05/10/2025
ঘাটশিলা ভ্রমণের স্মৃতি যেন হৃদয়ে গেঁথে থাকে। ঝাড়খণ্ডের বুক চিরে বয়ে চলা সুবর্ণরেখা নদী, নামের মতোই স্বর্ণালি আভা ছড়িয়ে দেয়। আমি বহুবার এসেছি এখানে। নদীর বুকজুড়ে ছড়িয়ে থাকা শক্ত পাথরগুলো, বেশিরভাগই হলুদ রঙের। শোনা যায়, এই নদী একসময় স্বর্ণ উৎপাদন করত। যখন দাঁড়াই লাল মাটির ওপর, সামনে সুবর্ণরেখার শান্ত জলধারা, চারপাশের নীরবতা আমাকে কবির মতো করে তোলে। যেন প্রকৃতিই কলম ধরিয়ে দেয় হাতে।
ঘাটশিলা আমার কাছে শুধু একটি ভ্রমণস্থল নয়, এটি এক আবেগ। আমার বন্ধু কাজল এখানেই থাকে। তার উষ্ণ আতিথেয়তা, আন্তরিকতা—সবসময় আমাকে টানে। মনে হয়, এখনও সে আমার জন্য অপেক্ষা করছে, পুরোনো দিনের মতোই।
সুবর্ণরেখা নদী, ঘাটশিলা, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি, শালবন, আর মহুয়ার গন্ধ মেশানো সন্ধ্যা—সবকিছু মিলিয়ে যেন এক অনন্য কবিতা। প্রতিটি সফরে মনে হয়, এ জায়গার সঙ্গে আমার অদৃশ্য এক বন্ধন রয়েছে।
আমি আবার ফিরতে চাই। এবার পরিবারকে নিয়ে। নদীর ধারে দাঁড়িয়ে নিস্তব্ধ প্রকৃতিকে অনুভব করতে চাই, শালবনের ফাঁকে ফাঁকে হেঁটে যেতে চাই, বিভূতিভূষণের লেখা মনে করে আবেগে ভেসে যেতে চাই।
ঘাটশিলা আর সুবর্ণরেখা নদী—চিরকাল আমার মনে রয়ে যাবে। প্রতিটি ঢেউ, প্রতিটি শালপাতা, প্রতিটি স্মৃতি আমাকে আবার ডাকছে—
“ফিরে এসো, ফিরে এসো।”