31/12/2020
সামথার / পানবু
আমার এক পরিচিত মানুষের মুখে শোনা গল্প – একটু সাজিয়ে আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম
অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম – কোথায় যাওয়া যায়? বহুদিন বাড়ি থেকে বেরনো হয়না, মানে ঐ বেড়ানোর কথা বলছি আর কি, এমনিতে তো বাড়িতে বসে থাকলে চলবে না। পাহাড় তো প্রায়ই হাতছানি দিয়ে ডাকে – “আয় খোকা আয়” থুড়ি আয় বুড়ো আয় বলে। আর উত্তরবঙ্গের সাথে আমাদের সখ্যতা তো বহুদিনের। কিন্তু কোথায় যে যাব, ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না। মনে মনে একটু ভয়ও ছিল। কোভিডের মধ্যে যাওয়া টা কি ঠিক হবে? আমার এক পুরনো বন্ধু, সম্প্রতি ঘুরে এসেছে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি নতুন জনপদ থেকে। তার আগ্রহ এবং সাহায্যে উৎসাহিত হয়ে শেষ পর্যন্ত ভয়কে জয় করে ‘জয় মা কাঞ্চনজঙ্ঘা’ বলে বেরিয়ে পড়লাম।
গিন্নী প্রথম দিকে বেশ বাগড়া দিচ্ছিল। “এখন ই যাওয়ার কি দরকার?”, “এখনই আমার মরার শখ নেই”, “উঠল বাই তো কটক যাই স্বভাব এই বয়সেও গেলনা”, ইত্যাদি প্রভৃতি। আমি ও কম যাই নাকি? বলে দিলাম – “কুছ পরোয়া নেহি। আমি একাই যাব।তোমার টিকিট ক্যান্সেল করে দিচ্ছি। তুমি থাকতে চাইলে থাক একা”। সেই শুনে আমার একমাত্র সহধর্মিণী ইমোশনাল ব্ল্যাকমেলিং করতেও ছাড়েনি – “ওগো তোমার কিছু হলে যে আমি একবার চোখের দেখাও দেখতে পাবনা”। না না আমি মোটেই গলিনি এসব শুনে। ঐ ফাঁদে পা দিলে কি আর আজ তোমায় গল্প শোনাতে পারতাম। যাওয়ার আগের দিন দেখলাম – গিন্নীর ও ব্যাগ গোছানো শেষ। চুপি চুপি বলি – আমার গিন্নীর কিন্তু ভীষণ ভূতের ভয়। আমি বেশ জানতাম ও মোটেই একা থাকতে পারবেনা। তাই কিছুই ক্যান্সেল করিনি আসলে।
গিয়ে যখন পৌঁছলাম সামথার, সন্ধ্যে হয়ে গিয়েছে, তাই খুব বেশি কিছু বুঝতে পারলাম না। রাত্তিরে মুঠো ফোনে অ্যালার্ম দিয়েই শুয়েছিলাম, ঘুম ভেঙ্গে বাইরে বেরিয়ে যা দৃশ্য দেখলাম, তাতে ছোটবেলায় পড়া রবিঠাকুরের লেখা ছড়াটা মনে পড়ে গেল – “যেদিকে তাকাই সোনার আলোয় দেখি যে ছুটির ছবি” – সূর্যের হীরক দ্যুতিতে স্বর্ণ উজ্জ্বল কাঞ্চনজঙ্ঘা – আহা এমন দৃশ্য দেখার জন্য বার বার ছুটে আসতে হয় এখানে। আর কি চাই। গিন্নী তো একেবারে গদগদ – “ভাগ্যিস তুমি নিয়ে এলে” – না না মুখে বলেনি অতোটা। এত বছর একসাথে থাকার ফলাফল আর কি – ঠিক পড়তে পারি মনের কথা। বিকেলে আবার পানবু ভিউ পয়েন্টে নয়নাভিরাম দৃশ্য – একদিকে বহুখ্যাত করনেশন ব্রিজ, অন্যদিকে সবুজে ঢাকা ডুয়ার্স। আমাদের হোমস্টে থেকে ৩ মিনিটের পথ এই পানবু ভিউপয়েন্ট। সারাদিন যে কিভাবে সময় কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না। আবার ঝুপ করে সন্ধ্যে। পরেরদিন ব্যাগপত্র গুছিয়ে বিদায় নেবার পালা – খুব আফসোস হচ্ছিল বুঝলে, মাত্র একদিনের জন্য এখানে বুকিং করেছি বলে। কিন্তু এখন তো আর উপায় নেই, তাই HOMECALLING SAMTHAR কে বিদায় জানাতে হল।
পরের গন্তব্যের গল্প আবার পরের দিন
Picture Courtesy - Mr. Kaushik Bhattacharya
HOMECALLING SAMTHAR বুকিং করার জন্য নিচের লিঙ্ক এ ক্লিক করুন
http://fusionstays.com/room/homecalling-samthar/