের হাতে তিনি পরাজিত হন এবং তাকে বন্দি করা হয়।পরে বন্দি অবস্থায় তিনি মারা যান।এবং চুয়ার বিদ্রোহ ধীরে ধীরে দমন হয়ে যায়।এই কর্ণগড় এর দুর্গের এটাই ইতিহাস।আজ বেশির ভাগ ই ধ্বংস প্রাপ্ত।কিছু কিছু অংশ টিকে আছে।তবে আশার কথা এই যে সরকারি উদ্যোগে কিছু জায়গা renovation হচ্ছে।ভেতরে থাকার জায়গা আছে।তবে দুর্গে ঢোকার রাস্তা বেশ সরু।এটা দেখা দরকার।দুর্গের ভেতরে বিশাল একটা ঝিল আছে।মাঝখানে পুরোনো একটা ইটের ধ্বংসবশেষ আছে ওটা পুরোনো অংশ।দুর্গের সামনে দিয়ে পারাং নদী বয়ে চলেছে।রানী শিরোমনি 1820 সালে মারা যান।আবাসগড় বলে একটা জায়গায়।ওখানেই ওনাকে বন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছিল।ভাবতে অবাক লাগে রানীর এই সংগ্রাম একদম ই ঝাঁসির রানী লক্ষ্মীবাঈ এর মতো।আজ এই দুর্গ ধ্বংসস্তূপ বটে কিন্তু এই পবিত্র ভূমি তে এসে শ্রদ্ধায়,মাথা নত করে দাঁড়াতেই হবে আমাদের।জানতেই হবে এই সুদীর্ঘ ইতিহাস।
কর্ণগড় দেখে এবার যাবো পাথরা।

26/07/2026

একদিনের মেদিনীপুর ভ্রমণ।
ঘাটাল ছাড়িয়ে আবার পাঁশকুড়ার দিকে ফিরতে হলো।দাসপুর কদমতলা থেকে এবার নতুন রাস্তা ধরে কেশপুর এর দিকে এগোলাম।প্রায় 14/15 km এসে নাড়াজোল রাজবাড়ী যাবার মোড়ে এসে পড়লাম।মূল রাস্তা ছেড়ে অপেক্ষাকৃত সরু রাস্তায় কিছুটা গিয়ে নাড়াজোল রাজবাড়ীর হাওয়া মহলের সামনে এসে দাঁড়ালাম।দু পা গলির মধ্যে যেতেই একেবারে রাজবাড়ীর মূল অংশে এসে পৌঁছে গেলাম।
নাড়াজোল রাজবাড়ীর সম্পর্কে দু একটা কথা বলতেই হয়।ইতিহাস বলে,এই রাজবাড়ী বা জমিদার বংশ সূচনা করেন উদয়নারায়ণ ঘোষ।অনেকে তাকে ইচ্ছাই ঘোষের বংশধর মনে করেন।নাড়াজোল কথাটি এভাবে অর্থরূপ করা হয়।নাড়া অর্থাৎ ধান গাছের অবশিষ্ট অংশ আর জল মানে জলা অংশ।চারিদিকে শিলাবতী আর কংসবতী নদীর বন্যা তে জায়গাটা জলা ভূমি ছিল তাই থেকে জল আর এভাবে নাড়াজোল কথাটা এসেছে।কিভাবে উদয়নারায়ণ স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন সে সব ঘটনা আর বিস্তারিত বললাম না।এই বিশাল ভগ্ন প্রায় জমিদার বাড়ির সামনে এসে বোঝাই যাবে না আজ যে এই জমিদার বাড়ির ইতিহাস,তাদের পুরো মেদিনীপুর এর ওপরে নিয়ন্ত্রণ,স্বাধীনতা সংগ্রামে এই পরিবারে ভূমিকা।কে আসেন নি এই জমিদার বাড়ি তে? বিদ্যাসাগর,দেবেন্দ্রনাথ,কাজী নজরুল,মতিলাল নেহেরু,চিত্তরঞ্জন,ঋষি অরবিন্দ,হেমচন্দ্র কানুনগো,সরোজিনী,বিধান চন্দ্র,গান্ধীজি,নেহেরু,সুভাষ তো বটেই,এছাড়া সব সময় বিভিন্ন মিটিং এমন কি অনুশীলন সমিতির মিটিং ও নিয়মিত ভাবে হতো।ছোট বড়ো সব নেতা রা স্বাধীনতা সংগ্রামী রা এই জমিদার বাড়ির পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হতো।বিপ্লবী ক্ষুদিরাম এর পিতা ত্রৈলক্য নাথ এখানে দেওয়ান ছিলেন।কর্ণগড় রানী শিরোমনি কে চুয়ার বিদ্রোহের সময় তখন কার জমিদার ত্রিলোচন খান প্রভূত সাহায্য করেন।সুবিশাল এই জমিদার বাড়ির একদম ভেতরে সে সব জায়গা গম গম করতো।আজ জঙ্গল,আগাছা আর ভঙ্গুর অবস্থায় সে সব জায়গাতে যাওয়া অসম্ভব আর বিপদজনক।লেখাও আছে সব জায়গাতে আপনি নিরাপদ নন।সবাই কে তাই জুতো পরে আসতে অনুরোধ করেছিলাম।প্রচুর সাপ আছে এখানে।আজ রাজবাড়ী র অবস্থা দেখলে অবাক হতে হয় কেউ নেই,এমন কি সরকার ও এত উদাসীন থাকতে পারে কি করে।বর্তমান রাজবাড়ীর সদস্য বিদ্যুৎ খান আমাদের সব ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাছিলেন।তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।আবার বর্তমান রাজ সদস্য দের মধ্যেও পারিবারিক সমস্যা আছে।দুদিকের দুই থামের ওপরে সিংহ হচ্ছে এই বংশের বিক্রমের প্রতীক।উদয়নারায়ণ ঘোষের পর কার্তিকরাম ঘোষ তখনকার বাংলার সুবেদার এর কাছ থেকে রায় উপাধি পান ( দিল্লি তে তখন মোঘল সম্রাট আকবর )।পরবর্তী কালে আবার এনারা সুবেদার এর কাছ থেকে খান উপাধি পান।সেও প্রায় 1596 সালে।তারপর থেকে এনারা এই উপাধি বহন করে চলেছেন।এরপর থেকেই পরবর্তীতে দেড়শো বছর নাড়াজোল উৎকর্ষের চরমে ছিল।যে কোনো সাংস্কৃতিক বিষয়ে,চিত্রকলা,সংগীত,স্থাপত্য সাহিত্য তারা সব সময়ে অগ্রণী ছিলেন।রানী ভিক্টোরিয়া জমিদার মহেন্দ্রলাল খান কে রাজা উপাধি দেন।পরবর্তী প্রজন্ম রাজা নরেন্দ্রলাল খান স্বদেশী আন্দোলনে অংশ নেন।যার জন্যই এত রাজনৈতিক,স্বাধীনতা সংগ্রামী রা আসতেন এখানে।তার পুত্র দেবেন্দ্রলাল খান ( D L Khan)অগ্নি যুগের বিপ্লবী ছিলেন।এখানে নরেন্দ্রলাল একটি কলেজ ও স্থাপন করেন।মূল রাজবাড়ী তে প্রবেশর বাঁ দিকে ঠাকুরবাড়ি।নাটমন্দির পেরিয়ে দেবী জয়দুর্গার মন্দির।পারিবারিক রীতি মেনে আজও দুর্গাপূজা হয়।পুরোনো পঞ্চারত্ন মন্দির আজ আগাছায় ঢেকে আছে।এটি সবচেয়ে পুরোনো মন্দির।এই নাটমন্দিরের অনুকরণেই দেবেন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতন এ উপাসনা গৃহ নির্মাণ করেন।প্রায় 500 বিঘা জমির ওপরে 250 টি ঘর ছিল এই প্রাসাদে।আজ তার প্রায় সবটাই ধ্বংসাবশেষ।হাওয়া মহল ছিল একদম বাইরে মূল রাস্তার ওপরে।এখানে বিভিন্ন মনোরঞ্জন অনুষ্ঠানের আয়োজন হতো।সামনে একটা বিশাল পুকুর আছে।মূল রাজবাড়ীর চারিপাশে আজ ও দেখা যায় পরিখা কাটা।তাই যথেষ্ট দুর্গম ছিল একসময়।আর দেখলাম ঠাকুরদালান একসময় বেলজিয়াম কাঁচ দিয়ে সজ্জিত ছিল।একসময় প্রচুর অর্থ সম্পদে বলিয়ান ছিল আর জমিদার বাড়ি।শোনা যায় বিভিন্ন জায়গা থেকে নিপুন শিল্পী রা এসেছিলেন এই রাজবাড়ী নির্মাণের সময়।মূল রাস্তায় দেখলাম নাড়াজোল রাজবাড়ীর রথ আর মন্দির।পাঁচ টা মন্দির,এগুলো কিছুটা মেরামত আর রং করা হয়েছে। 2 km আগে লঙ্কাগড় এ বিশাল এক দীঘি খনন করে একটা ছোট প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়েছিল।তবে আজঐ পথ অগম্য।আমরাও যাই নি।কাছেই শিলাবতী আর কংসবতী নদী তবে গাড়ি যায় না।হেঁটেই যেতে হয়।
হয়তো নাড়াজোল এর লেখাটা একটু বড়ো হলো আর কিছুটা অগোছালো হলো।কিন্তু এই সুদীর্ঘ ইতিহাস আর এত বিশাল এই রাজবাড়ীর ব্যাপকতা ভাবাই যায় না।আর হতাশা র জায়গা এটাই যে কোনো পরিচর্যা নেই,নিজেদের মধ্যে পারিবারিক সমস্যা,এখনো যে 6 টা পরিবার এখনো জমিদার বাড়িতে বিপদজনক ভাবে বাস করছেন তাদের পুনর্বাসন এর ব্যবস্থা সব মিলিয়ে বেশ হতাশার চিত্র।
চললাম নাড়াজোল ছেড়ে কেশপুরের দিকে এবার যাবো মোহবনি গ্রাম।বেশ কিছুটা আসার পর মূল রাস্তা ছেড়ে মোহবনি গ্রামের রাস্তায় এলাম।ক্ষুদিরাম এর জন্মস্থানের সামনে দাঁড়িয়ে বেশ হতাশ হলাম।একটা পার্ক করা আছে।ঢুকলাম ক্ষুদিরামের একটা মূর্তি আছে।মূল বাড়ি কিছুই নেই।এখানে বীরসিংহ গ্রামের মতো কিছু একটা করাই যেত।পাশেই একটা লাইব্রেরি আর অদ্ভুত ব্যাপার একটা আধুনিক জিম।খুব বিসদৃশ্য লাগলো।একপাশে বড়ো একটা মাঠ আর মঞ্চ করা আছে।বাউন্ডারীর বাইরে শুনলাম ক্ষুদিরাম এর বংশ ধরদের কেউ জীবিত আছেন।অনেক বয়স।তাই বিরক্ত করতে ইচ্ছে করলো না।ঐ সময়ের কিছু দোচালা বাড়িও পাশে দেখলাম।আজকের তৃতীয় দ্রষ্টব্য দেখে বেশ হতাশ সবাই।তবে পুন্যভূমি তে আসতে পারলাম আমরা এটাও কম নয়।
এবার ফিরবো মেদিনীপুর এর দিকে।সন্ধে হবার উপক্রম।একটা জায়গায় দারুন চা খেলাম।আর আসতে আসতে অসাধারণ সূর্যাস্তের সাক্ষ্মী থাকলাম।চারিপাশে সন্ধে নাবছে,গোধূলি আলোয় দারুন একটা সময় কাটালাম।মেদিনীপুর এর দারুন ঘিঞ্জি জায়গা পার হয়ে আমরা সরকারি হোটেল এ উঠলাম।বেশ ভালো ব্যাবস্থা।ঘরে সব কিছু যথাযথ।তবে মেইনটেইন খুব হয় না।আসলে মনে হলো টুরিস্ট খুব বেশি আসে না।তবে ঘর যথেষ্ট বড়ো,ঘরে টিভি,ফ্রিজ থেকে আধুনিক সব ব্যবস্থা আছে।ফ্রেশ হলাম।বেশ কিছুক্ষন আড্ডা চললো।এবার বার হলাম রাতের ডিনার করতে।এখানে রাতের ব্যবস্থা কতটা হতো জানি না।তাই বাইরের ব্যাবস্থা।সাহু হোটেল এ এসে জম্পেশ করে মাটন,রুটি,ভাত ডাল দিয়ে ডিনার সারা হলো।ফিরে এসে যে যার মতো বিশ্রাম।বেশ ধকল গেল তাই এবার একটা চমৎকার ঘুম দরকার।কাল বাকি জায়গা গুলো দেখে ফেরা।

এক রাত দুদিনের সফরে মেদিনীপুর জেলা।প্রতি বছরের মতো এবছর ও এক দিন বা এক রাত দুদিনের সফর সেরে এলাম।এই সফর গুলো কে Vibrant ...
26/07/2026

এক রাত দুদিনের সফরে মেদিনীপুর জেলা।
প্রতি বছরের মতো এবছর ও এক দিন বা এক রাত দুদিনের সফর সেরে এলাম।
এই সফর গুলো কে Vibrant Venture Series বলি।আমাদের গ্রাম বাংলা ঘুরে বেড়ানোই Vibrant Venture Series.
বেশ কিছুদিন পরিকল্পনা করে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কিছু জায়গা ঘুরে এলাম।এক কথায় অসাধারণ।মেদিনীপুর যে এত সুন্দর হবে ধারণাই ছিল না।স্বাধীনতা সংগ্রামী দের পুন্য ভূমি আর চারিপাশে ইতিহাস দেখতে দেখতে অবাক হচ্ছিলাম।বাংলা তে কত কিছু আছে এবং তার বেশির ভাগ টাই অবহেলিত আর অযত্নে লালিত।
আমাদের এবার বেশ বড়ো টীম।পুরোনো দের মধ্যে বন্ধু অনির্বান,মহুয়া,সোমা,পিনাকী মঞ্জুলিকা,প্রণব দা ছিলেন আর নতুন দের মধ্যে নির্মলেন্দু দা,সমীর দা আর বৌদি,রমেন দা আর বৌদি,সপরিবারে চন্দন,আর সপরিবারে শুভ্র,মিতা আর তাদের দুই সন্তান।সোমনাথ আর মৌ এর যাবার কথা থাকলেও হটাৎ মৌ এর শরীর খারাপ এর জন্য ওদের প্রোগ্রাম cancel করতে হলো।সেই সঙ্গে প্রদীপ্ত দা ও শেষ মুহূর্তে অসুস্থ হয়ে পড়লেন তাই উনিও যেতে পারলেন না। সঠিক সময় টেম্পো ট্রাভেলার এসে গেল।আমরা সকাল 6.30 টায় রওনা দিলাম।প্রথমেই বাঁশদ্রোণী থেকে যোগ দিলেন নির্মলেন্দু দা।তারপর এগোলাম মহামায়াতলা র দিকে।এবার উঠলেন সমীর দা আর বৌদি।প্রথম দর্শনেই ভালো লেগে গেল।অনেক দিন ধরেই সমীর দার সাথে ফোনালাপ হচ্ছিলো আজ খুব ভালো লাগলো।এবার বাই পাস ধরে এগোতে লাগলাম।শনিবার হলেও রাস্তা এত সকালেও বেশ ভিড়।হাইল্যান্ড পার্ক এ প্রণব দা উঠলেন।একটু লেট করলেন।একটা সুন্দর লেট ফাইন দিয়ে পরে চা খাওয়াবেন কথা দিলেন।এবার চললাম চিংড়িঘাটা তে।অনির্বান আর মহুয়া ওখানে দাঁড়িয়ে।গাড়ি এবার চললো কাঁকুড়গাছি র দিকে।ওখানে সপরিবারে চন্দন বেশ কিছুক্ষন ধরে অপেক্ষা করছে।চন্দন একেবারে মাটির মানুষ। এবার লাস্ট পিক আপ হাডকো তে পিনাকী আর মঞ্জুলিকা আর রমেন দা আর বৌদি।রুট আগে ডানলপ হয়ে যাবার কথা ছিল কিন্তু প্রদীপ্ত দা আসবেন না তাই এবার চললাম এয়ারপোর্ট এর দিকে।আর শুভ্র রা এত সকালে কল্যাণী থেকে আসতে পারবে না তাই ওরা গাড়ি নিয়ে সোজা যাবে।
কলকাতা শহরের চৌহদ্দি পেরোলাম নির্দিষ্ট সময়ের আধ ঘন্টা পরে।ব্রেকফাস্ট সার্ভ করা হলো গাড়িতেই।এবার গাড়ি চলতে লাগলো তর তর করে। বেশ কিছুটা আসার পর কোলাঘাট এর আগে চা পান এর বিরতি।প্রণব দা দেরি করে এসে যা দোষ করেছিলেন তা চা খাইয়ে তা কাটালেন ☺️
বলাই হয় নি আমরা কোথায় যাচ্ছি।আমরা এবার প্রথম যে জায়গাটায় যাচ্ছি তা হলো পুন্যভূমি বীরসিংহ গ্রাম।পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জন্মস্থান।দেখতে দেখতে পাঁশকুড়া তে এসে জাতীয় সড়ক ছেড়ে ঘাটাল এর দিকে চলতে শুরু করলাম।চমৎকার রাস্তা।চারিপাশে আদি দিগন্ত ধানক্ষেত।এখন ধান পাকার সময়।সবুজ হলুদ রঙের এক দারুন ক্যানভাস পেরিয়ে যাচ্ছি।মাঝে মাঝে ছোট ছোট বসতি,ছোট ছোট খাল পেরিয়ে জমজমাট ঘাটাল এসে পৌছলাম।আরো 14/15 km গিয়ে বীরসিংহ গ্রামের প্রবেশ দ্বার।বর্ণপরিচয় গেট পেরিয়ে যখন ঢুকছি তখনো শুভ্র দের দেখা নেই।ওরা কল্যাণী থেকে আরামবাগ হয়ে আসবে এরকম কথা ছিল।বেশ বেলা হয়েছে।ওদের ব্রেকফাস্ট ও আমাদের কাছে।একটু চিন্তা হচ্ছিলো।ফোন এ যোগাযোগ হতে জানলাম ওরা ভুল রাস্তায় চলে গেছে।এখনো ওদের আসতে দেড় ঘন্টা লাগবে।অগত্যা বলে দিলাম বীরসিংহ গ্রামে না ঢুকে সোজা ঘাটাল এ মিট করতে।ওখানেই লাঞ্চ করবো আমরা।
বীরসিংহ গ্রামে আমরা এসে দাঁড়ালাম ঠিক বিদ্যাসাগর এর জন্মস্থান এ।চমৎকার লাগলো কি সুন্দর ভাবে maintain হচ্ছে।মূল বাড়িটা তো এখন নেই আর সেটাই স্বাভাবিক।কিন্তু মূল বাড়িটার অনুকরণে তিন টি চালার বাড়ি ( যদিও সিমেন্ট এর পাকা বাড়ি ) প্রশাসন তৈরী করেছেন।এগুলোর ভেতরে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বিভিন্ন ছবি,ওনার ব্যবহার করা বিভিন্ন জিনিসপত্র।বিভিন্ন মানপত্র,মানে একদম museum.আর ঐ তিনটি বাড়ির ঠিক উল্টো দিকেও অনুরূপ একটা বাড়ি।ওখানেও museum.আর সামনে একটা এক কামরার লম্বা ঘর।ওখানেও প্রচুর জিনিস,ওনার বইপত্র,ম্যাপ,এমন কি উনি কোনপথে দামোদর নদ পেরিয়ে কলকাতা এসেছিলেন সেটার ও ম্যাপ দেখলাম।ঠিক যে স্থানে উনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেখানে একটা বেদি করা আছে।সব মিলিয়ে এত ভালো ভাবে সব কিছু গুছানো আছে যে দেখে মনটা ভরে গেল।বাংলা ভাষার এই পথপ্রদর্শক এর প্রতি আমরা সবাই শ্রদ্ধায় আমরা মাথা নত করলাম।খুব ভালো কাজ হয়েছে এটা।আসে পাশে ওনার বিদ্যালয় ( যদিও আসল পুরোনো বিদ্যালয় ভবন আর নেই ),ওনার পাঠশালা,আর সেই সঙ্গে স্থান মাহাত্ম সব মিলিয়ে দারুন এক অনুভূতি হচ্ছিলো।বাংলা নবজাগরণ এর পুরোধা পুরুষ এর এই পুন্যভূমি আমাদের যাত্রার প্রথম স্থান টি স্মরণীয় করে রাখলো।
এবার ফিরে চললাম ঘাটাল এর দিকে।ওখানে একটা সাধারণ হোটেল এ আমরা লাঞ্চ করবো।ঘাটাল বাস স্ট্যান্ড এর সামনে শুভ্র দের সাথে দেখা হলো।
ঘাটাল আগে হুগলি তে থাকলেও পরে মেদিনীপুর এর অন্তর্গত হয়।ঘাটাল এর চারিদিকে শিলাবতী,দারকেশ্বর,দামোদর নদী।চারিপাশে ঘিরে আছে,তাই বর্ষা তে প্রতি বছর বন্যা স্বাভাবিক বিষয়।শিলাবতী নদীর ওপরেই খাবার হোটেল টা।আর একটি দেখার বিষয় আছে সেটা হলো নৌকা র ওপরে পাটাতন পেতে ব্রিজ।দেখার মতো।যাহোক হোটেল মালিক বাপি দা যত্ন করে বসালেন।যদিও আমাদের দু বারে খেতে বসতে হলো।এতে কিছুটা সময় নষ্ট হবে কিন্তু কিছু করার নেই।সাধারণ আইটেম কিন্তু রান্নার গুনে আর যত্নে সবাই খুব তৃপ্তি করে খেলাম।ডাল,ভাজা,দুরকমের সবজি,মৌরালা মাছ,কাতলা মাছ,আমড়ার চাটনি পাঁপড় আর শেষ পাতে অসাধারণ কেশর ভোগ মিষ্টি।বহুদিন বাদে এত চমৎকার মিষ্টি খেলাম।সবাই তাই বললেন।পাশের মিষ্টির দোকানে গিয়ে আলাপ করে এলাম।কিছু রসগোল্লা কিনলাম,রাতের কথা ভেবে।সবাই তৃপ্তি করে খেয়ে এবার চললাম ঘাটাল ছেড়ে নাড়াজোল রাজবাড়ীর দিকে।

ছোট্ট ছুটি তে লাম্বাসিঙ্গে আজ ফেরার পথ। সকালে ঘুম ভেঙেই দেখছি হালকা বৃষ্টি হয়ে চলেছে। তবে গতকালের থেকে অনেক কম। রাস্তা ও...
23/07/2026

ছোট্ট ছুটি তে লাম্বাসিঙ্গে

আজ ফেরার পথ। সকালে ঘুম ভেঙেই দেখছি হালকা বৃষ্টি হয়ে চলেছে। তবে গতকালের থেকে অনেক কম। রাস্তা ও খুলে গেছে। ব্রেকফাস্ট করে বেরোবো। খুব বেশি রাস্তা তো নয়। আজ উপমা, লেমন রাইস দিয়ে ব্রেকফাস্ট হলো। সবাই রেডি হচ্ছে অলস ভাবে। কিশোরের বাড়ি ফেরার তাড়া। ও বলছে বৃষ্টি তে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু বুঝতে পারছি রাস্তা সেরকম বন্ধ হবার সম্ভবনা কম। যাহোক গড়িমসি করে প্রায় 10.30 তে বেরোলাম। চলেছি লাম্বাসিঙ্গে ছেড়ে। জায়গাটা খুবই সুন্দর বিশেষ করে বর্ষা কালে এই রূপ খুবই মনোহর। কিন্তু এখানে টুরিস্ট কালচার এখনো তৈরী হয় নি। স্থানীয় মানুষ জন আসেন ঐ শীত কালে। কিন্তু কলকাতা বা অন্য জায়গা থেকে যত লোক আরাকু আসে তাঁর খুব, খুব কম অংশ এখানে আসে। সেই দিক থেকে ভিড় একদম নেই। তবে থাকার জায়গা, খাওয়ার জায়গা যে খুব আপডেট, তা বলা যাবে না। আমাদের টীম এর কারোর যে খুব খারাপ লেগেছে তা নয়। তাও তো আমরা সব জায়গা ঘুরতে পারিনি। কিন্তু জীবনের স্মরণীয় বৃষ্টি দেখলাম। সব সফর যেমন সব কিছু উজাড় করে দেয় না তেমনি খালি হাতেও ফেরায় না। আসতে আসতে লাম্বাসিঙ্গে র পাহাড় পার হয়ে যাচ্ছি নরসিপাতনাম এর দিকে। একটা ছোট্ট কিন্তু ছিমছাম চা খাবার জায়গায় দাঁড়ালাম। চা খেয়ে একটু relax. এবার চললাম সোজা ভাইজাগ এয়ারপোর্ট এর দিকে। কিছুটা পথ। এবার খিদে পেয়েছে। খুঁজতে খুঁজতে এয়ারপোর্ট এর উল্টো দিকে একটা দারুন সুন্দর রেস্টুরেন্ট পেলাম। সবার জন্য চিকেন বিরিয়ানি অর্ডার হলো। দারুন ছিল। সবাই খুব তৃপ্তি করে খেলাম। ঘড়িতে প্রায় 3.30.ঢুকলাম এয়ারপোর্ট এ। নন্দিতা, বিশ্বদীপ আর বিমল দা নেবে গেলেন। ওনারা আজ ই কলকাতা ফিরবেন। এবার চললাম ভাইজাগ রেল স্টেশন এ। বিশ্ববন্ধু দা এখান থেকে ট্রেন এ চেন্নাই যাবেন। আর বাকিরা আমরা চলে এলাম ভাইজাগ এ আমাদের নির্দিষ্ট হোটেল এ।হোটেল টা ছোট কিন্ত খারাপ না। কালী দা আর শিবানন্দ দা বিশ্রাম নিলেন আর আমরা রামকৃষ্ণ বিচ ঘুরতে গেলাম। পড়ন্ত বিকালে বিচ তো ভালোই লাগছিলো। পাশেই বন্দর। আর ডলফিন নোস। কিন্ত বিচ এত নোংরা বলার নয়। পুরো ভাঙা চোরা অবস্থা। আর পুরো শহরের ময়লা জল এসে সমুদ্রে পড়ছে। লোকজন একেবারেই সচেতন নয়। ভীষণ নোংরা। এর আগেও এসেছি কিন্ত মনে পড়ে না এতটা নোংরা দেখেছি। লোকজন এর ভিড়, আর এত বাজে পরিবেশ বিচ এর সৌন্দর্য ঢাকা পড়ে গেছে। একটা কফি শপ এ বসলাম। কিছুটা সময় কাটিয়ে রামকৃষ্ণ মন্দির টা দেখে হোটেল ফিরলাম। এবার ডিনার এর ব্যবস্থা করতে হয়। কারণ কাল খুব ভোরে ট্রেন। আমাদের প্রায় রাত 3.30 র মধ্যে বেরোতে হবে। বিশ্রাম ও দরকার। রাতে খাবার অনিয়ে খাওয়া হলো।

আজ খুব ভোরে উঠে উবের বুক করে স্টেশন এ এলাম প্রায় 4 টের সময়। ট্রেন মোটামুটি রাইট টাইম ছিল। রাত 8.10 এ পৌঁছে যাবো। যথারীতি ট্রেন প্রায় দেড় ঘন্টা দেরি তে ঢুকলো। ট্রিপ টা বৃষ্টি মাথায় শেষ হলো। প্রকৃতির বৃষ্টি র রূপ টাই দারুন উপভোগ করলাম।

ছোট্ট ছুটিতে লাম্বাসিঙ্গে সারারাত বৃষ্টি চলছে। ভোর বেলায় ঘুম ভেঙে দেখছি টিপ টিপ করে পড়েই চলেছে। আজ সারাদিন ঘোরার প্ল্যান...
23/07/2026

ছোট্ট ছুটিতে লাম্বাসিঙ্গে

সারারাত বৃষ্টি চলছে। ভোর বেলায় ঘুম ভেঙে দেখছি টিপ টিপ করে পড়েই চলেছে। আজ সারাদিন ঘোরার প্ল্যান। ভোর বেলায় একটা sunrise পয়েন্ট পয়েন্ট দেখতে যাবার কথা ছিল। যাবার প্রশ্নই নেই। ঝুল আলা রেস্টুরেন্ট এ সুন্দর নরম ইডলি, বড়া, ওমলেট, চা দিয়ে সুন্দর জম্পেশ ব্রেকফাস্ট হলো। সঙ্গে আড্ডা।একদম অন্ধকার মতো হয়ে আছে। খবর নিয়ে জানলাম কোথাপল্লি ওয়াটারফলস বৃষ্টি তে overflow করেছে। তাই ওখানে যাওয়া যথেষ্ট বিপদজনক আর প্রশাসন যেতে অনুমতি দিচ্ছে না। অতএব ওখানে যাচ্ছি না। একটু বৃষ্টি কমতেই আমরা দুজনে একটু হাঁটতে বার হলাম। অসাধারণ পাহাড়ি রাস্তা। সবুজে সবুজ। আকাশের মুখ ভার তাই খুব বেশি দূর হাঁটার সাহস পেলাম না। তবে শীতকালে এই সব রাস্তায় হাঁটা এক দারুন অভিজ্ঞতা হবে।ফিরে এলাম। মোটামুটি সবাই রেডি। এবার যাব প্রথমে যারাভরম ওয়াটারফলস দেখতে। মূল রাস্তা দিয়ে কিছুটা এসে দাঁড়ালাম। কোনো পথ নির্দেশ নেই। একটা পায়ে চলার পথ, ওখানে তো টেম্পো যাবার প্রশ্নই নেই। কিছু স্থানীয় মানুষের সাথে ভাঙা ভাঙা আলোচনা তে বুঝলাম এখানে থেকে প্রায় 3/4 km হাঁটলে একটা গ্রামে পৌঁছে যাওয়া যায়। ওখান থেকে ওরাই ওয়াটারফলস এ নিয়ে যায়। কিন্তু এই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে 3/4 km হাঁটা বেশ চাপ। আসলে এরকম জায়গায় যেখানে টুরিস্ট কালচার টা নেই সেখানে এসব সমস্যা হবেই। আর এই ওয়াটারফলস টা লাম্বাসিঙ্গে র টুরিস্ট স্পট গুলোর মধ্যে পড়ে না। শুনলাম লোকাল অটো ভাড়া করেও ঐ 3/4 km ম্যানেজ করা যায়। কিন্তু অটো ও পাওয়া যাচ্ছে না। টিপ টিপ করে আবার বৃষ্টি শুরু হলো। না এই অনামী ওয়াটারফলস এও যাওয়া হলো না। আবার মূল রাস্তায় ফিরে চললাম মূল লাম্বাসিঙ্গে বসতির দিকে। ছোট্ট একটা জনপদ। মূল জনপদ ছেড়ে এবার এগোচ্ছি থাজঙ্গি লেক দেখতে। মূল লাম্বাসিঙ্গে পেরোতে প্রকৃতি তার রূপ আরো মেলে ধরলো। এ পাশেই বেশির ভাগ রিসোর্ট আর থাকার ব্যবস্থা। কিন্তু সব ই বন্ধ। সত্যিই সুন্দর এই দিক টা চারিপাশে পাহাড়, জঙ্গল। জনবসতি প্রায় নেই। রাস্তার কাজ চলছে। যথেষ্ট উঁচু রাস্তা হবে। দেখতে দেখতে থাজঙ্গি রিসার্ভার এর পাশে এলাম। অসাধারণ জায়গা। চারিপাশে উঁচু নিচু টিলা মাঝখানে বেশ বড়ো একটা লেক। জিপ লাইন হচ্ছে। বেশ কিছু টুরিস্ট দেখলাম। আরো অনেক water activity আছে তবে সে সব বন্ধ। বেশ কিছুক্ষন বেড়ানো, ছবি তোলা হলো। একটা ছোটো চা এর দোকানে বসে আড্ডা চললো। সঙ্গে পর পর চা কফি। আকাশ একটু ভালো ছিল আবার কালো হয়ে আসছে। এদিকে প্রায় 12.30 বাজে। লাঞ্চ করতে হবে। আসার পথে একটা খাবার জায়গা দেখেছি। ওটাতেই যাবো। দারুন উপভোগ করে ফিরতে লাগলাম। কিছুটা এসে রেস্টুরেন্ট টার সামনে গাড়ি দাঁড় করানো হলো।রেস্টুরেন্ট ঠিক বলা যায় না। সামনে একটা চওড়া শেড দেয়া বারান্দা। ওখানেই টেবিল চেয়ার পাতা। তাঁর পেছনে মুদি খানা দোকান। নিত্য প্রয়োজনের সব কিছু পাওয়া যায়। পেছনে কিচেন। সামনে কাউন্টার। বেশ খোলামেলা, ছিমছাম। জানলাম বিরিয়ানি পাওয়া যাবে। তা ছাড়া ভেজ থালি ফিস থালি মিলবে। বিরিয়ানি র প্রচুর sale এখানে।আমরা ভেজ থালি অর্ডার দিলাম। আর শুনলাম ঐ লেক এর টাটকা মাছ আছে। বললাম ওটা সিম্পল ফ্রাই করে দিতে। ধীরে সুস্থে দিক। আমাদের কোনো তাড়া নেই আর কিছু দেখারও নেই। আবার জমিয়ে বসা হলো। এবার শুরু হলো বৃষ্টি। খুব ভালো সময় এসে গেছি। ধীরে ধীরে বৃষ্টির তেজ বাড়ছে। আমরা বৃষ্টি দেখছি। এরকম বৃষ্টি সত্যি শহরে দেখা যায় না। বৃষ্টি মাথায় করে মাঝে মাঝে সামনের রাস্তায় অটো, চলছে। মাথায় প্লাস্টিক চাপিয়ে লোকজন বাড়ি ফিরছে। গরু চরিয়ে ফিরছে কেউ কেউ। তেড়ে সাদা হয়ে বৃষ্টি চলছে। আসে পাসে কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না। যে টিলা গুলো স্পষ্ট ছিল সেগুলো আর দেখা যাচ্ছে না। টিনের শেড এর ওপরে কি যে মোহময়ী আওয়াজ বলে বোঝানো যাবে না। মুষলধারে বৃষ্টি চলছে। পাহাড়ি রাস্তায় লাল মাটি গোলা স্রোত নেবে ভাসিয়ে দিচ্ছে। নয়ানজুলি গুলো ফুলে ফেঁপে উঠছে। ইতিমধ্যে খাবার রেডি হয়ে গেছে। দিয়ে দিতে বললাম। দারুন ঘরোয়া রান্না হয়েছে। মাছ টা অনবদ্য। একদম টাটকা বড়ো মাছ। বড়ো রুই হবে। সুন্দর খাওয়া শেষ হলো। বৃষ্টির থামার কোনো নাম নেই। ইতিমধ্যে আমরা প্রায় 3 ঘন্টা কাটিয়ে ফেলেছি। চা কফি, কোল্ড্রিংকস সব চলছে। কারোর কোনো ফেরার তাড়া দেখলাম না। ঘরে ঢোকার থেকে এই বেশ ভালো। জীবনে এরকম বৃষ্টি কম, খুব কম দেখেছি। এত জোরে একটানা। দেখতে দেখতে প্রায় সাড়ে চার ঘন্টা হলো। নাহ এবার উঠতে হবে। কিন্তু গাড়ি পর্যন্ত যেতেই তো ভিজে যাবো। আরো একটু দেখি। দোকানেও কোনো কাস্টমার আসছে না, আমরাই জমিয়ে রাজ করছি। ঘড়ির কাটা পাঁচটা পেরিয়ে গেল। একটু কমলো মনে হচ্ছে। যেভাবে হোক গাড়ি তে উঠতে হবে। প্রাণ মন ভোরে বৃষ্টি দেখে ভিজে ভিজে গাড়িতে উঠলাম। গাড়ি ছাড়লো। কিশোর ধীরে ধীরে চালাচ্ছে। জল চারিদিকে জমেছে। আর কলকলিয়ে লাল জলের স্রোত নাবছে। দেখতে দেখতে লাম্বাসিঙ্গে এলাকা পেরিয়ে মূল রাস্তায় এলাম। এখানে মসলা, বিভিন্ন ফল খুব ভালো পাওয়া যায়। একটু দাঁড়ালাম। আনারস কিনবো। ছোট ছোট কিন্তু দারুন গন্ধ আর মিষ্টি। দাম খুব সস্তা। পিনাকী আর আমি নাবলাম। ফলের দোকানে অনেক ফল। আনারস, আতা, পেঁপে, এভোকাড়ো, পেয়ারা, কাঁঠাল,আম আর প্রচুর শুকনো মসলা। গোলমরিচ আদা, কাঁচা হলুদ। সব স্থানীয়, এক্কেবারে অর্গানিক আর জংলী। বৃষ্টি না থাকলে আরো কিছু কেনা যেত। যা হোক এবার রিসোর্ট এ ফিরছি। ঠিক পাসে একটা ব্রিজ দেখছি প্রায় over ফ্লো। ভাগ্গিস চলে এসেছিলাম। আমরা আসার পর ই রাস্তা বন্ধ হয়ে গেল। রিসোর্ট এ এসে স্নান করে ফ্রেশ হয়ে আবার বাইরে দোকানে গিয়ে চা কফি খাওয়া। এটাই বিরক্তিকর। যা হোক এখন আড্ডা হবে। কাজ তো কিছু নেই। মাঝে মাঝে কারেন্ট চলে যাচ্ছে। বৃষ্টি কমলেও পড়েই চলেছে। জমিয়ে আড্ডা চললো, সঙ্গে বিমল দার কবিতা পাঠ, মঞ্জুলিকার কবিতা পাঠ, পিনাকীর গান, আসর একদম জমাট আর সঙ্গে আনারস। দারুন মিষ্টি।অনেক ক্ষণ চললো, এবার ডিনার সেরে নিতে হবে। আজ fish curry হয়েছে। শুনলাম ঐ সেই লেক এর মাছ। খাওয়া বেশ ভালো কিন্তু পরিবেশ টা এত অপরিষ্কার। খেয়ে দেয়ে শুতে গেলাম। বৃষ্টি চলছেই।

ছোট্ট ছুটিতে লাম্বাসিঙ্গে আজ 15 th August. শালিমার থেকে করোমন্ডল ধরতে হবে। বিকাল 3.15 তে ছাড়বে। সেই মতো প্রস্তুত হয়ে নির...
23/07/2026

ছোট্ট ছুটিতে লাম্বাসিঙ্গে

আজ 15 th August. শালিমার থেকে করোমন্ডল ধরতে হবে। বিকাল 3.15 তে ছাড়বে। সেই মতো প্রস্তুত হয়ে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে গেলাম। ইতিমধ্যে বিমল দা আর কালী দা এসে গেছেন। দেখতে দেখতে সবাই চলে এলেন। ট্রেন ও ঠিক সময়ে স্টেশন এ এলো। টিকিট গুলো বিভিন্ন ক্লাস এ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। আমরা আর পিনাকী রা এক ই বগি তে ছিলাম। ট্রেন ছাড়লো। আমরা কাল ভোর বেলায় ভাইজাগ পৌছাবো। গল্প আড্ডা তে খাওয়া দাওয়া করতে করতে এগিয়ে চললাম। একটু সবাই কে গিয়ে দেখে এলাম। দেখতে দেখতে খড়্গপুর, বালেশ্বর, ভদ্রক ছাড়িয়ে বেশ রাতের দিকে কটক এসে পৌঁছে গেলাম। ঘরের আনা খাবার দিয়ে ডিনার শেষ করে শুতে গেলাম। কাল ভোরে ওঠা আছে।
একদম সঠিক সময় ভোর 4.10 এ ভাইজাগ পৌঁছে গেলাম। এবার একটু ফ্রেশ হওয়া দরকার। গাড়ি কে বললাম 6 টায় গাড়ি নিয়ে আসতে। আকাশে ধীরে ধীরে দেখছি কালো মেঘের ঘনঘটা। সবাই চটপট রেডি হয়ে এবার গাড়ির অপেক্ষা। কিশোর গাড়ি নিয়ে চলে এলো ভাইজাগ এর 1 no গেট এর বাইরে। এদিকে হালকা হালকা বৃষ্টি শুরু হলো। আজ একটু লম্বা সফর। সোজা লাম্বাসিঙ্গে যাচ্ছি না। কিন্ত আগে একটু ব্রেকফাস্ট করা দরকার। কিশোর বললো শহর ছাড়িয়ে কিছুটা এগিয়ে ব্রেকফাস্ট হোক। অতএব তাই হোক। সকালে রাস্তা ফাঁকা। আমরা দ্রুত ভাইজাগ পোর্ট এরিয়া ছাড়িয়ে যেতে লাগলাম।চলেছি প্রায় 25 km দুরে আনাকাপাল্লে র দিকে। বেশ বৃষ্টি শুরু হলো। সুন্দর কলকাতা চেন্নাই জাতীয় সড়ক ধরে এগোতে লাগলাম। আনাকাপাল্লে এসে গেল। ছোট একটা শহর। খাবার দোকান এত সকালে, তাতে আবার বৃষ্টি, মোটামুটি সব বন্ধ। ভাবিনি দক্ষিণ ভারত এ ব্রেকফাস্ট খাবার জন্য জায়গা খুঁজতে হবে। যা হোক একটা কাজ চালানোর মতো রেস্টুরেন্ট পাওয়া গেল। ইডলি, ধোসা, বড়া আর কফি অর্ডার দেয়া হলো। কিছুটা সময় লাগলো খাবার তৈরী হয়ে টেবিল এ আসতে।ব্রেকফাস্ট শেষ করে আমরা চললাম 5 km দুরে বজ্জানাকোন্ডা দেখতে। শঙ্করণ বলে একটি গ্রাম এ দুটো টিলা আছে। পূর্ব দিকের টিলা বজ্জানাকোন্ডা আর পশ্চিম দিকের টিলা টিলা লিঙ্গলাকোনডা। আমরা বজ্জানাকোন্ডা তে যাচ্ছি। এটি টিলার মাথায় একটি বৌদ্ধ স্তুপ। চারিদিকে মনোলিথিক রক কাট ছোট স্তুপ মূল স্তুপ কে ঘিরে রয়েছে। প্রায় চতুর্থ থেকে নবম শতকে এই নির্মাণ কাজ হয়েছিল অনুমান করা হয়। খুব প্রাচীন এই সব স্তুপ। একসময় কলিঙ্গ রাজার অধীনে ছিল। চারিদিকে সবুজ ধান খেত সঙ্গে একটা ছোট খাল বয়ে চলেছে। বৃষ্টি ও চলছে। দারুন সবুজ হয়ে রয়েছে চারিদিকে। গাড়ি আমাদের ঐ টিলার নিচে নাবাবে তবে হেঁটে টিলার মাথায় উঠতে হবে। নাবলাম কিন্তু কপাল খারাপ। ওখান কার কর্মচারী বললেন নিচ থেকেই দেখুন এই বৃষ্টি তে টিলার মাথায় চড়া বেশ রিস্কি। নিচ থেকে অবশ্য স্তুপ টা ভালোই দেখা যাচ্ছিলো।আসলে বুঝলাম একদমই টুরিস্ট এ সব জায়গায় আসে না। তাই maintanance ও খুব ভালো নয়। সিঁড়ি ও পেছল। কোনো লোকজন এর চিন্হ নেই। তবে পাথরের এমন রূপ যে মনে হচ্ছে বুদ্ধ দেব শুয়ে আছেন। দারুন দেখলাম। হয়তো ওপরে উঠলে অন্যরকম রূপ দেখতাম। তাও যেটুকু দেখলাম দুরন্ত। এবার ফিরে চললাম আবার আনাকাপাল্লে র দিকে। এবার যাবো কোনডাকারলা আভা। এটা একটা 405 sq. Km er লেক আর বার্ড সংচুয়ারি। গ্রামের রাস্তা ধরে এগোচ্ছি। বৃষ্টি টা একটু ধরে এলো। চারিদিকে হালকা পাহাড়ের মধ্যে বিশাল এই লেক। বোটিং এর ব্যবস্থা আছে। প্রচুর পাখি দেখতে পাচ্ছি। জলজ পোকা মাছ এগুলোর লোভে প্রচুর পাখি। বেশির ভাগ ই অচেনা। প্রচুর শালুক ফুল ফুটে আছে। স্থানীয় মানুষ অনেকেই বোটিং করছে। এটাও বেশ লাগলো। এসব জায়গা টুরিস্ট দের আসা উচিত। টুরিস্ট একদমই নেই। বেশ কিছুক্ষন কাটিয়ে চললাম শ্রী ভিরা ভেঙ্কাট সত্য নারায়ণস্বামী ভারি দেবস্থানাম দেখতে। এটা অন্যাভারম শহরে অবস্থিত। কোনডাকারলা থেকে একটা গ্রামীণ রাস্তা ধরে চললাম। দারুন রাস্তা টা। চারিদিকে উঁচু নিচু টিলা একদম সার দিয়ে আছে তার ভেতর দিয়ে ছোট ছোট গ্রাম ফেলে এঁকে বেঁকে রাস্তা এগিয়ে চলেছে। গ্রামীণ অন্ধ্রপ্রদেশ এর চিত্র খুব উপভোগ করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি। খুব মনোরম রাস্তা। বৃষ্টি এখন নেই। সবুজ ধান খেত, মাঝে মাঝে আম গাছ। পেছনেই টিলা। কখনো একদম রাস্তা থেকেই টিলা উঠে গেছে। গোয়া তেও গ্রামীণ এলাকা এরকম দেখেছি।বেশ অনেকটা রাস্তা এবার যেতে হবে, প্রায় 80 km.আসলে আমরা আরো দক্ষিণ এ চলেছি। আবার মূল জাতীয় সড়ক এ উঠলাম। আমরা টুনি হয়ে অন্যাভারম যাবো। ফেরার সময় এই টুনি থেকেই লাম্বাসিঙ্গে র দিকে ঘুরে যাবো। অন্যাভারম থেকে কাকিনাডা সমুদ্র সৈকত প্রায় 25 km. আরো দক্ষিণ এ রাজামুন্দ্রি আর আরো গেলে বিজয়ওয়াদা। মানে গোদাবরী আর কৃষ্ণা নদীর অববাহিকা অঞ্চল। প্রথম বার এই দিকে সড়ক পথে আসছি। বেশ লাগছে। একটু চা এর জন্য একটা রোড সাইড চা এর দোকানে দাঁড়ালাম। পর পর চা এর দোকান। অনেকটা শক্তিগড় এ যেমন পর পর লাংচা র দোকান, সেরকম। Honey lemon tea খেলাম। অসাধারণ লাগলো। দাম ও খুব কম। এবার চললাম অন্যাভারম মন্দিরের দিকে। দেখতে দেখতে বেলা প্রায় 11.30 হলো।অন্যাভারম এর এই মন্দির মূলত বিষ্ণু র এক রূপ এ ভিরা ভেঙ্কাট এ পূজিত হচ্ছেন। মূল অন্যাভারম শহর এ জাতীয় সড়ক থেকে ঢুকতেই বিরাট প্রবেশ দ্বার। পূর্ব গোদাবরী জেলায় পম্বা নদীর জলাধার এ একটা টিলার ওপরে এই মন্দির। আমাদের মূল শহর থেকেই মন্দিরের গেট এ টিকিট কেটে টিলা তে চড়তে হবে। ঢুকতেই বুঝলাম এই মন্দিরের বিশালতা, অনেকটা তিরুপতি স্টাইল এ। অন্ধ্রপ্রদেশ এর দ্বিতীয় বৃহত্তম মন্দির। যথেষ্ট ধনী এই মন্দির কমিটি।অনুমান করছি এই টিলার নিচ থেকে মন্দির দ্বার পর্যন্ত রাস্তা হয়তো মন্দির কমিটি maintain করছে। বিরাট কর্মকান্ড চলছে দেখছি। মূল মন্দির তো ভেতরে। গাড়ি পার্কিং এলাকা টা বিশাল। বহুদূর থেকে ভক্ত রা আসেন। প্রচুর থাকার জায়গা। রাত কাটানোর অনেক অতিথিশালা। অনেক গুলো তার মধ্যে Ac. নিজেদের বাস রয়েছে দেখলাম। অষ্টপ্রহর ভোগ এর ব্যবস্থা আছে। আজ আবার জন্মাষ্টমী। তাই প্রচুর ভিড়। তবে বিনামূল্যে দর্শন এ খুব সময় লাগবে। উচিত মূল্যে দর্শন সম্ভব। বেশির ভাগ ই দেখলাম 300 থেকে 1000 টাকা র দর্শন ও পুজো মূল্য। আমাদের মধ্যে কেউ ই সেরকম মূল্য দিয়ে পুজোয় আগ্রহ দেখালেন না। ঘুরে ঘুরে কর্মব্যাস্ততা দেখছিলাম। মন্দির চত্বর এ প্রচুর খাবারের দোকান দেখলাম। দেখতে দেখতে অনেকটা বেলা হলো। এবার ফেরার পালা। মন্দির ছেড়ে এবার নিচে নাবতে থাকলাম। নিচে অসাধারণ পম্বা নদীর রিসার্ভার আর ছোট্ট ড্যাম দেখলাম। এবার অন্যাভারম শহর ছেড়ে চললাম টুনি র দিকে। কিন্তু আগে দুপুরের খাওয়া সারতে হবে। হাইওয়ে র পাশে অনেক ব্যবস্থা।দাথুদু বলে একটা রেস্টুরেন্ট বেশ পছন্দ হলো। দুপুরে চিকেন বিরিয়ানি অর্ডার করা হলো। কেউ ডাল রুটি কেউ ভেজ ফ্রাইড রাইস অর্ডার দিলেন। পরিমান দাম সব কিছু যথাযথ। শুধু ভাষা তে একটু সমস্যা হচ্ছিলো। শেষ পাতে একটা দুর্দান্ত পান খাওয়া হলো আর বিশ্বদীপ দা একটা অন্য রকম মিষ্টি কিনে খাওয়ালেন। অনেক টা সময় relax করে খাওয়া শেষ করে চললাম টুনির দিকে। এখনো প্রায় 100 km রাস্তা গিয়ে লাম্বাসিঙ্গে পৌছাতে হবে। মানে প্রায় বিকাল 5.30 বেজে যাবে। বেশ ধকল গেল, গত রাতে ভালো করে ঘুম হয় নি। রাস্তা সুন্দর। দেখতে দেখতে টুনি এসে গেলাম আর জাতীয় সড়ক ছেড়ে এবার রাজ্য সড়ক ধরলাম নরসিপাতনাম এর দিকে। রাস্তা একটু সরু হলেও ভালোই রাস্তা। বিকাল এর পড়ন্ত আলোয় বেশ লাগছিলো রাস্তা টা। নরসিপাতনাম বেশ ঘিঞ্জি এলাকা। ফেরার দিন এখান থেকেই ভাইজাগ এর দিকে যাবো। নরসিপাতনাম ছেড়ে পাহাড় এর রেখা একদম স্পষ্ট হয়ে উঠলো। কি দারুন লাগছিলো ঘন সবুজ জঙ্গল আর তার মাঝখানে এই রাস্তা। ধীরে ধীরে পাহাড়ে উঠতে লাগলাম। প্রতি বাঁক ঘুরতেই সবুজ জঙ্গলের পাহাড়ি পথ মোহময়ী হয়ে উঠতে লাগলো। লোকজন, ট্রাফিক কিচ্ছু নেই। প্রথম দর্শনেই লাম্বাসিঙ্গে কে দারুন ভালো লাগতে শুরু করলো। যদিও এটা হয়তো এখানে আসার সেরা সময় সবাই বলেন না কিন্তু এই বৃষ্টি তে এত সবুজ, এটা তো শীত কালে পাওয়া যাবে না। বড্ডো মনোরম আবহাওয়া। গরমের চিন্হ নেই। শুধু মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে। দেখতে দেখতে আমাদের রিসোর্ট এ এসে পৌঁছে গেলাম। ঘড়িতে ঠিক 5.20.রুম এলোটমেন্ট করা হলো। এবার একটু চা পান দরকার। কিন্তু মুশকিল হলো এনাদের রুম সার্ভিস বলে কিচ্ছু নেই। চা খাবার খেতে হলে মেইন এন্ট্রি গেট এর বাইরে চা এর দোকান, আর লাগোয়া রেস্টুরেন্ট। সেখানে সামনের রাস্তার লোকজন এসেও চা কফি, খাবার খাচ্ছে। একটু দমে গেলাম। ঘর ভালোই কিন্তু ভীষণ অপরিষ্কার আর গন্ধ। যেহেতু জঙ্গল চারিদিকে তাই মশা আর পোকা র উৎপাত আছে দেখলাম। ঘরে রুম ফ্রেশনার দিতে হলো। আবার বৃষ্টি র তেজ ও বাড়ছে। মালিক ও উদাসীন। বয়স্ক মানুষেরা বার বার রুম থেকে বেরিয়ে চা, খাবার খেতে বাইরে যাবে এটা ভালো লাগছিলো না। একটাই সার্ভিস বয়। এদিকে পুরো রিসোর্ট ভর্তি। পরিষেবা খুব পাওয়া যাবে না বুঝলাম। তবে আমার টীম কে স্যালুট। সবাই চা এর দোকানের সামনের শেড দখল করে আড্ডা চললো। দেখতে দেখতে রাত ও হচ্ছে। সবাই ক্লান্ত। তাড়াতাড়ি খেতে দিতে বললাম। রেস্টুরেন্ট এর ভেতরে অবস্থা আরো খারাপ। দুটো বেসিন অতি নোংরা। ওখানে হাত ধোয়া সম্ভব না। চারিপাশে ঝুল। ভাবা যায় রেস্টুরেন্ট এর ভেতরে ঝুল। সব নাকি অফ season তাই। আসলে মালিক ই নোংরা। কোনো আপডেট করার ইচ্ছা নেই। রাতে সবজি, ডাল, চিকেন ছিল। তবে রান্না টা ভালো। অন্ধ্রর রান্না হলেও যথেষ্ট ভালো ছিল। খেয়ে দেয়ে এবার যে যার ঘরে চললাম। সমানে বৃষ্টি চলছে। ছাতা, রেইনকোট দিয়ে কোনো রকমে ম্যানেজ হলো।দেখা যাক কাল কি হয়।

23/07/2026

ছোট্ট ছুটিতে লাম্বাসিঙ্গে।

বহুকাল আগে কোনো একটা ভ্রমণ পত্রিকা তে একটা সাদা কালো কুয়াশা মাখা ছবি দেখেছিলাম। নিচে লেখা ছিল লাম্বাসিঙ্গে। অসাধারণ সে এক ছবি। সেই ছবি টা দেখার ইচ্ছে টাই এবারের লাম্বাসিঙ্গে ভ্রমণের শুরু বলা যায়।খবর নেয়া শুরু হলো। দেখলাম স্থানীয় মানুষ রাই খুব একটা অবহিত নন জায়গাটা সম্পর্কে। এদিকে ৩ দিনের একটা নিখাদ ছুটি। বললাম সবাই কে। এও বললাম খুব একটা বেশি কিছু দেখার জায়গাও নেই। অল্প সময়, বৃষ্টি দেখতে যাবো। ভেবেছিলাম খুব একটা উৎসাহ কেউ দেখবেন না। তাও দেখলাম অনেকেই আগ্রহ দেখালেন। হয়তো নামটা তেই কেউ কেউ আকর্ষণ খুঁজে পেলেন।
জায়গাটা অন্ধ্রপ্রদেশ এ। আসল ভ্রমণের সময় শীতকাল। তখন আকাশ পরিষ্কার থাকে আর প্রচুর কুয়াশা তে মোড়া একটা ঘুমন্ত গ্রাম। এনাকে আবার kashmir of Andhrapradesh বলা হয়। কুয়াশারা তখন সত্যিই হালকা বরফ এর মতো মনে হয়। সত্যি কথা বলতে একটা sunrise পয়েন্ট, একটা লেক আর একটা জলপ্রপাত এই হচ্ছে সব মিলিয়ে দেখার জায়গা। আর আছে কফি চাষ, বিভিন্ন মসলা চাষ আর স্ট্রাবেরি চাষ এর বাগান। খোঁজ খবরে প্রকাশ পেলো বেশ কিছু রিসোর্ট এর তবে এখানে কোনো রিসোর্ট এই ac নেই। আর বর্ষাকালে বেশিরভাগ রিসোর্ট বন্ধ। এ তো বেশ ঝামেলা তে পড়লাম। হোটেল রিসোর্ট বন্ধ মানে খাবার জায়গাও নেই। গাড়ির খবর ও সেরকম। ভাইজাগ থেকে গাড়ি নিতে হবে। সবাই বলে আরাকু ভ্যালি র কথা। লাম্বাসিঙ্গে বললেই বেঁকে বসছে। বলছে ওখানে কিছু নেই ফালতু তিন দিন গাড়ি নিয়ে কি করবে। আরে বর্ষা দেখতে যাবো এই কথাটাই বোঝাতে পারছি না। এদিকে ট্রেন এর টিকিট ও শেষ পর্যায়ে। তাহলে বরং অন্য কোনো জায়গা ভাবি, এরকম জায়গায় পরিস্থিতি চলে যাচ্ছে। জায়গা টা দেখার লোভ ও সামলাতে পারছি না।অনেক টালাবাহানা র পর Mr. Raghuramon এর খোঁজ পেলাম। ওনার একটা রিসোর্ট আছে তাতে Ac রুম ও আছে। কে জানে যে গুটিকয়েক Ac রুম আছে লাম্বাসিঙ্গে তে তার মধ্যে আমরা থাকবো। জোর করেই সকালে ব্রেকফাস্ট আর রাতের ডিনার এর ব্যবস্থা ওনাকে করতে বললাম। এতে খরচ আর বাজেট বেশ বাড়লেও ঝামেলা টা অনেক কম হবে।এবার ভাইজাগ থেকে একটা টেম্পো traveller বুক করলাম তিন দিনের জন্য। তাতেও বাজেট বাড়লো কিন্তু তার মধ্যে কিছু জায়গা জুড়লাম। আর ফেরার পথে বিমল দা, বিশ্বদীপ দা, নন্দিতা কে ভাইজাগ এয়ারপোর্ট আর বিশ্ববন্ধু দা কে ভাইজাগ রেল স্টেশন পৌঁছে আমাদের হোটেল এ পৌঁছে দেবে এরকম ভাবে গাড়ি ঠিক হলো করোমন্ডল এ ছড়িয়ে ছিটিয়ে টিকিট হলো আর ফিরবো yasvantpur howrah এক্সপ্রেস এ। সব ঠিক করে এবার নিশ্চিন্ত হলাম।

Address

79, Baburam Ghosh Road
Kolkata
700040

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Star Tours & Nature Outdoor posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category